• বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

মাঠে আ.লীগ, কেন্দ্রে তাকিয়ে বিএনপি

প্রকাশ:  ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৪৫
হাসান ফয়জী, মানিকগঞ্জ
প্রিন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। দেশে ছড়িয়ে পড়ছে নির্বাচনী আমেজ, মানিকগঞ্জ জেলার ৩টি আসনেও ছড়িয়ে পড়ছে ভোটের হাওয়া। নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহীরা গণসংযোগ শুরু করেছেন বহু অাগেই। পাশাপাশি কেন্দ্রেও চালাচ্ছেন জোর লবিং। জেলার তিনটি আসনেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকায় গ্রুপিং ও অন্তর্দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। নির্বাচনী মাঠে ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি থাকলেও, অনেকটাই নীরব বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি আদৌ নির্বাচনে যাবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। এজন্য কেন্দ্রের দিকেই তাকিয়ে আছেন তারা।

মানিকগঞ্জ-১

ঘিওর-দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসন। মানিকগঞ্জ-১ আসন যা জাতীয় সংসদের ১৭২ নম্বর আসন। এ আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এ এম সায়েদুর রহমান। এর পর থেকে এ আসনটি আওয়ামী লীগের হাত ছাড়া হয়ে পড়ে। ১৯৭৯ সালের পর থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ ও ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির নেতা মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান।

এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের এ.এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় । তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ছাড়াও এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন মাহমুদ জাহিদ, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জি. এবিএম আনোয়ারুল হক, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সালাম এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মানিকগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর সুভাষ সরকার।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু ও জেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. খন্দকার আকবর হোসেন বাবলু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক শিশু বিষয়ক সম্পাদক এবং জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সেলিম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবীর। দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজা। অপর দিকে সাবেক মন্ত্রী হারুনর রশিদ খান মন্নুর কন্যা ও জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজ খান রিতাও এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন।

মানিকগঞ্জ- ২

সিংগাইর, হরিরামপুর এবং সদর উপজেলার ১টি ইউনিয়ন নিয়ে মানিকগঞ্জ-২ আসন। এ আসনের গত নির্বাচনে বিনাভোটে নির্বাচিত হন ফোক সম্রাজ্ঞী ও বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। একাদশ নির্বাচনের অনেকটা সময় বাকী থাকলেও এ আসনকে ঘিরে অনেক প্রার্থী রয়েছে। তবে আপাতত এ আসনে ত্রিভুজন সংযোগ দেখা যাচ্ছে। এবার তিনি ছাড়াও এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শামসুদ্দীন আহম্মেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও হাটিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মনির হোসাইন, সাবেক উপজেলা মুশফিকুর রহমান খান হান্নান।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাঈনুল ইসলাম খান শান্ত। এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অনেকটাই নিশ্চিত। তবে বাধ সাধতে পারে বিএনপির প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী হারুন অর রশিদ খান মুন্নুর কন্যা জেলা বিএনপির সভানেত্রী আফরোজা খান রিতা। এছাড়াও যারা মনোনয়ন চাইছেন তারা হলেন- হরিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল হুদা চৌধুরী শাতিল ও সিংগাইর উপজেলা চেয়ারম্যান আবিদু রহমান খান রোমান।

জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম আবদুল মান্নান ২০০৮ নির্বাচনে জোট প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। কিন্তু দশম নির্বাচনে তাকে প্রার্থী না দিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে কন্ঠ শিল্পী মমতাজকে দেওয়া হয়। কিন্তু একাদশ নির্বাচনে জোট থেকে এসএম আব্দুল মান্নান মনোনয়ন চাইবেন। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় পাটির ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান মিরু ও সাবেক শিক্ষা উপ মন্ত্রী গোলাম সারুয়ার মিলন।

মানিকগঞ্জ- ৩

মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। এ আসনটি নিয়ে জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে রাজনীতিতে। আপাতত এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাহিদ মালেক স্বপন ছাড়া অন্য কোন প্রার্থী মাঠে নেই । তাছাড়া ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থী প্রকাশ্যে কোন সভা সমাবেশ চোখে পড়ছে না ।

এছাড়াও এই আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন এফবিসিসিআই পরিচালক ও জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক তোসাদ্দেক হোসেন খান টিটু, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাবেয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম খান।

মানিকগঞ্জ- ৩ আসনে বিএনপি থেকে মনোয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সভানেত্রী আফরোজা খান রিতা, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান আতা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম রুবেল।

এদিকে বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করছেন না। তাছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দল নির্বাচনে যাবে কিনা সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। এজন্য কেন্দ্রের দিকেই তাকিয়ে আছেন সবাই। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

/পি.এস

মানিকগঞ্জ,আ.লীগ,বিএনপি