• শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮, ৯ আষাঢ় ১৪২৫
  • ||
শিরোনাম

রানা প্লাজা স্মৃতির আতঙ্ক; তবু বাচাঁর নতুন লড়াই

প্রকাশ:  ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ২১:৪০ | আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ২২:০৩
সাভার প্রতিনিধি
প্রিন্ট

রানা প্লাজার ভবন ধস, বিশ্বের বুকে আলোচিত ঘটনার মর্মান্তিক এক ইতিহাস।  শরীরে ইট পাথরের শক্ত আঘাত, আর কোমল চামড়ায় লোহা রডের রক্তক্ষরণ আচঁড়।হাজারো শ্রমিকের প্রাণহানি। সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসের বিভীষিকার এমন আধাঁরে কেউ হেরেছেন, কেউ বেঁচে ফিরেছেন।গত ৫ বছর আগে বৈশাখের এমনি এক আলো ঝলমল সকালে সাভারে রানা প্লাজার ভবন ধসে রক্ততাক্ত ক্ষত-বিক্ষত শরীর নিয়ে আহত শ্রমিকের হেঁটে যাওয়ার ইতিহাস।

সেই রানা প্লাজার বিলীন জায়গায় এখন দেখা মেলে না মাটির সঙ্গে মিশে থাকা রং চটা জামা-কাপড়ের কোন টুকরো।পথ শিশুরা খুজেঁ পায় না নিখোঁজ মানুষের কোন হাড় গোড়ের অংশ। সুবজ ঘাষে আর কচুরিপানার আবরনে ঢেকে গেছে রানা প্লাজার কালো সেই চিহৃ। পরিত্যক্ত সেই রানা প্লাজার সামনে অস্থায়ী দোকানগুলো পর্দার দেয়াল তুলেছে মানব চোখে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সাভার বাস স্ট্যান্ডে বর্তমান ভবন ধসের রানা প্লাজার চিত্র।

বেঁচে ফেরা হাজারো শ্রমিক, শরীরিক প্রতিবন্ধকতা ও নানা যন্ত্রনা ভুলে বেঁচে থাকার নতুন করে স্বপ্ন বুনেছেন। তেমনি একজন মাহামুদুল হাছান হৃদয়। আহত হয়ে বেঁচে গেছেন। তবে তারপর শুরু বেঁচের আরেক লড়াই। একদিকে কর্মক্ষমতাহীন, অন্যদিকে মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রনা। এরমাঝেই নতুন স্বপ্ন নিয়ে গড়েছেন ওষুধের দোকান। সাভারের ছায়াবিথীতে তার এই দোকান। এরমধ্যে ফার্মেসী বিভিন্ন কোর্সও করেছেন। যা আয় অন্তত দুইমুটো খাওয়া চলে।

শাহামুদুলেল অদুরেই রানা প্লাজার আরেক আহত নারী শ্রমিক জেসমিন আক্তারের মুদি দোকান। পুঁজি কম, মালও কম। তাই কোন রকম চলে তার সংসার। আর দুখী মায়ের একমাত্র সঙ্গিনী একমাত্র মেয়ে।

আরেকটুকু সামনে এগিয়ে দেখা মেলে রানা প্লাজার বিভীষিকা থেকে ভাগ্রক্রমে বেঁচে ফেরা অঅরেক নারী শ্রমিক নিলুফা জেসমিনের সঙ্গে। তার কষ্টের কথাগুলো এক দমেই বলে যাচ্ছেন, ‘ রিকসা চালক স্বামীর আয় ও পরিবারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। দুইজন স্কুল পড়ুয়া। স্বামীর যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসারই ঠিক মতো চলে না। বাড়ি ভাড়াই ৩ হাজার টাকা। পরে ছেলে মেয়ে স্কুলের জুতা কেনা হয় না। বেতন আটক যায়্ একটু ভালো খাবার তুলে দিতে পারেন ছেলে মেয়ের মুখে। ছেলে মেয়ে অভিযোগে মুখে স্বামী-স্ত্রী নিরবতাই যেন এক মাত্র সম্বল।

কথা হয় অসুস্থ নারী ম্রমিক নিলুফা বেগমের সঙ্গে, তিনি জানান, এতগুলো নিরীহ মানুষকে হত্যাকারী রানার দ্রুত ফাঁসি চাই। এই হত্যাকারী রানার কারণে হাজার মানুষ বেঁচে থেকেও যেন মৃত্যুর সঙ্গে প্রতি মুহুর্তে যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু জানান, ঘুরে দাড়ানোর শ্রমিকদের প্রতি আরও সহযোগিতা ও জারালো ভুমিকা পালনের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা সেবার জন্য স্থায়ীভাবে সাভারে মেডিকেল ক্যাম্প করার অনুরোধ করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক বশির আহমেদ জানান, দু:সহ স্মৃতি আর শরীরের ক্ষত ভুলে নতুন জীবনের প্রচেষ্টায় যারা, তাদের ধন্যবাদের পাশাপাশি তাদের ভাগ্য উন্নত সরকার ও শিল্প মালিক সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।তারা আমাদেরই একজন। তাদের পনুবাসনের ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখতে হবে।

ওএফ