• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

বিমান দুর্ঘটনায় রকিবুলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া

প্রকাশ:  ১৪ মার্চ ২০১৮, ০২:৪৪ | আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০২:৫৮
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনার ভাঙ্গন কবলিত চরাঞ্চল বাগুটিয়ার এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান প্রকৌশলী রকিবুল হাসান। নেপালের কাঠমাণ্ডুতে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের যাত্রী ছিলেন রকিবুল ও তার স্ত্রী রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সহকারী অধ্যাপক ইমরানা কবির হাসি। এ দুর্ঘটনায় রকিবুলের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া। তার স্ত্রী হাসি গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

রকিবুলের অকাল মৃত্যুতে এলাকাবাসীসহ আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামের অত্যন্ত সুপরিচিত মেধাবী রকিবুল বিদেশি একটি কোম্পানিতে সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

১২ মার্চ সন্ধ্যার পর এলাকাবাসী আত্মীয় স্বজন রকিবুলের বিমান দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই নিহতের গ্রামের বাড়িতে ভিড় জমান স্থানীয়রা। এ সময় গ্রামের বাড়িতে নিকট আত্মীয়-স্বজন ছাড়া রকিবুলের পরিবারের কেউ ছিলেন না। আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার প্রতিটি মানুষের মুখে ছিল শোকের ছায়া আর চোখ ছিল অশ্রুসজল।

স্থানীয়রা জানান, একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয় মেধাবী রকিবুল। তার বাবা প্রয়াত রবিউল করিম মাস্টার ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। রকিবুল একাদশ শ্রেণিতে অধ্যায়ন কালে তার বাবার মৃত্যুর পর পেছন ফিরে তাকাননি তিনি। একের পর এক সব পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তিনি। সবশেষে রাজশাহী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে একটি বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি নেন। এলাকাবাসী আরো জানান, রকিবুল ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী আচরণের অধিকারী এবং এলাকার লোকজনের প্রতি ছিল নিঃস্বার্থ ভালবাসা। গ্রামে এলেই তিনি সব আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। নিরহঙ্কারী মনের এমন মানুষকে হারিয়ে এলাকার প্রতিটি মানুষের মাঝে কান্নার রোল পড়েছে।

নিহত রকিবুলের চাচাতো ভাই বাবু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দু’বছর আগে রকিবুল টাঙ্গাইল জেলার হাজারীঘাট এলাকার সোনালি ব্যাংক কর্মকর্তা হুমায়ূন কবিরের মেয়ে ইমরানা কবির হাসিকে বিয়ে করেন। মর্মান্তিক এই প্লেন দুর্ঘটনায় তিনিও আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তিনি বলেন, বাবার একমাত্র ছেলে রকিবুলের এক বোন রুমা আক্তার বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। বৃদ্ধ মা ছেলের সঙ্গে ঢাকাতেই থাকতেন। রকিবুলের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ওই পরিবারের একমাত্র বংশপ্রদীপ নিভে গেল।

বাগুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার আকন্দ বলেন, রকিবুল ছিলেন এ দুর্গম চরাঞ্চলের রত্ন। মেধা ও শ্রম দিয়ে তিনি নিজের জীবন গড়ে তুলছিলেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই তার মৃত্যু, এটা কেউ সহজে মেনে নিতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, ছেলেকে হারিয়ে রকিবুলের মা এখন নিঃস্ব। এক মেয়ে রুমা আক্তার বিয়ে করে আমেরিকায় বসবাস করছেন। অসহায় বৃদ্ধ মা এখন ঢাকার নিউমার্কেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন। তাকে দেখার মত আর কেউ রইলো না।