• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

ফের জয় চায় আ.লীগ, উদ্ধার চেষ্টায় বিএনপি

প্রকাশ:  ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:০৮ | আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৩৩
রাজীবুল হাসান, কিশোরগঞ্জ
প্রিন্ট

বর্তমানে দেশে আওয়ামী লীগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছে কিশোরগঞ্জের কৃতি সন্তানেরা। তারা হলেন দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো.জিল্লুর রহমানের পুত্র ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের ৬ টি আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন । এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় সর্বত্রই পোষ্টারিং ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে। এছাড়াও প্রার্থীদের গণসংযোগের সংবাদ ও ছবি মোবাইল ম্যাসেজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন নিজ নিজ দলের কর্মী-সমর্থকরা। এ দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের ৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১০ম সংসদ নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত জোট বর্জন করায় কিশোরগঞ্জে ৬টি আসনের ৫টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। একটি আসনে মহাজোটের জাপা প্রার্থী বর্তমান শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাবেক দু’বারের এমপি ড. মিজানুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিল।

বর্তমান সংসদে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের সংসদ সদস্য হলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য হলেন রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক। কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য হলেন আফজাল হোসেন। এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য হলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

কিশোরগঞ্জ-১

২০০৮ সালে ৯ম সংসদ নির্বাচনের আগে সারাদেশে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে কিশোরগঞ্জে একটি আসন কমিয়ে ৬টি করা হয়। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামই একক প্রার্থী। কিন্তু বিএনপি থেকে প্রায় অর্ধডজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।

এদের মধ্যে বিএনপির সাবেক এমপি (ষষ্ঠ সংসদ) ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. মাসুদ হিলালী, বর্তমান জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউল্লাহ রাব্বানী, বর্তমান জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়ার নাম শোনা যাচ্ছে। মাসুদ হিলালী দল থেকে মোট চারবার মনোনয়ন পান। তিনি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন। এরপর তিনবার সৈয়দ আশরাফের বিরুদ্ধে নির্বাচন করলেও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই তাকে হারতে হয়েছিল বলে মাসুদ হিলালী ও তার সমর্থকদের দাবি। এলাকার সঙ্গে সৈয়দ আশরাফের যোগাযোগ কম বলে একটি বদনাম রয়েছে। কিন্তু তিনি এলাকায় কিছু মেগা প্রকল্পের বরাদ্দ এনেছেন। ফলে এলাকার সঙ্গে সম্পর্কহীনতা আর উন্নয়ন কাজের মধ্যে এক ধরনের টানাপোড়ন রয়েছে। কাজেই বিএনপিকে এসবের সঙ্গে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করতে হবে। এখানে জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে নির্বাচন মহাজোটগত নাকি দলীয় ভিত্তিতে হবে, এর ওপর নির্ভর করবে সিদ্ধান্ত। এখানে সিপিবি থেকে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী বলে তারা জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ-২

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন আসন্ন নির্বাচনেও একজন জোরালো দাবিদার। তবে এখানে পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মত বিনিময় করছেন। কেন্দ্রেও এ ব্যাপারে অনেকের সঙ্গে কথা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমানে এই আসনে নেতৃত্বের বিন্যাস ও নির্বাচনী ইমেজের অর্থে তিনি মনোনয়নের জোরালো দাবিদার। অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ আফজালও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দল মনোনয়ন দিলে তিনিও একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী হয়ে উঠতে পারেন। পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক রফিকুল ইসলাম রেনুও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মুখলেছুর রহমান বাদল এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. দীন মোহাম্মদও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এখানে বিএনপি থেকে এর আগে মনোনয়ন পাওয়া ইদ্রিছ আলী ভূঁইয়া এবারো দলের মনোনয়নের জোরালো দাবিদার। পাশাপাশি পাকুন্দিয়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র আক্তারুজ্জামান খোকন, কটিয়াদী পৌরসভার সাবেক মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান, পাকুন্দিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশফাক আহমেদ জুন, ছাত্র দলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুজ্জামান কাকন এবং বিএনপি নেতা রুহুল আমিন আকিলও মনোনয়ন দাবি করছেন। এই আসনে বিএনপির দু’বারের এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান একজন শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন। তৃণমূলে তার অনেক কর্মী-সমর্থক আছেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় দলের হাই কমান্ডের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেয়ার ফলে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। যে কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার পরিবর্তে ইদ্রিছ আলী ভূঁইয়াকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। তবে আক্তারুজ্জামানকেও এলাকার অনেক মানুষ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। এখানে সিপিবি থেকে জেলা কমিটির সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং গণতন্ত্রী পার্টি থেকে অ্যাডভোকেট পরিতোষ চক্রবর্তীও সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

