• বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ৯ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

কোম্পানীগঞ্জে বাধ্যতামূলক কোচিংয়ে অর্ধকোটি টাকার বাণিজ্য

প্রকাশ:  ০৫ জুন ২০১৮, ২০:১৭
গিয়াস উদ্দিন রনি (কোম্পানীগঞ্জ)
প্রিন্ট

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ১৫টি মাদ্রাসা ও ৩২টি হাইস্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থা নানান কঠিন রোগে আক্রান্ত। তার মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী চলতি রোজার মাসের বন্ধে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। অভিযোগ উঠেছে, কোম্পানীগঞ্জে প্রায় বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের কৌশলে কোচিং করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং শিক্ষকেরা ক্লাসে পড়ানোর চেয়ে বেশি আগ্রহী কোচিং বাণিজ্যে। আর এ বাণিজ্যে অসহায় অভিভাবকদের পকেট থেকে লুট হচ্ছে কোটি টাকা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এসব বেআইনি কাজ স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের উঁচু পদের কর্তাব্যক্তিদের বন্ধ করার কথা থাকলেও সেসব উঁচু পদের লোকেরা চোখ বন্ধ করে আছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জে জেএসসি, এসএসসি পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায় এবং এই কোচিং বাণিজ্যের অপকর্মের সঙ্গী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সুলতান আহম্মদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বিএসসি।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিদ্যালয়ে পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়। তারসাথে কোচিং বাণিজ্য হয়, এ সুযোগে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের নাম, পদবী, বিদ্যালয় দিয়ে উদাহরণ দিয়ে থাকে।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতির সাথে কথা বললে তিনি জানান, কোচিং করাতে আইনী কোন বাধা নেই। বরং আমরা আইন মেনে কম টাকায় কোচিং করাচ্ছি। এ

বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বিএসসির সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার স্কুলে কোচিং হচ্ছে। তবে এখনো কোচিং ফি নির্ধারণ করা হয়নি, দু’একদিনের মধ্যে নির্ধারণ করবো। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নাকচ করে দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জে কোচিং বাণিজ্যের আঁতুরঘর খ্যাত প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে অন্যতম, বসুরহাট এএইচ সি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে কোচিং করছে ১৬০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৭০০টাকা করে। দশম শ্রেণিতে প্রায় ১২০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৮০০টাকা করে কোচিং করছে।

এ হিসেবে উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সরকারি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি কোচিং বাণিজ্য করছে ২,০৮,০০০টাকা। বসুরহাট এ এইচ সি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কোচিং বাণিজ্যের নেপথ্যের কারিগর স্বয়ং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জাফর মো.নুরুল আমিন।

এ বিষয়ে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার স্কুলে কোচিং একেবারেই বন্ধ। তবে তিনি এ সময় কোচিংয়ের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। কিন্তু এ প্রতিবেদক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক এবং ছাত্রের সাথে যোগাযোগ করলে তারা কোচিংয়ের শতভাগ সত্যতা নিশ্চিত করেন।

অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আবু জাফর ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি কেলেংকারীর সাথেও জড়িত। তিনি আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে ২০১৮ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি বাণিজ্যও করেছেন।

জানা যায়, হাজারীহাট স্কুল এন্ড বিএম কলেজের ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০টাকা করে,নবম-দশম শ্রেণির প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০টাকা করে,অষ্টম শ্রেণির প্রায় ১৫০জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে কোচিং ফি নেওয়া হচ্ছে। এ হিসেবে বিদ্যালয়টি রোজার বন্ধে কোচিং বাণিজ্য করছে প্রায় ৩,০০০০০লক্ষ টাকা।

রংমালা দারুস সুন্নাহ মডেল সিনিয়র মাদ্রাসা ২য় শ্রেণিতে ২৫জন শিক্ষাথী,৩য় শ্রেণিতে ৪২জন শিক্ষার্থী,৪র্থ শ্রেণিতে ৪৯ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ২০০টাকা করে কোচিং করছে। ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে কোচিং করছে। এ হিসেবে কোচিং থেকে বাণিজ্য হচ্ছে প্রায় ২,০০০০০টাকা।

চরহাজারী মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ২য় থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত রোজার মাসে কোচিং করানো হচ্ছে । এ কোচিংয়ে বাণিজ্য হচ্ছে প্রায় ১,৫০,০০০টাকা।

আবু নাছের চৌধুরী পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম ও অষ্টম শ্রেণির প্রায় ২০০জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০টকা করে কোচিং ফি নেওয়া হবে। এ হিসেবে বিদ্যালয়টি কোচিং বাণিজ্য করছে প্রায় ১,০০০০০লক্ষ টাকা।

মাকসুদাহ্ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে প্রায় ১২০জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০টাকা এবং অষ্টম শ্রেণির প্রায় ১৩৫জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০টাকা করে কোচিং ফি নেওয়া হচ্ছে। এ হিসেবে বিদ্যালয়টি কোচিং বাণিজ্য করছে ১,৩৯,৫০০টাকা।

কোম্পানীগঞ্জ মডেল হাই স্কুল কেজিতে দশম শ্রেণি ৬৫জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৬০০টাকা,নবম শ্রেণিতে ৮০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৬০০টাকা,অষ্টম শ্রেণিতে ৭০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫০০টাকা,সপ্তম শ্রেণিতে ৬০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫০০টাকা,৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ২০০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫০০টাকা করে কোচিং করছে। এ হিসেবে বিদ্যালয়টি কোচিং বাণিজ্য করেছে ২,৫২,০০০টাকা।

সিরাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে ৭০জন,নবম শ্রেণিতে ৬০জন,অষ্টম শ্রেণিতে ৮০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে কোচিং করছে। ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ১৬০জন শিক্ষার্থী ৩০০ করে কোচিং করছে। এ হিসেবে বিদ্যালয়টি কোচিং বাণিজ্য করছে ১,৫৩,০০০টাকা।

চরফকিরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৫০ জন শিক্ষার্থী কোচিং করছে জনপ্রতি ৩০০টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এ হিসাবে বিদ্যালয়টির রোজার মাসে কোচিং বাণিজ্য থেকে আয় করছে ১,৩৫,০০০ টাকা।

কবি জসিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে শুধু মাত্র অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রতি ৪০০টাকা এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রতি ৫০০টাকা করে কোচিং ফি নেওয়া হচ্ছে ২৫০ জন ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে। এ হিসাবে বিদ্যালয়টি রোজার মাসে কোচিং বাণিজ্য করে আয় করছে প্রায় ১,১৫,০০০ টাকা।

গাংচিল কবি নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী প্রতি ৫০০ টাকা করে ১৭ জন শিক্ষার্থী,অষ্টম শ্রেণিতে ৮০জন শিক্ষার্থী ৩৫০টাকা করে কোচিং করছে। এ হিসেবে বিদ্যালয়টির রোজার মাসের কোচিং বাণিজ্য থেকে আয় হবে ৩৬,৫০০টাকা।

মুছাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ৩০০টাকা করে ৩৫০জন শিক্ষার্থী,অষ্টম,নবম,দশম শ্রেণিতে ৫০০টাকা করে ৩৫০জন শিক্ষাথী কোচিং করছে। এ হিসেবে বিদ্যালয়টি রোজার মাসে কোচিং বাণিজ্য থেকে আয় করছে ২,৮০,০০০টাকা।

নাছের উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ,সপ্তম,অষ্টম ৪০০টাকা করে কোচিং করছে ৩০০ শিক্ষার্থী,নবম ও দশম শ্রেণিতে ৫০০টাকা করে কোচিং করছে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী। এ হিসেবে বিদ্যালয়টি কোচিং বাণিজ্য করছে ২,২০,০০০ টাকা।

রংমালা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০জন শিক্ষার্থী ৫০০টাকা করে এবং সপ্তম,অষ্টম,শ্রেণিতে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ৩০০টাকা করে,নবম শ্রেণিতে ৮০জন শিক্ষার্থী ৪০০ টাকা করে কোচিং করছে। এ হিসেবে বিদ্যালয়টি কোচিং বাণিজ্য থেকে আয় করছে প্রায় ২,৭,০০০০ টাকা।

বামনী আছিরিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় ৪র্থ শ্রেণিতে প্রায় ২৫জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৪০০টাকা করে কোচিং করছে। এ ছাড়াও মাদ্রাসাটিতে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২০০জন শিক্ষাথীর কাছ থেকে ৪০০ টাকা জনপ্রতি কোচিং ফি আদায় করা হচ্ছে। দশম শ্রেণিতে প্রায় ৫০জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০টাকা করে কোচিং ফি আদায় করা হচ্ছে। এ হিসেবে মাদ্রাসাটি কোচিং ফি বাণিজ্য করছে প্রায় ১,২৫,০০০ টাকা।

