• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

বীর মুক্তিযোদ্ধা ভুলুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

প্রকাশ:  ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:৪৩
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রিন্ট

বীর মুক্তিযেদ্ধা ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা মাহবুব জামান ভুলু মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আসার সময় রাজশাহী বিমানবন্দরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

বর্ষীয়ান এই নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধসহ একত্রে রাজনীতি করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনেরও নেতৃত্ব দেন। কাজ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবেও। তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্র রাজনীতি থেকে।

মাহবুব জামান ভুলু ১৯৬৫ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবির আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৯ সালে ছাত্র ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের নেতা নির্বাচিত হয়ে বৃহত্তর রাজশাহীর গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। একাত্তরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং বিএনএফের রাজশাহী কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার জন্যও নিরলস ভাবে কাজ করেছেন। স্বাধীনতার পরের বছর তিনি যুবলীগের সদস্য হন। এছাড়াও তিনি ১৯৯০ সালে সৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

এরপর ১৯৭৫ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুর বাকশালের রাজশাহী জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক জান্তার হাতে মাহবুব জামান ভুলু গ্রেপ্তার হন এবং কারাবরণ করেন। পরে ১৯৭৮ সালে তিনি মুক্তি পান। ১৯৭৯ সালে তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮৮ থেকে ৯২ সাল পর্যন্ত মাহবুব জামান ভুলু রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

মাহবুব জামান ভুলু ১৯৯১ সালে রাজশাহী-২ আসেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী ছিলেন।

তবে এই বর্ষিয়ান নেতার বিরুদ্ধে জেলাপরিষদ নির্বাচনের সময় নিজ দলের কয়েকজন নেতা তার বিরোধীতা করে অন্য প্রার্থী দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে তাকে ফেল করানোর অভিযোগ আছে। তিনি ওই নির্বাচনে ফেল করার পর খুব হতাশার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতেন বলে জানাগেছে।

-একে

মাহবুব জামান ভুলু