• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

সরব আ.লীগ, মাঠে নেই বিএনপি

প্রকাশ:  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৪১
শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, চাঁদপুর
প্রিন্ট

আগামী ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের কোথাও নির্বাচনী উত্তাপ নেই। একমাত্র আ.লীগ ছাড়া আর কোন দলেরই নির্বাচন নিয়ে লক্ষ্যণীয় উত্তাপ ছড়াতে দেখা যাচ্ছে না। পাঁচটি আসনের সব ক’টিতেই আ.লীগের একাধিক প্রার্থী প্রচার প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা জামায়াতের মত বড় বড় দলগুলোর নির্বাচনী তৎপরতা চোখেই পড়ছে না।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করে। শুধু ফরিদগঞ্জ তথা চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করে। ওই নির্বাচনে সারাদেশে আওয়ামী লীগের জোয়ারের সময়ও চাঁদপুর-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান জয়লাভ করতে পারেন নি। এ আসনে এমপি হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশিদ। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা গত দু’বছর ধরেই মাঠে কাজ করছেন। তাদের পোষ্টর ও বিশাল বিশাল ব্যানার, ফেষ্টুন, বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে সারা জেলা। নানা উৎসব-পার্বণ ও দিবস উপলক্ষে পোষ্টার, ব্যানার সাঁটিয়ে তারা নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া)

এ আসনে গত নির্বাচন গুলোর ফলাফল বলছে, এখানে ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শক্তি প্রায় সমান। এ দুটি দলের পরেই ছিল জাতীয় পার্টি। যদিও এখন আর দলটির সেই শক্ত অবস্থান নেই। একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে বড় দুই দলই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। মাঠেও সরব দল দুটির নেতাকর্মীরা।

এ আসনে আ.লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য হচ্ছেন সাবেক সচিব ও মন্ত্রী, আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি গত তিন বছর ধরেই এলাকায় নিয়মিত। এখন আরো বেশি করে এলাকায় থাকছেন। এই আসন থেকে আগামী নির্বাচনেও তারই প্রার্থীতা অনেকটা নিশ্চিত। তিনি ছাড়াও এই আসন থেকে আ.লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন, এনবিআর’র সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব গোলাম রহমান। তিনি এলাকায় নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে একাধিক ব্যক্তির নাম শোনা গেলেও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহসানুল হক মিলনের নামই উল্লেখযোগ্য। তিনি এর আগেও ওই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার বিরুদ্ধে ৩৬ টি মামলা দায়ের করা হয়। ১৬ মাস জেল খাটার পর জামিনে বের হয়ে তিনি বিদেশ চলে গেছেন। সম্প্রতি তিনি মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ড্রিগ্রি লাভ করেছেন। কোন কারণে তিনি এই আসন থেকে নির্বাচন করতে না পারলে তার স্ত্রী, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমুন নাহার বেবী এ আসন থেকে দলের মনোনয়ন চাইবেন। তবে এই আসনে বিএনপি’র অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন প্রকৌশলী আহম মনিরুজ্জামান মানিক। এই আসনে জাতীয পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ার ও দেশের প্রখ্যাত রেডিওলজিষ্ট ডাঃ শহীদুল ইসলাম এবং উপজেলা জাপা’র সভাপতি এমদাদুল হক রোমন।

চাঁদপুর-২

মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলা থেকে আ.লীগের একক প্রার্থী ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম। তিনি এলাকায় সবচাইতে বেশি নিয়মিত। একটি দুর্নীতির মামলায় তার ১৪ বছর সাজা হওয়ায় তিনি প্রার্থীতা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন। অবশ্য উচ্চ আদালতে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল চলছে। তিনি এই আসন থেকে নির্বাচন করতে না পারলে তার বড় ছেলে, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাজেদুল ইসলাম চৌধুরী দীপু’র জন্য মনোনয়ন চাইবেন।

