• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

কুমিল্লা জেলার ১১টি আসনের চালচিত্র

আ.লীগে কোন্দল, বিএনপিতে গ্রেফতার আতঙ্ক

প্রকাশ:  ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:০২ | আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:১২
শরীফ আহমেদ মজুমদার, কুমিল্লা
প্রিন্ট

কুমিল্লার ১৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ১১টি সংসদীয় আসন। প্রাচীন এ জেলা রাজনৈতিক ভাবে কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় বিভক্ত। কুমিল্লা উত্তর জেলায় পাঁচটি ও দক্ষিণ জেলায় ছয়টি সংসদীয় আসন রয়েছে। গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এতে নিরুত্তাপ ওই নির্বাচনে জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সাতটিতে আওয়ামী লীগ, দুইটিতে স্বতন্ত্র ও দুইটিতে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) জয়লাভ করে। এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন আওয়ামী লীগের তিনজন ও জাতীয় পার্টির একজন।

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং সংসদের বিরোধী দল জাপার (এরশাদ) সংসদ সদস্যদের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে ভোটারদের মাঝে চলছে নানা হিসেব-নিকাশ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেক ভোটার সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন। বিএনপি ও দলের নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আগামী নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। তাই আওয়ামী লীগ ও জাপা এরশাদের দলের নেতৃত্বাধীন জোট এবার হিসেব-নিকাশ করেই জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্য ও হেভিওয়েট প্রার্থী দেবে, এমন প্রচারণা রয়েছে প্রতিটি এলাকায়। এতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী তালিকা থেকে এ জেলার কয়েকটি আসনের সংসদ সদস্যের নাম বাদ যেতে পারে এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

এরই মধ্যে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা ও বিভিন্ন বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ-খবর নিয়ে তালিকা করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রেরণ করেছে। এদিকে প্রায় প্রতিটি আসনে উভয় দল ও জোটের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম বেশ প্রচারণায় রয়েছে। অন্তত অর্ধশতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী এলাকায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নেতা-কর্মীদের নিয়ে অংশগ্রহণ করে প্রার্থীতার বিষয়টি জানান দিচ্ছেন।

এদের মধ্যে নতুন মুখও রয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় ফুরফুরে মেজাজে প্রচারণায় সরব হলেও মামলা-হামলার ভয়ে বিএনপির প্রার্থীরা অনেকটা নীরবে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঘরোয়া ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা নিজ দল ও জোটের হাইকমান্ডের সাথে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে জোর লবিং চালাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিপাকে রয়েছে বৃহৎ দু'টি দল। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে মৃত.ব্যাক্তিকেও প্রার্থী হতে দেখা যায়। চুড়ান্ত তালিকা পেতে তফসিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আওয়ামী লীগ ফুরফুরে আছেন, বিএনপি ঈদুল আযহার পর থেকে জেলা জুড়ে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছে।

কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও তিতাস)

এ আসনে ১৯৭৩ সালের পর ২০০৮ এর নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এ আসনটি পায়নি। মরহুম ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ এ আসনে জাসদ, স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টি থেকে চারবার এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিসহ ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং আগামী নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য একক প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন টানা চারবার এ আসনের এমপি ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া বিএনপির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে হারিয়ে ৩৫ বছর পর এ আসনটি উদ্ধার করেন এবং ২০১৪ সালে বিএনপি বিহীন নির্বাচনে তিনি নৌকার প্রার্থী হিসেবে পুনরায় জয়ী হন।

এ আসনেী আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন- বর্তমান এমপি মেজর জেনারেল (অব:) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, দলের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাদল রায়, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ব্যারিষ্টার নাঈম হাসান, মেঘনার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল আলম।এখানে বিএনপি থেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন একক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি মামলায় বা আইনি জটিলতায় আটকে গেলে তার ছেলে ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন, জাপা (এরশাদ) কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আবু জায়েদ আল মাহমুদ (মাখন সরকারি)প্রার্থী হতে পারেন বলে এলাকায় প্রচারণা রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুয়ান্ত প্রার্থী মাওলানা বশির আহমদ।

বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূইয়া ও ইঞ্জি. আব্দুস সবুর এক মঞ্চে কাজ করলেও ব্যারিষ্টার নাঈম ও শফিকুল আলম পৃথকভাবে কাজ করছেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার প্রতিষ্ঠিত দু’টি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গণ ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকাবাসীর সাথে সাক্ষাৎ-শুভেচ্ছা বিনিময়ে সাধারণ জনগণও নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে রাখছেন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আবু জায়েদ আল মাহমুদ মাখন সরকার দাউদকান্দি ও মেঘনায় গণসংযোগ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান এবং পোষ্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে জাপা’র পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে কাজ করছেন।

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য হওয়ার সুবাদে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভুইয়া। এ ছাড়া সাংগঠনিক ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর জনপ্রিয়তা রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের মাঝে।

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস)

এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ ও তিতাস উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ আলম সরকার। কুমিল্লা উত্তর জেলা আ.লীগের সহ সভাপতি সেলিমা আহমাদ মেরী, হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সিদ্দিকুর রহমান আবুল, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুব লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার হোসেন বাবু, আলহাজ্ব এনামুল হক ইমন, আলহাজ্ব মো: শাহ আলমসহ ৭ নেতা। জাপার (এরশাদ) বর্তমান এমপি আমির হোসেন ভূঁইয়া (গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত) তিনি এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এ আসনে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ারের বড় ছেলে মাহমুদ আনোয়ার এবং বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মাহফুজুল ইসলাম, হোমনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক, কুমিল্লা উত্তর জেলার সভাপতি ও হোমনা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক ছাত্র নেতা এ কে এম ফজলুল হক মোল্লা। জাপা (জেপি) জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুড়ান্ত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মুহা. আশরাফুল আলম।

এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ১৯৯১-১৯৯৬ সাবেক মন্ত্রী এমকে আনোয়ার পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর)

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি শিল্পপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার সম্ভাব্য প্রার্থী। অপরদিকে বিএনপি থেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে গ্রেনেড হামলা মামলায় কায়কোবাদ অভিযুক্ত ও দেশের বাইরে থাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তার ভাই কাজী মুজিবুর রহমান প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে। এখানে জাপা’র (এরশাদ) উপজেলা সভাপতি আক্তার হোসেন এবারও প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুড়ান্ত প্রার্থী মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম।

স্থানীয়রা জানান, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এমপি হওয়ার পর এ আসনের সকল এলাকায় বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সকল ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আগামী নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পেলে এখানে আওয়ামী লীগের বিজয় অনেকটা নিশ্চিত বলে মনে করছেন দলের নেতা-কর্মীরা। দীর্ঘ ৪২ বছর পর এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার মনোনয়ন পেতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বিগত সময়ে দলের মনোনয়নে কুমিল্লা-৩ হতে তিনবার ও কুমিল্লা-২ আসন হতে দুইবার নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও তার ছেলে আহসানুল আলম সরকার কিশোর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হেরে যান। জাহাঙ্গীর আলম সরকার এ আসনে মনোনয়ন চাইলেও শেষ পর্যন্ত তিনি পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা-২ আসনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। কারণ এখানে বর্তমানে জাতীয় পার্টির এমপি রয়েছেন।

১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. ওয়ালী আহাম্মদ জয়লাভ করার পর এ আসনে আর জয়ের মুখ দেখেনি আওয়ামী লীগ। এ আসনে আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগ নিজেই। দলীয় কোন্দলের কারণে ’৭৩ সালের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোয় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে কখনও স্বতন্ত্র, কখনও জাতীয় পার্টি, আবার কখনও বিএনপির কাছে পরাজিত হতে হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৭৯ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বারবার প্রার্থী বদল করেও আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একেএম আবু জায়েদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে মুরাদনগরে বিএনপির অভিষেক ঘটে। সেই থেকে আর কোনো নির্বাচনে এ আসনে জেতেনি আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জাহাঙ্গীর আলম সরকার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের কাছে পরাজিত হন। এর আগে জাহাঙ্গীর সরকার মুরাদনগর আসন থেকে ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে হোমনা থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার)

