• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

আ.লীগে প্রার্থী জট, বিএনপির নীরব প্রচার

প্রকাশ:  ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:০৬ | আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:২২
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রিন্ট

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে রাজনীতিতে। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই আওয়ামী লীগ, জাতীয় পাটি ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গা ঝাড়া দিয়ে ভোটের মাঠ দখলে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যদের পেছনে ফেলে নীলফামারীর চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির অসংখ্য নেতা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। পুরনোদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তারা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করছেন। এলাকার সাধারণ মানুষজন বলছেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ না হওয়ায় মানুষ নির্বাচনের আমেজ উপভোগ করতে পারেনি। কিন্তু আসন্ন একাদশ নির্বাচন হবে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সবকটি প্রধান দলই নির্বাচনে অংশ নেবে। তাদের মতে, এই নির্বাচনে প্রবীণদের চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারেন দলের নতুন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নীলফামারীর অন্তত তিনটি আসনে সেই আভাস পুরোদমেই পাওয়া যাচ্ছে। আর এ দৌড়ে পিছিয়ে নেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী নারী প্রার্থীরাও। আওয়ামী লীগের ৫ জন ও বিএনপির ২ জন নারী প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে জোড় লবিং করছেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারীর চারটি আসনের মধ্যে তিনটি আওয়ামী লীগ ও একটি জাতীয় পাটি পায়। তবে বিভিন্ন সুত্র বলছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন বন্টন নিয়ে যদি জাতীয় পাটির মধ্যে সমঝোতা হয় তাহলে দুইটি করে আসন ভাগ হয়ে যাবে। তবে কোন দুটি আসন ভাগ হবে তা পরিস্কার নয়। এদিকে এ জেলার প্রতিটি আসনে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনে মোট ভোটার ছিল ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৭২৬। এবার হাল নাগাদ (এ পর্যন্ত) ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ২৫ হাজার ২০৫। যা গতবারের চেয়ে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৯ ভোটার বেশী।

অপর দিকে সংসদীয় আসন ১৪- নীলফামারী-৩ এলাকার সীমানার তিনটি ইউনিয়নের ভোটাররা এবার সংযুক্ত হয়েছে সংসদীয় আসন ১৫-নীলফামারী-৪ এ। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে তা প্রকাশ করা হয়েছে।

নীলফামারী-১

ডোমার ও ডিমলা উপজেলা নিয়ে নীলফামারী-১ আসন। ডোমারের একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন এবং ডিমলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের ডিমলা উপজেলার সভাপতি আফতাব উদ্দিন সরকার।

দেশ স্বাধীন হবার পর দশটি নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন প্রথম, ৫ম, অষ্টম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন দ্বিতীয় ও ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে। জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন তৃতীয়, চতুর্থ, সপ্তম ও নবম (মহাজোটের হয়ে) সংসদ নির্বাচনে। এই আসনে দশম নির্বাচনে ভোটার ছিল ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৯। এবার সর্বশেষ হালনাগাদ ভোটার সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৫৫১। এতে ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৭ হাজার ৬৮২। এরমধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ২৭১ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ২৮০।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফতাব উদ্দীন সরকার জয়ী হন। বর্তমান সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে ডোমার উপজেলার মানুষের অভিযোগ তিনি ডিমলা উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় ডোমারের উন্নয়নে তার চোখ রাখেননি। ফলে উন্নয়নে ডোমার অনগ্রসর।

এ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে জনসংযোগ করছেন দুই নারীসহ ৯ জন। এদের মধ্যে বর্তমান সাংসদ আফতাব উদ্দিন সরকার, ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আলম বাবুল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় আইন বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোটের ডিপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ্যাডঃ মনোয়ার হোসেন, লণ্ডন আইনজীবী পরিষদের সভাপতি ও নীলফামারী জেলা বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি ব্যারিস্টার ইমরান কবির চৌধুরী জনি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. কর্ণেল (অব:) তছলিম উদ্দিন, অস্টেলিয়া প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মকদ্দুমুল আযম মাশরাফি তুতুল, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত আমিনুল হোসেন সরকার, সাবেক সাংসদ শিল্পপতি হামিদা বানু শোভা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ স¤পাদক (কল্যাণ ও পুর্নবাসন) এবং বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার সম্পাদক সরকার ফারহানা আখতার সুমি।