এই আসন থেকে তরুণ সমাজসেবক ও শিল্পপতি এম ইসহাক আহসান দলের মনোনয়ন চাইবেন। তিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া এই আসনে আ.লীগের শক্তিশালী আরেকজন প্রার্থী হচ্ছেন, অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন রূহুল। তিনি এলাকার পরিচিত মুখ। সাবেক ছাত্র নেতা। ঢাকা মহানগর আ.লী গের নেতা। এছাড়া এই আসনে আ’লীগের আরেকজন শক্তিশালী প্রার্থী হচ্ছেন বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান ও সাবেক সংসদ সদস্য এয়ার কমোডর রফিকুল ইসলাম।

এই আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয নেতা ও সাবেক কুটনীতিক ড. জালাল আহমেদ, সাবেক সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী মরহুম নূরুল হুদার বড় ছেলে তানভীর হুদা, ব্যারিস্টার ওবায়েদুর রহমান টিপু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম শুক্কুর পাটওয়ারী, ঢাকার তেজগাঁও এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আনোয়ারুল হকসহ আরো অনেকে। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জেলা জাপার আহবায়ক মিজানুর রহমান।

চাঁদপুর-৩

চাঁদপুর সদর ও হাইমচর আসনে আ.লীগ প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডাঃ দীপু মণি। তিনি এর আগেও দু’বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এলাকায় নিয়মিত এবং ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। ভদ্র, মার্জিত, সৎ ও নিরপেক্ষ একজন মানুষ হিসেবে সবার পরিচিত স্মিত হাসির অধিকারি এই নেত্রী। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীরও অত্যন্ত আস্থাভাজন। গত সাড়ে ন’বছরে তিনি চাঁদপুর ও হাইচরের প্রভ‚ত উন্নয়ন সাধন করেছেন। বিশেষ করে চাঁদপুরবাসীর শত বছরের কান্না মেঘনার ভাঙ্গণ থেকে চাঁদপুর ও হাইমচরকে রক্ষা করে সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেয়া দীপু মণির বাবা, একসময়কার সাংবাদিক ও ভাষাবিদ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগি, দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক মহা-ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মরহুম এম এ ওয়াদুদ। তাঁর কন্যা ডাঃ দীপু মণিই আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন পাবেন এটা প্রায় নিশ্চিত।

তিনি ছাড়াও এই আসন থেকে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, আ.লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর স্নেহধন্য এই নেতা তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হচ্ছেন। এই আসনে আ.লীগের সম্ভাব্য অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, চাঁদপুর পৌরসভার জনপ্রিয় মেয়র ও জেলা আ.লীগের সভাপতি আলহাজ নাছিরউদ্দিন আহমেদ, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, মৎস্যজীবী লীগ নেতা আলহাজ রেদওয়ান খান বোরহান, চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ ইউসুফ গাজী।

এখানে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য প্রফেসর এম আব্দুল্লা, এস এ সুলতান টিটু, জেলা বিএনপি’র আহবায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় নেতা সফিকুর রহমান ভুইঁয়া, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ রাশেদা বেগম হীরা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম কামালউদ্দিন চৌধুরীসহ আরো অনেকে। তবে এই আসন থেকে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের হয়ে মনোনয়ন চাইবেন, জাতীয় পার্টির ( কাজী জাফর) প্রেসিডিয়ামের সিনিয়র সদস্য এস এম এম আলম। তার পোষ্টারে পোষ্টারে নির্বাচনী এলাকা ভরে গেছে। এই আসনে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। যুক্তফ্রন্টের সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, চাঁদপুর আইন কলেজের অধ্যক্ষ, জেলা আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মরহুম আব্দুল্লা সরকারের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার এবং জেলা গণফোরামের সভাপতি, তরুণ সমাজসেবক, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডঃ ফজলুল হক সরকার।

এই দু’জনের ভেতর অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর এলাকায় প্রচুর গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বাবা মরহুম অ্যাডভোকেট আবুল ফজল ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ও ভাষা আন্দোলনের একজন সৈনিক। বাবার সেই পরিচয় তাকে জনসংযোগের কাজে সহায়তা করছে।

চাঁদপুর-৪

ফরিদগঞ্জ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ড. মোঃ সামছুল হক ভুইঁয়া এলাকায় জোঁকের মত লেগে আছেন। তিনি সংসদ সদস্য হবার পর থেকেই এলাকামুখী। গত তিন বছর ধরে এলাকায় একেবারে প্রাত্যহিক বললে ভুল হবে না। তারই মনোনয়ন পাওয়া অনেকটা নিশ্চিত।

