• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

আসন ধরে রাখতে চায় আ.লীগ, দখল নিতে মরিয়া বিএনপি

প্রকাশ:  ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৩০
জাকির হোসেন, ঠাকুরগাঁও
প্রিন্ট

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের ৩টি আসনে এখন একটাই প্রশ্ন। কে হচ্ছেন এ তিনটি আসনের বড় দলগুলোর প্রার্থী। ইতিমধ্যে উভয় আসনেই একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পেতে প্রার্থীরা একদিকে যেমন দলের হাইকমান্ডে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার চেষ্টা করছেন তারা।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তারা ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। দলীয় ভিত্তি মজবুত হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ ও তার জোটের দখলে রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ৩টি আসন। এ জেলায় দুই বৃহৎ দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দুই হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগের পেসিডিয়াম সদস্য সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রি রমেশ চন্দ্র সেন আর বিএনপি’র সাবেক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের দৌড়-ঝাপ করতে দেখা গেলেও বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে পদচারণা কম। অতীতের চেয়ে আসন্ন নির্বাচনেও সবদলেরই সম্ভাব্য প্রার্থী বেশী। তবে কিছু কিছু নেতাকর্মী সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে যাওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কিছুটা বিব্রত অবস্থায় পড়ছেন। কিন্ত উদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিএনপি।

ঠাকুরগাঁও-১

আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ঠাকুরগাও-১ (সদর উপজেলা) আসনে আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা কোমড় বেধে মাঠে নেমে পড়েছেন। এ আসনে অন্যান্য দলের তেমন কোন শক্তিশালী প্রার্থী না থাকলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে রয়েছেন দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। একজন হলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বর্তমান সাংসদ ও সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন আর অন্যজন হলেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই হেভিওয়েট দুই প্রার্থীসহ আরও কয়েকজন নতুন মুখও গনসংযোগ সভা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে বিএনপিতে দলীয় কোন্দল না থাকলেও আওয়ামী লীগে রয়েছে একাধিক গ্রুপ, উপ-গ্রুপ।

স্বাধীনতার পর থেকে ঠাকুরগাঁও ১ আসন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের দখলে থাকলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি হাত ছাড়া হয়। বর্তমান বিএনপির মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সে সময় আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার করে আওয়ামী লীগ। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামকে হারিয়ে আবারও এমপি নির্বাচিত হন রমেশ চন্দ্র। স্থায় পান সরকারের মন্ত্রী পরিষদে। দায়িত্ব পালন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে। এরপর গেল নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও আবার এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে কাজ করলেও বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া তেমন কোন প্রার্থী নেই। রমেশ চন্দ্র সেন ছাড়াও আওয়ামী লীগের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. মকবুল হোসেন বাবু, কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক রাজিউর রেজা খোকন চৌধুরী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অরুণাংশু দত্ত টিটো, যুব মহিলা লীগ সভাপতি তাহমিনা আক্তার মোল্লা। এ আসনে বিএনপি’র তেমন কোন দলীয় কোন্দন না থাকলেও আওয়ামী লীগ রয়েছেন সংকটে। সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনকে হারিয়ে বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ঠাকুরগাও-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম। এ থেকেই এই দু’নেতার মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। দবিরুল ইসলাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেও দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তার তেমন কোন ভুমিকা নেই। রমেশ চন্দ্র সেন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাদেক কুরাইশীর নেতৃত্বেই বর্তমানে সরব জেলা আওয়ামী লীগ। তবে তাদের মধ্যেও রয়েছে ঠান্ডা লড়াই। একে অপরকে ছাড়া দিতে নারাজ উভয়েই। এদিকে বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও দলীয় কিছু বিষয় নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক জেলা যুবলীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটোর সাথে বিরোধ দেখা দেয় বর্তমান সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনের। সম্প্রতি এক যুবলীগ নেতা খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তা আরো ঘনিভুত হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম এমপি’র পাশাপশি টিটো দত্তের অবস্থানও এখন সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনের প্রতিকুলে। যদিও দলীয় কর্মকাণ্ডে রমেশ চন্দ্র সেন ও অরুনাংশু দত্ত টিটোকে একই মঞ্চে দেখা যায়। তারপরেও রয়েছে মত পার্থক্য। তবে আগামী নির্বাচনের আগেই সব দলীয় কোন্দল নিরসন হবে বলে জানান রমেশ চন্দ্র সেন।

তিন জানান, আমি ঠাকুরগাঁওয়ে চার দলীয় সরকারের চেয়ে তিনগুণ বেশি উন্নয়ন করেছি। আমার বিষয়ে অনেকে অভিযোগ করতেই পারে। ইচ্ছে থাকা সত্তেও নেতাকর্মীদের মন জয় করা সব সময় সম্ভব হয়ে উঠে না। মান অভিমান থাকলেও নির্বাচনের আগ মুহুর্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। তাছাড়া নেত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন আবারো দেন জনগণই আমাকে নির্বাচিত করবে। এছাড়া নতুন কাউকে মনোনয়ন দিলে দেশনেত্রীর নিদের্শনা অনুযায়ী কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছি।

