• শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

‘ভিআইপিদের জন্য আলাদা শহর করলেই হয়’

প্রকাশ:  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:১৮
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
ফাইল ছবি
প্রিন্ট

রাজধানীতে ভিআইপি ও জরুরি সেবা দেওয়া সংস্থার গাড়ি চলাচলে আলাদা লেন করার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তারপর থেকেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ফেসবুকে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন নয়, বরং তাদের জন্য আলাদা একটা শহরই দেওয়া যায়, যেখানে শুধু ভিআইপিরাই থাকবে!

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে কারও কারও ধারণা। লেখক মাসুদা ভাট্টি লিখেছেন, বোঝা যাচ্ছে সরকারের মেয়াদের শেষ বছর চলছে। আমলারা নাকি সবসময় পরবর্তী সরকারের জন্য কাজ করেন। তা না হলে এরকম গণবিরোধী ও ভোটঘাতী ভিআইপি লেন বানানোর জন্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হবে কেন?

জনগণের ক্ষোভের সীমা ছাড়িয়ে গেলে সুখকর কিছু হবে না বলে মনে করেন ডিবিসি টেলিভিশনের সম্পাদক প্রণব সাহা। তিনি লিখেছেন, আরে মানুষের হাডনের (হাঁটার) যে লেন, যারে ভদ্দনোকেরা ফুটপাত কন, হেইডায় জাতপাত নির্বিশেষে সবাই যেন পা খুলে লৌড় (দৌড়) দিতে পারে, হেই ব্যবস্থা করেন। আর ভিআইপিরা সোনার দড়ি দিয়া রোপওয়ে বানাইয়া হীরাখচিত খোপে চলাচল করেন, কিচ্চু কমু না। তয় পাবলিক ক্ষেপলে কইলাম খবর আছে।

এ সংক্রান্ত সংবাদের লিংকে আলমগীর হোসেন ও মোহাম্মদ নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর নামের একজন লিখেছেন, ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন নয়, বরং তাদের জন্য আলাদা শহরই করে দেওয়া যায় যেখানে শুধু ভিআইপিরা থাকবেন। কিন্তু নির্বাচনের সময় যেন তারা কোনও জনগণের কাছে না যায়, কেননা তারা যদি আলাদা লেন চায় তাহলে জনগণের ভোটের কী দরকার? তারা তো ভিআইপি।

সাংবাদিক ইমন চৌধুরী মনে করেন, ভিআইপিদের রাষ্ট্র কর্তৃক প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আরও কাটছাট করে জনগণের কাতারে নামিয়ে আনা উচিত। বিশেষ করে ছয় মাস বা এক বছরের জন্য তাদের পরিবহন (গাড়ি) সুবিধা স্থগিত করা যেতে পারে। তিনি লিখেছেন, ‘আমজনতার সঙ্গে লোকাল বাসে ঝুলে ঝুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে কিছুদিন অফিস করলে হয়তো ভোগান্তিটা কিছুটা বুঝতে পারবেন তারা।

তবে আরেক সাংবাদিক সাইদ ইবনে রহমত প্রস্তাবটির পক্ষে। তিনি লিখেছেন, রাস্তার স্বল্পতার কারণে যানজট নিরসন কঠিন, কিন্তু ভিআইপি লেন করা কোনও ব্যাপার না।
 
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন ফেসবুকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে লিখেছেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাছে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি প্রস্তাব দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রস্তাবনাটি হলো অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ সার্ভিস ও ভিআইপিদের জরুরি যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কে আলাদা লেন করা যায় কিনা। যাতে যানজটে পড়ে বিনা চিকিৎসায় কোনও রোগীর মৃত্যু না হয় কিংবা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের গাড়িগুলো যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে। একইসঙ্গে ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের চলাচলে রাস্তায় কোনও অতিরিক্ত যানজট না হয়। বিষয়টি সবার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সমালোচনা করে আশরাফুল আলম খোকন আরও লিখেছেন, কিছু মিডিয়া ইস্যু বানিয়ে দিলো যে, ভিআইপিদের চলাচলের জন্য সড়কে আলাদা লেন হচ্ছে। আর কিছু মানুষ চিলে কান নিয়ে গেছে ভেবে সমালোচনার ঝাঁপি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো। এসব অর্ধশিক্ষিত রামছাগল দিয়ে জাতি কি করিবে? তাহাদের জন্য চিড়িয়াখানা নির্মাণ করা অতীব জরুরি।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন