• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

নোয়াখালী জেলার ৬টি আসনের চালচিত্র

দখলে অবিচল আ'লীগ, পুনরুদ্ধারে প্রস্তুত বিএনপি

প্রকাশ:  ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৫৯ | আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:২৪
আরেফিন শাকিল, নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রিন্ট

বাংলাদেশের একমাত্র জেলা নোয়াখালী, যার নিজের নামে কোন শহর নেই। মাইজদী নামেই পরিচিত জেলা শহর। ৪ হাজার ২০২ বর্গ কি.মি আয়তনের এ জেলায় ভোটার সংখ্যা ১৬,৩২,৭৬১। পুরুষ ভোটার ৭,৭৯,৯০৭ জন, নারী ভোটার ৮,৫২,৮৫৪ জন। এরমধ্যে ৫০ ভাগেরও বেশি নারী ভোটার। ৯টি উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালীর জেলার সংসদীয় আসন ৬টি। ৯১ থেকে ২০০৮ এর নির্বাচন পর্যন্ত নোয়াখালী ১,২, ৩, ৪ আসন ছিল বিএনপির দখলে। আর ১৪’র নির্বাচনে আসনগুলো চলে যায় আওয়ামী লীগের ঘরে।

নোয়াখালী ৫ আসন ৯১-এ জাতীয় পার্টি আর ২০০১ নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী। বাকি ৩টি সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে নৌকার দখল। নোয়াখালী-৬ আসন ৯১ আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব ফের পুনরুদ্ধার হয় ১৪’র নির্বাচনে। মাঝে এই আসনটিতে দুইবার স্বতন্ত্র ও একবার জয় পায় বিএনপি।

নোয়াখালী জেলাতে একসময় বিএনপির প্রভাব থাকলেও এখন কর্তৃত্ব আওয়ামী লীগের। আবারো তাই ভোটের মাঠে লড়াইয়ে প্রস্তুতি চির এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী)

চাটখিল ও সোনাইমুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-১ আসনে বইছে নির্বাচনী উত্তাপ। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। বিশেষ করে বৃহৎ দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন মাঠে। বিএনপিতে একক প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থী। আর নির্বাচনকে ঘিরে হাটবাজার মাঠে ময়দানে সাধারণ মানুষের মাঝেও চলছে নানা আলোচনা। পূর্বে নোয়াখালী-১ আসনটি ছিল শুধুমাত্র চাটখিল উপজেলাকে নিয়ে। কিন্তু ২০০৮ সালে সীমানা বিন্যাসের মধ্য দিয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলাকে চাটখিল উপজেলার সঙ্গে একত্রিত করা হয়। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৩২,৫১৭ জন। পুরুষ ভোটার ১,৬৬,৬৬৪ জন, মহিলা ভোটার ১,৬৫,৮৫৩ জন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এইচ এম ইব্রাহীম বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই আসনটি আগামী নির্বাচনে নিজেদের দখলে রাখার জন্য চেষ্টা করছেন নৌকার কর্মী ও সমর্থকরা। এ জন্য নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন তারা।

এদিকে বিএনপির একক প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরা হচ্ছেন- বর্তমান এমপি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি এইচ এম ইব্রাহিম। তিনি দীর্ঘদিন থেকে চাটখিল সোনাইমুড়ী এলাকায় দলীয় রাজনীতিকে শক্ত অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছেন।

আরেক হেভিওয়েট সম্ভাব্য প্রার্থী প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। তিনিও আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং উপজেলার বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে ঘোষণা দিয়ে নৌকাকে জয়ী করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহŸান জানিয়ে আসছেন।

এ আসনে আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন চাটখিল উপজেলা চেয়ারম্যান ও চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একটিভ গ্রুপের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন।

আওয়ামী লীগের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। তিনি মাঝে মাঝে গণসংযোগ চালান। বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সাহায্য সহযোগিতা করছেন। তিনি জানান, দল থেকে মনোনয়ন পেলে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করবেন।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ইতিমধ্যে সকল স্তরের নেতাকর্মীরা একাট্টা হতে শুরু করেছেন। দলীয় প্রস্তুতি হিসেবে পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন নিজ নামে গেইট, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। বিএনপি’র নেতারা মনে করেন আগামী নির্বাচনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হবেন।

আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন ক্লিন ইমেজ খ্যাত জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী জেলার আহবায়ক সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি এলাকায় তেমন কোনো গণসংযোগ করছেন না।

