• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

আ. লীগে হেভিওয়েট, বিএনপিতে কোন্দল

প্রকাশ:  ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:২০ | আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৫৮
মেহেদী হাসান সোহাগ, মাদারীপুর
প্রিন্ট

মাদারীপুরের জনপদ নৌকার ঘাঁটি ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদারীপুরে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। জেলার সবক‘টি আসনই আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। সংগত কারণে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তেমন কোন দৌড়ঝাঁপ চোখে পড়ছে না। তবে একেবারে যে নেই তা বলা সঠিক হবে না। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে জনসাধারণের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। গত ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর সবক‘টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী দলগুলো নিজেদের ঘর গোছাতে শুরু করেছে। তবে এসকল দলের সবকিছু নির্ভর করছে হাইকমান্ডের উপর। অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী নীতি নির্ধারকদের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে বিএনপির দ্বন্দ্ব দলের জন্য সুখকর নয়। তবুও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের মনোনয়ন পেতে হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ করছেন।

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মাদারীপুরের আসনে ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান সংসদ সদস্যরই একক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ জেলায় আওয়ামী লীগের অধিকাংশ প্রার্থীই প্রবীণ ও রাজনৈতিক ভাবে অভিজ্ঞ। জাতীয় পর্যায়েও তাদের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। অপর দিকে বিএনপির আগ্রহী প্রার্থীর বেশির ভাগই নতুন মুখ হওয়ায় কারা জোট বা দলীয় মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে বিএনপিতে রয়েছে দ্বি-মুখী দ্বন্দ্ব। বিএনপির জেলা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহান্দার আলী জাহান। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেয় জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মুরাদ। তবে তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় না থাকায় তার জনসমর্থন ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।

মাদারীপুরে বাম সংগঠনগুলো তেমন প্রভাব না থাকলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিছুটা সক্রিয় রয়েছে। তারা মাদারীপুরের ৩টি আসনেই প্রার্থী দিবেন বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল একটি সূত্র। এর আগে উপজেলা এবং পৌর নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এবং অন্যান্য বাম দলের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা। মাদারীপুর ১৪ দলীয় এবং ২০ দলীয় জোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি ছাড়া অন্য দলের দু’একজন নেতা থাকলেও কর্মী নেই। তবে জামায়াত বসে নেই; ভেতরে ভেতরে নিজেদের শক্তি সঞ্চার করছে।

বর্তমান নৌ-পরিবহন মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এমপি এবং আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী এমপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আলহাজ সৈয়দ আবুল হোসেন ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবাহান গোলাপ নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার হেভিওয়েট প্রার্থী।

বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এলাকায় তাদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। তারা আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতা। মাদারীপুর-১, ২ ও ৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যদের বদৌলতেই ইতোমধ্যে জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। দৃশ্যমান উন্নয়নের জন্য তাদের জনপ্রিয়তা ও প্রশংসা এখন মানুষের মুখে মুখে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-১ আসনের এমপি নূর-ই-আলম চৌধুরী ও মাদারীপুর-২ আসনের বর্তমান এমপি শাজাহান খান আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এদিকে মাদারীপুর-৩ আসনের বর্তমান এমপি আফম বাহাউদ্দিন নাছিম আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন। তার পাশাপাশি আলহাজ সৈয়দ আবুল হোসেন ও ড. আবদুস সোবহান গোলাপের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে আলোচনা সমালোচনা যতই হোক প্রার্থী মনোনয়ন পুরোটাই নির্ভর করছে হাইকমান্ডের উপর।

মাদারীপুর-১ (শিবচর)

শিবচর পৌরসভাসহ ১৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-১ আসন। পৌরসভা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের পরিসংখ্যানে এটি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকা। এ আসনটিতে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১৭ হাজার ৮২৫ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরীর মনোনয়ন শতভাগ নিশ্চিত বলে ধারণা আওয়ামী লীগের। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদা ভাই‘র) বড় ছেলে। তিনি এ পর্যন্ত ৫বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। যে কারণে এ আসনে আওয়ামী লীগের আর কোনো প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না। তিনিই সম্ভবত এই নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য একক প্রার্থী। মাদারীপুর-১ আসনের শিবচর উপজেলায় ১টি পৌরসভাসহ প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীদের সাথে রয়েছে তার গভীর সম্পর্ক। শিবচরের উন্নয়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন তথা বহু সেতু-কালভাট, রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা চিকিৎসা কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ শিবচরকে একটি আধুনিক উপজেলায় রূপান্তরিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আর এ কারণেই শিবচরের গণ-মানুষের প্রিয় একজন মানুষ হিসেবে তিনিই শীর্ষে রয়েছেন।

