• বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৮ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

অবশেষে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেলে সেই লুসি হেলেন

প্রকাশ:  ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:২১ | আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বাংলাদেশে অর্ধ শতকেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করা  ৮৭ বছর বয়সী মানবদরদি একজন ব্রিটিশ নারী নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্ট অবশেষে এদেশের নাগরিকত্ব পেলেন । 
 
 সোমবার সরকার ব্রিটিশ এই নাগরিককে এদেশের নাগরিকত্ব দেওয়ার সিন্ধান্ত নেন। এরআগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানের জনসভা মঞ্চে লুসির হাতে ভিসা ফি-মুক্ত ১৫ বছরের পাসপোর্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 
৫৭ বছর ধরে এ দেশে মানুষের সেবা করছেন তিনি । মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে তিনি যুদ্ধাহত ব্যক্তিদের সেবা দিয়েছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও তিনি নিজ দেশে আর ফিরে যাননি। এ দেশের মাটি, মানুষ আর বাতাস ভালোবেসে এখানেই থেকে গেছেন। 
 
মুক্তিযুদ্ধ সময় সেবিকা লুসি কাজ করতেন যশোর ক্যাথলিক চার্চে। সেখানে স্কুলে শিশুদের ইংরেজি পড়াতেন। যুদ্ধ শুরু হলে চার্চটি বন্ধ করে মিশনের সবাই খুলনায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। কিন্তু লুসি যাননি। নিজের জীবন বিপন্ন হতে পারে জেনেও তিনি ছুটে যান পাশের ফাতেমা হাসপাতালে। সেখানে অসংখ্য আহত বেসামরিক নারী, পুরুষ, শিশুর কান্না-আহাজারিতে তাঁর হৃদয় কাঁদছিল। তিনি হাসপাতালে গেলেন এবং অসহায় মানুষদের সেবা দিতে চাইলেন। চিকিৎসকেরা ভিনদেশি এক নারীর এমন আগ্রহ দেখে বিস্মিত হন এবং সানন্দে সম্মতি দেন। এরপর থেকে তিনি যুদ্ধাহত ব্যক্তিদের শুশ্রূষা দিতে থাকেন।
 
লুসির জন্ম ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হ্যালেন্সে। বাবা জন হল্ট ও মা ফ্রান্সিস হল্ট। দুই বোনের মধ্যে ছোট লুসি। তাঁর বড় বোন রুৎ অ্যান রেভা ফেলটন। স্বামী ও তিন ছেলে নিয়ে তিনি ব্রিটেনেই বসবাস করেন। লুসি ১৯৪৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক (দ্বাদশ) পাস করেন। তিনি ১৯৬০ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন। যোগ দেন বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে। এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের পড়াতেন। এরপর আর দেশে ফিরে যাননি। ৫৭ বছর ধরে ঘুরেফিরে তিনি কাজ করেছেন যশোর, খুলনা, নওগাঁ, ঢাকা ও গোপালগঞ্জে।
 
২০০৪ সালে অবসরে যান লুসি। ওই বছরই তিনি ফিরে আসেন বরিশালের অক্সফোর্ড মিশনে। এই অবসরজীবনে দুস্থ শিশুদের মানসিক বিকাশ ও ইংরেজি শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি এসব শিশুর জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহের কাজ করছেন। বয়সকে তিনি পাত্তাই দেন না। লুসি বলেন, বয়স কাউকে বেঁধে রাখতে পারে না, যদি ইচ্ছা থাকে। একজন মানুষ সময়কে কাজে লাগিয়ে মানুষ, সমাজ ও দেশের জন্য অনেক অবদান রাখতে পারেন।