• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল আ.লীগে, বিএনপিতে গ্রুপিং

প্রকাশ:  ০২ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৪৭
বেলাল হোসেন জুয়েল, লক্ষীপুর
প্রিন্ট

সারাদেশের মত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে উপকুলীয় জেলা লক্ষীপুরেও। জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য নির্বাচনী এলাকাসহ নিজ নিজ দলের কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ করছেন অর্ধশতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জেএসডি, এলডিপি, তরিকত ফেডারেশন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ছোট-খাটো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। রয়েছেন নিবন্ধন হারানো জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ সমর্থিত সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থীও। পাঁচটি উপজেলা, চারটি পৌরসভা ও ৫৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ জেলার আয়তন এক হাজার ৫৩৪ বর্গ কিলোমিটার। ১৫ লাখ ৫৫ হাজার জনসংখ্যার জেলাটিতে ভোটার রয়েছেন ১১ লাখ ৬১ হাজার ৫১১ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার পাঁচ লাখ ৮১ হাজার ৫৩৬ জন এবং নারী ভোটার পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার ৯৭৫ জন।

বিএনপির ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত এ জেলায় নেতৃত্বের কোন্দল ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গ্রুপিংয়ের কারণে বিএনপি এখন অনেকটাই বিপর্যস্ত। বিগত কয়েক বছর ধরে জেলার রামগতি, কমলনগর, রামগঞ্জ ও রায়পুরে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়াতো দূরের কথা ছোট-খাটো দলীয় কর্মসূচি পালন করতেও দেখা যায়নি বিএনপি নেতাকর্মীদের। জেলা শহরে কিছু কর্মসূচি পালন হলেও দু’গ্রুপ তা পালন করেছে আলাদা আলাদাভাবে। জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে দু’টি গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত থাকায় দলের এ অবস্থা। তবে নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে বিরোধ না থাকলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে জেলার চারটি আসনেই রয়েছে গ্রুপিং। এ সবের মধ্যেই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি, এলডিপি, তরিকত ফেডারেশন, ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা রয়েছেন তৎপর। তবে, সাধারণ ভোটাররা বলছেন উন্নয়নের কারণে এখানে আওয়ামী লীগের ভোট আগের চেয়ে বাড়লেও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জেলার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

লক্ষীপুর -১ (রামগঞ্জ)

এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব লায়ন এমএ আওয়াল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সফিকুল ইসলাম মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এমএ মোমিন পাটোয়ারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. শাহজাহান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সফিক মাহমুদ পিণ্টু ও জেলা কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হক মিলন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে সরব রয়েছেন।

বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন আহমেদ। তবে, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা’র (জাসাস) সভাপতি অধ্যাপক ড. মামুন হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলীর নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়াও বিএনপির সহ-সভাপতি মনির আহমদ, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ইমাম হোসেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ ও স্থানীয় নেতা আবদুর রহীম ভিপিও মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে নেতাকর্মীরা জানান। বিএনপি-আওয়ামী লীগ ছাড়াও এলডিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন, জাসদের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক এমপি এমএ গোফরান এবং ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সহ-সভাপতি ডা. রফিক উল্যাহ নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

লক্ষীপুর -২ (রায়পুর ও সদর আংশিক)

এ আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. নোমান। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ দলের মনোনয়ন চাচ্ছেন। এ ছাড়াও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ আলী খোকন, আমরা ক’জন মুজিব সেনার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এএফ জসীম উদ্দিন আহমদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম পাপুল, ডা. এহসানুল কবির জগলুল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন ও শামছুল ইসলাম পাটোয়ারী মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন দৌঁড়ে রয়েছেন দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, চেয়ারপার্সনের সাবেক প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়কারী কর্নেল (অব.) আবদুল মজিদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ ও ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঞ্জুর এলাহী। এখান থেকে জামায়াতের জেলা আমির মাস্টার রুহুল আমিন ভঁ‚ইয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। এ ছাড়া জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এমএ ইউছুফ ও ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সহ-সভাপতি মাস্টার শাহজাহান নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

লক্ষীপুর -৩ (সদর)

এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা একেএম শাহজাহান কামাল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে তৎপর রয়েছেন। এ ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ ছাত্তার, সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেম, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আবু তাহের, জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সালাহ্ উদ্দিন টিপুও মনোনয়ন প্রত্যাশী।

অন্যদিকে, বিএনপি থেকে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন দৌঁড়ে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে জেলার সাধারণ সম্পাদক ও লক্ষীপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি এম আর মাসুদ, জেএসডির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল ও ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি ক্যাপ্টেন (অব.) মো. ইব্রাহীমও নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

লক্ষীপুর- ৪ (রামগতি ও কমলনগর)

এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আব্দুল্লাহ আল-মামুন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তিনি জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় টিকিট পেতে লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এ আসনের সাবেক সংরক্ষিত সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলীও। তিনিও এলাকায় গণসংযোগ করাসহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এ দু’জন ছাড়াও ঢাকা মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাসভীরুল হক অনু, আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক আবদুজ জাহের সাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান এবং কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামছুল কবির দলীয় মনোনয়ন পেতে এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও কমলনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সৈয়দ শামছুল আলম এবং তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল মতিন চৌধুরী। আন্দোলন-সংগ্রামে যথেষ্ট অবদান রাখায় এদের মধ্যে শফিউল বারী বাবুর মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত বলে স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র দাবি করছেন।

এদিকে, এ আসন থেকে আবারও প্রার্থী হওয়ার জন্য নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল’র (জেএসডি) সভাপতি ও স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক সাবেক মন্ত্রী আ স ম আবদুর রব। এ ছাড়া এ আসন থেকে জাসদ নেতা সাবেক এমপি মোশারেফ হোসেন, ইসলামী আন্দোলন’র নেতা মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ এবং জামায়াত নেতা ও কমলনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হুমায়ুন কবির প্রার্থী হতে পারেন বলে প্রচার রয়েছে।

/পি.এস

লক্ষীপুর,বিএনপি,আ.লীগ