অপর দিকে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান এমপি ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এখন তার অনেক বয়স হয়েছে। নতুন কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে আবারো নৌকা মার্কাকে জয়ী করার সময় এসেছে। তাই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনকে নৌকার ঘাঁটি তৈরি করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। তাছাড়া নেত্রী যাকেই টিকিট দিবে তার পক্ষেই আমরা কাজ করবো। এখানে আওয়ামী লীগের কিছু রির্জাভ ভোট রয়েছে। এ জন্য নতুন সম্ভ্যাব্য প্রার্থীদের নাম শুনা যাচ্ছে। তারাও তৃণমূল নেতাকর্মী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মোশারুর ইসলাম সরকার জানান গত ৩০ বছরও যে উন্নয়ন হয়নি বর্তমান এমপি রমেশ চন্দ্র সেন সেই উন্নয়ন করেছেন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা রাস্তা ঘাট, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা প্রায় সব পাকা হয়েছে। প্রায় ৫শ কোটি টাকার প্রকল্প ঠাকুরগাঁও চিনিকলের জন্য বরাদ্দ নিয়ে এসছে। দিনাজপুর থেকে পচাগোড় পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনের রেল লাইন সম্পূর্ণ ভাবে নতুন করা হয়েছে। তাই এ আসনে আগামীতে নৌকারেই জয় হবে। জেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে মতবিরোধ নেই। আমরা সবাই নৌকার হয়ে কাজ করছি এবং আগামীতেও করবও।

এদিকে এ আসনে বিএনপি’র একটি শক্ত অবস্থান তৈরী হয়েছে ইতোঃমধ্যে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারমুক্ত হওয়ার পর থেকে বিএনপিতে আরো গতি বেড়েছে। তার নেতৃত্বেই গ্রাম পর্যায়ে সক্রিয় এখন বিএনপি। তাছাড়া বর্তমান সরকারে বিভিন্ন জুলুম নির্যাতনের কথা ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন জনসভায় বলেছেন মির্জা ফখরুল যা গ্রামের সহজ সরল মানুষের মনে রেখাপাত করেছে। এ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীগের বিকল্প কোন প্রার্থী নেই।

অপরদিকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) জেলা সভাপতি মনসুর আলী ১৯৮৬, ৮৮, ৯১ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশার সাথে যুক্ত। তিনি কাজ করে যাচ্ছেন আপন মনে।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রাজি স্বপন চৌধুরী। স্বপন চৌধুরী জাতীয় পার্টিকে নতুন ভাবে সুসংগঠিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁও-২

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর উপজেলা ও রানীশংকৈল উপজেলা নিয়ে ঠাকুরগাঁও-২ আসন। দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত আসনটি ধরে রেখেছেন আওয়ামী লীগের এমপি আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম। সব নির্বাচনেই এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছে জামায়াত। জামায়াত কখনও নির্বাচিত হতে পারেনি। এবার এ আসন থেকে বর্তমান এমপি ছাড়াও আরো অনেকে মনোনয়ন পেতে জোরালোভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রকাশ্যে তেমন কোন কর্মকাণ্ড না থাকলেও গোপনে সক্রিয় রয়েছেন তারা।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ দবিরুল ইসলাম ছাড়াও জোরালো জনসংযোগ চালাচ্ছেন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মোস্তাক আহমেদ টুলু, দবিরুলের বড় ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তরুণ নেতা মাজহারুল ইসলাম সুজন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার রায়, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপি দবিরুলের ছোট ভাই সফিকুল ইসলাম।

আওয়ামী লীগ ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে কথা বলে জানা গেছে, দবিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার এমপি। একই সঙ্গে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি। বালিয়াডাঙ্গী ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের বড় পদগুলো তার পরিবারের সদস্যদের হাতে। এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তার ভাই-ভাতিজা। ছেলে সুজন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। কাজেই দলে তার অবস্থান শক্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কর্মকাণ্ড তাকে বিতর্কিত করেছে ভোটারদের কাছে।

সংখ্যালঘুদের জমি দখলে বিষয়টি এ আসনের গন্ডি পেরিয়ে বিস্তার লাভ করেছে জাতীয় পর্যায়ে। ওই ঘটনায় কিছু মানবাধিকার সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সরব রয়েছেন। তাছাড়া ছয় ছয় বারের এমপি তিনি। এলাকায় তার প্রভাব প্রতিপত্তি রয়েছে। তার কথায় চলে বালিয়াডাঙ্গী। কারো মতামতকে প্রধান্য দেওয়া হয় না। এমন বিষয়গুলিকে ভালভাবে নিচ্ছেন না সাধারণ ভোটাররা ও কিছু দলীয় কর্মী। এজন্য বিকল্প প্রার্থী হিসেবে তার ছেলেসহ ভাই ও আত্মীয়-স্বজনরা মাঠে নেমেছেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার দল ও সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ। তিনি মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন। তিনি বলেন, নেত্রী (শেখ হাসিনা) যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পেছনে কাজ করবো। তবে এলাকার প্রকৃত চিত্র যদি জানতে পারেন, তাহলে আমাকে নেত্রী মনোনয়ন দেবেন বলে আমার বিশ্বাস।