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-আংশিক সোনাইমুড়ী)

আগামী সংসদ নির্বানকে ঘিরে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ি আংশিক) নির্বাচনী এলাকায় জমে উঠেছে মাঠের রাজনীতি। আওয়ামীলীগ বিএনপি উভয় দলে একাধিক প্রার্থী থাকায় সকলেই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ বা কৌশলে শুরু করে দিয়েছেন ভোটের রাজনীতি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে দলীয় সভানেত্রী নজরে আসতে বিভিন্নভাবে দলীয় সভা-সমাবেশসহ এলাকার উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করে নিজেকে জানান দিচ্ছন আ’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

অন্যদিকে দল ক্ষমতা না থাকায় উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহনের সুযোগ না পেয়ে দলীয় চেয়ারপার্সনের নজরে আসতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও বেছে নিয়েছেন ভিন্নপস্থা। তার নিজ দলীয় সভা সমাবেশে সরকারের কড়া সমালোচনার মাধ্যমে চেয়ারপার্সনের নজরে আসার চেষ্টা করেছেন। এদিকে জাতীয় পাটি ও জাসদের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও বিভিন্নভাবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

আ’লীগ থেকে যারা মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান সংসদ আলহাজ্ব মোরশেদ আলম, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ এফসিএ, নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান ভূইয়া মানিক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি জাফর আহম্মদ চৌধুরী ও আওয়ামীলীগ নেতা লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক ।

বিএনপি থেকে যারা মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ ও বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যান উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সেনবাগ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মফিজুর রহমান ।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টি থেকে সেনবাগ উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক হাসান মঞ্জুরের নাম শোনা যাচ্ছে।

নোয়াখালী- ৩ (বেগমগঞ্জ)

সারা দেশের ন্যায় নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) সংসদীয় আসনেও নির্বাচনী হাওয়া বইছে। ক্ষমতায় থাকায় এখানে চাঙ্গা অবস্থায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। হামলা, মামলা আর হুলিয়া মাথায় থাকায় মাঠে নেই বিএনপি। আর অস্তিত্ব সংকটে ভূগছে জামায়াত ও জাতীয় পার্টি। তবে এখানে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে জাসদ (রব)। এর বাইরে বিভিন্ন ইসলামী দল ও সমমনা দলগুলো তাদের উপস্থিতি জানান দেয় মাঝে মধ্যে বিভিন্ন সভা সমাবেশের মাধ্যমে।

বেগমগঞ্জ মানেই বিএনপি, এটা যেন একটা প্রবাদে পরিণত হয়েছিল ৯০ দশকে। কিন্তু না এখন আর সেই বেগমগঞ্জ নেই। বেগমগঞ্জের আওয়ামীলীগ এখন শক্তিশালী। বর্তমান সাংসদ সদস্য বেগমগঞ্জের মাটি ও মানুষের নেতা আলহাজ্ব মামুনুর রশীদ কিরণ এলাকায় ব্যপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। সামাজিক, মানবিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, চিকিৎসা, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দান, অনুদান এমনকি তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হন।

এছাড়া গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস্ লিঃ, গ্লোব সফট ড্রিংক, গ্লোব বিস্কুট এন্ড ডেইরি মিল্ক, গ্লোব ফিশারিজসহ কয়েকটি শিল্প কারখানায় হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকা যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে, অসহায় দু:স্থ্য মানুষের ঘর-বাড়ী নির্মাণ, বিয়ে অনুষ্ঠানসহ বিপদে আপদে দাড়ানো সর্বোপরি এক যুগেরও বেশী সময় দান অনুদানের কারণে তিনি বেগমগঞ্জের হাতেম তাই হিসেবে পরিচিত। মাদক সন্ত্রাসসহ অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ভূমিকা রাখায় তিনি সাধারন মানুষের মাঝে যেমন অনেকটা জনপ্রিয় তেমনি সুখ দুঃখে দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নেওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের বিশাল একটি অংশ জুড়ে আছে তার সমর্থন। দলের অনেক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী হলে অপরাপর আর কোন নেতার এমন বিশেষণ নেই। তারা শুধু নামে মাত্র প্রার্থী।

মামুনুর রশীদ কিরণের বাইরে আওয়ামী লীগ থেকে যারা নির্বাচনে মনোনয়ন চাচ্ছেন তারা হলেন, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এটিএম এনায়েত উল্যাহ, সাবেক সেনা প্রধান মইন উ আহমেদের ছোট ভাই ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিনহাজ আহমেদ জাবেদ।

