• শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮, ৭ বৈশাখ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

'একজনকে কতবার কনসিডার করা হবে'

প্রকাশ:  ১৯ মার্চ ২০১৮, ০১:৩৫ | আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৮, ০২:২৫
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, একজন ব্যক্তিকে কতবার কনসিডার (বিবেচনা) করা হবে।

বিচারিক আদালত এসব বিবেচনায় ৫ বছর সাজা কম দিয়েছেন, হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন। একজন আসামিকে কতবার এ সুবিধা দেওয়া হবে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চে জামিন সংক্রান্ত লিভ টু আপিলের শুনানিকালে রোববার (১৮ মার্চ) তিনি এ সব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া জামিনের অপব্যবহার করেছেন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এখন তিনি (খালেদা জিয়া) দণ্ডিত। এটা এখন বিচারাধীন বিষয়। একই যুক্তি এখানে প্রযোজ্য হবে না। এখানে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৭ ধারা প্রযোজ্য হবে। ৪২৬ ধারা নয়।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দয়া এবং বার বার অনুকম্পা দেখানো ঠিক হবে না। কোনো রাষ্ট্রেই এটা দেখানো হয়নি।’

যুক্তির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল মামলার বিস্তারিত পড়া শুরু করলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আপত্তি তুলে বলেন, ‘এখন তো আপিলের শুনানি হচ্ছে না। মামলার সারবত্তায় (মেরিট) যাওয়ার দরকার কী।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা মামলাটি একটু ভালো করে শুনি। আপনারাই বলেছেন, আমরা গতদিন শুনি নাই। আমরা আপনাদের কথা পরে শুনব।

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটা হলো একটা সারসংক্ষেপ। বিচারিক আদালতের রায়ে একজন সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, এতিমখানার টাকা উত্তোলনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার অনুমোদন ছিল। এরমধ্যে তারেক রহমান ও তার ভাগ্নে মুমিনুর রহমান ৪ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে।  তারা কীভাবে এ টাকা তুলে নিলো?’

আদালত বলেন, ‘এটা কি ব্যক্তি নামে ছিল?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘হ্যাঁ, ব্যক্তি নামে ছিল। এফডিআর করা নিয়ে একটা মামলাও হয়। তারা জমি কেনার জন্য টাকা দিয়েছিল কিন্ত যখন জমি পাচ্ছিল না তখন তারা জমির জন্য চাপ না দিয়ে টাকা ফেরত চেয়েছে।’

আদালত জানতে চান মামলাটি কখন হয়েছিল? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘২০০৯ সালে হয়।’ এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মামলার ধারাবাহিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘বিচার বিলম্বিত করতে তারা এমন কোনো পথ নেই যে অবলম্বন করেননি। এ মামলা যেন বাস্তবে না আসে সেজন্য তারা  বেশ কয়েকবার উচ্চ আদালতে বিভিন্ন অজুহাতে আসেন। বেশ কয়েকবার বিচারককের বিরুদ্ধেও অনাস্থা দিয়েছে। এটা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও গড়ায়। এ হলো তাদের আচরণ।’

মামলার নথি থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অজ্ঞাতে টাকা এসেছে বা তোলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এটা ঠিক না।’

তিনি হাইকোর্টের চারটি যুক্তির পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, ‘তাকে স্বল্প মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। আর আপিল শুনানি হবে না এটা অযৌক্তিক। আমাদের এ কোর্টে বিডিআর মামলায় ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। আমরা হাজার হাজার পৃষ্ঠার পেপার বুক তৈরি করেছি।’

জনতা টাওয়ার মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাড়ে তিন বছর সাজা হয়েছিল। উনি জেলও খেটেছেন।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘লালু প্রসাদের সঙ্গে কি এ ঘটনার মিল আছে?’

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টেও তার জামিন খারিজ হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে অসুস্থ বলা হচ্ছে কিন্ত তিনি মিটিং করছেন, সমাবেশ করছেন, বিদেশ যাচ্ছেন সবকিছু করছেন। আজকে যদি জামিন দেওয়া হয় তাহলে আপিলের শুনানি অনিশ্চিত হয়ে যাবে।’

এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মাদ আলী তার যুক্তি তুলে ধরেন।