• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

আ.লীগ-বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল

প্রকাশ:  ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১০:২০ | আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৮, ১২:৪৫
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জামালপুর জেলার রাজনৈতিক দলগুলো এখন বেশ সক্রিয়। বিশেষ করে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের সিনিয়র নেতাদের আস্থা অর্জন করতে এবং অন্য নেতাকর্মীদের সমর্থন পেতে মাঠে নেমেছেন। কেন্দ্রেও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেকেই। বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দলেই রয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে কোন্দল।

জামালপুরের পাঁচটি আসনে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তারা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে চালাচ্ছেন গণসংযোগ। এলাকায় পোস্টার, ব্যানার আর গণসংযোগে ব্যস্ত রয়েছেন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীরা। জামালপুরে পাঁচটি সংসদীয় (১৩৮, ১৩৯, ১৪০, ১৪১ ও ১৪২) আসনেই কার্যত লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে। দুই দলেই প্রতিটি আসনেই একাধিক প্রার্থী রয়েছে।

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ)

বকশীগঞ্জের ৭ ইউনিয়ন এবং দেওয়ানগঞ্জের ৮ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে সম্ভাব্য আওয়ামী লীগ প্রার্থী ৬ জন, বিএনপির ৩ জন এবং জাতীয় পার্টি (জাপা) এর ১জন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থকদের মাঝে বেশ দলীয় কোন্দল রয়েছে। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর ৬জনের মধ্যে সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এমপি ৪বার একই আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার তিনি এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন রাস্তা ঘাট, সেতু, ব্রিজ, কালভার্ট সহ বেশ উন্নয়ন করলেও দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কমেনি।

এ আসনে অপর সম্ভাব্য প্রার্থী বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ। গত নবম জাতীয় সংসদে নির্বাচনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থন নিলেও দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে অংশ নিয়ে প্রায় ৫০ হাজার ভোট পান।

তিনি দলের অসহায় নেতা-কর্মীদের চিকিৎসার পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তাই এবার তিনি এলাকায় পূর্বের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এর বাইরে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলী গের সভাপতি আলহাজ ইসতিয়াক হোসেন দিদার প্রমুখ।

অপরদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন তিনজন। সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিএনপির জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাহিদা আক্তার রীতা, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ আসনে বিএনপিতে রয়েছে দলীয় কোন্দল।

জামালপুর-২ (ইসলামপুর)

জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কী হবে তা আগাম বলা মুশকিল। এরই মধ্যে দলীয় কোন্দলের কারণে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। তাই একাধিক নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণাসহ জনসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই আশাবাদী যে মনোনয়ন পাবেন।

এ আসনের অতীত ইতিহাস বলছে- স্বাধীনতার পর ৮ বার আওয়ামী লীগের দখলে ছিল জামালপুর-২। এদিকে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করায় বিএনপিতে বিরাজ করছে অসন্তোষ। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাবুর একক আধিপত্যের কারণে বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলালের জনপ্রিয়তা কমেছে। তাই দলের একটি বড় অংশ আগামী নির্বাচনে এ আসন কব্জায় রাখতে এখন থেকেই ফরিদুল হক খান দুলালের বিকল্প প্রার্থী খুঁজছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশায় মুক্তিযুদ্ধের ২নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের মেয়ে সংরক্ষিত আসনের এমপি মাহজাবিন খালেদ বেবী, জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বিমানবন্দর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ শাহজাহান আলী মণ্ডল, জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস ছালাম এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

বর্তমান সরকারের আমলে এমপি আলহাজ ফরিদুল হক দুলাল এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখলেও তিনি ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন না করাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে চলছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। নেতকর্মীরা গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়েছেন। দলীয় অসন্তোষ মেটাতে না পারলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

১২ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য দু’জন প্রার্থী থাকলেও মাঠে কাজ করছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু। এছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এএসএম আবদুল হালিম দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। বিএনপির সম্ভাব্য দুই প্রার্থীই ঢাকায় অবস্থান করেন। তাদের অনুপস্থিতিতে নেতাকর্মী-সমর্থকরা অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছেন। ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করায় বিএনপিতেও বিরাজ করছে তীব্র অসন্তোষ। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাবুর একক আধিপত্যের কারণেই অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অনেক ত্যাগী নেতা এ দল ছেড়ে অন্য দলে যোগও দিয়েছেন।

এ আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির একক সম্ভাব্য প্রার্থী ইসলামপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক শিল্পপতি মোস্তফা আল মাহমুদ। তিনি পার্টির চেয়ারম্যানের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি প্রত্যেক ইউনিয়ন, পৌরসভা, ওয়ার্ড ও গ্রাম কমিটি চাঙ্গা করতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন। জাতীয় পার্টির জনপ্রিয় এ নেতার বাড়ি ইসলামপুরের পশ্চিমাঞ্চলে। ইসলামপুরের পশ্চিমাঞ্চলের সন্তান হিসেবে ৬টি ইউনিয়নে তার রয়েছে ভোটব্যাংক। সৎ, উচ্চ শিক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। তিনি এমপি না হয়েও এলাকার মানুষের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন। অনেক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত রয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি ইসলামপুরের মানুষের কাছে গরিবের বন্ধু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ)

