• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

চট্টগ্রাম জেলার ১৬ আসনের চালচিত্র

আ'লীগে প্রার্থী জট, বিএনপিতে ভীতি

প্রকাশ:  ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৭:১৩ | আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অন্যসব জায়গার মতোই চটগ্রামেও ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে । চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ১৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এসব আসনে প্রধান দুটি দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিবাদ মেটানো এবং যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নের ওপর নির্ভর করছে জয়-পরাজয়। সব কটি আসনেই উভয় দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব আছে, যার নেতিবাচক প্রভাব ভোটের ফলাফলের ওপর পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ ভোটের মঠে সরব কয়েকমাস ধরেই। চট্টগ্রাম জেলার প্রতিটি আসনে ক্ষমতাসীন দলটির অসংখ্য প্রার্থী থাকায় ভোটের প্রচারণায় নিজেরাই প্রতিযোগিতা করছেন। প্রার্থীরা চাইছেন প্রচারণায় এগিয়ে থেকে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে। ভোটের মাঠে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কাজ করছেন অনিশ্চয়তা আর ভীতি নিয়ে। মামলায় জর্জরিত বিএনপি প্রার্থীর নিশ্চিত হতে পারছেন না আদৌ তাদের নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা। নির্বাচন হলেও সেটা কতোটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে! এর উপর আছে যো কোনো সময় গ্রেফতার হওয়ার ভীতি।

বর্তমানে জেলার ১২টি আসনে প্রতিনিধিত্ব করছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা। দুটি আসনে জাতীয় পার্টি, একটিতে জাসদ ও একটি তরিকত ফেডারেশনের এমপিরা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটগতভাবে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১১টি আসনে নির্বাচিত হয়েছিলো। এরমধ্যে জোটের শরিক জাতীয় পার্টি ও জাসদের প্রার্থী ১টি করে আসনে বিজয়ী হন। অপর ৫টির মধ্যে বিএনপি ৩টি, জামায়াতে ইসলামী ১টি ও এলডিপি ১টি করে আসন পায়। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৫টি আসনের মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ১২টি, আওয়ামী লীগ মাত্র ২টি ও জামায়াতে ইসলামী ১টি আসনে জয়লাভ করেছিল।

,

চট্টগ্রাম জেলার নির্বাচনী অাসনগুলোতে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী কে হবেন, এই নিয়ে লোকমুখে আলোচনার আলোচনা ঝড় এখন তুঙ্গে। জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে আজ প্রথম পর্বে থাকছে ৮টি আসন (চট্টগ্রাম-১ থোক ৮), দ্বিতীয় পর্বে তুলে ধরা হবে বাকি ৮টি আসনের (চট্টগ্রাম-৯ থেকে ১৬) পরিস্থিতি।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই)

মিরসরাইয়ের এই আসনে প্রার্থিতা নিয়ে প্রধান দুই দলেই রয়েছে কোন্দল। নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব বাড়ছে। ফলে কেবল নেতার জনপ্রিয়তায় নয়- অন্য দলের কোন্দলের ফল ঘরে তুলতে পারলেই এ আসনে জয় সম্ভব। দুই দলের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের এমন ধারণা।

এখানে বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার কাছে প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান বিএনপির প্রার্থী শিল্পপতি এমডিএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোশাররফ হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ফলে ১০ বছর পর মিরসরাই আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপির জমজমাট ভোটযুদ্ধের অপেক্ষায় আছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৬ জন ভোটার। কোনো কারণে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ নির্বাচন করতে না পারলে তার ছেলে মাহবুবুর রহমান রুহেলও আছেন মনোনয়নের প্রত্যাশায়।

একই আসনে প্রচারনা চালাচ্ছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন ও তরুণ শিল্পপতি বড়তাকিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। তারাও এবার নৌকার প্রার্থী হতে চাইছেন। তবে আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পথের কাঁটা হতে পারে মহাজোটের শরিক সাম্যবাদী দল।ম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ূয়া। গত সরকারের সময় টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হলেও বর্তমান সরকারে বিশেষ কোনো স্বীকৃতি পাননি তিনি। আগামী নির্বাচনে তাই জোটের প্রার্থী হিসেবে এ আসন থেকে ভোটে অংশ নিতে চান তিনি।