বিভিন্ন সূত্রমতে, আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সাংসদ সদস্য আলহাজ্ব মামুনুর রশীদ কিরণ প্রধানমন্ত্রীর গুড বুকে রয়েছেন। কোন অঘটন না ঘটলে আগামী নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী এটা অনেকটা নিশ্চিত।

বিএনপি থেকে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন, সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যাহ বুলু, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম দোলন, বরকত উল্যাহ ভুলুর সহধর্মীনি শামীমা বরকত লাকি।

জাতীয়পাটি থেকে এখানে একাধিক ব্যক্তির নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সদস্য ও বেগমগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ফজলে এলাহী সোহাগ মিঞা।

তবে নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে মূলত লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। এই আসনটি বিএনপির ভোট ব্যাংক হলেও বিগত দিনে নানা কর্মকান্ডের কারণে বর্তমানে আওয়ামীলীগের অবস্থান অনেক শক্ত বলেই মনে হচ্ছে। অপরদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলা হামলায় জর্জরিত। দীর্ঘদিন বিএনপির কোন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা ছন্নছাড়া। তাছাড়া বিএনপির নানাবিধ কোন্দলের কারণে দলটির নেতাকর্মীরা অনেকটা নীরব রয়েছেন।

নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর)

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কাজ করে যাচ্ছে। দলীয় সভানেত্রী ও চেয়ারপার্সনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চেষ্টার কোন কমতি নেই। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আওয়ামীলীগ থেকে বর্তমান সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী ও বিএনপিতে চার বারের এমপি কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান।

বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ২০০৮ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানকে পরাজিত করে ৭৩ এর পর প্রথম বারের মত আওয়ামীলীগ পক্ষে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। এবারও তার মনোনয়ন পাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। বিএনপি থেকে এই আসনে পরপর চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপির চেয়ারপার্সনের আস্তাবাজন মোহাম্মদ শাহজাহানের মনোনয়ন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত।

২০০৮ সালে নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ১লাখ ৩১ হাজার ৭শ ৬ ভোট পেয়েছে। তার প্রতিপক্ষ চারবারের নির্বাচিত কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান পেয়েছেন ১লাখ ১৮ হাজার ৯শ ৫৬ ভোট। অপরদিকে মেজর আব্দুল মান্নান বিকল্প ধারার প্রার্থী হয়ে ৩১হাজার ৪শ ৯৬ ভোট পেয়েছে। এতে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর বিজয় সহজ হয় বলে অনেকে মনে করেন।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একরামুল করিম চৌধুরী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলকে আরও সংগঠিত করার জন্য কাজ করছেন। ইতিমধ্যে সদর-সুবর্ণচরের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে জনসভা করে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি নেতাকর্মীদের মধ্যে সাহায্য সহযোগীতা করতেও কার্পন্য করেননা। একরামুল করিম চৌধুরীর সাংগঠনিক দক্ষতা ও উন্নয়ন তৎপরতার প্রশংসা করেন নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একরামুল করিম চৌধুরীর মতে, দেশের সব জায়গার চেয়ে নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগকে বেশি শক্তিশালী করতে চান। আর সেটা সম্ভব করবেন নেতাকর্মীদের নিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের আস্তাবাজন বলে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের চার বারের সাবেক এমপি মোহাম্মদ শাহজাহান। মোহাম্মদ শাহজাহান দলীয় কর্মকান্ডে অত্যান্ত সক্রিয় ও জনপ্রিয়। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মোহাম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নির্বাচনমুখী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তার পাশাপাশি সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি পূনগঠন করা হয়েছে।

এ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব বোরহান উদ্দিন আহমেদ মিঠু। তার মনোনয়নের জন্য তিনি দলীয় হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি জাতীয় পার্টি থেকেও মনোনয়ন চাচ্ছেন আবার মাহাজোট থেকে মনোননয়ন চাচ্ছেন বলে জানা যায়।

এদিকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ সীমাবদ্ধ থাকছে না। শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের হাটবাজার গুলোতে বইতে শুরু করছে নির্বাচন হাওয়া। এ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে অঘোষিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর ভোটাররাও বিএনপি-আওয়ামী লীগের স্থানীয় উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ অব্যাহত রেখেছেন। জেলা সদরের এ আসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলের। বিএনপি তাদের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে সর্ব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে জানা গেছে। অন্য দিকে তার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ তাদের আসনটি যেন হাতছাড়া না হয় সে চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নোয়াখালী -৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট)

