• বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

আ.লীগে দ্বন্দ্ব, বিএনপিতে অস্বস্তি

প্রকাশ:  ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১১:০৪ | আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১১:২৭
ফারুক আহমেদ, ময়মনসিংহ
প্রিন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো ময়মনসিংহেও চলছে নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক নানা কর্মকাণ্ড। ময়মনসিংহ জেলায় ১৩টি উপজেলা নিয়ে ১১টি সংসদীয় আসন। ১১টি আসনে মোট ভোটর সংখ্যা রয়েছে ৩৬ লাখ ৪৬ হাজার ৩ শত ৪৩ জন। এর মধে পুরুষ ভোটার ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৩৭ জন, মহিলা ভোটর ১৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩শত ৬ জন।

ময়মনসিংহ জেলায় ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে ১১টি আসনই ছিলো আওয়ামী লীগের। ১৯৭৯ সালে বিএনপি ৮টি, মুসলিম লীগ ১টি, ইসলামী ঐক্য ১টি ও স্বতন্ত্র ১ প্রার্থী জয়লাভ করে। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের ৫টি, জাতীয় পার্টি ৫টি ও ১টি মুসলিম লীগ জয়লাভ করে। ১৯৯১ সালে ৬টিতে বিএনপি, ৪টি আওয়ামী লীগ ও ১টি জাতীয় পার্টি জয়লাভ করে। ১৯৯৬ সালে ৭টিতে আওয়ামী লীগ, ৩টি বিএনপি ও ১টি জাতীয় পার্টি জয়লাভ করে। ২০০১ সালে ৫টি আওয়ামী লীগ, ৫টি বিএনপি ও ১টি স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে ১১টি আসনেই আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। ২০১৪ সালে ৭টিতে আওয়ামী লীগ ও ৪টিতে জাতীয় পার্টি জয়লাভ করে। প্রকাশ, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চের জাতীয় সংসদের নির্বাচন ও ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি’র জাতীয় সংসদের নির্বাচন এর ফলাফল সংরক্ষণ করা হয়নি।

নির্বাচনকে ঘিরে কেন্দ্রের পাশাপাশি মাঠের নেতারাও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় নিজেদের সম্পৃক্ত রেখে মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রার্থীরা এরই মাঝে এলাকায় প্রচার প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। তবে ময়মনসিংহে ১১টি আসনে প্রতিটিতে শাসক দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীর হিড়িক। বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী তৎপর রয়েছেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ জেলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, সিপিবি, গণফোরাম, জামায়াত, ওয়ার্কাস পাটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিকদলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৃণমুল ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ করতে শুরু করেছে। সতর্কভাবে এগুচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সেই লক্ষে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন ভাবে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের জন্য জরিপ চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড মনে করে অপেক্ষাকৃত ক্লিন ইমেজের অধিকারী প্রার্থীরাই সাফল্য বয়ে আনতে পারে। এ জন্যই ক্লিন ইমেজের অধিকারী ও নতুনদের দিকে বেশি নজর আওয়ামী লীগের। দলীয় ও নির্বাচনী এলাকায় বিতর্কিত, তৃণমূলে সমর্থনহীন ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে আস্থার অভাব আছে এ ধরনের প্রার্থীরা এবার মনোনয়ন নাও পেতে পারে।

যেহেতু বিএনপি ও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে আলাদা আলাদা ভাবে অংশ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে তাই এবারের সংসদ নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ । বিশেষ করে ক্ষতাসীন জোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগ আগামী সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জিং মনে করে মাঠে নেমেছে যোগ্য প্রার্থীর সন্ধানে। তারা মনে করে অতীত ও বর্তমানে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিল এবং দলের প্রতি যারা অনুগত, তাদের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। ব্যক্তি ইমেজ, স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, এলাকায় জনপ্রিয়তা, মাঠের কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা নানা দিক বিবেচনায় রাখছে ক্ষতাসীন আওয়ামী লীগ।

জেলার ১১টি আসনেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। নির্বাচন আসলে বিরোধ আরো চরম আকার ধারণ করবে। তবে যে দল অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটাতে সক্ষম হবে সেই দলের জয়লাভের সম্ভাবনা বেশী। প্রার্থীরা ব্যাক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি প্রকাশ্যে কর্মীসভা, জনসভা, বিয়ের অনুষ্ঠান, জানাজাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জামায়াত প্রকাশ্যে না থাকলেও ভিতরে ভিতরে কাজ করছে। ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ জেলায় সবচেয়ে সুসংগঠিত দল থাকলেও বিরোধ বিদ্যমান রয়েছে। এ দলে রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামেও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা অনেক অভিজ্ঞ। দলে গতিশীলতা আনার জন্যই গত বছরের ১০ অক্টোবর কেন্দ্র থেকে ময়মনসিংহ জেলা ও প্রথমবারের মতো মহানগর কমিটির মূল নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়। জেলা কমিটির সভাপতি মনোনীত হন অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা। সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। মহানগর কমিটির সভাপতি মনোনীত হন এহতেশামুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা মোহিত উর রহমান শান্ত। প্রকাশ, জেলা কমিটি ঘোষিত হওয়ার পর সাবেক সভাপতি প্রিন্সিপাল মতিউর রহমানের গ্রুপ বর্তমানে কিছু কোণঠাসা রয়েছে।

নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হলে বিরোধ আরো বেড়ে যাবে এবং রাজনীতি আরো উত্তপ্ত হতে পারে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের বিরোধ আছে। কোথাও চাপা বিরোধ। কোথাও প্রকাশ্যে। কোথাও উপজেলা চেয়ারম্যান এর সাথে সাবেক বা বর্তমান এমপি’র দ্বন্দ্ব। কোথাও সাবেকদের মাঝেই দ্বন্দ্ব। জেলার মোট ১৩টি উপজেলার মধ্যে নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ, ত্রিশাল, গফরগাঁও উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিরোধ চরমে। এসব বিরোধ নিয়ে জেলাতো বটেই, খোদ কেন্দ্রও বিব্রত।

এছাড়াও সমালোচনার মুখেও আছেন কয়েকজন এমপি। প্রসঙ্গত, অচিরেই হয়তো ঘোষিত হবে জেলা কমিটি। দক্ষিণ জেলা বিএনপি’তেও নেতা নেতায় বিরোধ আছে। তবে এখন তা অনেকটাই শান্ত। এরপরও বিএনপি’র মাঝে বিভেদের শেষ নেই। নেতায় নেতায় রেষারেষি ঠেলাঠেলি বিদ্যমান।

বিএনপি’রও সামনে ২টি জেলা কমিটি ঘোষিত হবে। তাই এখন সকলেই চুপচাপ ও চিন্তিত। বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলায় বিএনপির সাংগঠনিক দু’টি জেলা শাখা রয়েছে। ৬ টি উপজেলা নিয়ে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ও ৭টি উপজেলা নিয়ে উত্তর জেলা শাখা। ময়মনসিংহের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দক্ষিণ জেলা শাখার ভূমিকাই মূখ্য। এক সময় এই শাখাটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিক এ কে এম ফজলুল হক এমপি। যিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমৃত্যু দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। মুক্তাগাছা থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন এখন দলের কান্ডারি। তার সাথে হাল ধরেন দলের সাধারণ সম্পাদক তরুণ রাজনীতিকবিদ সাবেক ছাত্রনেতা আবু ওয়াহাব আকন্দসহ অনেকেই।

এখন নতুন কমিটি গঠনের অপেক্ষার কারণে তেমন বিরোধ দেখা যাচ্ছে না। তবে কারা দক্ষিণ জেলার মূল নেতৃত্বে আসতে পারেন এ নিয়ে নানা গুঞ্জন ও কানাঘুষা চলছে। ২০০৯ সালে জেলা ১৮৪ সদস্য বিশিষ্ট জেলা শাখা ও ৭১ সদস্য বিশিষ্ট শহর শাখার কমিটি গঠিত হওয়ার পর শহরের তিনটি পদ ছাড়া আর কোনো ‘পদায়ন’ করা হয়নি। মূলত ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ‘লড়াই’ চলছেই।

ময়মনসিংহ জেলায় জাতীয় পার্টির এক সময়ে ভালো অবস্থান ছিল। বিশেষ করে ভোটের রাজনীতি জাপা ফ্যাক্টর ছিল। এখন আর সেই অবস্থা নেই। রওশন এরশাদের বাড়ি ময়মনসিংহে হলেও তিনি এলাকায় কম আসেন। কিন্তু ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনে তাঁর ভূমিকায় জেলাবাসী খুশী। তিনি বিরোধী দলীয় নেত্রী ও সদর আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার পর এ জেলায় জাপা কিছুটা তৎপর। একই সাথে মুক্তাগাছা, ঈশ্বরগঞ্জ ও ত্রিশালে এমপি পদ বাগিয়ে নেয়ার কারণে জাপা জেলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। এমপি আছে সেসব এলাকায় সেখানে জাপা কিছুটা সক্রিয় থাকলে অন্য উপজেলায় তেমনটা নেই। তবে নতুন করে ফুলবাড়িয়া আসনে বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক ডা. কে আর ইসলাম ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

কেদ্রীয় জাসদের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সাদিক হোসেন জানান, সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) জেলার সদর-৪, ফুলবাড়িয়া-৬, নান্দাইলে-৯ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন। জোট/মহাজোট হলে দলীয়ভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জেলার ফুলবাড়িয়া আসনে সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু ইতিমধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দলীয় ও নির্বাচনী কমিটি গঠন করে সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। এছাড়ও জেলায় সিপিবি, ওয়ার্কার্স পাটি, গণফোরাম, জামায়াতসহ বিভিন্ন দল নির্বাচনে অংশ নিবেন।

ময়মনসিংহ-১-(হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া)

সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এ দুই উপজেলা নিয়ে ময়মনসিংহ-১ আসন গঠিত। এ আসনে পুরুষ-মহিলা মিলে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ২শত ৮৩ জন ভোটার রয়েছে।

হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক দৌড়-ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা গণসংযোগ, শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেসবুক-টুইটার ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থীতার বিষয়ে তৎপরতা শুরু করছেন।

এ আসনে সাবেক সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিনের ছেলে জুয়েল আরেং বর্তমান এমপি রয়েছেন। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান এমপি জুয়েল আরেং, হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ময়মনসিংহ ইউনিটের জেলা কমান্ডার আনোয়ার হোসেন, হালুয়াঘাট মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম বেগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন ও আওয়ামী লীগ সদস্য জাহিদ আহমেদ সারোয়ার জাহান জাহাঙ্গীর, ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মজনু মৃধা, ধোবাউড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আঃ মান্নান আকন্দ, ধোবাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট পীযুষ কান্তি সরকার ও যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন। তবে হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান বর্তমানে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকায় এ আসনে ব্যাপক আলোচিত।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি আফজাল এইচ খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ আলী আজগর, হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান উমর রুবেল, হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আজিজুল আহসান মনোনয়ন চাইবেন। ত্রাণ বিতরণ, দলীয় কর্মসূচী পাশাপাশি সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও সালমান উমর রুবেল নির্বাচনী মাঠে বেশ তৎপর।

জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এড. সোহরাব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম পাপ্পু। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির হালুয়াঘাট উপজেলা সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রেজ্জাকও মনোনয়ন চাইবেন। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, হালুয়াঘাট উপজেলা ইসলামী আন্দোলন এর সাবেক সভাপতি মাওলানা মোঃ আলী আকবর, ইসলামী আন্দোলন ময়মনসিংহ জেলার সূরা সদস্য মাওলানা শেখ আমজাত হোসেন।

হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামীলীগের কুদরুত উল্লাহ মন্ডল, ১৯৭৯ সালে বিএনপি’র তফাজ্জল হোসেন খান, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির এমদাদুল হক, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগের প্রমোদ মানকিন ৫ বার এমপি নির্বাচিত হন। তাঁর মৃত্যুর পর উপ নির্বাচনে ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগের প্রমোদ মানকিন এর ছেলে জুয়েল আরেং এমপি নির্বাচিত হন।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা)

ফুলপুর ও তারাকান্দা এ দুই উপজেলা নিয়ে ময়মনসিংহ-২ আসন গঠিত। ২টি উপজেলা নিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৪ লাখ ৩০ হাজার ৫ শত ১৩ জন। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মধ্যে তুমুল প্রতিদন্ধিতা হবে।

এ আসনে বর্তমান এমপি ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ আসনে পাঁচবারের এমপি ভাষা সৈনিক মরহুম শামসুল হকের ছেলে শরিফ আহমেদ। এবারও তিনি মনোনয়ন চাইবেন। এছাড়াও সাবেক এমপি হায়াতুর রহমান বেলাল, সেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ক্লিন ইমেজের অধিকারী ব্যারিষ্টার আবুল কালাম আজাদ, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শ্রমিকনেতা আফতাব উদ্দিন, তারাকান্দা আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট ফজলুল হক, সাবেক ছাত্রনেতা ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ কুতুব চৌধুরী মনোনয়নের আশায় মাঠে তৎপর রয়েছেন। এ লক্ষ্যে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ, ঈদ/পূজা পার্বণে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করে যাচ্ছেন।

বিএনপি থেকে ফুলপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার, তারাকান্দা বিএনপি’র সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, সহ-সভাপতি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ ও সাধারণ সম্পাদক জেলা ছাত্রদল মোঃ সুজাউদৌল্লা সুজা দলীয় মনোনয়নের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন। কিন্তু বর্তমানে ফুলপুর-তারাকান্দা এলাকায় সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারওয়ারের সাথে তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারের মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ রয়েছে। তরুণ নেতা ও জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হিসেবে মোতাহার হোসেন তালুকদার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে উঠেছেন।

ফুলপুর ও তারাকান্দা আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের শামসুল হক, ১৯৭৯ সালে ইসলামী ঐক্যের ইসমাইল হোসেন তালুকদার, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের শামসুল হক, ২০০৮ আওয়ামী লীগের হায়াতুর রহমান খান ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের শরীফ আহমেদ এমপি নির্বাচিত হন।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর)

এ আসনে ২ লাখ ২৬ হাজার ভোটার রয়েছে। গৌরীপুর আসনের বর্তমান এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ। তিনি ছাড়াও বিএমএ ও স্বাচিপ নেতা সাংসদ নজরুল ইসলাম সরকারের ভাতিজা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডাঃ মতিউর রহমান, বাকসু’র সাবেক ভিপি, প্রস্তাবিত জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ ড.একেএম আবদুর রফিক, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক নাজনীন আলম, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ড. সামিউল আলম লিটন, ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা (ভিপি বাবুল), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ খান সেলভী, পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া ইসলাম ডলি, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা মোর্শেদুজ্জামান সেলিম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরীফ হাসান অনু মনোনয়ন চাইবেন। বর্তমান এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদের পরই বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক নাজনীন আলম ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁর ব্যাপক গণসংযোগের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে ঊঠেছেন।

গৌরীপুরে বিএনপি ২ ভাগে বিভক্ত। উত্তর জেলা বিএনপি’র প্রথম যুগ্ম কমিটির আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণকে আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন। অপর দিকে উত্তর জেলা বিএনপি’র আহবায়ক খুররম খান চৌধূরী প্রকৌশলী মকবুল হোসেন বকুলকে আহবায়ক করে আরেকটি কমিটি প্রদান করেন। উভয় কমিটি পৃথক পৃথক দলীয় কাজ করে যাচ্ছেন। তবে হামলা ও অর্ধশতাধিক মামলা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন কারা নির্যাতিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ। হিরণ ও বকুল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লড়াইয়ে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। এছাড়া বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী এম ইকবাল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নূরুল হক বিএনপি’র মনোনয়নের আশায় তৎপরতা চালাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির জেলা যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন গৌরিপুরের জাপা থেকে মনোনয়ন চাইবেন।

গৌরীপুর আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ১৯৭৯ সালে বিএনপি’র নাজমুল হুদা, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির নূরুল আমিন খান, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম, ১৯৯৬ সালে বিএনপি’র নাজমূল হুদা, ২০০১ আওয়ামী লীগের ক্যাপ্টেম মজিবুর রহমান ফকির, ২০০৮ আওয়ামী লীগের ক্যাপ্টেম মজিবুর রহমান ফকির ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের ক্যাপ্টেম মজিবুর রহমান ফকির এমপি নির্বাচিত হন। তাঁর মৃত্যুর পর উপ নির্বাচনে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি নির্বাচিত হন।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর)

