• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

আসন ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ, বিএনপির লক্ষ্য পুনরুদ্ধার

প্রকাশ:  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৪ | আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:০৭
রূপক আইচ
প্রিন্ট

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাগুরার ২টি আসনে এখন একটাই প্রশ্ন। কে হচ্ছেন এ দুটি আসনের বড় দলগুলোর প্রার্থী। ইতিমধ্যে উভয় আসনেই একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পেতে প্রার্থীরা একদিকে যেমন দলের হাইকমান্ডে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার চেষ্টা করছেন তারা। এ দুটি আসনে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে দলগুলোর মধ্যে।

মাগুরা-১

এ আসনের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা । ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রকাশ্যে মাঠে নামলেও বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কেন্দ্রে লবিং চালানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলের নেতারাও নির্বাচনকে সামনে রেখে তৎপর রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব অ্যাড. সাইফুজ্জামান শিখর প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামায় এ আসনটিতে নির্বাচনী হাওয়া বেশ জোরে বইতে শুরু করেছে। এ ছাড়া মাগুরা-১ আসনের এমপি এটিএম আব্দুল ওয়াহ্হাব বিভিন্ন সভাসমাবেশে অংশ নেয়ার পাশাপাশি চালাচ্ছেন নির্বাচনী তৎপরতা। অন্যদিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হল শাখার সাধারণ সম্পাদক পংকজ সাহা দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক ছাত্রনেতা কাজী রফিকুল ইসলাম গত নির্বাচনের মত এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

মাগুরা পৌরসভা, সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত মাগুরা-১ আসন (সংসদীয় আসন-৯১)। ১৯৯৬ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। ৯৬ থেকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচন পর্যন্ত পর-পর ৪ টি সংসদ নির্বাচনে এ আসনটিতে এমপি ছিলেন প্রফেসর ডাক্তার সিরাজুল আকবর। ২০১৫ সালের ৯ মার্চ সিরাজুল আকবর এমপির আকস্মিক মৃত্যুর পর এ আসনে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধে ৮ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অবঃ) আব্দুল ওযাহহাব।

এমপি আব্দুল ওয়াহ্হাব আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা থেকে মাঝে মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় এসে নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। তবে জেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচিগুলোতে তার তেমন উপস্থিতি চোখে পড়ে না। জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সাথে তার ব্যাপক দূরত্ব আছে এমন অভিযোগ অনেকেরই। যা তার প্রার্থীতা ও আগামী নির্বাচনের অংশ গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে অনেকেরই ধারনা।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য এটিএম আব্দুল ওয়াহহাব বলেন, এমপি হিসেবে তিনি রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করেছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটাদের কাছে যাচ্ছেন। বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি আশা করছেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে আবারও বিজয়ী হবেন। দলের সাথে দূরত্বর ব্যাপারে তিনি বলেন, দলের নেতাদের সাথে তার কোন দূরত্ব নেই।

অন্যদিকে এ আসনে আওয়ামী লীগের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম আছাদুজ্জামান এমপি’র ছেলে সাইফুজ্জামান শিখর। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুজ্জামান শিখর নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন কর্মসূচি ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে নিয়মিত তৎপরতায় অংশ নিতে ঢাকা থেকে মাগুরায় আসছেন। দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের আস্থার নেতা মরহুম আছাদুজ্জামানের ছেলে হিসেবে জেলার রাজনীতিতে সাইফুজ্জামান শিখরের একটি অবস্থান রয়েছে। পাড়া মহল্লার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড থেকে শুরু করে নির্বাচনী এলাকায় সভা-সমাবেশে ব্যাপকভাবে অংশ নিচ্ছেন তিনি। জেলা, উপজেলা, পৌর সভা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তার সাথে এ সকল কর্মসূচিতে স্বতস্ফুর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। সর্বোপরি নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও প্রকাশ্যে কোন গ্রুপিং না থাকায় মাগুরায় ক্ষমতাশীন দলের গোটা রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে সাইফুজ্জামান শিখরকে ঘিরেই।

