• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

মাত্র ৯০ দিন পরই পিয়াস হতে পারত ‘ডা. পিয়াস’

প্রকাশ:  ১৪ মার্চ ২০১৮, ০১:০৪ | আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০১:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

পাঁচ বছর আগের গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজে এমবিবিএসে ভর্তি হয়েছিল পিয়াস রায়। পরীক্ষা শেষ, রেজাল্টের বাকি আর তিন মাস। এই ৯০ দিন পেরোলেই পিয়াসের নামের পাশে বসত চিকিৎসক উপাধি। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের বিমান বিধ্বস্তে চিরতরে হারিয়ে গেলেন বরিশালের পিয়াস রায়।

কয়েকদিন আগে তার মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের (প্রফ) পরীক্ষা শেষ হয়েছে। অবসর সময়ে নানান জায়গায় ঘুরতে যেতেন পিয়াস। ভেবেছিলেন চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত হলে এমন সুযোগ আর নাও আসতে পারে। তাই পরিকল্পনা করেন ভারত যাবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা পরিবর্তন করে গেলেন নেপাল। এর আগেও তিনি একবার নেপাল গিয়েছিলেন।

পিয়াসের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু রুবাইয়া তাবাসসুম বলেন,‘পাঁচ বছর আমরা একসাথে ছিলাম। পিয়াসের রোল ছিল আমার আগের রোলটা। ও আমার আমার ভাই-বোন বা বন্ধুর চেয়েও বেশি একজন প্রিয় মানুষ ছিল। সে আর কখনও ফিরবে না, এটা মেনে নিতে পারছি না। যে মানুষটা সবাইকে সবসময় হাসিমুখে থাকতে বলত, সে কিনা সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেল।’

বন্ধুমহলে পিয়াস ছিল সবার মধ্যমণি। বন্ধুদের আনন্দ দিতে ভালবাসতেন পিয়াস। বন্ধুমহলে তার করা একটা উক্তিও সবার প্রিয় ছিল। সে বলত মানুষকে আনন্দ দিতে ভালবাসি। মাঝে মাঝে মানুষকে হাসাতে চেষ্টা করি। যখন কেউ হাসে না, তখন নিজেই হেসে ফেলি।

পিয়াস সম্পর্কে জানতে চাইলে তার আরেক বন্ধু মেহেদি হাসান আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাড়ে ৫ বছরের স্মৃতি। কত দুষ্টমি, আড্ডা সব ছেড়ে চলে গেল পিয়াস। ওর প্রতি আমাদের সবার ক্ষোভ ছিল। সুযোগ পেলেই একা একা ঘুরতে চলে যেত। কেন এভাবে চলে গেলি? এত পরিশ্রম করে ডাক্তার না হয়ে তুই চলে গেলি। আরতো মাত্র কয়েকটা মাস বাকি ছিল রে পিয়াস।’

পিয়াস ভ্রমণপিপাসু ছিলেন। সুযোগ পেলেই একা বেরিয়ে পড়তেন। আর এসেই বন্ধুদের শোনাতেন ভ্রমণের গল্প। বন্ধুরাও মন্ত্রমুগ্ধের মত করে শুনতেন পিয়াসের ভ্রমণের গল্প। পিয়াসের আর ভ্রমণ করা হবে না। বন্ধুরাও আর শুনতে পাবে না পিয়াসের ভ্রমণ গল্প।

পিয়াস রায় বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের মধুকাঠি গ্রামের বাসিন্দা সুখেন্দু বিকাশ রায়ের ছেলে। বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায় ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার চন্দ্রকান্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মা পূর্ণা রানি মিস্ত্রি বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের মধ্যে পিয়াস বড়।

বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পিয়াস গোপালগঞ্জের শেখ সাবেরা খাতুন মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।প্রথম আলোর গোপালগঞ্জে জেলার বন্ধুসভার সিনিয়র সহ-সভাপতিও ছিলেন।

পিয়াস রায়ের চাচাতো ভাই পার্থ রায় বলেন, ‘পিয়াসের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আজ সকালে আমাদের জানিয়েছে পিয়াসের পক্ষে ডেডবডি আনার জন্য নেপাল যেতে। কিন্তু পিয়াসের আত্মীয়দের মধ্যে আমরা যারা ঢাকা আছি, আমাদের কারও কাছে পাসপোর্ট ছিল না। যার কারণে আজ সকাল আটটার ফ্লাইটে আমরা ওখানে যেতে পারিনি। আর হুট করে জানালে ম্যানেজও করা যায় না। পিয়াসের ডেড বডি পাওয়ার বিষয়ে ওরা আমাদের ১টার দিকে একটা সলিউশন দিবে বলছে।’