• বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

যে দশটি মুভি অবশ্যই দেখা উচিত

প্রকাশ:  ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ২১:১১ | আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ২১:৩৪
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

পথের প্যাঁচালিঃ পথের প্যাঁচালির মাধ্যমেই ভারতীয় চলচ্চিত্রে নতুন ধারার সৃষ্টি হয়।কিংবদন্তি সত্যজিৎ রায়ের প্রথম কাজ।সিনেমাটোগ্রাফার সুব্রত মিত্রেরও সেবারই প্রথমবারের মত ক্যামেরার পেছনে দাড়ানো।এর আগে কখনোই ক্যামেরার সামনে কাজ করা হয়নি শিশুশিল্পী অপু ও দুর্গার।বিশ শতকের প্রত্যন্ত এক গ্রামীণ বাঙালি পরিবারের জীবনযাপনের নানা সংকট আর তাদের সুখ দুঃখের খন্ড খন্ড চিত্র এতোটাই জীবন্ত আর নির্মম হয়ে ফুটে ওঠেছে যে এক মুহুর্তের জন্যেও আপনার মনোযোগ অন্যদিকে সরাতে পারবেন না।

মাটির ময়নাঃ ষাটের দশকের উত্তাল সময়ের প্রেক্ষাপট থেকে মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগের সময়টুকুতে একটি পরিবার কিভাবে যুদ্ধ ও ধর্মের কারণে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় তার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে এ চলচ্চিত্র।ধর্মীয় উদারতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র আর ইসলামের দুর্বোধ্যতা এ সব কিছু মিলিয়ে মাটির ময়না জাগতিক দ্বন্দ্বের একটি দৃশ্যমান প্রতিকৃতি। প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে কান ফিল্ম ফেস্টিভালের জন্য নির্বাচিত হয় এবং ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট বিভাগের সূচনা চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

অপুর সংসারঃ সত্যজিৎ রায়ের লেখা গল্প,পরিচালনা ও প্রযোজনায় আরেকটি মাস্টারপিস অপুর সংসার।অপু ট্রিলজির তৃতীয় ও শেষ এই মুভিটিকে প্রায়ই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সেরা চলচ্চিত্র বলে আখ্যায়িত করা হয়।না দেখে থাকলে যেকোনো অবসরে দেখা মুভির তালিকায় রেখে দিতে পারেন।পুরোটা সময় আপনাকে মুগ্ধ করে রাখবে।

ভুতের ভবিষ্যৎঃ অনিক দত্ত পরিচালিত ভারতীয় বাংলা মুভি ভূতের ভবিষ্যৎ।বাংলা এই মুভিটি এতোটাই ভালো হয়েছিলো যে বলিউডে এর অনুকরণে নির্মিত হয় ‘গ্যাং অব ঘোস্টস’। বুদ্ধিদীপ্ত ও ব্যঙ্গাত্বক এই চলচ্চিত্রটি বহুদিন পর সাধারণ দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে।

সীমানা পেরিয়েঃ ১৯৭০ সালের ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস অবলম্বনে নির্মিত আলমগীর কবিরের সীমানা পেরিয়ে।অজানা দ্বীপে আশ্রয় নেওয়া এক গ্রাম্য তরুণ ও শহুরে তরুণীর মধ্যে বেঁচে থাকার তাগিদে গড়ে উঠে অনিন্দ্য সুন্দর একটি সম্পর্ক।‘বিমুর্ত এই রাত্রি আমার মৌনতার সুতোয় বুনা একটি রঙিন চাদর’ কালজয়ী এই গানটি চলচ্চিত্রটিকে নিয়ে গেছে অন্য এক উচ্চতায়।

অরণ্যের দিনরাত্রিঃ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস অরণ্যের দিনরাত্রি অবলম্বনেই নির্মিত সত্যজিৎ রায়ের সেলুলয়েডের অরণ্যের দিনরাত্রি।এক ছুটিতে কলকাতাবাসী চার বন্ধু অসীম, সঞ্জয়, হরি ও শেখরের পালামৌ ভ্রমণ ও সেখানকার নানা ঘটনায় কখন যে আপনার মুভির গল্প এগিয়ে যাবে আপনি হয়তো টেরই পাবেন না।

তিন কন্যাঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তিনটি ছোট গল্প থেকে নির্মিত এ চলচ্চিত্র সংকলন সত্যজিৎ রায় নির্মিত তিন কন্যা।কবিগুরুর তিনটি গল্পেরই প্রধান চরিত্র নারী, এই তিন নারী চরিত্রকে বোঝানোর জন্যে সিনেমার নাম দেয়া হয়েছে তিন কন্যা। তিন কন্যার শেষ সিনেমাটি ‘সমাপ্তি’, যেখানে অভিনয় করেন অপর্ণা সেন ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

পদ্মা নদীর মাঝিঃ মানিক বন্দোপাধ্যায়ের কালজয়ী এই উপন্যাসটিকে সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দি করেছেন গৌতম ঘোষ।বাংলাদেশ ভারত যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটিতে পদ্মার পাড়ের জেলেদের জীবন, প্রেম, সমাজব্যবস্থার নানা অসংগতির চিত্র উঠে এসেছে সুনিপুণ অভিনয়ের গুণে।

জাপানিজ ওয়াইফঃ রাহুল বোস, রাইমা সেনের অনবদ্য অভিনয়ে জাপানিজ ওয়াইফ দেখার সময় এক মুহুর্তের জন্যেও আপনার বিরক্ত হওয়ার কোনো উপায় নেই।তরুণ এক গ্রাম্য শিক্ষকের জাপানি পত্রবন্ধুকে পত্রমারফত বিয়ে, দেখা না হওয়া সত্বেও জাপানি সংস্কৃতির পত্রবন্ধুর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার ছবিই নিদারুণ ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করা হযেছে।

গুপি গাইন বাঘা বাইনঃ সত্যজিৎ রায় পরিচালিত হাস্যরসাত্বক ভারতীয় বাংলা এই মুভিটি দেখেননি এমন লোক কমই আছেন।গাইতে না পারলেও গুপি গাইনের স্বপ্ন বড় গায়ক হওয়ার। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে রেকর্ড গড়া জনপ্রিয় এই বাংলা মুভিটি একটানা ৫১ সপ্তাহ থিয়েটারে দর্শকপ্রিয়তা পায়।

/টিএস