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে দলের কুমিল্লা উত্তর জেলা সহ-সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী এবিএম গোলাম মোস্তফা, বর্তমান এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ এম. হুমায়ুন মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার, সদস্য ও শিল্পপতি আবুল কালাম আজাদ সম্ভাব্য প্রার্থী।

এখানে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, তিনি আইনি জটিলতায় আটকে গেলে তাঁর স্ত্রী মাজেদা আহসান মুন্সী, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান সম্ভাব্য প্রার্থী। জাতীয় পার্টি (এ) থেকে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমেনা আহমেদ, ন্যাশনাল কংগ্রেস বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ছাবের আহাম্মদ (কাজী ছাব্বীর) সম্ভাব্য প্রার্থী বলে জানা গেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুড়ান্ত প্রার্থী ড.মহসিন আলম।

এ আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে বিএনপি দলীয় ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবিএম গোলাম মোস্তফা নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টির (এরশাদ) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজুকে প্রার্থী করা হয়। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগে চতুর্মুখী কোন্দলের কারণে এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সীর ছেলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।এ আসনে আ.লীগ ও বিএনপি সঠিক প্রার্থী নির্ধারণ করতে পারলে লড়াই হবে ধানেরশীর্ষ ও নৌকায়।

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া)

কুমিল্লার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া নিয়ে গঠিত এ আসন। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী ও বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু চুড়ান্ত প্রার্থী।

এ আসনে বিএনপি থেকে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাবেক এমপি অধ্যক্ষ ইউনুছ। জাতীয় পাটি (এরশাদ) তাজুল ইসলাম, নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেশ আলোচনায় রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুড়ান্ত প্রার্থী মাওলানা মো. রাশেদুল ইসলাম রহমতপুরী।

এ আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ মোঃ ইউনুছ এবং ১৯৭৯ সালে গণতন্ত্রী লীগের মফিজুল ইসলাম ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি’র মজিবুর রহমান মজু এমপি হন। এ ছাড়া ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচন, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি নির্বাচিত হন।

কুমিল্লা-৬

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি ও কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মোঃ ওমর ফারুক, এফবিসিসিআই’র পরিচালক মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ আসনে বিএনপি থেকে দলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন উর-রশিদ ইয়াছিন ও দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মোঃ মনিরুল হক চৌধুরী এ আসনটি ছাড়াও কুমিল্লা ( ১০) আসনে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুড়ান্ত প্রার্থী মাওলানা মো. তৈয়ব।

১৯৭৩ সালের নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক খোরশেদ আলমের পর এ আসনটি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এবং ২০১৪ সালের দশম নির্বাচনেও তিনি পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। দলে তাঁর মজবুত অবস্থান রয়েছে।

অপরদিকে লে. কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের টানা বিজয়ের পথ ধরে এ আসনটি বিএনপির ঘাঁটিতে পরিণত হয়। ২০০৬ সালে আকবর হোসেনের মৃত্যুর পর এখানে দলের নেতৃত্বে আসেন হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন। বর্তমানে তিনি দলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক। ২০০৮ সালে তিনি দলীয় মনোনয়নে পেয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। কিন্তু দলের স্থানীয় নেতা-নেতৃত্বে বিভেদের কারণে ওই নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জয়ের মধ্যদিয়ে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়।

এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অন্তকোন্দলে, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল খাঁন ও বর্তমান এমপি বাহারের দ্বন্দ বেশ পুরনো, গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন, আফজাল কন্যা সীমা আওয়ামী লীগ আটঘাট বেধেঁ মাঠে নামলেও বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর কাছে পরাজিত হন।

অন্যদিক বিএনপিও অন্ত কোন্দলে বিধস্ত দলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক, হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন ও সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে দু'গ্রুপে প্রায়ই সংঘর্ষ বাধেঁ। এখানে লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীর্ষে।

কুমিল্লা-৭

এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান এমপি (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত) অধ্যাপক মোঃ আলী আশরাফ এবং দলের কুমিল্লা উত্তর জেলা সহ-সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