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-৫ আসনে আ’লীগ ও বিএনপিতে দলীয় প্রার্থী প্রায় চুড়ান্ত। এখানে আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচন করবেন দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অপরদিকে বিএনপি থেকে নির্বাচন করবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ। বড় দুই দলের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নির্বাচন করাটা প্রায় নিশ্চিত। তবে আওয়ামীলীগ থেকে ওবায়দুল কাদেরের বিকল্প কোন প্রার্থী না থাকলেও বিএনপির স্থায়ী কমটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদকে ভোট করতে হবে তাদের ঘরানার (২০ দলীয় জোট) স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিএনপি থেকে ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ প্রার্থী হলে ফখরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন এটি অনেকটা নিশ্চিত। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি ও জাসদ থেকেও প্রার্থী হতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে বাংলাদেশ আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একক প্রার্থী এটি নিশ্চিত হলেও সাবেক আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ রয়েছেন বিভ্রান্তিতে। কারণ নোয়াখালী-৫ সংসদীয় আসনে দু’ উপজেলা কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটে বিএনপির বিরোধ এখন তুঙ্গে। এখানকার বিএনপির একটি অংশ পদপদবীর জন্য মওদুদ আহমদের পাশে থাকলেও দলের বিশাল একটি অংশ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলামের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ইতিমধ্যে ফখরুল ইসলামও এলাকায় দান অনুদান, ব্যক্তিত্ব ও দক্ষতা দিয়ে ২০দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশের মন জয় করে নিয়েছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের রয়েছেন খুবই শক্ত অবস্থানে। প্রথমত তাঁর কোন প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থী নেই। দ্বিতীয়ত দল ক্ষমতায় থাকার সুবাদে সারা দেশের ন্যায় নোয়াখালী-৫ আসনেও তিনি ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন। তৃতীয়ত সাংগঠনিক ভাবে নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট) বেশ সক্রিয়। এছাড়া আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারন সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক যোগ্যতা, সততা, কাজ করার আগ্রহ ও সাংগঠনিক দক্ষতায় অন্য প্রার্থীরা ওবায়দুল কাদেরের চাইতে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। নোয়াখালী-৫ আসনে ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদের নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংক ও রাজনৈতিক জৌলস রয়েছে বলে যে কথাটি প্রচলন ছিল, সময়ের পালাবদলে তা এখন আর নেই। সেই স্থানটি এখন দখল করে নিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

এলাকা ঘুরে জানাযায়, সাংগঠনিক শক্তি খর্ব, দলীয় কোন্দল, দীর্ঘদিন দল ক্ষমতার বাইরে থাকা, নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে ফখরুল ইসলামের আবির্ভাব সবকিছু মিলিয়ে ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ মাঠের রাজনীতিতে তেমন ভাল অবস্থানে নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মওদুদ আহমেদ প্রথমে লড়তে হবে ফখরুল ইসলামের সাথে তার পর ওবায়দুল কাদের। বিএনপির একটি বড় অংশ দাবী করেন, এ আসনে নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি হবে টাকার খেলা। যে খেলা অনেকটা পিছিয়ে আছেন মওদুদ। তাদের দাবী, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে পাল্লা দিতে হলে দলের যে চাঙ্গা ভাব থাকা দরকার তা নেই। এক্ষেত্রে ফখরুল ইসলামের মত একজন উদার ও দানবীর নির্বাচন করলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। নেতা-কর্মীরাও থাকবে উজ্জীবিত।

স্থানীয় আ’লীগ নেতাকর্মীদের মতে, নোয়াখালী-৫ আসন আওয়ামীলীগ সাংগঠনিকভাবে এত শক্ত অবস্থানে আসার পেছনে মূল কাজ করে যাচ্ছেন, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল ও কবিরহাট পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হান। ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনায় তাঁর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এ ৩ নেতা দিন রাত কাজ করে দলকে আজ এ অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। তাছাতা ওবায়দুল কাদের এলাকা গণগণ যাতায়াত করেন এবং এলাকার খোজখবর নেন। অপরদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগকে সাংগঠনিক ভাবে চাঙ্গা রেখে এ আসনকে শক্তিশালী করে রেখেছেন ওবায়দুল কাদেরের ভাগিনা ও স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম রাহাত।