তবে এই আসন থেকে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক নেতা শফিকুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, তরুণ সমাজসেবক, সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মরহুম অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের ছেলে অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান, চাঁদপুর জেলা বিএমএর সাবেক সভাপতি ও চট্রগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিডি ডাঃ হারুন অর রশীদ সাগর, মুক্তিযুদ্ধের ৮ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, চাঁদপুর জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্ণেল আবু ওসমান চৌধুরীও রয়েছেন। এদের মধ্যে রোমান এলাকায় নিয়মিত এবং গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য লায়ন হারুন অর রশীদ, বিশিষ্ট ধনকুবের ও সমাজসেবক আলহাজ এম এ হান্নান, কেন্দ্রীয় নেতা মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় আয়কর আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট আব্বাসউদ্দিন, নির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছ, কেন্দ্রীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল রয়েছেন। বাসদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট বাম নেতা খালেকুজ্জামান ভুঁইয়াও এই আসন থেকে নির্বাচন করার কথা।

চাঁদপুর-৫

হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি নির্বাচনী এলাকায় আ.লীগের প্রার্থী সংখ্যা অনেক। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাবেক মন্ত্রী ও সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমেরই এই আসন থেকে মনোনযন পাওয়া অনেকটা নিশ্চিত। অত্যন্ত ভদ্র, সৎ, নিরপেক্ষ, স্পষ্টভাষী, মার্জিত এবং পরোপকারী এই ব্যক্তিত্ব তার নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও সম্মাণের পাত্র। তিনি এর আগে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের গর্ব, চাঁদপুরের গর্ব। তিনি এবারও দলের হয়ে লড়বেন বলে সবার প্রত্যাশা। এই আসনে আ.লীগের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা, যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ফজলুল হক, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের নেতা, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও জেলা আ.লীগের উপদেষ্টা সফিকুর রহমান এবং পাওয়ার সেলের ডিজি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার, এনএসআই’র সাবেক পরিচালক দুদকের সাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এম এইচ সালাহউদ্দিনও এলাকায় নিয়মিত এবং ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই আসনে বিএনপি’র প্রার্থীদের মধ্যে জোরালো অবস্থানে রয়েছেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীন বিএনপি নেতা অধ্যাপক এম এ মতিন। তাদের মধ্যে মমিনুল ইসলাম এলাকায় নিয়মিত এবং সভা-সমাবেশ, পারিবারিক-সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত যোগ দিচ্ছেন। এছাড়া ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের সভাপতি পীরে কামেল আলহাজ হযরত মাওলানা বাহাদুর শাহ আল মোজাদ্দেদীও এই আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় ঐক্য জোট আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে চাঁদপুরে ভোটের হিসেব-নিকেশ বদলে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে আ.লীগ বা ১৪ দল সব ক’টি আসন ধরে রাখতে পারবে বলে মনে হয় না। চাঁদপুর-১, চাঁদপুর-২, চাঁদপুর-৪ এই তিনটি আসন আ.লীগের জন্য বিপজ্জনক। চাঁদপুর-৩ ও চাঁদপুর-৫ আসনে আ.লীগের সাথে বিএনপি’র হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এর কারণ, আ.লীগের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কোন্দল। তবে বিএনপি যে খুব একটা নিরাপদে আছে তাও না। প্রত্যেকটি আসনেই বিএনপি’র কোন্দল ও দ্বন্দ্ব চরমে। আ.লীগের বর্তমান দুই আমলে চাঁদপুরের প্রভুত উন্নতি সাধিত হবার পরও আ.লীগের কিছু নেতার আচার আচরণগত কারণ ও দম্ভ ও দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে মাঠ পর্যায়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট বিএনপি’র পক্ষে। যা এর আগে বিএনপি’র ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল। ক্ষমতা হারানোর পর তারা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

/পি.এস

চাঁদপুর,বিএনপি,আ.লীগ