• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাবে সূর্যালোক

প্রকাশ:  ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৩:২৫
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

সূর্যালোকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি-৩ পাওয়া যায় বলে পুষ্টি উপাদানটি ‘সানশাইন ভিটামিন’ হিসেবে পরিচিত। হাড়ের গঠন দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এর অপরিহার্য ভূমিকার কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু শুধু হাড় নয়, হূদযন্ত্রের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ভিটামিন ডি-৩। শিরা ও ধমনীর অভ্যন্তরীণ দেয়ালের কোষের ওপর পুষ্টি উপাদানটির প্রভাব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হূদযন্ত্রের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ভিটামিন ডি-৩। শুধু তা-ই নয়, হূদযন্ত্রের ক্ষয়ক্ষতিকেও পুরোপুরি পুষিয়ে দিতে সক্ষম এ সানশাইন ভিটামিন। খবর মেডিকেল নিউজ টুডে।

ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ন্যানোমেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বিজ্ঞানীরা হূদযন্ত্রের সুরক্ষায় ভিটামিন ডি-৩-এর কার্যকর ভূমিকার কথা জানান। ন্যানো সেন্সর ও দেহকোষের একটি মডেল ব্যবহারের মাধ্যমে একেবার কোষের অণুতে পুষ্টি উপাদানটির প্রভাব নিরূপণ করেন তারা। বিশেষজ্ঞরা জানান, ভিটামিন ডি-৩-এর কারণে শিরা বা ধমনীর দেয়ালের একেবারে ভেতরের প্রান্তে অবস্থিত এন্ডোথিলিয়াম নামে এক ধরনের টিস্যু সক্রিয় হয়ে ওঠে।

আগে ধারণা করা হতো, রক্ত পরিবহনতন্ত্রের ভেতরের দিককার মোড়ক হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে রক্তে পানি ও ইলেকট্রোলাইট আনা-নেয়া করা ছাড়া এন্ডোথিলিয়ামের কোনো উপযোগিতা নেই। কিন্তু গত তিন দশকের নানা পরীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে, গোটা রক্ত সংবহনতন্ত্রে স্বতন্ত্র একটি অঙ্গের মতো কাজ করে এন্ডোথিলিয়াম। এছাড়া টিস্যুটির কোষগুলোরও আলাদা কিছু জৈবিক কার্যক্রম রয়েছে। এন্ডোথিলিয়ামে সামান্য পরিবর্তনের কারণে মারাত্মক সব সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন— উচ্চরক্তচাপ, ইনসুলিন প্রতিরোধ, ডায়াবেটিস, টিউমার ও অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (যখন ধমনীতে চর্বি জমে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়)।

গবেষণায় উঠে আসে, এন্ডোথিলিয়াম ক্ষয়ে গেলে বা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভিটামিন ডি-৩ তা পূরণ করে। ফলে এন্ডোলিথিয়ামের ক্ষয়জনিত হূদরোগের ক্ষতিও পুষিয়ে ওঠে পুরোপুরি। সাধারণত সূর্যালোকের সংস্পর্শে দেহত্বকের নিচে এ পুষ্টি উপাদানটি তৈরি হয়। এর বাইরেও তেলতেলে মাছ (স্যামন, টুনা ইত্যাদি), ডিমের কুসুম, পনির ও দুধে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি-৩ রয়েছে। এছাড়া সাপ্লিমেন্ট হিসেবেও পুষ্টি উপাদানটি গ্রহণ করা যায়।

এ বিষয়ে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গবেষক ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির রসায়ন ও জৈব রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক তাদেউস মালিনস্কি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেখা গেছে, যারা হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকের শরীরেই একই সঙ্গে ভিটামিন ডি-৩-এর অভাব দেখা গেছে। তার মানে এই নয় যে, পুষ্টি উপাদানটির অভাবের কারণে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। বরং এক্ষেত্রে বলা যায়, এর অভাব হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

/এস কে