• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

ঝালকাঠি জেলার ২টি আসনের চালচিত্র

প্রচারণায় ব্যস্ত আ.লীগ, নির্দেশনার অপেক্ষায় বিএনপি

প্রকাশ:  ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:১০ | আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:১৪
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রিন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক দলগুলোর গণসংযোগ। ঝালকাঠি জেলার দুটি নির্বাচনী আসনেও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি কেন্দ্রের নির্দেশনার অপেক্ষায় বিএনপি।

এ জেলার ৪টি উপজেলা নিয়ে ২টি সংসদীয় আসন। এক সময় ঝালকাঠি জেলা বিএনপির ঘাটি হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে পাল্টে যায় চিত্র। বিএনপির ভরাডুবি হয়, আওয়ামী লীগ জয়ী হয় ২টি আসনেই। দশম সংসদ নির্বাচনেও আসনগুলো তারা ধরে রাখে। জেলার ২টি আসনেই ক্ষমতাসীন দল চায় ধরে রাখতে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধারণা উন্নয়নই নৌকাকে পৌছে দেবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে।

পুরো ঝালকাঠিতে বিএনপির রয়েছে নিরব সমর্থন। এই সমর্থনে ভর করেই দলটি তাদের হারানো ২টি আসন ফিরে পেতে চাইছে। নির্বাচন নিয়ে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও মাঠে আছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ধানের শীষের সমর্থকদের দাবি, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয় তবে বিএনপির জয় সুনিশ্চিত।

ঝালকাঠি-১ (কাঁঠালিয়া-রাজাপুর)

এ আসনে রাজনৈতিক কার্যক্রম আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। কাঁঠালিয়া-রাজাপুর ১২৫ সংসদীয় আসনের আ.লীগ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশিরা তাদের তৎপরতা শুরু করেছে। তিন দলের আট প্রার্থী রয়েছেন বর্তমানে মনোনয়ন মিশনে। একদিকে তারা এলাকার নেতাকর্মী ও জনগণের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন অন্যদিকে দলের হাইকমান্ডেও লবিং অব্যাহত রেখেছেন।

আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান এমপি বজলুল হক হারুন, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ফাতিনাজ ফিরোজ, কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল ও আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুজ্জামান মনির রয়েছেন।

এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম দলের হেভিওয়েট প্রার্থী। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত ও জাতীয় পার্টি জেপির চেয়ারম্যান পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ১৪ দল থেকে মনোনয়ন চাইতে পারে বলে অনেকে ধারনা করছেন।

আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে মনোনয়ন দৌড়ে বজলুল হক হারুন এগিয়ে রয়েছেন। বজলুল হক হারুন (কাঁঠালিয়া-রাজাপুর) নির্বাচনী এলাকার সকল জনপ্রতিনিধি ও দলীয় পদ পদবীধারী নেতা কর্মীরা বজলুল হক হারুনের সাথে রয়েছেন। অন্যদিকে আ.লীগের মনোনয়ন চাইছেন শিক্ষাবিদ ফাতিনাজ ফিরোজ। ইতোমধ্যেই তিনি বেশ শক্ত ভাবেই মাঠে নেমেছেন। চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের গণসংযোগের পাশাপাশি আ.লীগের পক্ষে রাজনৈতিক কার্যক্রমও।

মনোনয়ন প্রত্যাশি মনিরুজ্জামান মনির ও গনসংযোগ সহ সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রায়ই এলাকায় আসছেন এবং গণসংযোগ করছেন। মোহাম্মদ ইসমাইল সরাসরি দলীয় কোন পদে না থাকায় এবং সরকারী পদে থাকায় এলাকায় তিনি কোন দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন না।

আ.লীগের নেতাকর্মীরা মনে করেন যদি মামলা সংক্রান্ত কারণে শাহজাহান ওমর বীর উত্তম এই আসনে নির্বাচন করতে না পারেন তাহলে আ.লীগের বিজয় সহজ হবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক মামলা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বিএনপি। ঝিমিয়ে পড়া নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখন কিছুটা চাঙ্গাভাব।

এ আসনে জাতীয় পার্টি (জাপা) অনেকটা দুর্বল। তবে জাতীয় পার্টি (জেপি-মঞ্জু) চেয়ারম্যান পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর অবস্থান মোটামুটি ভালো।

আ.লীগের পাশাপাশি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশিরাও ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়াসহ ঢাকায় রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার যারা থাকেন তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়া রফিকুল ইসলাম জামালও নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণার কাজ শুরু করছেন। সম্প্রতি সৈকত কাঁঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। তরুণ ও ত্যাগী নেতা হিসেবে এলাকায় সৈকতের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে ।