কিশোরগঞ্জ-৩

মহাজোটগত নির্বাচন হলে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে আবারো জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুকেই জোটের প্রার্থী করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি এলাকায় বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ করেছেন, এখনো কাজ চলছে। এলাকার সঙ্গে তার যোগাযোগও রয়েছে। তিনি মাসে অন্তত গড়ে একবার করে আসেন। তবে এখান থেকে আওয়ামী লীগের ৫ম ও ৭ম সংসদের এমপি ড. মিজানুল হকও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বর্তমান দশম সংসদের আলোচিত নির্বাচনেও মহাজোট প্রার্থী মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু দলীয় কর্মী বাহিনী তার পাশে না থাকায় তিনি তেমন সুবিধা করতে পারেননি। এই আসনে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক নাসিরুল ইসলাম আওলাদ, জেলা বিএমএ সভাপতি সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার ডা. মাহবুব ইকবাল, মুক্তিযোদ্ধা শেখ কবীর আহমেদসহ আরো কয়েকজন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন।

এখানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে দলের অনেকেই জানিয়েছেন। তবে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা জানিয়েছেন, নবম সংসদ নির্বাচনে সংস্কারপন্থী ওসমান ফারুকের পরিবর্তে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। আর ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠায় এখন তিনি দেশান্তরি। ফলে এবারো তিনিই মনোনয়নের জোর দাবিদার বলে জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনি এলাকায় কাজও করে যাচ্ছেন। এখানে সিপিবি থেকে জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. এনামুল হক ইদ্রিছ সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী বলে জানা গেছে।

কিশোরগঞ্জ-৪

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের জ্যেষ্ঠ পুত্র বর্তমান এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিককেই সবাই আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনে করছেন। তার বাবা সংসদে ডেপুটি স্পিকার এবং স্পিকার থাকার সময় থেকে এখন পর্যন্ত এলাকায় মেগা উন্নয়ন থেকে শুরু করে নানা রকম উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব উন্নয়নে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকও শরিক হচ্ছেন এবং তদারকি করেছেন। তিনি তার বাবার মতই সাদামাটা স্বভাবের মানুষ। এই আসন থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহানও দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। তিনি জানান, এ ব্যাপারে এখনো কেন্দ্রের সঙ্গে কোন কথা হয়নি। সময় আসলে কথা বলবেন।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান আগেও এখানে নির্বাচন করেছেন। এবারও তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর বাইরে বিএনপির সাবেক এমপি ফরহাদ আহমেদ কাঞ্চনের ছেলে ডা. ফেরদৌস আহমেদ লাকি, ইটনা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি সুরঞ্জন ঘোষও মনোনয়ন দাবিদার। এছাড়া জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খান মিলকিও এখানে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী বলে জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ-৫