ভূইয়া সেলিনা দাখিল মাদ্রাসায় রোজার মাসে প্রায় ২,০০০০০ লক্ষ টাকার কোচিং বাণিজ্য হচ্ছে।

চৌধুরী হাট বি-জমান উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে ৩০জন শিক্ষার্থী ৬০০টাকা করে,সপ্তম ও নবম শ্রেণিতে ২৭০জন শিক্ষার্থী ৪০০টাকা করে,অষ্টম শ্রেণিতে ১১৮জন শিক্ষার্থী ৫০০টাকা করে কোচিং করছে। এ হিসেবে বিদ্যালয়টি কোচিং বাণিজ্য করছে ২,০০০০০ লক্ষ টাকা।

চরপার্বতী মেহেরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম,অষ্টম শ্রেণিতে ১১৫জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫০০টাকা করে কোচিং করছে। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৭০ জন শিক্ষার্থী ও সপ্তম শ্রেণিতে ৮২ জন শিক্ষার্থী ৩০০ টাকা করে কোচিং করছে। এ হিসেবে তাদের কোচিং বাণিজ্য ১,০২,৬০০ টাকা।

আচিয়া কারম্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দশম শ্রেণিতে ১৭ শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫০০টাকা করে,৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ২৫জন,সপ্তম শ্রেণিতে ২৬জন,অষ্টম শ্রেণিতে ৩০জন,নবম শ্রেণিতে ১৫ শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৪০০টাকা করে কোচিং করছে। এ হিসেবে বিদ্যালয়টি কোচিং বাণিজ্য করছে ৩৬,৯০০টাকা।

নুরজাহান আজমত চৌধুরানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে ৩০জন ও নবম শ্রেণিতে ৩০জন শিক্ষার্থী ৫০০ এবং ৩০০ টাকা জনপ্রতি কোচিং করছে। এ হিসেবে বিদ্যালয়টি কোচিং বাণিজ্য করছে প্রায় ২৫,০০০টাকা।

আবু মাঝির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৬০ জন শিক্ষার্থী,সপ্তম শ্রেণিতে ৭০জন শিক্ষার্থী,অষ্টম শ্রেণিতে ৮০ জন শিক্ষার্থী,নবম শ্রেণিতে ৬০ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৪০০ টাকা করে কোচিং করছে। দশম শ্রেণির ৬০জন শিক্ষার্থী ৫০০ টাকা করে কোচিং করছে। এ হিসেবে বিদ্যালয়টি কোচিং বাণিজ্য করছে, প্রায় ১,৩৮,০০০ টাকা।

অভিভাবক মহলের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধনিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ১লক্ষ টাকার কোচিং বাণিজ্য হচ্ছে রমজানের মাসে। হাজারীহাট আলিম মাদ্রাসায় ১ম,২য় শ্রেণিতে ৩০জন শিক্ষার্থী ২০০টাকা করে কোচিং করছে,৩য়,৪র্থ শ্রেণিতে ১২০জন শিক্ষার্থী ৩০০ টাকা করে কোচিং করছে,পঞ্চম শ্রেণিতে ৯০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৪০০টাকা করে কোচিং করছে।৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ১০০ জন শিক্ষার্থী,সপ্তম শ্রেণিতে ৭০ জন শিক্ষার্থী,৮ম শ্রেণিতে ৭০ জন শিক্ষার্থী,নবম শ্রেণিতে ৬০ শিক্ষার্থী,দশম শ্রেণিতে ৩০ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৬০০ টাকা করে কোচিং করছে। এ হিসেবে মাদ্রাসাটি কোচিং বাণিজ্য করেছে ২,৪০,০০০টাকা।

আবু মাঝির হাট এ সাঈদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দশম শ্রেণিতে ৩৫জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি শিক্ষার্থী ৫০০টাকা করে,নবম শ্রেণিতে ৩০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫০০টাকা,অষ্টম শ্রেণিতে ৩০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৪০০টাকা,সপ্তম শ্রেণিতে ৩০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৪০০টাকা,৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৩০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৩০০টাকা,পঞ্চম শ্রেণিতে ৩৫ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৩০০টাকা, ৪র্থ শ্রেণিতে ৩০জন শিক্ষার্থী ৩০০টাকা করে কোচিং করছে। এ হিসেবে মাদ্রাসাটি কোচিং বাণিজ্য করেছে প্রায় ৯০,০০০টাকা।