ছাত্রদল নেতা গোলাম আজম সৈকত বলেন, যদি ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম মনোনয়ন পান তাহলে আমি তার নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগিতা করবো। আর যদি কোন আইনি জটিলতায় তার মনোনয়ন আটকে যায়, তাহলে আমাকেই এ আসনে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে আমি মনে করি। রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, শাহজাহান ওমর আমার বড় ভাই। তিনি মনোনয়ন পেলে আমি তার সাথে সব সময় আছি এবং থাকব। তবে আমার বিশ্বাস দলের দু:সময় আমি যেহেতু এই আসনে নির্বাচন করেছি, তাই আমাকেই এখানে মনোনয়ন দেয়া হবে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর বলেন, এ আসনে ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমর বীর উত্তম এর প্রার্থীতা নিশ্চিত হয়ে আছে। নির্বাচন করতে তার কোন আইনগত বাধা নেই।

জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ঝালকাঠি-১ আসন তো বটেই প্রার্থী সংকট হলে ঝালকাঠি-২ আসনেও শাহজাহান ওমর নির্বাচন করতে পারেন।

এদিকে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে কাঁঠালিয়া-রাজাপুর আ.লীগ এখন কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অপরদিকে বিএনপিতে কোন গ্রুপিং নাই।

কাঁঠালিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মজিবুর রহমান মাষ্টার বলেন, আমারা বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ আছি আসছে নির্বাচনে জামায়াতের ভোট বিএনপিকে জয়ী করতে বিরাট ভুমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মামলায় আসামি হওয়া স্বত্বেও তাদের দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে দলকে আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী করে তুলছে।

এক সময়ের জাতীয় পার্টির দখলে থাকা ঝালকাঠি-১ আসনে বর্তমানে জাতীয় পার্টির অবস্থান অনেকটা দুর্বল। তৎকালিন জাতীয় পার্টির মহাসচিব একাধিকবারের যোগাযোগ মন্ত্রী জাতীয় পার্টি (জেপি-মঞ্জু) চেয়ারম্যান পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এ আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর এ অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। পাওয়া না পাওয়ার বেদনায় জাতীয় পার্টি ক্ষমতা হারানোর পর অনেক বাঘা নেতারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নের রূপকার হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির সমর্থক-ভোটার থাকলেও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে সে গোলায় ফসল তুলতে পারছে না তারা।

একাদশ জতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কাঁঠালিয়া-রাজাপুর আসন বিএনপি চায় যে ভাবে হোক তা পুনরুদ্ধার করতে আর আ.লীগ চায় তাদের আসন ধরে রাখতে।

তবে এ আসনে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে আ.লীগ প্রার্থীদের লড়াই হবে সমানে সমান। আ.লীগের অবস্থান সুদৃঢ় হলেও আগামী নির্বাচনে এ আসনে বরাবরের মতোই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সাথে বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এমন আবাস পাওয়া গেছে।

ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি)

ঝালকাঠি সদর-নলছিটি সংসদীয় আসনের আ.লীগ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশিরা তাদের তৎপরতা শুরু করেছেন। ৫ দলের ১১ প্রার্থী রয়েছেন বর্তমানে মনোনয়ন মিশনে। একদিকে তারা এলাকার নেতাকর্মী ও জনগণের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন অন্যদিকে দলের হাইকমান্ডেও লবিং অব্যাহত রেখেছেন।

একক প্রার্থী নিশ্চিত থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠি-২ আসনে কোনো মনোনয়নযুদ্ধ বা দ্বিধাবিভক্তি নেই আওয়ামী লীগে। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এ আসনে ভোটযুদ্ধে নামবেন নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে। তবে বিএনপির চিত্র অন্য রকমের। একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এ দলে।

বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাধারণ ভোটারের দৃষ্টিতে, আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু এই নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। প্রতি সপ্তাহে এলাকায় এসে নানা কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সামান্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া থাকলেও সামগ্রিকভাবে নৌকার গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনির বলেন, এ আসনে দলে আমির হোসেন আমুর বিকল্প কোনো প্রার্থী নেই। ১৯৯৬ সালে এমপি-মন্ত্রী না হয়েও এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন তিনি। পরে এমপি-মন্ত্রী হয়ে তিনি ঝালকাঠি জেলাকে আধুনিক মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। তার উদ্যোগে জেলা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অনেক সড়ক নির্মিত হয়েছে। আগামী নির্বাচনেও আমির হোসেন আমু নির্বাচিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন খান সাইফুল্লাহ পনির।

এদিকে সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকটা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি নিয়ে দ্বন্ধ থাকলেও বিএনপিতে কোনো বিভক্তি নেই।

দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন সাবেক এমপি ইলেন ভুট্টো, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা আমিনা খান, জেলার দুই সহসভাপতি মিয়া আহমেদ কিবরিয়া ও রফিক হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব নুরুল ইসলাম বাবুল।

সাবেক এমপি ইলেন ভুট্টো বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি চক্র এর আগেও অপপ্রচার চালিয়ে ফায়দা লুটতে চেয়েছে। তারা বিএনপির নয়, সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি জানান, এলাকায় গেলে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হতো। তবে তিনি গত ঈদুল আজহার সময় এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তার প্রত্যাশা, ২০০১ সালের মতো দলীয় বিবেচনায় আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পর সাবেক এমপি ইলেন ভুট্টোসহ মনোনয়ন প্রত্যাশী সবাই এলাকা থেকে চলে যান। কেবল তিনিই হামলা-মামলার পরও নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলেন। সবার খোঁজখবর রেখেছেন। ইলেন ভুট্টো বিএনপির এমপি হয়েও ২০০৮ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দলের প্রয়াত মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া সমর্থিত বিদ্রোহী গ্রপের (সংস্কারপন্থি) সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তাই তার দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার নেই।

তিনি জানান, দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলে নেতাকর্মীদের নিয়ে যৌথসভা করে রেজুলেশনের মাধ্যমে একক প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হবে। তখন তার নাম প্রস্তাব করা হলে তিনিও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করবেন।

বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মাহবুবুল হক নান্নু বলেন, দলের কাছে কর্মীদের প্রত্যাশা থাকে। সেই প্রত্যাশা থেকেই একজন যোগ্য, সৎ ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তিনি আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

জেবা আমিনা খান ইদানীং এলাকায় কম এলেও দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন বলে কয়েকজন নেতা জানান। মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেত্রী বলেন, এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। এলাকায় যেতে না পারলেও তিনি নেতাকর্মীদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।

মিয়া আহমেদ কিবরিয়াও এলাকায় সরব রয়েছেন। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে রয়েছেন। হামলা-মামলায় তাদের সহায়তা দিয়েছেন। নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দলীয় স্বার্থে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। তার বিশ্বাস, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি মনোনয়ন পাবেন। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকায় না এসে ঢাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপিতে কোনো কোন্দল নেই।

রফিক হাওলাদার ইতিমধ্যে মোটরসাইকেলে মহড়া দিয়ে নিজের অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর তার রাজনীতির গুরু। সম্প্রতি তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় এই নেতা।

নুরুল ইসলাম বাবুল জানান, তিনি হঠাৎ করে দলে আসেননি। নবম সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। এলাকার দলীয় কর্মকাণ্ডে নিয়মিত থাকতে না পারলেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পরিচিত বলেই তিনি আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইবেন। জেলা কমিটিতে তাকে না রাখা হলেও তিনি কয়েক বছর ধরেই এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

২০ দলীয় জোটের শরিক জাগপার কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ জামাল উদ্দিন জানান, এ আসনে তিনি জোটের মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বলেন, জাগপার পক্ষ থেকে পাঁচটি আসনে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন চাওয়া হবে। এর মধ্যে এই আসন তিন নম্বরে রয়েছে।

জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান জানান, এই আসনে তাদের পার্টির প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

জেলা জাসদের (ইনু) সভাপতি সুকমল ওঝা দোলন ইতিমধ্যেই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, মহাজোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়া হবে কি-না সেটা পরের বিষয়। এই মূহূর্তে তিনি ঝালকাঠি-২ আসনে দলের একক মনোনয়ন প্রত্যাশী।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান জানান, জোটগতভাবে নির্বাচন হলে এই আসনে মনোনয়ন চাইবেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শেখ নেয়ামুল করিম। তবে নির্বাচনী জোটে থাকলে জোট নির্ধারিত প্রার্থীকেই সমর্থন দেওয়া হবে। নির্বাচনী জোট না হলে শেখ নেয়ামুল করিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন।

এ আসনে ১৯৭৩ সাল থেকে গত নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ চারবার, বিএনপি তিনবার ও জাতীয় পার্টি তিনবার জয় পেয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকে এখানে ১৯৭৩, ২০০৮, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ও ২০০০ সালের উপনির্বাচনে নির্বাচিত হন আমির হোসেন আমু। বিএনপি থেকে ১৯৭৯ সালে আবদুর রব, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গাজী আজিজ ফেরদৌস এবং ২০০১ সালে ইলেন ভুট্টো বিজয়ী হন। জাতীয় পার্টি থেকে এখানে ১৯৮৬, ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে নির্বাচিত হন জুলফিকার আলী ভুট্টো।

/পি.এস

ঝালকাঠি,প্রচারণা,বিএনপি,আ.লীগ