• বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

আ.লীগের দুর্গে হানা দিতে চায় বিএনপি

প্রকাশ:  ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ১০:২৫ | আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:৪৯
শরিফুল ইসলাম, নড়াইল
প্রিন্ট

আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসাবে খ্যাত নড়াইল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ডিসেম্বর মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে, অফিস আদালত ও চায়ের দোকানে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। নির্বাচনকে নিয়ে চলছে নানা হিসাব নিকাশ। ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সমর্থিত নেতারা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটও বসে নেই। বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতারা নিজ নিজ জোটের মনোনয়ন লাভের আশায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সংসদীয় আসনে গণসংযোগ অব্যাহত রাখছেন।

নড়াইলের দু’টি সংসদীয় আসনে ১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চায় বিজয়ী হয়ে তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে। অন্যদিকে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট চায় বিজয় ছিনিয়ে এনে আওয়ামী লীগের এ দূর্গে হানা দিতে। নড়াইলের দু’টি আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের দুই ডজন নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেদের নাম ঘোষণা করে দলীয় মনোনয়ন আশায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করলেও বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম। এ কারণে ক্ষমতাসীন দলটিকে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে সমস্যায় পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোট কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইলের দু’টি আসনে যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নে ব্যর্থ হলে ভরাডুবি হতে পারে ক্ষমতাসীন দলের। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিজয় ছিনিয়ে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দখলে নিতে পারে এ আসন দু’টি। নড়াইলের দু’টি আসনে মোট ভোটার ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ৬শ’ ৭৩জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৭শ’ ৬৬ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লক্ষ ৬৪ হাজার ৯শ’ ৭জন।

নড়াইল-১

নড়াইল সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন এবং কালিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে নড়াইল-১ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখা ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৪ শ’ ৩৬জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ১০ হাজার ৯শ’ ৭৫ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ১২ হাজার ৪শ’ ৬১ জন। এ আসনে বরাবর আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ কবিরুল হক মুক্তি বিজয়ী হন। পরবর্তীতে তিনি সংসদে আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তিনি এবারও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান। এ নির্বাচনী এলাকায় তিনি ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে সুনাম অর্জন করলেও দলের কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি তার বিরোধীতা করে ক্ষমতাসীন দলের অর্জনকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে তিনি অভিযোগ করেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে এ আসনটি ধরে রাখতে পারবেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগের অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোল্যা ইমদাদুল হক, জেলা কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ এসএম আবু সাঈদ, কালিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র বিএম ইকরামুল হক টুকু, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ডাঃ আব্দুল মান্নান।

এছাড়া ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য কমরেড বিমল বিশ্বাস ও জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কালিয়া উপজেলা সভাপতি আকতার হোসেন রাঙ্গাও এ আসনে জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এর মধ্যে কমরেড বিমল বিশ্বাস ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের মনোনয় পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।

এদিকে এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে নড়াইল জেলা বিএনপি’র সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এগিয়ে রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নড়াইলে বিএনপিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি এ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনী প্রচারাভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পেলে এ আসনে বিজয়ী হবেন বলে তিনি দাবি করেন। এ আসনে বিএনপি’র অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে রয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ব্যবসায়ি শাহারুজ্জামান মোর্তজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য গৌতম মিত্র।

নড়াইল-২

নড়াইল সদর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন এবং লোহাগড়া উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে নড়াইল-২ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখা ৩ লক্ষ ২ শ’ ৩৭জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭শ’ ৯১ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৪শ’ ৪৬ জন।

এ আসনে বরাবর আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হিসাবে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন।

এ আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট হতে মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নেতা রয়েছেন। তারা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এসএম আসিফুর রহমান বাপ্পি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট সৈয়দ আইয়ুব আলী, ব্যবসায়ি বাসুদেব ব্যনার্জী, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মোঃ আমিনুর রহমান হিমু, হাবিবুর রহমান তাপস, সাবেক এমপি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এসকে আবু বাকের। এসকল প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ কর্মী-সমর্থক নিয়ে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন।

এদিকে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য এ আসনের এমপি এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান জাসদের (ইনু) নড়াইল জেলার সভাপতি এ্যাডঃ আবদুস ছালাম খান, জেলা জাতীয় পার্টির (এ) জেলা সভাপতি এ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ।

এদিকে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে প্রার্থী এনপিপি’র চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ তার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত হয়েছে ।

/পি.এস

নড়াইল,আ.লীগ,বিএনপি