সদর উপজেলা ও পৌর এলাকা নিয়ে জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন ময়মনসিংহ-৪ আসন। সদর আসনে পুরুষ-মহিলা মিলে ৫ লাখ ৬০ হাজার ৯শত ৪৫ জন ভোটার রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ সদর আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্য মর্যাদাপূর্ণ আসন। এ আসনে এক সময় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যেই লড়াই হয়েছে। এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতির প্রাণ পুরুষ ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বর্তমান ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এবারও মনোননয়ন চাইবেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জজিরুল হক খোকা, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, প্রাধানমন্ত্রীর সাথে একাধিকবার বিদেশে সফরসঙ্গী, ময়মনসিংহ প্রস্তাবিত জেলা কমিটির সহসভাপতি ও এফবিসিসিআই সাবেক পরিচালক বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব আমিনুল হক শামীম, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক ডা: এমএ আজিজ। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে ডা: এমএ আজিজ চরাঞ্চল অঞ্চলের একক প্রার্থী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।

জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের বাড়ি ময়মনসিংহ সদরে। সদর আসনে গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বিরোধী দলীয় নেতা হন। আগামী নির্বাচনে জাপা জোটবদ্ধ হলে তিনিই প্রার্থী হবেন এটা নিশ্চিত। আওয়ামী লীগের সাথে জাপার জোট হলে এ আসনটি জাপা ও বিএনপির মধ্যে লড়াই হবে। জোট না হলেও জাপা একক নির্বাচন করলেও সদর আসনে রওশন এরশাদ প্রার্থী হবেন। জোটবদ্ধ না হয়ে দলীয়ভাবে রওশন এরশাদ প্রার্থী হলে আশানুরূপ ভোট পেতে কষ্টকর হবে। তবে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনে তাঁর ভূমিকায় জেলাবাসী খুশী। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপা প্রার্থী মাঠে থাকলে নির্বাচন হবে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। নির্বাচন বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ময়মনসিংহ মহানগরের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আহম্মেদ বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে গোছানোর কাজ চলছে। জোটগত বা দলগত হলেও এ আসনে রওশন এরশাদই নির্বাচন করবেন।

সদর আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রদল নেতা আবু ওয়াহাব আকন্দ, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেন খান দুলু, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম ওয়ালিদ, শহর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক কাজী রানা, জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এডভোকেট এম এ হান্নান মনোনয়ন চাইবেন। সাবেক সাংসদ দেলোয়ার হোসেন খান দুলু সংস্কারপন্থী হিসেবে চি‎হ্নিত হওয়ার কারণে বিএনপি রাজনীতি থেকে কিছুটা কোনঠাসা থাকলেও তিনি জানান, বিএনপির রাজনীতিতে আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। দেলোয়ার খান দুলুর ব্যাপারে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ওয়াহাব আকন্দ জানান, তিনি দলের কেউ নন, এমকি দলের প্রাথমিক সদস্য পদও নেই। তিনি সংস্কারপন্থী।

এছাড়াও কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) এমদাদুল হক মিল্লাত, জেলা জাসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চুন্নু, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি তপন সাহা চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা মুফতি শরীফুর রহমান, খেলাফত মজলিশের মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, খেলাফত আন্দোলনের আজিজুল হক প্রার্থী হতে পারেন। জাপা সদর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির সাথে জোট হলে জাতীয় পার্টিকেই ছাড় দেয়া হয়। সেই বিবেচনায় জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ প্রার্থী হলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির সাথে।

সদর আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের এ কে এম মোশাররফ হোসেন আকন্দ, ১৯৭৯ সালে বিএনপি’র এ কে এম ফজলুল হক, ১৯৮৬ আওয়ামী লীগের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, ১৯৯১ সালে বিএনপি’র এ কে এম ফজলুল হক, ১৯৯৬ সালে জাপার রওশন এরশাদ, ২০০১ বিএনপি’র দেলোয়ার হোসেন খান দুলু, ২০০৮ আওয়ামী লীগের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ও ২০১৪ জাপার রওশন এরশাদ এমপি নির্বাচিত হন। ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা)

ময়মনসিংহ-৫ আসনে ১০টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা এবং ২ লাখ ৯৪ হাজার ২শত ৪৪ জন ভোটার নিয়ে মুক্তাগাছা আসন গঠিত। বর্তমান এমপি রয়েছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ মুক্তি। এবার তিনি মনোনয়ন চাইবেন। মুক্তাগাছাতেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মধ্যে লড়াই হবে।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন সাবেক এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কেএম খালিদ বাবু, বাংলাদেশের প্রথম এটর্নী জেনারেল ফকির শাহাব উদ্দিনের মেয়ে মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব তাহমিনা জাকারিয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট বদর উদ্দিন আহমেদ, প্রস্তাবিত জেলা কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক যুবলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন সরকার, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু’র স্ত্রী সেলিমা সোবহান খসরু, সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল হাই আকন্দ, সাবেক উপােজলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক দেবাশীষ ঘোষ বাপ্পী, সাবেক এমপি এডভোকেট শামসুল হকের ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শাতিল মাহমুদ তারেক।

বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ কে এম মোশাররফ হোসেন এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী। এ আসনে তার ছোট ভাই জাকির হোসেন বাবলু নির্বাচনী মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তিনি এর আগে এ আসনে বিএনপি’র মনোননিত প্রার্থী ছিলেন। এদিকে মুক্তাগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান ও দলের সাধারণ সম্পাদক এ এসএম জাকারিয়া হারুন মনোনয়ন চাইবেন। তবে এ কে এম মোশাররফ হোসেন বিএনপি’র মনোনয়ন পেলে তিনি তাঁর পক্ষে সরে দাড়াবেন। এ ছাড়া বিএনপি নেতা সাবেক এমপি আবু রেজা ফজলুল হক বাবলুও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মতিউর রহমান আকন্দও এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। এ আসনে লড়াই হবে বিএনপি’র প্রার্থী মোশাররফ হোসেন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মধ্যে। জাতীয় পার্টি থেকে মোঃ শামসুদ্দিন মাস্টারও মনোনয়ন চাইবেন।