অপর সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী এ্যাড.মোস্তাক আলম টুলু । ডাকসুর নেতা। এই আসনের পরিচিত মুখ। তিনি বলেন মানুষ নতুন মুখ চায় আওয়ামী লীগে। বর্তমান এমপিকে নেত্রী মনোনয়ন দিলে আসনটি ধরে রাখা আমাদের জন্য কষ্টকর হবে। তাই নতুন কাউকে দিলে নৌকার জয় নিশ্চিত। গরীব শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান সহ বিভিন্ন সমাজ সেবা মূলক কাজে নিয়োজিত রেখেছেন তিনি।

বর্তমান এমপি দবিরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন যাবত জনপ্রিয়তার কারণে জনগণই আমাকে ছয় ছয় বার এমপি বানিয়েছেন। এলাকায় যে উন্নয়ন করেছি তা দেশের কোন নির্বাচনী এলাকায় হয়নি। মনোনয়ন এবারো পেলে জনগণ আমাকে নির্বাচিত করবে। তবে দেশনেত্রী যে সিদ্ধান্ত দিবে তা মেনে নিব।

অপর দিকে আওয়ামী লীগের সাথে দীর্ঘ প্রতিদ্বন্ধীতা করে আসছেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হামিক। তিনি প্রত্যেকবারেই কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন দবিরুল ইসলামের কাছে। বিএনপি নির্বাচনে এলে তিনি ২০ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী বলে অনেক মনে করছেন। প্রকাশ্যে জামায়াত কোন কর্মকাণ্ড না চালালেও গোপনে সক্রিয় রয়েছেন। মসজিদে মসজিদে এবং পাড়া মহল্লায় না তৎপরতা চলে তাদের। তাছাড়া পুরুষের চেয়ে মহিলা কর্মীদের বেশী কাজে লাগাচ্ছেন তারা। কালো বোরকা পড়ে দীনি তালিমের নামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের একত্রিত করে ধর্মের নানা বর্ণনা দিয়ে সংগঠনের কাজ করছেন তারা।

এছাড়া বিএনপি থেকে মনোনয়নের জন্য তদবির করে যাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জেড মূতুর্জা তুলা। জামায়াতের প্রার্থিতা না দিলে ধানের শীষের প্রার্থী হবেন তিনি। এছাড়াও বিএনপি থেকে এ আসনে মনোয়ন পেতে কাজ করছেন ডক্টর এসোসিয়েসন অফ বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. আব্দুস সালাম। তার স্ত্রীও একজন ডাক্তার। এলাকার মানুষের সাথে সুসম্পর্ক গড়তে তুলতে তারা দুজনই ইতিমধ্যে বালিয়াডাঙ্গীতে বেশ কয়েকটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেছেন। এছাড়াও গরীব দুঃখিদের নানাভাবে সহায়তা করে আসছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জেড মূতুর্জা তুলা জানান, এই আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। আওয়ামী লীগের বর্তমান ইমেজ অনেক কারণে নষ্ট। দলের মধ্যেই বিবেদ সৃষ্টি হয়েছে। তাই সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় গণসংযোগ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে দলকে সুসংগঠিত করার কাজ করছি। নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পেলে আমি নিশ্চিত নির্বাচিত হব। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী এমপি দবিরুল ইসলামের ভাগিনী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় মহিলা পার্টির সহ-সভাপতি নুরুন নাহার বেগম। তিনি এলাকায় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলকে গোছাতে চালিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড।

ঠাকুরগাঁও-৩

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলা নিয়ে গঠিত। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তারা তৃণমূলে ব্যাপক ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। বড় দলগুলোর মনোনয়ন কারা পেতে পারেন, কার সম্ভাবনা বেশী এনিয়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া ও মহল্লায় দলীয় নেতাকর্মীসহ ভোটারদের মধ্যে চলছে নিখুঁত বিশ্লেষণ। জাতীয় নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি, ওয়াকার্স ও জাপার একক প্রার্থী থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি হাফিজউদ্দিন আহম্মেদকে। তাকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হয় জেলা ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি ইয়াসিন আলী।

স্বাধীনতার পর থেকে বেশির ভাগ সময় এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও বিগত কয়েক বছর ধরে জাতীয় পার্টি ও ওয়াকার্স পার্টির দখলে রয়েছে। তাই এ আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি ইমদাদুল হক, বঙ্গবন্ধু জয় বাংলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাউল করিম বাবুল, পীরগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র রায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মোঃ চৌধুরী আনোয়ার। সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদের সাবেক ২ বারের সফল মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা জাহান লিটা দৌড়ঝাঁপ করছেন।

অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুর রহমান জাহিদ। উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুর রহমান জাহিদ বলেন, সুসংগঠিত হয়ে আমরা নির্বাচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী একাদশ নির্বাচনের জন পুরোপুরি প্রস্তুত। সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন হলে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হব।

/পি.এস

ঠাকুরগাঁও