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের বাজিতপুর সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আবদুল মোনায়েম খানের জন্মস্থান । মুসলিম লীগের তথা ডানপন্থিদের বড় সমর্থক শ্রেণী থাকায় স্বাধীন বাংলাদেশেও তার ছেলে খালেকুজ্জামান খান হুমায়ূন এ আসনের সংসদ সদস্য হন। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানও একবার অখ্যাত প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হন মূলত স্থানীয় রাজনীতির মেরুকরণ ও আওয়ামী লীগের অন্তর্দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে’।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের বিপরীতে থেকে নিকলীর প্রয়াত মজিবুর রহমান মঞ্জু বিএনপি থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি আফজাল হোসেন মনোনয়নের জোরালো দাবিদার। দুই মেয়াদে তার এলাকায় বিদ্যুতায়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ হয়েছে। তার বিপরীতে দল থেকে পচাত্তর পরবর্তী আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কান্ডারী নিকলী-বাজিতপুর আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক প্রার্থী মরহুম আব্দুল লতিফ সাহেবের সুযোগ্য উত্তরসূরি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিল্টন, জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি সাপ্তাহিক রাজধানী বার্তার সম্পাদক ফারুক আহাম্মদ, কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাাদক অজয় কর খোকন, বাজিতপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলাউল হক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ একেএম নুরুন্নবী মনোনয়ন দাবি করবেন।

আর বিএনপি থেকে বাজিতপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র এহসান কুফিয়া, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, সালেহুজ্জামান খান রুনু, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল আলম রাজন ও ছাত্রদল নেতা ইশতিয়াক নাসিরসহ বেশ কয়েকজন মনোনয়ন দাবি করবেন। এদের মধ্যে মুজিবুর রহমান ইকবালের বিরুদ্ধে অন্য প্রার্থীরা একজোট বলে তাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন। তাকে ছাড়া অন্য যে কাউকে মনোনয়ন দিলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে বাজিতপুরের সাবেক পৌর মেয়র এহসান কুফিয়ার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে তার তেমন কোন বদনাম নেই বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। এহসান কুফিয়া নিজেও আশাবাদী, তাকে মনোনয়ন দিলে হারানো আসনটি তিনি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।

অন্য প্রার্থীরাও এলাকায় বেশ গণসংযোগ করছেন এবং সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে নিজেদের মনে করছেন। এর বাইরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর মোনেম খানের ছেলে মুসলিম লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান খানও জোটের প্রার্থীতা দাবি করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদাক অ্যাডভোকেট গাজী এনায়েতুর রহমানও সম্ভাব্য প্রার্থী বলে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ-৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সারাদেশের মতো কিশোরগঞ্জ-৬ আসনেও বইছে ভোটের হাওয়া। তবে এ আসনে দলীয় প্রার্থী নিয়ে যতটা না আলোচনা, তার চেয়ে বেশি আলোচনা ভোটের ইস্যু নিয়ে। কারণ, বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন অনেকটাই চূড়ান্ত। সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ আর প্রচারণায় এ আসনে ভোটযুদ্ধের আগাম তৎপরতা বেশ জোরেশোরেই এগিয়ে চলেছে। স্থানীয়দের মাঝেও চলছে এ নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ।

বন্দরনগরী ভৈরব এবং ভাটি অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত কুলিয়ারচর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৬ সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা। এ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত দশটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ৭৩ সালের ৭ মার্চ, ৮৬ সালের ৭ মে, ৯৬ সালের ১২ জুন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পাঁচবার এ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মো. জিল্লুর রহমান নির্বাচিত হলে এ আসনে ওই বছরের ৩ এপ্রিল উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উপ-নির্বাচনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির ছেলে নাজমুল হাসান পাপন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের ২০ মার্চ রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান মারা যান। এরপরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নাজমুল হাসান পাপন আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর জিল্লুর রহমান এলজিআরডি মন্ত্রী হয়েছিলেন। তখন তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা ভৈরব-কুলিয়ারচরসহ সারা জেলায় যথেষ্ট উন্নয়নকাজ করেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের ছেলে নাজমুল হাসান পাপনও এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।