মুক্তাগাছা আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের শামসুল হক এডভোকেট, ১৯৭৯ সালে বিএনপি’র শামসুল হুদা চৌধূরী, ১৯৮৬ জাপার শামসুল হুদা চৌধূরী, ১৯৯১ সালে বিএনপি’র কেরামত আলী তালুকদার, ১৯৯৬ সালে বিএনপি’র এ কে এম মোশাররফ হোসেন, ২০০১ বিএনপি’র এ কে এম মোশাররফ হোসেন, ২০০৮ আওয়ামী লীগের কে এম খালিদ বাবু ও ২০১৪ জাপার সালাহউদ্দিন মুক্তি এমপি নির্বাচিত হন।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া)

ফুলবাড়ীয় উপজেলা ও পৌরসভার ৩ লাখ ১ হাজার ৪শত ৭৬ জন ভোটার নিয়ে এ আসন। ফুলবাড়ীয়া আসনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মোসলেম উদ্দিন বর্তমান এমপি। তিনি পাঁচবার নির্বাচিত এমপি ও সাবেক গণপরিষদ সদস্য ছিলেন। এ আসনে থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক সরকার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট মফিজ উদ্দিন মন্ডল এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ গোলাম মোস্তফা তপনও মনোনয়ন চাইবেন। ফুলবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজ সরকারী করণ না হওয়ায়, বিব্রতকর অবস্থায় আছেন ফুলবাড়িয়ার এমপি অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন। এ নিয়ে ফুলবাড়িয়াবাসী অধিকাংশ মানুষ তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ।

বিএনপি থেকে সাবেক এমপি শামসুদ্দিন আহমেদই দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এ ছাড়া তার ভাতিজা আখতারুল আলম ফারুকও তৎপরতা শুরু করেছেন। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিন এ আসনে লড়বেন বলে জানা গেছে। তবে জামায়াত যদি এবারও বিএনপির কাঁধে ভর করে তাহলে জসিম উদ্দিনের সাথেই অন্য দলের লড়াই হবে। এ আসনে বিএনপি এর আগেও জামায়াতকে এই আসন ছেড়ে দিয়েছিল। এবারও বিএনপি’র সাথে জামায়াতের জোট হলে এ আসনটি জামায়তকে ছেড়ে দিতে পারে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অধীনে ১৪ দলীয় জোটের জাসদ ইনু গ্রুপের সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু এবং জাপার রওশর এরশাদ ডা. কে আর ইসলামকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী করার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এ ছাড়াও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রশীদ এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। জাতীয় পার্টি থেকে এইচ এম এরশাদের সাবেক উপদেষ্টা ডা. কে আর ইসলাম ডাক্তারি পেশার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন। জাপা থেকে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নাজমুল আহসান, ঢাকাস্থ ফুলবাড়িয়া সমিতির উপদেষ্ঠা ও অবসর প্রাপ্ত কাস্টমস অফিসার মাহফিজুর রহমান বাবুল, জাপা নেতা মনির চৌধূরীও মনোনয়ন চাইবেন। তারা কেন্দ্রে যোগাযোগ ও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে ময়মনসিংহ মহানগর জাসদের সভাপতি এবং কাউন্সিলর সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দলীয় কমিটি গঠনের পাশাপাশি ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগ করে ইতিমধ্যে আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে উঠেছেন।

ফুলবাড়ীয় আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম, ১৯৭৯ সালে স্বতন্ত্র হাবিবুল্লাহ সরকার, ১৯৮৬ আওয়ামী লীগের মুছলেম উদ্দিন এডভোকেট, ১৯৯১ সালে বিএনপি’র আমিরুল ইসলাম হিরা, ১৯৯৬ আওয়ামী লীগের মুছলেম উদ্দিন এডভোকেট, ২০০১ ইঞ্জিনিয়ার শামসউদ্দিন, ২০০৮ আওয়ামী লীগের মুছলেম উদ্দিন এডভোকেট ও ২০১৪ আওয়ামী লীগের মুছলেম উদ্দিন এডভোকেট এমপি নির্বাচিত হন।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল)

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬ হাজার ২শত ৩৮ জন। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনটি এখন দলীয় কোন্দলে বিপর্যস্ত। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটি ছেড়ে দিলে লাঙ্গল কাঁধে নিয়ে জাপার এমপি হন আলহাজ্ব এম এ হান্নান। তিনি বর্তমানে মানবতা বিরোধী মামলার অভিযোগে কারাগারে রয়েছেন। তার অবর্তমানে এখান থেকে জেলা জাতীয় পার্টির জাপা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আহমেদ, ইঞ্জিয়ার মাহবুবু রহমান অনিক, জাপা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা সভাপতি ইঞ্জিয়ার সুরুজ আলী মন্ডল মনোনয়ন প্রত্যাশী।

আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক এমপি এডভোকেট রেজা আলী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় জাতীয় পরিষদের সদস্য ও সাবেক এমপি হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন মাদানী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আব্দুল মতিন সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম হাবিুর রহমান খান, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আলম পাঠান মিলন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও রামপুর ইউনিয়নের ২ বার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নবী নেওয়াজ সরকার, ময়মনসিংহ জেলা বারের সভাপতি ও ত্রিশাল আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট মোঃ জালাল উদ্দিন খান, পৌর মেয়র ও ত্রিশাল উপজেলার সাবেক যুবলীগ সভাপতি এবিএম আনিছুজ্জামান আনিছ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট জিয়াউল হক সবুজ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-আহবায়ক এএনএম শোভা মিয়া আকন্দ, ত্রিশাল উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জুয়েল ও শরীফ তালুকদার মনোনয়ন চাইবেন। ত্রিশাল উপজেলাতেও আওয়ামী লীগের এখন একাধিক ধারা। গ্রুপিং চার ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ বিভক্তি মূলত আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই। তবে ত্রিশালের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখন আলোচিত মুখ হচ্ছেন সাবেক জনপ্রিয় এমপি রেজা আলী, সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকার, সাবেক এমপি হাফেজ মাওলানা রুহুল আমীন মাদানী, হাবিবুর রহমান খান, পৌর মেয়র এবিএম আনিছুজ্জামান আনিস। দলের নেতা কর্মীরাও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

বিএনপি থেকে দলের সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ছাড়াও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সস্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন মনোনয়ন চাইবেন। ওয়ার্কার্স পার্টির ময়মনসিংহ জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সুজিত বর্মণও এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন।

এ আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের আবদুর রশিদ, ১৯৭৯ সালে বিএনপি’ন এ মনসুর আহমেদ, ১৯৮৬ আওয়ামী লীগের আঃ ছালাম তরফদার, ১৯৯১ সালে বিএনপি’র আব্দুল খালেক, ১৯৯৬ আওয়ামী লীগের হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী, ২০০১ আওয়ামী লীগের আব্দুল মতিন সরকার, ২০০৮ আওয়ামী লীগের রেজা আলী এডভোকেট ও ২০১৪ জাপার এম এ হান্নান এমপি নির্বাচিত হন।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ)

২ লাখ ৭০ হাজার ৭শত ৮৭ ভোটার, ১টি উপজেলা ও ১টি পৌরসভা নিয়ে নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ আসন। ময়মনসিংহ ৮ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এ আসনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য বর্তমান এমপি ফখরুল ইমাম। এবারও জোটের মনোনয়ন লাভের আশা করছেন। জোটগত মনোনয়ন না পেলে তিনি জাপার একক প্রার্থী হিসেবে ভোট যুদ্ধে লড়াই করবেন। তিনি নির্বাচনের লক্ষ্যে গণসংযোগ ও দলকে সুসংগটিত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সভা-সমাবেশে করে যাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আঃ সাত্তার ১৯৯৬ সালে এবং ২০০৮ সালে এমপি ছিলেন। এবারও আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি মোঃ আঃ সাত্তার মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।

অপরদিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান সুমন মনোনয়ন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন। তিনি বর্তমান ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় তার নেতা-কর্মীদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক গণসংযোগসহ দলীয় জাতীয় কর্মকাণ্ড পালন করে যাচ্ছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান নিবাচিত হওয়ার পর থেকেই এমপি নির্বাচনের প্রস্তুতি স্বরূপ বর্তমান সরকারের উন্নয়নের প্রচারসহ এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করে তিনি মনোনয়ন লাভের আশায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষাসহ মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এছাড়াও সাবেক অতিরিক্ত আইজি আবদুর রহিম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট সৌমেন্দ্র কিশোর চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক দুলাল ভূইয়া এবং সাবেক ছাত্রনেতা তরিকুল ইসলাম তারেক প্রার্থী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। ঈশ্বরগঞ্জেও আওয়ামী লীগের দুটি ধারা বিভক্ত রয়েছে। একটির নেতৃত্বে আছেন সাবেক সাংসদ মোঃ আঃ সাত্তার এবং অপরটির নেতৃত্বে রয়েছেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সুমন। তিনি উপজেলায় গনসংযোগ, সমাবেশে ও প্রচারণায় অব্যাহত রেখে চলেছেন।

বিএনপি থেকে সাবেক এমপি শাহ নূরুল কবীর শাহীন, ক্লিন ইমেজ সম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান লিটন, প্রফেসর ডাঃ মুঞ্জুরুল হক সেলিম, এডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল, রুহুল আমিন মাস্টার এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন। বিএনপিতে ২টি গ্রুপ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। একটি গ্রুপ হচ্ছে সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবির শাহিন এবং অপরটি ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু’র গ্রুপ। উভয়ই গ্রুপই মাঠে তৎপর রয়েছেন। ময়মনসিংহ জেলা বারের সাবেক সভাপতি, গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও জেলা সভাপতি এ এইচ এম খালেকুজ্জামান এডভোকেট জানান, তাঁর দল নির্বাচনে গেলে তিনি গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন।

ঈশ্বরগঞ্জ আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল কাদের, ১৯৭৯ সালে বিএনপি’র জয়নাল আবেদীন, ১৯৮৬ জাপার হাসিম উদ্দিন, ১৯৯১ সালে জাপার খুররম খান চৌধূরী, ১৯৯৬ আওয়ামী লীগের মোঃ আঃ সাত্তার, ২০০১ বিএনপি’র শাহ নূরুল কবীর শাহীন, ২০০৮ আওয়ামী লীগের মোঃ আঃ সাত্তার ও ২০১৪ জাপার ফখরুল ইমাম এমপি নির্বাচিত হন।

ময়মনসিংহ-০৯ (নান্দাইল)

