• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

আওয়ামী লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি, বসে নেই অন্য দলগুলোও

প্রকাশ:  ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:১৯ | আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৩৬
শেখ মামুন-উর-রশিদ, গাইবান্ধা
প্রিন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে উত্তরের জেলা গাইবান্ধার ৫টি নির্বাচনী আসনেই তৎপরতা ততটাই বাড়ছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। প্রতিটি আসনেই আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী তৎপরতা বেশি পরিলক্ষিত হলেও বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের প্রার্থীরাও নির্বাচনী তৎপরতায় কিছুটা ঢিমেতালে থেমে নেই তাদের প্রচারণাও। তবে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন পেতে পুরাতনদের পাশাপাশি নতুনদের হিড়িক পড়েছে। পুরাতন এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়োজ্যেষ্ঠদের পাশাপাশি নতুনরাও তৎপরতার সাথে মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়াও দলের মনোনয়ন পেতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত লবিং এবং দৌড়ঝাপে ব্যস্ত রয়েছেন অনেকে। অনেকটা কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান এমনই ব্যস্ততায় কাটছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। অন্যদিকে, ভোটার ও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মন জয় করতে সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশা করে দোয়া প্রার্থী ও শুভেচ্ছা শীর্ষক ব্যানার টাঙিয়ে এবং ক্যালেন্ডার বিতরণ করেও নিজের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সবাই। কেউ আবার আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছরের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নিজের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ডসহ মনোনয়ন প্রত্যাশা করে দোয়া প্রার্থনা করছেন।

এদিকে, অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, জাতীয় পার্টি (জাফর), জামায়াতে ইসলামী, সিপিবির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরাও থেমে নেই। প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছেন অন্যসব রাজনৈতিক দলগুলো। এর মধ্যে সিপিবির এখন পর্যন্ত গাইবান্ধা-১, ২ ও ৫ আসনে তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ইতোমধ্যে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছেন। উচ্চ আদালত কর্তৃক জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রতীক বাতিল হওয়ায় ৫টি আসনই স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন মর্মে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।

এছাড়া আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির জোট নিয়ে আসন বন্টন সংক্রান্ত বিষয়টি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যদিও বিগত পাঁচ বছর আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মাধ্যমে এ জেলায় বিরাজমান কতিপয় সমস্যার ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এতদসত্বেও আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, নেতাকর্মীদের ত্রুটি বিচ্যুতি আচার আচরণ এবং ব্যর্থতাকে পুঁজি করে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, সিপিবি, জাসদ ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে আ’লীগসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো জেলার ৫টি আসনেই বিজয় পেতে মরিয়া। তবে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন ও মনোনয়নের ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটলে এক্ষেত্রে তারা কিছুটা পিছিয়ে পড়তে পারেন।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ)

এই আসনের বর্তমান এমপি জাপার (এ) চেয়ারম্যানের আইন ও বিচার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ইতোমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আসনটি ধরে রাখতে ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছেন। এদিকে এই আসনে প্রয়াত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বড় বোন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক গত উপ-নির্বাচনের পরাজিত প্রার্থী আফরোজা বারী এবারও আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসনটি ফিরে পেতে ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।

গত উপ-নির্বাচনে কৌশলগত ত্রুটি বিচ্যুতির কারণে আসনটিকে জাপার কাছে হারতে হলেও এবার তিনি যথেষ্ট আঁটঘাট বেঁধে এবং পরিকল্পিতভাবেই আসনটি ফিরে পেতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনে নেমেছেন। এই উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও চান আসনটি এবার তাদের হোক। এছাড়া এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে যারা তৎপর তারা হলেন- পৌর মেয়র উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, রেজাউল আলম রেজা, আশরাফুল আলম লেবু, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সাজেদুল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা পরিষদ সদস্য ইমদাদুল হক নাদিম ও সুন্দরগঞ্জ ডি ডাব্লিউ ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ দলের সাবেক উপজেলা সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান সরকার।

অন্যান্য দলের মধ্যে এ আসনটিতে ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন- জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়া। এছাড়া বিএনপি নেতা অ্যাড. জাহাঙ্গীর আলম জিন্নাহ মনোনয়ন প্রত্যাশী। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেবেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বেলকা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মাজেদুর রহমান মাজেদ। সিপিবির উপজেলা সভাপতি নুরে আলম মানিক এবং জাসদের অ্যাড. মোহাম্মদ আলী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।