তিনি একাধারে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, বেক্সিমকো ফার্মার মতো বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণ সংস্থার অন্যতম শীর্ষ কর্তা। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন নিয়মিতই নির্বাচনী এলাকায় আসেন। এলাকার গণমানুষের নেতা হিসেবে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি এলাকার মানুষজনের কাছে প্রায়ই ছুটে আসেন তিনি। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নাজমুল হাসান পাপন দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন, এটা অনেকটাই নিশ্চিত।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নাজমুল হাসান পাপন এমনিতেই সজ্জন মানুষ। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তাঁর মার্জিত ব্যবহার ও সদালাপি আচরণ দিয়ে ক্রমেই জিতে নেন এলাকাবাসীর হৃদয়। সাদামাটা, নির্লোভ, নিরাবরণ জীবন নিয়ে নাজমুল হাসান পাপন রাজনীতিতে তার পূর্বসূরী পিতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি পিতার সততার রাজনীতির আর্দশ হিসাবে কাজ করছেন তার নির্বাচনী এলাকায়।

দলীয় নেতাককর্মীরা জানান, পাপন দলীয় নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে, সমস্যার সমাধানে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছেন। আওয়ামী লীগকে তিনি সাংগঠনিকভাবে সুসংসহ অবস্থানে নিয়ে যেতে পেরেছেন। দলকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে কাজ করছেন তিনি।

অন্যদিকে, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম। তিনি দলের প্রভাবশালী নেতা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের বিপক্ষে চারদলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো প্রার্থী হন বিএনপি নেতা আলম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফুল আলম।

ওই নির্বাচনে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চারদলীয় জোট প্রার্থী মো. শরীফুল আলম পেয়েছিলেন ৮৯ হাজার ৮৩৭ ভোট। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনেও বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. শরীফুল আলম। উপ-নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পুত্র নাজমুল হাসান পাপন ১ লাখ ৬ হাজার ১৩৭ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপি নেতা মো. শরীফুল আলম ৬৮ হাজার ৩২৭ ভোট পান। ওই নির্বাচন থেকেই মূলত এ আসনে নাজমুল হাসান পাপন এবং মো. শরীফুল আলমের রাজনৈতিক দ্বৈরথ শুরু হয়।

নাজমুল হাসান পাপনের নিজ উপজেলা ভৈরব এবং মো. শরীফুল আলমের নিজ উপজেলা কুলিয়ারচর। এই আসনের দুই উপজেলা থেকে দুই প্রধান দলের প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দলীয় হিসাবের বাইরে নির্বাচনে আঞ্চলিকতাও ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়।

এ ছাড়া মাঠে রয়েছেন দল থেকে বহিষ্কৃত ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ভৈরব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. গিয়াসউদ্দিন। তিনি ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি ছিলেন। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতির মো. জিল্লুর রহমানের সাথে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু জয়ের মুখ দেখেননি তিনি।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে জিল্লুর রহমানকে পরাজিত করে বিএনপির ডা. আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এরপর থেকে আসনটি হাতছাড়া বিএনপির। এবার আসনটি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা চালাবে তারা। এদিকে, ভৈরব পৌর আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি ইফতেখার হোসেন বেনু আওয়ামী লীগ থেকে মনোয়নয়ন প্রত্যাশী । তার সাথে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতৃত্ববৃন্দ ।

কিশোরগঞ্জ-৬ ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে প্রচারণা শুরু করেছেন। তারা তৃণমূলে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি কেন্দ্রেও যোগাযোগ করছেন।

ভৈরব উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন এবং কুলিয়ারচর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে স্বীকৃত। এই আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ২৯ হাজার ১৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১লাখ ৬৬ হাজার ৫৬৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৮০ জন। উপজেলাওয়ারী হিসাবে ভৈরব উপজেলার মোট ভোটার ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৪০ জন এবং কুলিয়ারচর উপজেলার মোট ভোটার ১ লাখ ৩১ হাজার ৩০৮ জন।

/পি.এস

কিশোরগঞ্জ,আ.লীগ,বিএনপি