• বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

ফের মেয়র বুলবুল, ছাত্রলীগে উত্তেজনা

প্রকাশ:  ২২ মে ২০১৮, ১৪:০৬ | আপডেট : ২২ মে ২০১৮, ১৪:৫৮
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রিন্ট

রাজশাহী মহানগরীতে ব্যানার টানানো নিয়ে সিটি মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সঙ্গে ছাত্রলীগের ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আজ দুপুর ১২টার পর থেকেই উভয়পক্ষ মহানগরীর আরডিএ মার্কেটের সামনে অবস্থান নিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১২টার দিকেই রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমনের নেতৃত্ব মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যানার টানানোর স্থান নগরীর সাহেব বাজার আরডি মার্কেটের সামনে অবস্থান নেন। এসময় মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ, সেক্রেটারি মাহমুদ হাসান রাজিবসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর ১২ টার ২০ মিনিটের দিকে সেখানে উপস্থিত হন মেয়র বুলবুলসহ বিএনপি, যুবদল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এরপর মেয়রসহ তার লোকজন আরডিএ মার্কেটের সামনে বসে অবস্থান নেন।

অন্যদিকে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তখন উত্তেজিত হয়ে স্লোগান দিতে থাকে। পরে দুপুর একটার দিকে পুলিশের হস্তক্ষেপে উভয়পক্ষ সেখান থেকে সরে যায়।

এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ১২ টার দিকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তার আগেই মেয়র বুলবুলের ব্যানার সরিয়ে সেখানে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ব্যানার টানানো হয়।

এ ঘটনার পরে মেয়র বুলবুল ঘোষণা দেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার মধ্যে আ’লীগের ব্যানার না সরানো হলে তিনি স্বস্ত্রীক ওই স্থানে অবস্থান কর্মমসুচি পালন করবেন। সেই অনুযায়ী দুই পক্ষই আজ আরডিএ মার্কেটের সামনে অবস্থান নেয়।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি রকি কুমার ঘোষ দাবি করেন, নগরীর জিরোপয়েন্ট এলাকার একটি বিলবোর্ডে সোমবারর রাতে হটাৎ করে সিটি মেয়র ও বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের ব্যানার টানানো হয়। অথচ সেখানে আগে থেকেই সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের একটি ব্যানার ছিল। ওই ব্যানারটি সরিয়ে মেয়র বুলবুলের ব্যানার টানানো হয়।

এ খবর পেয়ে মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি রকি কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে যান। এসময় মেয়র বুলবুলও সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মেয়র বুলবুল পক্ষ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের ব্যানারে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানানো হয় নগরবাসীকে। আর সেখানে আগে থেকে টানানো সাবেক মেয়র এএইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের ব্যানারে নগরীকে উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে দেয়ার স্লোগানসহ নগরবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানানো হয়। কিন্তু লিটনের ওই ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে বুলবুলের ব্যানার টানানো হয় বলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন। এনিয়েই তারা প্রতিবাদ জানান।

পরে রাত পৌনে ১২ টার দিকে সাবেক মেয়র লিটনের ব্যানার টানানো দেয়া হয় সেখানে। এরপর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে মেয়র বুলবুল দাবি করেন, জোর করে তার ব্যানার সরিয়ে ফেলেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর সেখানে সাবেক মেয়র লিটনের ব্যানার টানানো দেয়া হয়েছে। ওই ব্যানার তিনি সরিয়ে নিজের ব্যানার টানানোর দাবি জানান। সেটি বুধবার দুপুরের মধ্যে না হলে মেয়র বুলবুল আবারো সেখানে অবস্থান কর্মসুচি পালনের ঘোষণাও দেন।