এ আসনে মহাজোটের শরীক হিসাবে জাতীয় পার্টি(এ) ও জাতীয় পাটির (মঞ্জু) দুই প্রার্থী রয়েছে। এরশাদের জাতীয় পাটির মনোনয়ন চুড়ান্ত করেছে শিল্পপতি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী। তিনি ২০০৮ সালে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে সাংসদ হন। তিনি প্রতিনিয়ত জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। মহাজোটের আরেক শরীক জাতীয় পাটি (মঞ্জু)। দলটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রী। দলটির মহাজোটে পক্ষে এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সংসদ সদস্য এ্যাডঃ এনকে আলম চৌধুরী। বিএনপির শরিক দল হিসাবে এই আসনে বিএনপির পাশাপাশি ন্যাপ ও জামায়াতের পক্ষে তিন প্রার্থী রয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে শাহরিন ইসলাম তুহিন এ আসনে বিএনপির পক্ষের চুড়ান্ত প্রার্থী। কিন্তু বিগত ত্বত্তাবধায়ক সরকারের সময়ে দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলায় দেশের বাইরে রয়েছেন তিনি। তাঁর অনুপস্থিতে অনেকটাই প্রার্থী সংকটে বিএনপি। এমন সংকটে ওই আসনে ২০০৮ সালে প্রার্থী হয়েছিলেন তাঁর (তুহিন) বাবা অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। এবারো তিনি অথবা তুহিনের মা সেলিনা ইসলাম বিউটি (বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন) প্রার্থী হতে পারেন বলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান জামান জানিয়েছেন। তবে বিএনপি নেত্রীর বোন, দুলাভাই প্রার্থীতার বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। অপর দিকে বিএনপি জোটের শরিক ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি মনোনয়ন চান আসনটিতে। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের মন্ত্রীসভার সিনিয়রমন্ত্রী মরহুম মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নাতি ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম শফিকুল গণি স্বপনের ছেলে। জামায়াত প্রার্থী এই আসনে আবদুস সাত্তার প্রার্থী হবেন বলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আসনে বাম দলগুলোর তেমন উল্লেখযোগ্য প্রার্থী মাঠে না থাকলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বাম মোর্চার প্রার্থী বাসদের (খালেকুজ্জামান) নেতা আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী লাকু।

নীলফামারী-২

নীলফামারী জেলার সদর উপজেলা নিয়ে নীলফামারী-২ আসন। আসনটিতে রয়েছে ১৫টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা। এই আসনে গত নির্বাচনে ভোটার ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৯। এবার সর্বশেষ হালনাগাদ ভোটার সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার ৫৯০। এতে ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৭ হাজার ২৮১। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৮৫ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪০৫। স্বাধীনতার পর বিগত ১০টি নির্বাচনের বিশ্লেষণে দেখা যায় আসনটিতে আওয়ামী লীগ প্রথম, দ্বিতীয়, অষ্টম, নবম, দশম নির্বাচনে বিজয়ী হয়। সিপিবি প ম নির্বাচনে (আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতায় নৌকা প্রতীকে), জাতীয় পাটি তৃতীয়, চতুর্থ, সপ্তম নির্বাচনে, বিএনপি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ নির্বাচনে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নির্বাচনী এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশার প্রতিদ্বন্দিতায় নেই কেউ। বিএনপি, জামায়াতেও একক মনোনয়ন প্রত্যাশি। তবে ওই দুই দলে রয়েছে জোটের ভাগাভাগির অস্বস্তি। অপরদিকে মহাজোটের শরীক জাতীয় পাটি আগাম হাল ছেড়েছে আসনটি।

এ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি সামসুজ্জামান জামান ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মনিরুজ্জামান মন্টু। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পুরো শহরে পোষ্টার শাটিয়ে দোয়া চেয়েছেন সংগীত শিল্পি এজানুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীলফামারী সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জহুরুল ইসলাম।

নীলফামারী-৩

এ আসনে বিগত সময়ে নির্বাচনে জলঢাকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়ন পুটিমারী, বড়ভিটা ও রনচন্ডি নিয়ে আসনটি ছিল। এবার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ওই তিনটি ইউনিয়ন সংযুক্ত হয়েছে নীলফামারী ৪ আসনে। দশম নির্বাচনে এই আসনে ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৪৬। এবার হালনাগাদ তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়ে ২ লাখ ৬০ হাজার ৫৯৪। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৯৬ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩০ হাজার ১৯৮। এই আসন হতে বাদ পড়া তিনটি ইউনিয়নে ভোটা সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার ৩১৫। যা নীলফামারী ৪ আসনের ভোটার তালিকায় সংযুক্ত হয়েছে।