অন্যদিকে সাইফুজ্জামান শিখরের পক্ষে তার বড় বোন মহিলা এমপি কামরুন লাইয়া জলিও তার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ইতিবাচক ভুমিকা রাখছেন। তিনিও বিভিন্ন সামাজি ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নিচ্ছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সম্পাদকসহ অধিকাংশ নেতৃবৃন্দের দাবি, সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরা-১ আসনের জন্যে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলার রাজনৈতিক সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ নিচ্ছেন। দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সহযোগিতা পাচ্ছেন। তার পিতাকে মাগুরার মানুষ বারবার এমপি নির্বাচিত করেছেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে এলাকার মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা রয়েছে। মাগুরার রেল লাইন, ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়া টেক্সটাইল মিল চালু, নবগঙ্গা ব্রীজ, এলাংখালী সেতুসহ জেলার অন্তত অর্ধশত উন্নয়ন কার্র্যক্রম বাস্তবায়নে তার অবদান রয়েছে । এ ছাড়া জেলার খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় দলমত নির্বিশেষে তার প্রতি মানুষের ব্যাপক আস্থা তৈরি হয়েছে। যে কারনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে ভোটাররা তাকে সহজে গ্রহন করবেন।

মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হলে জেলার উন্নয়ন আরো বেগবান হবে উল্লেখ করে সাইফুজ্জামান শিখর বলেন, নির্বাচন কমিশনারের নীতিমালা মেনে এমপি নির্বাচনের লক্ষে আমি অনেক আগে থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক একান্ত সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। জেলাবাসী চাইলে নির্বাচিত হয়ে তার বাবার মত দেশ ও মানুষের জন্য সব ধরনের আত্মত্যাগে আমি প্রস্তুত। সে লক্ষ্যেই ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত আমি সব সময় মাগুরার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। তাদের সুখ দুখের অংশিদার হয়েছি।

জেলা অওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ তানজেল হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুন্ডু বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তরুনদের নেতৃত্বে নিয়ে আসছেন। সেক্ষেত্রে তরুন নেতৃত্ব হিসেবে সাইফুজ্জামান শিখরের এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনি দলীয় মনোনয় পেলে সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে তাকে সহজে বিজয়ী করিয়ে আনতে সমর্থ হবেন।

অন্যদিকে দলীয় কোন্দল বিভক্তিতে জড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কাদাছুড়াছুড়িতে ব্যস্ত বিএনপি’র প্রায় হাফ ডজন নেতা মাগুরা-১ আসনে দলীয় মনোনয়নের চেষ্টা চালাচ্ছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি দলীয় চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য ও জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা কবীর মুরাদ। মাগুরা পৌর সভার সাবেক মেয়র ও ২০০৮ সালে চারদলী জোটের প্রার্থী বর্তমান জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য ইকবাল আকতার খান কাফুর, জেলা বিএনপির অপর যুগ্ম আহবায়ক আহসান হাবিব কিশোর ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য বহুল অলোচিত ট্রাকে পেট্রোল বোমা হামলায় ৫ শ্রমিক হত্যা মামলার আসামী হয়ে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত মনোয়ার হোসেন খান।

কবীর মুরাদ তার প্রার্থীতার ব্যাপারে বলেন, বিএনপির চরম দুঃসময়ে তিনি ৮ বছর মাগুরা জেলা বিএনপি’র সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তার জীবনটাই অন্দোলনের মধ্য দিয়ে কেটেছে। আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন অত্যাচার নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েছেন। দলের একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে দলের জন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ইকবাল আকতার খান কাফুর বলেন, তিনি দুই বার মাগুরা পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। একাধিকবার এমপি ইলেকশন করেছেন। সর্বশেষ ২০০৮ সালে ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সামান্য ভোটে হারলেও মাঠ পর্যায়ে নেতা-কর্মী ভোটাদের সাথে রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক । যে কারনে তিনি মনোনয়ন পেলে সহজে জয়ী হবেন।

অপর প্রার্থী আহসান হাবিব কিশোর বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি। যুবদলের পর জেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে জেলা আহবায়ক কমিটির তিনি যুগ্ম আহবায়ক। রাজনীতিতে তার যথেষ্ঠ ত্যাগ রয়েছে। মাগুরায় বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আগামীতে বিএনপির মূল ধারার বাইরে কেউ মনোনয়ন পাবেন না। যে কারনে তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন।

বিএনপির হরতাল অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালে ২১ মার্চ মাগুরা সদরের মঘি এলাকায় চলন্ত ট্রাকে পেট্রোল বোমায় ৫ শ্রমিক হত্যা মামলার মামলার আসামী হয়ে দেশ ছেড়ে সিঙ্গাপুরে নির্বাসিত জীবনে থাকা জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাসী হলেও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। যে কারনে দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে তার বিশ্বাস। তিনি দাবী করেন বিগত দিনে মাগুরার মানুষের বিপদে পাশে দাড়িয়েছেন। তৃণমূলের সাথে তার ছিল নিবিড় সম্পর্ক যে কারনে মনোনয়ন পেলে তিনি বিজয়ী হবেন।

এছাড়া শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি বদরুল আলম হিরো দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন।

জেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ আলী করিম জানান, বিএনপি নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে, সকল নেতা-কর্মী তার পক্ষেই কাজ করবে।

জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা হাসান সিরাজ সুজা জানিয়েছেন, পাটির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবেন বলে ঘোষাণা করেছেন। যে কারনে নির্বাচনে তিনি (হাসান সিরাজ সুজা) জেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মাগুরা-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া জেলা জাসদের একাংশের সভাপতি এটিএম মহব্বত আলী ও অপর অংশের সাধারণ সম্পাদক সমির চক্রবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন।

মাগুরা-২

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার এমপি এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও মাগুরা-২ আসনের সাবেক এমপি খালেদা জিয়ার সাথে একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত জেলে আটক বিএনপি নেতা কাজী সালিমুল হক কামাল সম্ভব্য প্রার্থী হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালাচ্ছেন।

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর-শালিখা উপজেলাসহ সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে (জাতীয় সংসদের আসন-৯২) মাগুরা-২ আসন গঠিত। স্বাধীনতা পরবর্তি সময় থেকে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও ১৯৯৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর এ আসন থেকে চারবার নির্বাচিত আওয়ামী লীগের এমপি আছাদুজ্জামানের মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালে আসনটিতে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগসহ তৎকালিন শাসক দল বিএনপি’র প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি কাজী সালিমুল হক কামাল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন । এর মধ্য দিয়ে আসনটি আওয়ামী লীগের হাত ছাড়া হয়।

এ উপ-নির্বাচনের ভোট ডাকাতি ও কারচুপির অভিযোগ এনে পারবর্তিতে আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক আন্দোলনের ফলে বিএনপি ক্ষমতা হারায়। এরপর ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ্যাডভোকেট বীরেন শিকদার কাজী সালিমুল হককে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী কাজী সালিমুল হক কামাল আওয়ামীলীগ প্রার্থী শফিকুজ্জামান বাচ্চুকে পরাজিত করে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এ্যাডভোকেট বীরেন শিকদার ২০০৮ সালের নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সাবেক মন্ত্রী বিএনপি প্রার্থী এ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ্যাডভোকেট বীরেন শিকদার আবারও এমপি নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে তিনি ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছেন বলে এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে দাবি করেন বীরেন শিকদার।

আলাপকালে ড. বীরেন শিকদার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, এলাকার জনগণের সাথে সব সময়ই তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি সপ্তাহে দু’দিন নির্বাচনী এলাকায় এসে জনগণের সুখ দুঃখে সময় দেয়াসহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তিনি জানান, মহম্মদপুরবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন মধুমতী নদীর উপর শেখ হাসিনা সেতু নির্মান, বিশেষত শালিখা উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া, ইতিমধ্যে মহম্মদপুর উপজেলাসহ সদরের চার ইউনিয়নের ৮৫ভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসবে বলে দাবি করেন তিনি। নির্বাচনী এলাকায় আরও চারটি সেতু নির্মাণ, রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার উপর যতবার আস্থা রেখেছেন, ততবার আমি সেই আস্থা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। এসব উন্নয়ন ছাড়াও তিনি জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে মাগুরা বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামকে আধুনিক স্টেডিয়ামে রুপান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মূল স্টেডিয়ামের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ‘শেখ কামাল’ মিনি স্টেডিয়াম।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে তিনবার মনোনয়ন দিয়েছেন তিনবারই এলাকার জনসাধারণ তাকে নির্বাচিত করেছেন। আবারও মনোনয়ন পেলে জয় লাভ করে এ আসনটি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবেন বলে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুজ্জামান বাচ্চু, মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সভাপতি ওহিদুর রহমান টিপু মনোনয়ন চাইতে পারেন ।

অপরদিকে, বিএনপি’র বর্তামান কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী ২০০১ সালের মাগুরা-১ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রফেসর ডাক্তার সিরাজুল আকবরের কাছে পরাজিত হন। ২০০৮ সালে মাগুরা-২ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ্যাডভোকেট বীরনে শিকদারের কাছে পরাজিত হন।

এ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে মাগুরা-১ আসনে প্রার্থী হলেও মাগুরা-২ আসনই তার মূল আসন। এ আসনের মানুষ তাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চাচ্ছেন। তিনিই এ আসনে মনোয়ন পাবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে তার। এ আসনের সম্ভব্য প্রার্থী হিসেবে প্রায়ই ঢাকা থেকে মহম্মদপুর-শালিখাসহ নির্বাচনী এলাকায় নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।

/রবিউল

জাতীয় সংসদ নির্বাচন,মাগুরা,আওয়ামী লীগ,বিএনপি