এখানে বিএনপি থেকে চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন, তবে জোটগত নির্বাচন হলে এ আসনে ২০ দলের শরীক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ মনোনয়ন পেতে পারেন বলে বেশ প্রচারণা রয়েছে। এ আসনে জাপা (এরশাদ ) থেকে জাপা কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি লুৎফুর রেজা খোকন সম্ভাব্য প্রার্থী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুড়ান্ত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম কাশেমী।

স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এবার আওয়ামী লীগের টিকিট পাচ্ছেন, এমন কথা জোর দিয়ে বলছেন তার অনুসারী নেতাকর্মীরা। নৌকা নিয়ে নির্বাচন করার ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত এ চিকিৎসক। তিনি নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ করে চলছেন। এরই মধ্যে বেশ ক’টি শোডাউনও করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ঝুঁকছেন তার দিকে।

তবে আওয়ামী লীগের চারবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফও মাঠে আছেন বেশ শক্তি নিয়ে। ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাজি রমিজ উদ্দিনকে পরাজিত করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক হন। ২০০৮ সালেও নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার। ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ও আলী আশরাফ দু'জনই মুক্তিযোদ্ধা।

২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনেও প্রাণ গোপালের প্রার্থিতা নিয়ে সরগরম ছিল চান্দিনা। এবার আর তার প্রার্থী হওয়াটা গুঞ্জনের মধ্যে নেই বলে মনে করেন অনুসারীরা। তারা প্রাণ গোপালের মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। ১৯৯৬ সালের পর থেকে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির সুবাদে থেকে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও তাদের সন্তানদের নানাভাবে মূল্যায়ন করায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা তার ওপর দারুণ খুশি।

কুমিল্লা-৮

আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল, দলের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক মিয়াজী, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী।

জাপা (এরশাদ) বর্তমান এমপি অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন সম্ভাব্য প্রার্থী।

এখানে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া তাহের সুমন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সি:সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় আলোচনায় রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুড়ান্ত প্রার্থী মাওলানা এ কে এম মিজানুর রহমান ফারুকী।

এ আসনে আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে ৪ বার, বিএনপি ৪ বার ও জাতীয় পার্টি ২ বার। এর মধ্যে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে গণপরিষদ সদস্য এবং দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনের এমপি হন প্রয়াত আবদুল হাকিম। এখানে ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রয়াত আলী হোসেন, ১৯৮৮ সালে জাপা নেতা ও বর্তমানে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া এবং ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ২০০১ সালে বিএনপির এ কে এম আবু তাহের এমপি হন। ২০০৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এ কে এম আবু তাহের মারা গেলে উপ-নির্বাচনে এমপি হন তাঁর ছেলে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া তাহের সুমন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জাপা (এরশাদ) নেতা অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন এমপি হন। এ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ)

লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ আসন থেকে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি মোঃ তাজুল ইসলাম, নাসা গ্রুপ ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার হেলাল, বায়রার সাবেক সভাপতি শিল্পপতি শাহজালাল মজুমদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা নুরুন্নবী কামাল সম্ভাব্য প্রার্থী বলে জানা গেছে।

এখানে বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) আনোয়ারুল আজিম, দলের কেন্দ্রীয় শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিল্পপতি আবুল কালাম (চৈতী কালাম), ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক সফিকুর রহমান সফিক ও সাবেক যুবদল নেতা শিল্পপতি রশিদ আহমেদ হোসাইনী।

সম্পতি জাতীয় পাটি (জাপা এরশাদ) সাবেক এমপি এটিএম আলমগীর বিএনপি থেকে জাপায় (এরশাদ) যোগ দিয়ে লাকসাম, মনোহরগন্জে পোস্টার ফেস্টুনে জানান দিচ্ছেন তিনি জাতীয় পাটির (এরশাদ) মনোনয়ন প্রত্যাশি ১৯৯১-১৯৯৬ বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন । ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর চুড়ান্ত প্রার্থী আলহাজ সেলিম মাহমুদ। এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ নিজেদের মধ্যে অন্তকোন্দলে জড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) আনোয়ারুল আজিম ও কেন্দ্রীয় শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিল্পপতি আবুল কালাম (চৈতী কালাম) এর দ্বন্দে নেতা কর্মিরা দ্বিধা বিভক্ত সম্প্রতি দুই গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।মাঠ পর্যায়ে বিএনপির অবস্থান ভাল।