এ আসনের বিএনপিতে গ্রুপিংয়ের কারণে রয়েছে একাধিক প্রার্থী। নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাবেক সম্পাদক সাংবাদিক মরহুম মোতাহার হোসেন সিদ্দিকীর ছেলে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ, ঢাকা গোপীবাগের সাবেক কমিশনার ও জেলা বিএনপির সদস্য মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছেন। তিনি প্রচার-প্রচারণায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। শিবচর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা তার মতো নিবেদিত প্রাণকে পাশে পেয়ে ফিরে পেয়েছেন প্রাণ। বিগত দিনের সাংগঠনিক কর্মকান্ড যাচাই-বাছাই করে মনোনয়ন দিলে এ আসন থেকে তিনিই মনোনয়ন পাবেন বলে শতভাগ আশাবাদী। সাধারণ ভোটারদের কাছে সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী দলের জন্য আশীর্বাদ।

এদিকে শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মাদারীপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক জামান কামাল নুরুউদ্দিন মোল্লার নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য হাইকমান্ডের নির্দেশ মোতাবেক প্রতিনিয়ত শিবচর উপজেলা ১৯টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় নীরবে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন তিনি। নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তার পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে।

অপর দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বর্তমান সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান মিয়া। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে দলের দুঃসময়ে দলের পাশে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছেন। এ জন্যই তিনি এলাকায় গণসংযোগ করে নেতা কর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন কিছুই করবেন না তিনি।

এ ছাড়াও নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছেন শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবক ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান। তারও রয়েছে শিবচরের প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তার সাথে জেলা বিএনপির প্রায় সকল নেতার রয়েছে গভীর সম্পর্ক। তিনি শিবচরের প্রতিটি মাঠ ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির সকল কর্মসূচি স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পালন করে আসছেন। শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাজমুল হুদা চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার সহধর্মীনী নাদিরা মিঠু চৌধুরী। তিনি শিবচর উপজেলা বিএনপির কার্যকরী সদস্য। মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নদী ভাঙ্গন ও বন্যা কবলিত মানুষদের মাঝে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ত্রাণ বিতরণ করছেন। শিবচরবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছেন এই নেত্রী।

মাদারীপুর-২ (সদরের একাংশ এবং রাজৈর)

মাদারীপুর পৌরসভাসহ সদর উপজেলার ১০টি ও রাজৈর পৌরসভাসহ রাজৈর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে মাদারীপুর-২ আসন গঠিত। জেলার মধ্যে মাদারীপুর-২ আসনটি সবচেয়ে বড়।

এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ২৬১ জন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি বর্তমান এমপি ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হতে পারেন। তিনি এ আসন থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মাদারীপুর-২ আসনের সদর উপজেলা ও রাজৈর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীদের সাথে রয়েছে তার গভীর সম্পর্ক।

এলাকায় স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও রাস্তা-ঘাট, ইকোপার্ক, রিভার ওয়াকওয়ে, মেরিন একাডেমি, ফোরলেন সড়ক, বড় বড় সেতু নির্মাণসহ মাদারীপুর শহরকে উন্নয়ন করে একটি আধুনিক টাউন হিসাবে গড়ে তুলেছেন। নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি প্রতি মাসের প্রায় প্রতি সপ্তাহে ৩/৪ দিন মাদারীপুরে অবস্থান করে দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বিভিন্ন কর্মসুচিতে অংশ গ্রহণ করে আসছেন। তার এ সব কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে শাজাহান খানকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটের ব্যাবধানে আবারো এমপি নির্বাচিত হবেন বলে এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে। তবে মাদারীপুর-২ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলার নাম শোনা যাচ্ছে। এ আসনে রাজৈর অংশে ভোটারদের আধিক্য রয়েছে। এখানে শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লার অবস্থান। এলাকার বিচারে তিনি একটা শক্ত অবস্থানে আছেন। তিনি আওয়ামী লীগের একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। এদিকে আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলার এ আসনে রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। তৃণমূলে তার অবস্থান ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে তার কর্মকাণ্ড ছিল প্রশংসনীয়। নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি অংশের ভোটাররা তাকে সদালাপী নেতা হিসেবে চেনে। তিনিও আওয়ামী লীগের একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে সবকিছু নির্ভর করছে হাই কমান্ডের উপর।

অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাদারীপুর জেলা বিএনপির সদস্য শাহজাহান মিয়া সম্রাট মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। ইতোমধ্যে তিনি স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ভোটারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দোয়া চাইছেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতি সঙ্গে জড়িত। শাহজাহান মিয়া সম্রাট এক সময় খুলনা বিএল কলেজের ছাত্রদল মনোনীত ভিপি ও খুলনা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এদিকে বিএনপির সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সম্পাদিকা, ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ভিপি ও বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান। দীর্ঘদিন এলাকার ভোটার ও কর্মীদের সাথে তার কোন যোগাযোগ নেই। যে কারণে তিনি তার আগের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি। এলাকায় তার অনুপস্থিতির কারণে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবুও হেলেন জেরিন খান মাদারীপুর-২ আসনে সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