এ আসনের আওয়ামী লীগ সম্ভাব্য প্রার্থী ১ জন এবং বিএনপির প্রার্থী একজনের নাম শুনা যাচ্ছে। তার মধ্যে আওয়ামী লীগের অধিক জনপ্রিয় প্রার্থী বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি। তিনি জামালপুরের ৫টি আসনের মধ্যে বরাবরের ন্যায় এবারও সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন। তার নির্বাচনী এলাকার রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও বহু শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।

অপরদিকে বিএনপির একক সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এবং মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফিজুর রহমান বাবুল। তিনি ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ভোট পেয়ে হেরে গেছেন। তিনিও বেশ জনপ্রিয় নেতা। আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে তৃণমূল নেতাকর্মী সমর্থকদের নিয়ে সাংগঠনিক ভীত শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে মেলান্দহ-মাদারগঞ্জে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় প্রত্যাশা করে সমর্থক নিয়ে কোমর বেঁধে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী)

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৪১ জামালপুর ৪ সরিষাবাড়ী আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে কে হচ্ছে নৌকার মাঝি? নাকি ফলছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির লাঙ্গলের ফলা। ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের দ্বন্দ্বে নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এ নিয়ে ভোটারদের মনে জেগেছে নানা প্রশ্ন । যার দ্বারা এ আসনে উন্নয়নের জোয়ার বইবে হোক আওয়ামী লীগ কিংবা জাতীয় পার্টি এমন প্রার্থী চাইছে ভোটাররা ।

জানা যায়, আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে সরিষাবাড়ী আসন। সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারে নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগ ,বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিবেচনায় জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল আলোচিত আসন এটি। আসনটি কখনো আওয়ামী লীগের এবং কখনো বিএনপির কবজায় ছিল। তবে দশম সংসদ নির্বাচনে আসনটি পেয়ে যায় জাতীয় পার্টি মামুন জোয়ার্দ্দার।

এ আসনে প্রার্থীরা হলেন- সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ,সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসান, সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশাহ,সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল, জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম ও বেলজিয়াম বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক রুহুল আমীন সেলিম, এ আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় জাপা এমপি মামুনুর রশিদ জোয়ার্দ্দাার ।

এলাকায় প্রার্থীদের ছবি সংবলিত পোস্টার ও ব্যানার শোভা পাচ্ছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপজেলার গ্রামগুলোতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন। তাদের এ তৎপরতায় দলীয় কোন্দলের উত্তাপও । বর্তমান সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ জোয়ার্দ্দার জাপা থেকে একক প্রার্থী হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন সাধারণ ভোটারদের কাছে। তিনি নানা আঙ্গিকে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন । তিনি আবারো এ আসনে লাঙ্গলের ফলা ফলাতে তিনি উঠে পরে লেগেছেন।

জামালপুর-৫ (সদর)

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। গণসংযোগের পাশাপাশি তারা মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শুনছেন। যোগ দিচ্ছেন সভা-সমাবেশেও। ভোটারদের আলোচনায়ও এই একই ইস্যু। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক অনুষ্ঠানের আলাপে ঘুরে ফিরেই আসছে আগামী নির্বাচন ও প্রার্থী। জেলার ৫টি আসনের মধ্য জামালপুর-৫ (সদর) আসনটি নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের। নব্বইয়ের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মোটাদাগে পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে টানা চারটিতেই জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের মো. রেজাউল করিম হীরা। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের শক্তিশালী প্রার্থী।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর তাকে ভূমিমন্ত্রী করা হয়। তিনি ছাড়াও আওয়ামী লীগের আরও ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসনে কেবল ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক। তিনি ছাড়াও বিএনপির আরও অন্তত তিনজন প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। বড় এ দুই দলে প্রার্থী জট থাকলেও জাতীয় পার্টি আছে সুবিধাজনক অবস্থানে।

এ আসনে বারবার আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও গত উপজেলা নির্বাচনে রহস্যজনক কারণে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী আমজাদ হোসেন মল্লিক ভোলা। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হলেও উপজেলা পরিষদের দুইজন ভাইস চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন বিএনপি থেকেই। বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ঢেউ জামালপুর সদরেও লেগেছে। তবে জেলার অন্য আসনগুলোর তুলনায় এ আসনে উন্নয়ন একেবারেই কম বলে দাবি ভোটারদের।

জামালপুর-৫ আসনে বর্তমান এমপি রেজাউল করিম হীরা ছাড়াও গণসংযোগ করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাফফর হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সিআইপি রেজাউল করিম রেজনু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি, জামালপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার চন্দ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. এমএ মান্নান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জাহিদ আনোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক আবম জাফর ইকবাল জাফু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যাপক আবদুল হামিদ ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী।

আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। এ লক্ষ্যে স্থানীয় নেতাকর্মীরা যোগ্য প্রার্থী চাচ্ছেন। এরই মধ্যে বিএনপির অন্তত চারজন প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। জামালপুর জেলা বিএনপি রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এখন বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের হাতে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনিসহ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন মল্লিক ভোলা, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক এবং সাবেক মহিলা এমপি নিলুফার চৌধুরী মনি মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। জাতীয় পার্টির জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন খান জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। নিজের সততা এবং পল্লীবন্ধু এরশাদের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এ আসনটি নিজেদের ঘরে নিতে চান তিনি।

/পি.এস/এসএফ

জামালপুর,আ.লীগ,বিএনপি
apps