আসনটিতে বিগত ১০টি নির্বাচনের বেশিরভাগ সময়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত এবং মুসলীমলীগ। বিগত ১০টি নির্বাচনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে এককভাবে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী প্রথম, ৫ ম, এবং দশম নির্বাচনে জয়ী হয়। এরপর নবম সংসদে সেখানে নির্বাচিত হয় মহাজোটের (আওয়ামী লীগ-জাপা) জাতীয় পাটির প্রার্থী। চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পাটি, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হয়। সেখানে মুসলীম লীগ দ্বিতীয় সংসদে, জামায়াত তৃতীয়, সপ্তম এবং অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আসনটি পায়।

দশম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় পাটির কাজী ফারুক কাদের।

এই আসনে বর্তমান এমপি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা ও একজন নারীসহ দলীয় মনোনয়ন চান ৭ জন। তারা হলেন, নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ মমতাজুল হক, জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেল, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর ওয়াহেদ বাহাদুর, সাবেক অধ্যাপক আব্দুল মতিন ও প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা দীপেন্দ্র নাথ সরকার দিপু বাবুর মেয়ে ববিতা রানী সরকার। এই সকল মনোয়ন প্রত্যাশীরা তাদের পোষ্টারে ছেয়ে ফেলেছে এলাকা।

এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চান বিএনপি নেতা সামসুজ্জামান সামু ও জলঢাকা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বর্তমানে পৌর মেয়র ফাওমিদ ফয়সাল কমেট। এ আসন থেকে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে মুসলীম লীগ, তৃতীয়, সপ্তম এবং অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির ইউনিট সদস্য ও রংপুর বিভাগীয় টিমের সদস্য অধ্যক্ষ আজিজুল ইসলাম অথবা জামায়াত নেতা বর্তমানে জলঢাকা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ মুরাদ প্রার্থী হতে পারেন।

নবম সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির কাজী ফারুক কাদের। গত নির্বাচনে দলের পক্ষে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এবারে ওই আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। কাজী ফারুক কাদের মুসলীম লীগের কাজী আব্দুল কাদেরের ছেলে, এ ছাড়া এই আসনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মেজর রানা মোহাম্মদ সোহেল মনোনয়ন চেয়েছেন।

বিগত টানা দুইবারের নির্বাচিত জলঢাকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সৈয়দ আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য রয়েছেন মাঠে।

নীলফামারী-৪

সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে নীলফামারী-৪ আসন গঠিত। সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে আসনটির অন্তর্ভুক্ত হলেও এবার নতুন করে আরো তিনটি ইউনিয়ন যোগ হয়েছে। ইউনিয়ন তিনটি হলো কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী, বড়ভিটা ও রনচন্ডি। ওই তিনটি ইউনিয়ন আগে সংযুক্ত ছিল নীলফামারী ৩ আসনের সঙ্গে। দশম নির্বাচনে এই আসনে ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭৯ হাজার ১০২। এবার সর্বশেষ হালনাগাদে ভোটার সংখ্যা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৭০। এতে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৯২ হাজার ৩৬৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮০ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৬৬। আবার অবাঙালী (উর্দুভাষী) ভোটার রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার।

আসনটিতে বিগত ১০টি নির্বাচনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ প্রথম ও নবম সংসদে, বিএনপি দ্বিতীয়, ষষ্ঠ (১৫ ফেব্রুয়ারি) ও অষ্টম সংসদে, জাপা (এ) তৃতীয়, সপ্তম, ও দশম সংসদে, ন্যাপ (মোজাফ্ফর) ৫ ম সংসদে (আওয়ামী লীগের সমর্থনে) এবং চতুর্থ সংসদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিনিধিত্ব করেছেন এ আসনটি। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ জাতীয় পাটির নীলফামারী জেলার আহবায়ক আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী।

নীলফামারী ৪ আসনে ১২ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে একজন দুইজন নারী রয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেলশ্রমিক লীগ নেতা মোখছেদুল মোমিন, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী সিকান্দার আলী, সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আখতার হোসেন বাদল, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোখছেদুল ইসলাম, নারী দুই প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য আমেনা কোহিনুর আলম, নীলফামারী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাবেয়া আলীম।

এই আসনে কিশোরগঞ্জ উপজেলা হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন স্থানীয় নেতা মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা, কর আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক এ্যাডঃ আমিরুল ইসলাম আমির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাবুল।

এ আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নের দাবিদার সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমানে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকার ভজে, সৈয়দপুর বিএনপির নেতা শওকত হায়াৎ শাহ, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য বিলকিস ইসলাম স্বপ্না ও কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এখানে জামায়াত তাদের কোন প্রার্থী দেবে কিনা তা জানা যায়নি।

জাতীয় পাটির মনোনয়ন নিয়ে গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হয়েছেন বর্তমান বিরোধী দলীয় হুইপ আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক আদেলুর রহমান আদেল।

/পি.এস

নীলফামারী,বিএনপি,আ.লীগ