ক্ষমতাসীন দলের মতোই মিরসরাই উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত। আগামী নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে নেমেছেন পাঁচ প্রার্থী। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ক্লিফটন গ্রুপের এমডি প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনও এবার এ আসন থেকে নির্বাচন করতে অনুসারীদের একাট্টা করে সংগঠন গোছানোর চেষ্টা করছেন। ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরও রয়েছেন বড়তাকিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ইউছুপ ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। প্রধান দুটি দল ছাড়া এ আসনে অন্য দলগুলোর তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ছে না।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি)

দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা ফটিকছড়ি এ আসনে চলছে ত্রিমুখী ভোটের রাজনীতি। এখানে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়াও রয়েছে ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন। যদিও দলটির সাংগঠনিক অবস্থান চোখে পড়ার মতো নয়। বর্তমানে এ আসনের সংসদ সদস্য তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের প্রতীক ফুলের মালার পরিবর্তে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ে বিজয়ী হন। এবারও তিনি জোটের হয়ে নৌকা প্রতীকে লড়তে চান।

একসময় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি পরিচিত এ আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এখান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হন। তবে ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম পেয়ারুল ইসলামকে হারিয়ে এ আসনটি কেড়ে নেন পাশ্ববর্তী রাউজানের বাসিন্দা মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী।

ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে নানা দলে বিভক্ত। একসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সশস্ত্র সংঘর্ষের কারণে ফটিকছড়ি সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে ক্রমে তা কমে আসে। জামায়াতের আগের সেই সশস্ত্র অবস্থান নেই। কিন্তু বহুধা বিভক্ত আওয়ামী লীগের একাধিক পক্ষ এখনো সক্রিয়। ফলে এখানে সাংগঠনিক নেতাদের সঙ্গে ক্যাডারদের দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে। তাদের এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোটাররা আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। বিএনপির বিশাল সমর্থন সৃষ্টি হয় ফটিকছড়িতে। তাই আগামী নির্বাচনে এখানে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের লড়াই তুমুল হবে বলে ভোটারদের ধারণা।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে আগ্রহীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য (মহাজোট প্রার্থী) সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, সাবেক এমপি মরহুম রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ নেতা খতিজা আনোয়ার সনি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম পেয়ারুল ইসলাম।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপিতে দুটি পক্ষ সক্রিয়। একটি পক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া বিএনপির প্রয়াত নেতা সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর পরিবারের অনুসারী। আরেকটি পক্ষ সাকা পরিবারের বিরোধী। আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের এই বিভক্তি আরও প্রকট হচ্ছে। ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম-২) আসনে দল থেকে মনোনয়ন পেতে এখন পর্যন্ত তিনজনের কথা শোনা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী, চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন খুরশিদ জামিল চৌধুরী, সাকা চৌধুরীর ভাই দলের ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং সাকার স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী ।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ)

চট্টগ্রাম জেলা সদর থেকে নদীপথে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল সন্দ্বীপ উপজেলার নির্বাচনী আসন এটি। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের মাহফুজুর রহমান মিতা। তিনি সন্দ্বীপের উন্নয়নের রূপকার সাবেক সাংসদ প্রয়াত মুস্তাফিজুর রহমানের জ্যৈষ্ঠ পুত্র এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক। এবারও তিনি নৌকার মনোনয়ন চাইবেন। তবে বর্তমান এমপি মাহফুজুর রহমান মিতার সঙ্গে দ্বন্দ্ব আছে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের। তারা দু'জন একমঞ্চে বসে দলীয় কর্মসূচি পালন করলেও বিরোধ মেটেনি। এ বিরোধে যুক্ত আছেন সন্দ্বীপ পৌর মেয়র জাফরুল্লাহ টিটু এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আকরাম খান দুলাল। বর্তমান এমপি প্রার্থিতাকে চ্যালেঞ্জ তারা তিনজনই দল থেকে মনোনয়ন চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সন্দ্বীপের বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বিএনপি নির্বাচনে গেলে ধানের শীষের জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। যদিও স্থানীয় বিএনপিতে রয়েছে গ্রুপিং এবং কোন্দল। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এখানে রয়েছেন তিন ‘মোস্তফা’। তারা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল ও শিল্পপতি নুরুল মোস্তফা খোকন। ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আরো আছেন অ্যাডভোকেট আবু তাহের (সন্দ্বীপ বিএনপি’র একাংশের সভাপতি) ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি কারাবন্দি আসলাম চৌধুরী। তবে বিএনপির এই লম্বা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় দুবারের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা কৌশলগতভাবে এগিয়ে আছেন বলে নেতাকর্মীদের ধারণা।

এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হচ্ছে জাতীয় পার্টির এম এ সালাম। এছাড়া ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে আম প্রতীকে নির্বাচন করবেন আবুল কাসেম হায়দার মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান।

দেশের মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন এ আসনে ১৯৭৩ সালে মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী জাতীয় পরিষদের প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে একেএম রফিকউল্লাহ চৌধুরী, ১৯৮৬ সালৈ বিএনপি থেকে একেএম রফিকউল্লাহ চৌধুরী, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে একেএম শামসুল হুদা, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মোস্তাফিজুর রহমান, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি থেকে মোস্তফা কামাল পাশা, ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগ থেকে মোস্তাফিজুর রহমান, ২০০১ সালে বিএনপি থেকে মোস্তফা কামাল পাশা, ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে মোস্তফা কামাল পাশা ও ২০১৪ সালে নির্বাচিত হন মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে মাহফুজুর রহমান মিতা সাংসদ নির্বাচিত হন।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড)

চট্টগ্রাম জেলার এ আসনটি সীতাকুন্ড উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ৯ ও ১০ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এ আসনের বর্তমান সংসদ ক্ষমতাসীন দলের দিদারুল আলম। সম্পর্কে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের ভাতিজা তিনি। একসময় বিএনপিতে যুক্ত থাকলেও নির্বাচনের আগে তিনি নৌকা প্রতীকে এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর মধ্যে নিজের ভালো ইমেজ গড়ে তুললেও দলে 'বহিরাগত' হিসেবে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তিনি বিতর্কিত। আওয়ামী লীগের টিকেট এবারও তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তার বিরোধিতা করে ক্ষমতাসীন দল থেকে মনোনয়নন পেতে পুরোদমে জনসংযোগ করছেন সাবেক এমপি আবুল কাশেম মাস্টারে বড় ছেলে উপজেলা চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এসএম আল মামুন, সাবেক এমপি কাশেম মাস্টারের ভাই শিল্পপতি নাছির উদ্দিনের ছেলে সৈয়দ মোহাম্মাদ তানভীর এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া।

এই আসনে বিএনপি’র একক প্রার্থী হিসাবে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব বর্তমান কারাবন্দি নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরী। তবে চট্টগ্রাম বিএনপির আলোচিত এ নেতা ৬৪টি মামলার আসামী হওয়ায় আইনগত জটিলতায় তার পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব না হলে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আফসান সিদ্দিকী। তিনি বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও চারবারের সংসদ সদস্য প্রয়া তএল কে সিদ্দিকীর বড় ছেলে। এ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা নেমেছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ্ব দিদারুল কবির দিদার। তিনি মহাজোট থেকে এই আসনে প্রার্থী হওয়ার আশা করছেন।

জাহাজভাঙা শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার কারণে সীতাকুণ্ড মূলত শিল্প এলাকা হিসেবেই পরিচিত। বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত এ সংসদীয় আসনে ১৯৯১ সাল থেকে ৫ দফা নির্বাচনে দুইবার বিএনপি এবং তিনবার আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী এলকে সিদ্দিকী জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবিএম আবুল কাসেম মাস্টার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধুরী। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওযামী লীগ থেকে দিদারুল আলম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৫টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাসদ থেকে মফিজুর রহমান ভোট পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৪২ টি ভোট।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী)