গাইবান্ধা-২ (সদর)

এই আসনে পর পর দুবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বর্তমান এমপি জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি অনেক আগে থেকেই প্রতিটি ইউনিয়নে এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সভা সমাবেশ ইফতার মাহফিল করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এছাড়াও এই জনপ্রিয় নেত্রী নানাভাবে জনসংযোগও অব্যাহত রেখেছেন। মাহাবুব আরা বেগম গিনি এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ সকল নেতাকর্মী এবার গাইবান্ধার এই আসনটিকে ধরে রাখতে মরিয়া। তারা সেই লক্ষ্য নিয়েই মাঠে ময়দানে কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে অন্যান্য যারা ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা, জনসংযোগসহ বিভিন্ন তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ শামছুল আলম হীরু। তিনি জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক এবং জেলা বারের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মী এবং ভোটারদের মধ্যে তার যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা থাকায় তাকে পুঁজি করেই তিনি নির্বাচনের মনোনয়ন পেতে চান। বিভিন্ন সমাজকর্মে অংশ নিয়ে ক্লিন ইমেজ গড়ে তোলা আ’লীগের নিবেদিত প্রাণ জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ফরহাদ আব্দুল্যাহ হারুন বাবলু এবারের নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী। সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা আ’লীগের অতি পরিচিত নেতা সাংগঠনিক সম্পাদক পিয়ারুল ইসলাম আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন।

বর্তমানে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঘাগোয়া ইউপি চেয়ারম্যান, গাইবান্ধা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ এবং জনপ্রিয় নেতা আমিনুর জামান রিংকু জাতীয় সংসদের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ব্যাপক কর্মতৎপরতা শুরু করেছেন। জেলা আ’লীগের অপর সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুর রহমান টুটুলও এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী। ইতোমধ্যে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে জেলা আ’লীগ কার্যালয়ের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণ ও জনসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে পাশাপাশি নির্বাচনী তৎপরতাও শুরু করেছেন। জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আ’লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাড. আহসানুল করিম লাছু দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। বিগত উপজেলা নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী এবং জাতীয় সংসদের একাধিকবার মনোনয়ন প্রত্যাশী ও বাংলাদেশের প্রথম স্পিকার শাহ আব্দুল হামিদের নাতি জেলা আ’লীগ সদস্য শাহ সারোয়ার কবীর এবারও মনোয়ন প্রত্যাশী।

বিএনপির নেতাকর্মীরাও এবার আশা করছেন এই আসনে তারা বিজয়ী হতে পারবেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে তার কাজ করছেন এ আসনে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান খান বাবু মনোনয়ন প্রত্যাশী। উল্লেখ্য, তিনি বিগত নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া বিএনপির আরও মনোনয়ন পেতে যারা নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছেন তারা হলেন- গাইবান্ধা পৌর বিএনপির উপদেষ্টা খন্দকার আহাদ আহমেদ, বিএনপি নেতা এবং জেলা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাড. সেকেন্দার আজম আনাম। জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও পর পর দুবারের সাবেক এমপি, সাবেক পৌর মেয়র, সাবেক কাউন্সিলর এবং একবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে জনপ্রিয় আব্দুর রশিদ সরকার এবারও জাতীয় সংসদে আসনটি ফিরে পেতে ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছেন। জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী, লক্ষীপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল করিম এই আসনে জামায়াত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা সভাপতি মিহির ঘোষ এ আসনটির এবারও দলীয় প্রার্থী। উল্লেখ্য তিনি বিগত উপজেলা পরিষদ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। জেলা জাসদের পক্ষে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সাধারণ সম্পাদক গোলাম মারুফ মনা এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ি)

এই আসনটি ধরে রাখার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ও সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ডা. ইউনুস আলী সরকার এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি দুটি উপজেলায় ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যারা ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন তারা হলেন- পলাশবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, সাদুল্যাপুর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বিগত উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে সামান্য ভোটে পরাজিত প্রার্থী জনপ্রিয় নেতা শাহরিয়ার খান বিপ্লব এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