নান্দাইল উপজেলা ও পৌরসভা এবং ২ লাখ ৮৩ হাজার ৯শত ৯৮ জন ভোটার নিয়ে এ আসন। এ আসনে বর্তমান এমপি জেলা কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন। সাবেক এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব:) আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীব ডেপুটি এ্যাটনি জেনারেল মো. আবদুল হাই, ময়মনসিংহ জেলা বারের সাবেক সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান নারী ও শিশু আদালতের পিপি রফিকউদ্দিন ভূঞা’র ভাতিজা এডভোকেট কবীর উদ্দিন ভূঞা, বিশিষ্ট শিল্পপতি এডিএম সালাউদ্দিন হুমায়ুন, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা শাহজাহান কবীর সুমন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন। নান্দাইলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দুইটি ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। একটির নেতৃত্ব দেন বর্তমান সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন। অপরটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সাংসদ মেজর জেনারেল (অবঃ) আব্দুস সালাম।

বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরী ও সৌদি আরব পূর্ব অঞ্চল বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি এ কে রফিকুল ইসলাম। জাতীয় পার্টি থেকে উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক হাসনাত মাহমুদ তালহা এই আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মনোনয়ন চাইবেন।

বিএনপি’র খুররম খান চৌধুরী উত্তর বিএনপি’র আহবায়ক মনোনীত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি। এ নিয়ে নান্দাইলেও বিএনপিতে রয়েছে উত্তেজনা ও বিভক্তি। আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরী ও সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী একেএম রফিকুল ইসলাম বিএনপি নেতা-কর্মীকে সাথে নিয়ে চালাচ্ছেন দলীয় কার্যক্রম ও নির্বাচনী তৎপরতা। ব্যবসায়ী একেএম রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র এএফএম আজিজুল ইসলাম পিকুল একাধিক মামলা কাদে নিয়ে নিজের অনুসারী বিএনপি নেতাদেরকে নিয়ে নিজে ও ভাই রফিকুল ইসলাম এর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এএফএম আজিজুল ইসলাম পিকুলও প্রার্থী হবেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের জেলা সভাপতি ও জেলা বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট গিয়াস উদ্দিনও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন এবং এ লক্ষ্যে তিনি গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। নান্দাইল আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের রফিকউদ্দিন ভূঞা, ১৯৭৯ সালে বিএনপি’র খুররম খান চৌধূরী, ১৯৮৬ আওয়ামী লীগের রফিকউদ্দিন ভূঞা, ১৯৯১ সালে জাপার আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধূরী, ১৯৯৬ আওয়ামী লীগের মেজর জেনারেল অবঃ আবদুস সালাম, ২০০১ বিএনপি’র খুররম খান চৌধূরী, ২০০৮ আওয়ামী লীগের মেজর জেনারেল অবঃ আবদুস সালাম ও ২০১৪ আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল আবেদীন তুহিন এমপি নির্বাচিত হন।

ময়মনসিংহ-১০(গফরগাঁও-পাগলা)

গফরগাও উপজেলা, পৌরসভা ও পাগলা থানাসহ ৩ লাখ ১১ হাজার ৪শত ২০ জন ভোটার নিয়ে এ আসন। এ আসনে সাবেক এমপি মরহুম আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের ঐতিহ্য ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল বর্তমান এমপি হয়েছেন। এ আসনে উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক প্রার্থী রয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আমোকসু‘র সাবেক ভিপি সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, সাবেক এমপি ক্যাপ্টেন ( অব.) গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও গফরগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সাবেক সভাপতি আলাল আহমেদ, গফরগাঁয়ের সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্জ এডভোকেট কায়সার আহামদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক বিশিষ্ট শিল্পপতি ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুল, আনন্দমোহন কলেজের সাবেক ভিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এর ব্যাক্তিগত সহকারি একেএম সাজ্জাত হোসেন শাহীন, জেলা আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা শেখ শাহাবুদ্দিন, পাগলা থানার জমিদাতা শাহ মোরাদ আহম্মেদ আকন্দ মনি, ঢাকা মহানগর (উত্তর) যুবলীগের সহসভাপতি আশিকুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ড. আবুল হোসেন দীপু।

গফরগাঁওয়ে ফাহমী গোলান্দাজ বাবেল দলীয় প্রতিপক্ষদের একেবারে কোনঠাসা করে রেখেছেন। এ নির্বাচনী এলাকায় এমপি’র দলীয় পক্ষ ছাড়া অন্য কোনো প্রতিপক্ষ মাথা তুলেও দাড়াতে পারে না। একক প্রভাব রয়েছে বাবেলের। তিনি আবারো এ আসনে এমপি হয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসামাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে চান। অপরদিকে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আমোকসু‘র সাবেক ভিপি সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল নৌকার প্রার্থী হয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে চান। গফরগাঁয়ে দলীয় গ্রুপিং, মারামারি ও গোলাগুলির ঘটনাও সম্প্রতি ঘটেছে।

বিএনপি থেকে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মিন্টু কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কাশেম আরজু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবি সিদ্দিকুর রহমান, ডাঃ আব্দুল কুদ্দুস, সাবেক এমপি ফজলুর রহমান সুলতানের ছেলে বিএনপি নেতা মুশফিকুর রহমান, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, লন্ডন প্রবাসী সাবেক ছাত্রদল নেতা মোঃ মানিক, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা জহির আলী, সাবেক ওয়াসা সিবিএ নেতা ইব্রাহীম খলিল, আরিফুর রহমান কাঞ্চন, আখতার হোসেন বাবুল, হাতেম আলী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। জাতীয় পার্টি থেকে ওলামা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কারী মো: হাবিবুল্লাহ বেলালী ও উপজেলা সভাপতি মজিবুর রহমান মনোনয়ন চাইবেন। কমিউনিষ্ট পাটির উপজেলা সভাপতি আজিম উদ্দিন মাষ্টার এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়াও মাসিক মদীনার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আহমদ বদর উদ্দিন খান, এডভোকেট নূরুল ইসলাম খান মনোনয়ন চাইবেন।