অপর দিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহান্দার আলী জাহান মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে দলের দুঃসময়ে দলের পাশে থেকে অন্দোলন সংগ্রাম করে এসেছেন এবং এখনো আছেন। মাদারীপুর জেলা বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারী জাহান্দার আলী জাহান দলের একজন নিবেদিত প্রাণ ও পরীক্ষিত সৈনিক। তিনি বিএনপির রাজনীতি করে হামলা মামলার শিকার হয়েছেন এবং তিনি কয়েকবার কারা বরণ করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় যে কোনো কর্মসুচী নেতা কর্মীদের নিয়ে পালন করে থাকেন। তিনি মাদারীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, মাদারীপুর সরকারী নাজিমউদ্দিন কলেজের সাবেক জিএস ছিলেন। মাদারীপুর সদর ও রাজৈরবাসীর কাছে দোয়া ও আশির্বাদ প্রার্থনা করেছেন বিএনপির এই ত্যাগী নেতা।

মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য। এজন্যই তিনি এলাকায় গণসংযোগ করে কর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে যাচ্ছেন। তবে তার প্রচারণা রাজৈর কেন্দ্রীক বলে জেলা বিএনপির সাথে তার দূরত্ব রয়েছে। বিএনপি আরো এক নেতা হাবিবুর রহমান (কাওছার) হাওলাদারের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে আলোচনায় থাকলেও প্রচার প্রচারণায় তার বা তার কোন কর্মীকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

মাদারীপুর-৩ (মাদারীপুর সদরের একাংশ এবং কালকিনি)

মাদারীপুর সদরের ৫টি ইউনিয়ন, কালকিনি পৌরসভাসহ উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন নিয়ে মাদারীপুর-৩ আসন গঠিত। ভোটার ২ লাখ ৮৩ হাজার ২২৩ জন। এই আসনে আলোচনায় আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছে। আ.লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সংসদ সদস্য আফম বাহাউদ্দিন নাছিম ছাড়াও চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবাহান গোলাপের নাম শোনা যাচ্ছে।

কালকিনির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম নেতা বর্তমান সংসদ সদস্য কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম‘এর বিশেষ অবদান রয়েছে। শুধু উন্নয়নই নয়, পাশাপাশি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে এবং মাদক বিরোধী অভিযানে আওয়ামী লীগের সফল নেতা বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এ সকল হেভিওয়েট নেতাদের অবদান মাদারীপুরবাসী যদি মনে রাখে; তা‘হলে আওয়ামী লীগের জয় শতভাগ নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের ভোটারা অধীর আগ্রহে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কাকে দিচ্ছেন এ আসনে নৌকার টিকেট। এখন শুধু কালকিনিবাসীর অপেক্ষার পালা। তবে দলের সিদ্ধান্ত ও স্বার্থ এখানে বড় করে দেখা হচ্ছে।

এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির গণ-শিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার। এ আসনে তৃণমূল পর্যায়ে জন সমর্থন পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় বিভিন্ন কর্মসুচীতে এলাকায় এসে নেতা-কর্মীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলছেন। তার সাথে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। শুধু তাই নয় জেলা বিএনপিতে রয়েছে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। তিনি বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক।

এদিকে জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খোন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক জাতীয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। এজন্য তিনি এলাকায় গণসংযোগ করছেন এবং নেতা-কর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন। খোন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক ১৯৮২ সাল থেকে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাথে আছেন এবং তিনি রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ভিপি।

অপর দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান পলাশ। তিনি এলাকায় গণসংযোগ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে দলীয় কর্মসুচীতে অংশগ্রহণ করেন। কালকিনিবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এই নেতা। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন কিছুই করবেন না তিনি।

অন্যদিকে মাদারীপুর জেলা যুব মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্র মৈত্রী মাদারীপুর জেলার আহবায়ক ফরিদ উদ্দিন মুপ্তির নামও শোন যাচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা শহীদুল কবির খোকন প্রার্থী দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছেন ফরিদ উদ্দিন মুপ্তি।

সর্বপরি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন যারা পাবেন তাদেরই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। কারণ আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম এখন পর্যন্ত উঠে আসছে তারা প্রত্যেকেই হেভিওয়েট প্রার্থী। তাদের রয়েছে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সামাজিক ভাবে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তারা ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পেরেছেন।

/পি.এস

মাদারীপুর,বিএনপি,আ. লীগ