পলাশবাড়ি উপজেলা আ’লীগ সভাপতি আবু বকর প্রধানও এবার মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। এছাড়া অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী সাদুল্যাপুর উপজেলার তৃণমূল আ’লীগ সদস্য ও সাদুল্যাপুরের দড়িজামালপুর রোকেয়া সামাদ দ্বি-মুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আজিজার রহমান বিএসসি। তিনি একটি বাইসাইকেলে চরে হ্যান্ড মাইক দিয়ে দুই উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের হাট-বাজারে ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে ইতোমধ্যে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

অপরদিকে মনোহরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এবং জেলা আ’লীগের উপদেষ্টা জনপ্রিয় নেতা মাজেদার রহমান দুলু ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। এদিকে অ্যাড. নুরুল ইসলাম, সাবেক কৃষি কর্মকর্তা বজলার রহমান রাজা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হক, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি অ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতিও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

এছাড়া পর পর চারবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি ড. টিআইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী এবারও জাতীয় পার্টি (জাফর) থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি (এ) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কর্তৃক চুড়ান্ত ঘোষিত এবং মনোনীত একক দলীয় প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে দুটি উপজেলাতেই ব্যাপক নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি ডাঃ. মইনুল হাসান সাদিকও এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় তৎপর। জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারী ও বর্তমান পলাশবাড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং গত সংসদ নির্বাচনে এই আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু দলীয় প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ও সাদুল্যাপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান, সাদুল্যাপুরের ফরিদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাবেক ও ছাত্র নেতা এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি এই আসনে এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী। অপরদিকে পলাশবাড়ি উপজেলা জাসদ সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা, বাংলাদেশ মিডিয়া ইনস্টিটিউট সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কেন্দ্রীয় মহাসচিব নুরুজ্জামান প্রধান এবার দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ)

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আ’লীগ সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বর্তমান এমপি জনপ্রিয় নেতা অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে এ আসনটি ধরে রাখতে ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। প্রতিটি ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডে নির্বাচনী সভা, পথসভা এবং উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে জনসংযোগ চালিয়ে ভোটারদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করছেন। অপরদিকে আ’লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আতাউর রহমান সরকার ও মহিমাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল লতিফ প্রধান দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তদুপরি আ’লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির পাট ও বস্ত্র বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনও মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

এদিকে বিএনপির সাবেক এমপি শামীম কায়সার লিংকন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, সদস্য ফারুক কবীর আহমেদ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। এই আসনটি পুনরুদ্ধারে নির্বাচনী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। অপরদিকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, জেলা জাপার সদস্য ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সভাপতি এবং রংপুর সিটি নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ কাজী মো. মশিউর রহমান জাতীয় পার্টির পক্ষে একক প্রাথী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে একাধিক জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী জেলা আমীর ডা. আব্দুর রহিম সরকার দলের পক্ষে নির্বাচনের জন্য জনসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি)

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত জনপ্রিয় নেতা মো. ফজলে রাব্বী মিয়া এই আসনে একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তিনি এবারও মনোনয়ন নিয়ে আ’লীগের আসনটি ধরে রাখতে চান। সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এবং আ’লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের একান্ত প্রত্যাশা এই আসনটিকে যে কোন মূল্যে ধরে রাখা। এদিকে জেলা আ’লীগ সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জনপ্রিয় ছাত্রনেতা মাহমুদ হাসান রিপন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ওই দুটি উপজেলায় নেতাকর্মীদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিরলস নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে এই আসনটি আ’লীগের হাত ছাড়া না হয়।

অপরদিকে জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু এবং গাইবান্ধা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাঘাটার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার আতা জাতীয় পার্টির পক্ষে এই আসনটি দখল করতে নির্বাচনী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।

বিএনপির পক্ষে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল এই আসনে বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছেরও লক্ষ্য এই আসনটিতে দলকে বিজয়ী করা। এজন্য তাদেরও নির্বাচনী তৎপরতা থেমে নেই। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় জাসদের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ডা. একরাম হোসেন ও সিপিবির সাঘাটা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জোগেশ্বর বর্মণও নির্বাচনী প্রচারণায় তৎপর রয়েছেন।

/পি.এস

গাইবান্ধা,আওয়ামী লীগ,বিএনপি