• রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

বিদ্রোহী গ্রুপের হামলায় যুক্তরাজ্য যুবদলের সভা পণ্ড

প্রকাশ:  ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:০০ | আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:২৬
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রিন্ট
লন্ডনের বিকল্প হাওয়া ভবনের আশির্বাদপুষ্ট ইউকে যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন চরমে।সম্প্রতি ইউকে যুবদলের নতুন কমিটি গঠন করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই কমিটিকে বিকল্প হাওয়া ভবনের আর্শির্বাদপুষ্ট কমিটি হিসাবে জানেন সবাই। 

নতুন কমিটির উদ্যোগে ২৯ জানুয়ারি রাষ্টপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছিল।এই মিলাদ মাহফিলে যুবদলের বিদ্রোহী গ্রুপও অংশ নেয়। এক পর্যায়ে মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে মারামারিতে লিপ্ত হয়।পূর্ব লন্ডনের ওয়াপিংয়ে একটি হলে এই আয়োজিন করা হয়েছিল। মারামারির এক পর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

যুবদলের নতুন কমিটির সভাপতি হিসাবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন এম এ রহিম এবং সাধারণ সম্পাদক হিাসবে মনোনয়ন পান আফজাল। এ কমিটি গঠনের মাত্র বছর খানেক আগে কাউন্সিলে একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল।ওই কমিটিতে ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন এম এ রহিম এবং সোয়ালেহিন করিম।কিন্তু নির্বাচিতরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে একমত হতে পারেনি।এক পর্যায়ে কয়েকমাস পর নির্বাচিতদের বাতিল করে দেয় তারেক রহমান।

এর মাঝে সোয়ালেহিন করিমের কারাদন্ড হয় বিভিন্ন প্রতারণার মামলায়।কারাদন্ড হওয়ার পর সোয়ালেহিন করিম কারাগারে যাওয়ার পর গঠন করা হয় রহিম-আফজালের নেতৃত্বে নতুন কমিটি।কিন্তু এই কমিটিকে মেনে নেয়নি যুবদলের প্রভাবশালী আরেকটি অংশ।

এদিকে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে রয়েছে নানা গল্প।সম্প্রতি যুক্তরাজ্য বিএনপি’র কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়।এই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর একটি কাউন্সিলের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু কোথায় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে, কারা কাউন্সিলার এবং কে থাকবেন কাউন্সিল নিয়ন্ত্রণে এরকম কোন কিছুই স্পষ্ট ছিল না। 

তারেক রহমানের আর্শির্বাদপুষ্ট মালেক-কয়সর তাদের নিয়ন্ত্রিত গোপন কাউন্সিলের আয়োজন করেছিল। এক পর্যায়ে কাউন্সলের আগের রাতে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অফিস দখলে নেয়।এতে কাউন্সিল স্থগিত ঘোষনা করা হয়েছিল।যদিও পরবর্তীতে জোড়াতালির একটি কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে। 

এতে বিদ্রোহী গ্রুপ অংশ নেয়নি। তখন অনেকেই রসিকতা করে বলেছিলেন, বিএনপি মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছে। গণতন্ত্রের কথা বলছে। অথচ তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাজ্য বিএনপিতে দলের নেতাদের ভোটের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক চর্চা নেই। গলাটিপে ধরা হয়েছে কাউন্সিলের নামে ভোটের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো জানায়, বিকল্প হাওয়া ভবনের নিয়ন্ত্রক তারেক রহমান ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারি আবদুর রহমান সানীর তত্ত্বাবধানে এসব গ্রুপিং উস্কানি দেওয়া হয়। মূলত: আবদুর রহমান সানী হচ্ছে বিএনপি পরিচালনার মূল দায়িত্বে। তাঁর নির্দেশেই যুক্তরাজ্য বিএনপি চলে। তাঁর আর্শির্বাদপুষ্ট হওয়া ছাড়া যুক্তরাজ্য কেউ বিএনপি’র কমিটিতে স্থান পাওয়ার চিন্তাই করতে পারে না। বিগত বিএনপি’র কমিটিতে আবদুর রহমান সানির আশির্বাদপুষ্টরাই গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা পেয়েছিল। 

এই খবর রয়েছে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র প্রতিটি নেতাকর্মীর মাঝে। ইতোমধ্যেই আবদুর রহমান সানি দৃশ্যমান কোন কাজ না করলেও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বিএনপি ও তারেক রহমানকে পুজি করে মোটতাজা হচ্ছেন ব্যক্তিগত সহকারি আবদুর রহমান সানি।

এদিকে রাজপথে যখন হাজারো নেতাকর্মী পুলিশের লাঠিপেটা এবং জেল জুলুমের শিকার তখন যুক্তরাজ্যে বিকল্প হাওয়া ভবনের তত্ত্বাবধানে চলছে দলের ভেতরে গ্রুপিং লবিং। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণা হবে ৮ ফেব্রুয়ারী। এনিয়ে দেশে যখন চাপা উত্তেজনা সেই মূহুর্তে যুক্তরাজ্যে চলছে প্রকাশ্যে মারামারি। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা রসিকতা করে বলেন, তারেক রহমান কেমন করে দল ও দেশ চালাবেন এই নমুনা দেখা যাচ্ছে যুক্তরাজ্য বিএনপি এবং যুবদল গঠনে।


/পি.এস