এ আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের আবুল হাশেম, ১৯৭৯ সালে বিএনপি’র ফজলুর রহমান সুলতান, ১৯৮৬ জাপার এনামুল হক, ১৯৯১ আওয়ামী লীগের আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ, ১৯৯৬ আওয়ামী লীগের আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ, ২০০১ আওয়ামী লীগের আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ, ২০০৮ আওয়ামী লীগের গিয়াস উদ্দিন আহমদ ও ২০১৪ আওয়ামী লীগের ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল এমপি নির্বাচিত হন।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা)

এ আসনে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৭ শত ১৮ জন ভোটার, ১১টি ইউনিয়ন, একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা, বনাঞ্চল ও শিল্পাঞ্চাল ভালুকা উপজেলা নিয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ আসন। নির্বাচনী লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মধ্যে।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশিরা হলেন-বর্তমান এমপি অধ্যাপক ডাঃ এম আমানউল্লাহ, ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ গোলাম মোস্তফা, মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী আফসার বাহিনীর প্রধান ১১নং সাব সেক্টর কমান্ডার মরহুম মেজর আফসার উদ্দিনের পুত্র সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজিমউদ্দিন আহমেদ ধনু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পাপুয়া নিউগিনি শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্জ এম এ ওয়াহেদ, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সহ-সভাপতি আশরাফুল হক জর্জ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন, ভালুকা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক রফিকুল ইসলাম পিন্টু, উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ভাষা সৈনিক ও সাবেক এমপি মোস্তফা এম এ মতিনের মেয়ে মনিরা সুলতানা মনি, সাবেক ছাত্রনেতা ব্রিট্রিশ কলাম্বিয়া (কানাডা) আওয়ামী লীগের আহবায়ক বিজ্ঞানী ড. শফিউল আজম খোকা, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম কেবিএম আছমত আলীর ছেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ কেবিএম হাদিউজ্জামান সেলিম, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব, এডভোকেট রাখাল চন্দ্র সরকার।

ভালুকা উপজেলার দলীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম আমান উল্যাহ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার সাথেও বর্তমান এমপির মতের মিল নেই। ২ জনের মধ্যে দূরত্ব তৈরী হয়েছে। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ও আত্মীয়করণ-স্বজনপ্রীতির কারণে ডা. এম আমান উল্যাহ এমপি এখন বিতর্কিত। এছাড়াও ওসি বদলে ডিও লেটার দিয়ে তিনি রেকর্ড করেছেন এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেক নেতা-কর্মী ও নতুন প্রার্থীরা বর্তমান এমপি’র সাথে নেই, তারা নিজেদের পক্ষে দল ভারী করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি এলাকায় তেমন কোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড না করায় তৃণমূলেও ক্ষোভ রয়েছে। এছাড়াও তার নিকট আত্মীয়দের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পাপুয়া নিউগিনি শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্জ এম এ ওয়াহেদ বিভিন্ন মসজিদ-মন্দির, রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ১০ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করে ও জেলা শহরে থেকে শুরু করে ভালুকার বিভিন্ন স্থানে স্থানে বিশাল আকৃতির তোরণ নির্মাণ করে দলীয় ফোরামসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচিত। আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ গোলাম মোস্তফা উপজেলা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভালো ভূমিকার কারণে অধিকাংশের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন।

কাজিমউদ্দিন আহমেদ ধনু একদিকে পিতা বীর মুক্তযুদ্ধা ১১ নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার মরহুম আফসারের ছেলে হিসেবে একটা ইমেজ রয়েছে, অন্যদিকে মানিকগঞ্জের পীরের জামাই হিসেবে তাঁর অনেক ভক্ত থাকায় তিনিও সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করে যাচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন।

অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশিরা হলেন-উপজেলা বিএনপি সভাপতি, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ময়মনসিংহ জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্জ মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল, ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও জিয়া বিগ্রেড বাংলাদেশ কেদ্রেীয় কমিটি সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন।

বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী থাকলে সাংগঠনিকভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতা-কর্মীদের সাথে সক্রিয় রয়েছেন ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। কিন্তু ময়মনসিংহের ভালুকায় দীর্ঘদিন যাবৎ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে আছে উপজেলা বিএনপি। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপি নেতা আলহাজ মুহাম্মদ মুর্শেদ আলম। ভালুকা সদরে দুই জায়গায় আলাদা দু’টি অফিস বসেন দুই গ্রুপের নেতারা। তবে জেল-জুলুম উপেক্ষা করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু সব সময়ই নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন। মুহাম্মদ মুর্শেদ আলম দান-অনুদান দিয়ে ও গনসংযোগ চালিয়ে তৎপরতা করে যাচ্ছেন।

এ ছাড়াও জাতীয় পার্টি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি মেজর (অব.) আব্দুল হামিদ ও জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল কাইয়ূম এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন।

এ আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মোস্তফা এম এ মতিন, ১৯৭৯ সালে মুসলিম লীগের আফতাব উদ্দিন চৌধূরী, ১৯৮৬ মুসলিম লীগের আমান উল্লাহ চৌধূরী, ১৯৯১ বিএনপি’র আমান উল্লাহ চৌধূরী, ১৯৯৬ আওয়ামী লীগের ডা. মোঃ আমান উল্লাহ, ২০০১ আওয়ামী লীগের ডা. মোঃ আমান উল্লাহ, ২০০৮ আওয়ামী লীগের ডা. মোঃ আমান উল্লাহ ও ২০১৪ আওয়ামী লীগের ডা. মোঃ আমান উল্লাহ এমপি নির্বাচিত হন।

/পি.এস

ময়মনসিংহ,বিএনপি,আ.লীগ