আসনটি চট্টগ্রাম জেলার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ০১ ও ০২ নং ওয়ার্ড এবং হাটহাজারী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বর্তমান সরকারের মন্ত্রিপরিষদে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের আমলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে মহাজোটেও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ মহাজোটগত নির্বাচন করলে এবারও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলামের মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ আসনটিতে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি ওঠেছে। জোটগতভাবে নির্বাচন না হলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম। ৯৯৬ সালে এ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। তবে বিগত দু’টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক। নৌকার প্রার্থী হিসেবে এবার এম এ সালাম মনোনয়ন চাইবেন। মহানগর আওয়ামী লীগের আরেক প্রভাবশালী নেতা অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল এবার দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। তিনি ২০০১ সালে হাটহাজারী সংসদীয় আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্পসংখ্যক ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আরো আছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য আলহাজ ইউনুছ গণি চৌধুরী.এবং জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী। এছাড়াও এ আসনে এদিকে এ আসনে মনোনোয়ন প্রত্যাশী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট বাসন্তী প্রভা পালি।

এদিকে বিএনপি চাইছে, তাদের ২০০৮ সালে নির্বাচনে হারানো আসন ফিরে পেতে। হাটহাজারীতে বিএনপির মনোনয়ন চান সাবেক হুইপ প্রয়াত আলহাজ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। বাবার আদর্শ অনুসরণ করে এবার তার কন্যা ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। দলের প্রভাবশালী নেতা সাবেক মন্ত্রী ও মেয়র মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন কিংবা তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলালও এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন। তারা পিতা-পুত্র দুজনই দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়াও সাবেক চাকসু ভিপি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এস এম ফজলুল হক এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী। পাশাপাশি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক দল কল্যাণ পাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক এ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাাচন করতে আগ্রহী।

এ আসন থেকে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীড় প্রার্থী মরহুম এম এ ওহাব একবার জয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে আর কোনো সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এ আসনে ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন তিনি। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির সাবেক হুইপ মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম পর পর তিনবার এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে এবং ২০১৪ সালে জোটগত নির্বাচনে এ আসনের সংসদ সদস্য হন জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান)

রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন, হাটহাজারীর গড়দুয়ারা ইউনিয়ন ও রাউজান পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৬ আসন। এ আসনের বর্তমান এমপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দল থেকে আবারও মনোনয়ন চাইবেন। কেন্দ্রে তার শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তবে তিনি ছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে আরও তিন নতুন মুখ। এরা হলেন- যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ ওমর ফারুক ও তার স্ত্রী শেখ রেখা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন।

হারানো আসনটি ফিরে পেতে বিএনপি বেশ তৎপর। এ আসনে ধানের শীষেরসম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী বা ছেলে হুমাম কাদের চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার।

রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করলেও বিএনপি কিংবা অঙ্গ সংগঠনের কোনো কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে।

রাউজান থেকে ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে সাকা চৌধুরীরর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে এ আসনটি সাকা পরিবারের হাত ছাড়া হযয়ে যায়। ২০০১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী টানা চারবার এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া}

চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এবং বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়ন নিয়ে আসনটি গঠিত। এ আসনের বর্তমান আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং বন ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ২০০৮ সালে তিনি বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে হারিয়ে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনেও নৌকার মাঝি হওয়ার লক্ষ্যে জোর প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন এই নেতা। আওয়ামী লীগ থেকে ড. হাছান মাহমুদ-এ আসনে মনোনোয়ন পাবেন বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

দলের কেন্দ্রীয় এই নেতাকে নিয়ে বিতর্কও আছে। বিভিন্ন ইস্যুতে হাছান মাহমুদে বেফাঁস মন্তব্যে বিব্রত হয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তার হাস্যকর বক্তব্যে বিরক্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ তার পরিবর্তে এ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নতুন কাউকে দেখতে আগ্রহী। ড. হাছান মাহমুদকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মনোনয়ন পেতে আটঘাট বেঁধে মাঠে রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ওসমান গণি চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী শাহ এবং আবুধাবী প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ইফতেখার হোসেন বাবুল।

বিএনপিতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী ও ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তবে তাদের 'বহিরাগত' হিসেবে আখ্যায়িত করে স্থানীয় কাউকেই প্রার্থী করাতে তৎপর রয়েছে বিএনপির এক পক্ষ। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে নির্বাচনী মাঠে তৎপর রয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির একাংশের আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত। তারা বিএনপির আসলাম চৌধুরী সমর্থিত গ্রুপের অনুসারী। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর গ্রুপ থেকে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির অপরাংশের আহ্বায়ক শওকত আলী নুর ও সদস্য সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসিন।

রাঙ্গুনিয়া থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে প্রার্থী হতে প্রচারণা চালাচ্ছেন দলে উত্তর জেলার সভাপতি নুরুল আলম। এ ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন ইসলামী ঐক্যজোট একাংশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ।

রাঙ্গুনিয়ার এ আসনে এককভাবে কোনো রাজনৈতিক দলেরই দীর্ঘ আধিপত্য ছিল না। গত নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ড. হাছান মাহমুদ। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও হেভিওয়েট প্রার্থী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে পরাজিত করেন তিনি। ওই মেয়াদে বন ও পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন হাসান মাহমুদ। এ আসনে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলীয় জোটের মনোনয়নে নির্বাচিত হন কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ ইউসুফ। জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে ১৯৮৬ সালে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং ১৯৮৮ সালে নজরুল ইসলাম নির্বাচিত হন।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও)

বোয়ালখালী উপজেলা ছাড়াও নগরের চান্দগাঁও থানা এবং বায়োজিদ ও পাচঁলাইশ থানার কিছু অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন গঠিত। এ আসনে গত দুই বারের সংসদ সদস্য মহাজোটের প্রার্থী জাসদের মইন উদ্দিন খান বাদল। ২০০৮ সালে অনুষ্টিত সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। জোটগতভাবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিলে আগামী নির্বাচনেও মইন উদ্দিন খান বাদলই প্রার্থী হবেন এটি মোটামুটি নিশ্চিত। তবে ক্ষমতাসীন দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতারাও এবার এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। বিগত দুটি নির্বাচনে দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও এবার দল থেকে প্রার্থী আশা করছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা।

বর্তমানে জাসদ একাংশের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করা মইন উদ্দিন খান বাদলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে মাঠে নেমেছেন আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা। চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রার্থী হতে চাইছেন। গত দুইটি নির্বাচনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ- সিডিএ এর চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম আওয়ামী লীগের প্রাথমিক মনোনয়ন পেলেও বাদলের কাছে প্রার্থিতা ছেড়ে দিয়েছিলেন কেন্দ্রের নির্দেশে। এবার তিনি ছাড় দিতে রাজি। পাশাপাশি এ আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন= সানোয়ারা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী এবং সহ-সভাপতি এসএম আবুল কালাম।

বিএনপির থেকে এ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান। বয়স ও মামলার কারণে মোরশেদ খান যদি নির্বাচনে অংশ না নেন স্থানীয় নেতা এরশাদ উল্লাহকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকেই বিএনপির প্রার্থী করা হতে পারে। নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানের নামও শোনা যাচ্ছে। বিএনপির রাজনীতিতে আবু সুফিয়ানের রয়েছে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি। জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব হোসেন।

জেলার অন্যান্য আসনের তুলনায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান বরাবরই দুর্বল। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ থেকে কফিল উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে নির্বাচিত হন বিএনপির সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হন এম মোরশেদ খান। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির কামরুন নাহার জাফর। ১৯৯১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে এমপি নির্বাচিত হন মোরশেদ খান। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও এমপি হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট থেকে নৌকা প্রতীকে এমপি হন জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন মাঈনুদ্দীন খান বাদল।

(চট্টগ্রাম-৯ থেকে ১৬ আসনের নির্বাচনী চালচিত্র দ্বিতীয় পর্বে)....

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন,সংসদ নির্বাচন