• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

ছাত্রলীগ নেতার হাত ধরে ঘর ছাড়লেন প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ:  ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৮:০৭ | আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৮:১১
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট

এক কন্যা সন্তান নিয়ে কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাত ধরে ঘর ছাড়লেন দুবাই প্রবাসীর স্ত্রী। সাথে শহরের একটি বাসায় নিজে ছাত্রলীগ নেতা অভিভাবক হয়ে ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছেন তারা। বিষয়টি চাউর হলে শহর জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তোলপাড়।

এ ঘটনায় কষ্টার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালষ্কার আদায়ের জন্য আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা চেয়ে আরব আমিরাতের কনসুরেটর জেনারেল অব বাংলাদেশের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বারাবর এক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দুবাই প্রবাসী সালামত মিয়া। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয় ঘরের আসবাব পত্রসহ নগদ ৪৭ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ও কন্যা সন্তানসহ ছাত্রলীগ নেতা তুহিনুজ্জামান ইয়াকুব তার স্ত্রী রহিমা আক্তারকে নিয়ে পালিয়ে যান।

যদিও প্রবাসীল স্ত্রী রহিমা আক্তার উল্টো দাবী করেছেন তার স্বামী পরকিয়ায় আসক্ত ছিলো।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী সালামত মিয়ার সাথে ২০১৩ সালে ইসলামি শরিহা মোতাবেক একই ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা আছকর আলীর মেয়ে রহিমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের এ দাম্পত্য জীবনে আসে এক কন্যা সন্তান। কিন্তু স্বামী সালামত মিয়া প্রবাস থাকার সুবাদে কুলাউড়া উপজেলার জয়পাশা গ্রামের ছয়ফুল মিয়ার ছেলে তুহিনুজ্জামান ইয়াকুবের সাথে স্ত্রী রহিমা আক্তার পরকিয়ায় লিপ্ত হন। এবিষয়টি জানাজানি হলে আব্দুল বাছিত, গনি মিয়ার উপস্থিতিতে একাধিকভার বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। বরং ইয়াকুবের পক্ষ থেকে দুবাই প্রবাসী সালামত মিয়াকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।

বিবাহের সময় স্ত্রীকে দেওয়া নগদ ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, দেন মোহর বাবদ ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, সালামত মিয়ার গ্রামের বাড়িতে জায়গা বিক্রি বাবদ ১৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, পূবালী ব্যাংক রবিরবাজার শাখায় বীমা বাবদ ৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, জুড়ী ইউনিয়নের ফুলতলায় আগর গাছ ক্রয়বাবদ ৪ লক্ষ টাকা, ঘরের আসবাব পত্র, টিভি, ফ্রিজ, ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদি বাবদ আরও ৭ লক্ষ টাকা ও কন্যা সন্তানকে নিয়ে তুহিনুজ্জামান ইয়াকুবের সাথে পালিয়ে যান প্রবাসীর স্ত্রী রহিমা বেগম। আর এ কাজে সহায়তা করেন প্রবাসীর স্ত্রী রহিমা বেগমের মা লায়লা তালুকদার, বড় বোন মেন্দি বেগম ও বোনের স্বামী শাহিন মিয়া।

এ বিষয় নিয়ে প্রবাসী সালামত বিচার চাইলে বাংলাদেশে অবস্থানরত তার বোন ও বোনের স্বামীকে ইয়াকুব হত্যার হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে কুলাউড়া পৌর শহরের ঈদগা রোড়ে বাদে মনসুর হোল্ডি নং-৩৯ একটি ভাড়া বাসায় ওই প্রবাসীর স্ত্রী ও মাকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ইয়াকুব অভিভাবক হয়ে অবস্থান করছেন বলে দাবী করেছেন দুবাই প্রবাসী সালামত মিয়া। মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের দেওয়া ভাড়াটিয়া নিবন্ধনের একটি নির্ধারিত ফরমে জরুরি যোগাযোগের স্থানে ইয়াকুবের নাম ঠিকানা ও নাম্বার দেওয়া রয়েছে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা তুহিনুর জামান ইয়াকুববের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি দেখা করে বিস্তারিত বলবেন বলে জানান। পরে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রবাসীর সলামত মিয়ার স্ত্রী রহিমা আক্তার বলেন তার স্বামী পরকিয়ায় আসক্ত বলে ছিলো। তিনি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা অস্বীকার করে জানান, তিনি স্বামীর বাসা ছেড়ে ভাড়াটিয়া বাসায় মা ও একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জানান, এমন কোন লিখিত অভিযোগ এখনো আসেনি। আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।