কুমিল্লা-১০

নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ভোটার। এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত) ও পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) একক প্রার্থী।

এখানে বিএনপি থেকে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মোঃ মনিরুল হক চৌধুরী, সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভূঁইয়া, নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা সলিসিটর মো:ইকরামুল হক মজুমদার, জামায়াতের ড.দেলোয়ার হোসেন। ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসির আরাফাত, বাংলাদেশ লেবার পাটির মহাসচিব হামদুল্লাহ মেহেদীর নাম আলোচনায় রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর চুড়ান্ত প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মাদ জামাল উদ্দীন।

১৯৮৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মোট ৫টি সংসদীয় নির্বাচন ওই দু’টি পৃথক আসনে অনুষ্ঠিত হয়। ১/১১ সরকারের সময় কুমিল্লা-৯ (সদর দক্ষিণ উপজেলা) আসনকে ৩ খণ্ডে বিভক্ত করে এলাকাগুলো পার্শ্ববর্তী ৩টি আসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। ওই সময় জেলার ১২টি আসনের মধ্যে কুমিল্লা-৯ (সদর দক্ষিণ) আসনটি একেবারে বিলুপ্ত করে ১১টি আসন করা হয়। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে পুনরায় সদর দক্ষিণ ও নাঙ্গলকোট নিয়ে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ আসন সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

সূত্র জানায়, ওই গেজেটকে বেআইনি চ্যালেঞ্জ করে একই সালে হাইকোর্টে রীট মামলা দায়ের করেন নাঙ্গলকোট আসনের সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভুঁইয়া। গত ২০ মার্চ ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে নাঙ্গলকোট সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনানুগ কর্তৃত্ব ব্যতীত করা হয়েছে বিধায় এর কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই বলে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনকে আইন অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলাকে নিয়ে গঠিত হয় এ আসনটি। জেলার সবচেয়ে বড় আসন এটি, দুই আসনের সমতুল্য ভোটার।

কুমিল্লা-১১

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে রেলপথ মন্ত্রী বর্তমান এমপি (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত) ও দলের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক মুজিব, বেলজিয়াম আ.লীগের সভাপতি বজলুর রশীদ বুলু সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে।

বিএনপি’র প্রার্থীতা পেতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি কাজী নাছিমুল হক, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কামরুল হুদা, উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরণ, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা বিএনপি’র আহবায়ক জিএম তাহের পলাশী। এছাড়া এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থীতা চাচ্ছেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি নিয়াজ মাখদুম মাছুম বিল্লাহ।

এ আসনে ২০ দলের শরীক জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাতীয় পার্টি (জাফর) থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদের মেয়ে কাজী জয়া আহমেদ, জাপা (জাফর)। জাপা (এরশাদ) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এইচ.এন.এম শফিকুর রহমান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুড়ান্ত প্রার্থী মাওলানা কামাল উদ্দিন ভূইয়া।

প্রায় ৬ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ আসনটি জেলার রাজনীতিতে বেশ গুরুত্ব বহন করে। ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থী নিয়ে এলাকায় আলোচনাও বেশ জমজমাট। চলছে ভোটেরও নানা হিসাব-নিকাশ।

বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদ এ এলাকার এমপি ছিলেন। এই সরকারের রেলপথমন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুমিল্লার রাজনীতির জনপ্রিয় মুখ মো. মুজিবুল হক বর্তমান এমপি।

নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী জাফর আহমেদ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের মো. মুজিবুল হক। ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হয় আওয়ামী লীগের। বিজয়ী হন বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তবে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে বিপুল ভোটে এমপি হন মো. মুজিবুল হক। তার হাত ধরেই চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বেলজিয়াম আ.লীগের সভাপতি বজলুর রশীদ বুলু শোক দিবসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন তিনি একাদশ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।

/পি.এস

আ.লীগ,কোন্দল,বিএনপি,গ্রেফতার,আতঙ্ক