চরকাঁকড়া উচ্চ বিদ্যালয় দশম শ্রেণিতে ৪১ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫০০টাকা করে,নবম শ্রেণিতে ২১জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৪০০টাকা করে,সপ্তম-অষ্টম শ্রেণিতে ১১৫জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৩০০টাকা করে,৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৩০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ২০০টাকা করে কোচিং করছে। এ হিসেবে কোচিং বাণিজ্য হচ্ছে প্রায় ৬০,০০০টাকা।

পশ্চিম চরকাঁকড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০,০০০হাজার টাকার কোচিং বাণিজ্য হচ্ছে। মধ্য চরকাঁকড়া উচ্চ বিদ্যালয় ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি ৩০০টকা,নবম থেকে দশম শ্রেণি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪০০টাকা করে ১লক্ষ টাকার উপরে কোচিং বাণিজ্য করেছে বিদ্যালয়টি।

মধ্য পূর্ব চরকাঁকড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০টাকা করে ১,৫০,০০০টাকা কোচিং বাণিজ্য করা হয়েছে। পেশকারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর কাছে থেকে জনপ্রতি ৫০০টাকা করে ২,০০০০০টাকার কোচিং বাণিজ্য হচ্ছে।

রুপনগর তালিমুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসায় ২য় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩লক্ষ টাকার কোচিং বাণিজ্য করা হচ্ছে। বসুরহাট মডেল মাদ্রাসা,এ মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ২৮জন ছাত্রছাত্রীকে জনপ্রতি ৫০০টাকা,পঞ্চম শ্রেণির ১৯ জন ছাত্রছাত্রীকে জনপ্রতি ৪০০টাকা করে কোচিং করানো হচ্ছে। এ হিসাবে মাদ্রাসাটির রোজার মাসে কোচিং বাণিজ্য থেকে আয় ২১,৬০০ টাকা।

যোগিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম,নবম,দশম শ্রেণিতে ১৩৫জন শিক্ষাথী জনপ্রতি ৩০০টাকা ও ৬ষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণিতে ১৫০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ২০০ টাকা করে কোচিং করছে। এ হিসেবে বিদ্যালয়টি কোচিং বাণিজ্য করছে,৭০,০০০টাকা।

মুক্তিযোদ্ধা শহীদ কামাল উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ৬০জন শিক্ষার্থী, নবম শ্রেণিতে ২৬জন শিক্ষার্থী, দশম শ্রেণিতে ৬০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৩০০টাকা এবং ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ৭০জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ২৫০টাকায় কোচিং করছে। এ হিসেবে কোচিং বাণিজ্য হচ্ছে ৬১,৩০০টাকা।

মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৩৫০ টাকা করে কোচিং করছে। এ হিসেবে কোচিং বাণিজ্য হচ্ছে ১,৫৭,৫০০টাকা। শাহজাদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১লক্ষ টাকার উপরে কোচিং বাণিজ্য করা হয়েছে।

জানা যায়, এ ছাড়াও কোচিং বাণিজ্য করেছে বসুরহাট দারুস সুন্নাহ মডেল মাদ্রাসা (সাবেক বসুরহাট ক্যাডেট মাদ্রাসা), বসুরহাট একাডেমী, নতুন বাজার ইসলামিয়া মডেল মাদ্রাসা, মোহাম্মদিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা, শাহজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজপুর পি এল একাডেমী, যোগিদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শাহজাদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, জামেয়া শরাফাতিয়া ফাযিল মাদ্রাসা।

তবে একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাধ্যতামূলক কোচিংয়ের অভিযোগ নাকচ করেন। একাধিক অভিভাবক মহল অভিযোগ করেন, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের নিস্ফলা ভূমিকা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিক্রিয় ও অফিস অন্তমুখিতার কারণে বিদ্যালয় প্রধানরা সর্বময় কর্তা।

এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো.মাহফুজুর রহমান জানান, বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি এবং এরপর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শাহ মো.কামাল পারভেজ’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

ওএফ