অপরদিকে এ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হুসাইন মোঃ এরশাদ এর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যপক আ.ন.ম শাহজাহান ও জাতীয় পার্টি র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক হোসেন আজাদ এর নাম শুনা যাচ্ছে। তারা মনোনয়নের জন্য দলীয় হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলেও জানা যায়। জামায়াত ইসলামী এ আসনে জোটবদ্ধ নির্বাচন না হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া)

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে হিসাব নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। এই আসনটি আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি হলেও দলীয় কোন্দলে দিশেহারা সাধারণ কর্মীরা। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আসনটি উদ্ধার করতে চাইছেন এ আসন থেকে তিনবার নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো. ফজলুল আজিম। তবে, এলাকা এবং কর্মী সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। অন্যদিকে বর্তমান সাংসদ আয়েশা আলীও তার আসন ধরে রাখার চেষ্টার কমতি নেই। আ’লীগ থেকে নুতন করে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় যোগ হয়েছে বিশিষ্ট শিল্পপতি মাহমুদ আলী রাতুলের নামও।

এক পৌরসভা ও ১১ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনের অন্যতম বৈশিষ্ট হচ্ছে ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনীতি।নোয়াখালীর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা নদী ঘেরা দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসন। এ উপজেলায় রয়েছে ১টি পৌরসভা ও প্রশাসনিক ৩টি এলাকাসহ ১২টি ইউনিয়ন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৪৫ জন।

রাজনৈতিক সংঘাত সহিংসার কারনে নোয়াখালীর সবচেয়ে আলোচিত এ আসনটি। কোন্দলের মূল কারন হচ্ছে আওয়ামীগের উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটি এবং বেশির ভাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সাথে দলীয় সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস আলী ও তার স্বামী সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর মুখোমুখি অবস্থান। আয়েশা ফেরদৌস সংসদ সদস্য হলেও মূল প্রভার তার স্বামী মোহাম্মদ আলীর।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা আলী দুলালের ছোট ভাই হাতিয়া জনকল্যান সমিতির সভাপতি শিল্পপতি মাহমুদ আলী রাতুলকে সাথে পেয়ে মোহাম্মদ আলীর প্রতিপক্ষ উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ এখন বেশ চাঙ্গা। সাংসদের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানীর পরও হাতিয়ার রাজনৈতিক মাঠ এখন তাদের দখলে।

এই আসনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন, বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা আলী দুলালের ছোট ভাই হাতিয়া জনকল্যান সমিতির সভাপতি শিল্পপতি মাহমুদ আলী রাতুল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আমির।

মাহমুদ আলী রাতুলের পক্ষে গত কয়েক মাস থেকে হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চলছে। হাতিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ, পৌর আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ তার পক্ষে মাঠে নেমেছেন। দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব মাহমুদ আলী রাতুলকে নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।

দল থেকে মনোনয়ন পেলে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে হাতিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ইতিবাচক ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার কথা জানান রাতুল। সেই সাথে নদী ভাঙ্গন, বিদ্যুতায়ন, ভূমিহীন সমস্যা, দস্যুতা সহ দীর্ঘদিনের স্থায়ী সমস্যাগুলোর অগ্রাধিকার ভিত্তিক সমাধানের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

অন্যদিকে বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ধরে রাখার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাথে বিরোধ এবং স্বামী সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য কেন্দ্রিয় কমিটিতে সুপারিশ পাঠানোর ঘটনা আয়েশা ফেরদৌসের মনোনয়নের ক্ষেত্রে নেতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

এ আসনে বিএনপি লড়ছে অস্তিত্ব সংকটে। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারনে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বিএনপি। গত কয়েক বছরে উপজেলা পর্যায়ের একাধিক শীর্ষ নেতার দল ত্যাগের কারণে কর্মীদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির দু’বারের সভাপতি মোহাম্মদ আলা উদ্দিন। সংস্কারপন্থী নেতা মোহাম্মদ ফজলুল আজিমকে দল থেকে বহিস্কারের পর দলে যে শূণ্যতা দেখা দিয়েছে তা আলা উদ্দিনের একান্ত প্রচেষ্টায় শূণ্যতা পূরণ সম্ভব হয়। দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা মোহাম্মদ আলা উদ্দিনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে দেখতে আগ্রহী।

অন্যদিকে এক সময়ের বিএনপি ও পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য শিল্পপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিমও আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বলে তার অনুসারীরা এলাকায় এলাকায় প্রচার করছেন। তবে, তিনি কোন দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন তা এখনো খোলাশা করেননি।

এনই/