• শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮, ৯ আষাঢ় ১৪২৫
  • ||
শিরোনাম

মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে

প্রকাশ:  ২৫ মার্চ ২০১৮, ১৯:১১ | আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৮, ২১:১৫
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট
 

দিন বদলে যাচ্ছে। বিধি-নিষেধের ঘেরাটোপ ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের মেয়েরা। ঘরেবাইরে এখন পুরুষের পাশে তারা সমানে সমান। নারীদের এগিয়ে যাওয়ার এমনই একটি প্রতীকী ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। স্কুলের ইউনিফর্ম দুই কিশোরীর ওই ছবিটি ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে তুলেন তমা খান। ক্যাপশনে তিনি লিখেন- ‘নারী তুমি কার! স্বামীর নাকি বাবার?’ ছবিটি আসলে বহন করছে একটি বিশেষ বার্তা, সেটি হলো- বাংলাদেশের মেয়েরা আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠছে।

তমা খানের পোস্ট দেওয়া এই ছবিটা সঙ্গে সঙ্গে লুফে নেয় ফেসবুক ইউসাররা। চমৎকার সব স্ট্যাটাসের সাথে ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব স্ট্যাটাসে ওঠে আসে এদেশে নারীর অগ্রযাত্রার নানা ঘটনা। এ বিষয়ে জুয়েইরিযাহ মউ নামের একজন ইউজার লিখেছেন- এটা আমার দেশের, আমার শহরের সাধারণ এক চিত্র হোক তাই চাই। আমার মনে আছে প্রথম যখন পাঠাও সার্ভিস চালু হয় তার সাথে সাথে মেয়েরা খুব সহজে এ সার্ভিস গ্রহণ করেছে। "অপরিচিত ছেলের পেছনে বাইকে চড়ার" ট্যাবু ভেঙে, পুরুষ হোক বা নারী একজন রাইডার একজন ইউজার - ব্যাপারটা স্রেফ এটা এই সহজ কথা সমাজকে বুঝিয়ে দিয়ে। এবং নিশ্চয় সেটা দিন শেষে নারীকে এগিয়ে দেয়, কারণ চলাফেরার পথ নিজ তাগিদে সহজ সুবিধাজনক করে নেওয়ার লাভ দুর্দান্ত! এগুলো ধীরে ধীরে সমাজের চোখে সয়ে যাবে তখনই যখন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠবে এ সমস্তই।ঢাকা শহরের বাইরের চিত্র আমি জানি না, চট্টগ্রামে কেমন ব্যবহার করছেন পাঠাও নারীরা?জানতে ইচ্ছে হয়। এই ছবিগুলো দেখতে ভালো লাগে! নিজে প্রাণ খুলে নি:শ্বাস নিতে জানি বলে অন্যরাও নিচ্ছে, নিতে শিখছে দেখতে আরাম বোধ করি।

নাজনীন নাহার লিখেছেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশ নেয়াসহ বর্তমানে পরিবার, সমাজ গঠনসহ দেশ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন নারীরা। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের বাদ দিয়ে কোন ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। নেপোলিয়ন বলেছিলেন, 'আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব'। আজ শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অগ্রসরতার কারণে সকল ক্ষেত্রে সরবে তারা অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছেন। সময়ে সময়ে খেতাব প্রাপ্ত বীরাঙ্গনা নারীসহ কাটা বিছানো সেসব পথ মাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত রেখেছেন। এভারেষ্টজয়ী ওয়াসফিয়া নাজনিন, নিশাত মজুমদারসহ সাহসী নারীগণ। এই ছবিটিও নারীর এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক।

ছবিটি পোস্ট করে স্ট্যূাটাসে সাংবাদিক হুমায়ুন কবির খোকন লিখেছেন, আমাদের মেয়েরা কি সুন্দর এগিয়েযাচ্ছে। সবাই পারিবারিকভাবে এভাবে সহযোগিতা করা উচিত। আগামী সুন্দর বাংলাদেশ। রাজধানীরর মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাত্রীদের ছবি। 

রওশন জাহান লিখেছেন,  দীর্ঘদিন ধরে এ দেশের অবরোধবাসিনীরা নিজেদের অধিকার আদায়ে লড়াই করছে। তারই ধারাবাহিকতায় তারা দ্রুত নিজেদের এগিয়ে নিচ্ছে, এগিয়ে দিচ্ছে দেশকে। প্রায় শতবর্ষ পূর্বে যার শুভসূচনা করেছিলেন নারীমুক্তি আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। সীমাহীন বাধা-বিপত্তির দেয়াল ভেঙ্গে তাদের যে অগ্রযাত্রা তার মধ্যে নারীর ক্ষমতায়ন অন্যতম। আজকে দুই কিশোরীর মোটর সাইকেল ছবি দেখে মনটা ভালো হয়ে গেল।