• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

লেখকের লেখনী মারণাস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী

প্রকাশ:  ০৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৫২
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী
প্রিন্ট

মানুষের জীবনবোধের জায়গাটি কিভাবে তৈরী হয়? কিভাবে মানুষ থেকে মানুষে জীবনবোধের প্রাণ সঞ্চারিত হয়? মানুষ কিভাবে মানুষ হয়ে উঠে? এর উত্তর একটিই সেটি হলো সাহিত্যের শক্তি| যা মানুষের ভিতরের চিন্তা শক্তিকে বের করে এনে জড় দেহে জীবনের স্পন্দন এনে দেয় |

মানুষের আত্মা ও মনের ক্ষুধা মিটতে পারে সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে। আর সাহিত্য এমন একটি মাধ্যম যা মানুষ, সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করার মতো ক্ষমতা রাখে। কোনো একটি সভ্যতার ইতিহাস বেঁচে থাকে সমকালীন সাহিত্যের মাধ্যমে। যে সাহিত্য যত সমৃদ্ধ, সেই সভ্যতার ইতিহাস তত সমৃদ্ধ হয়। সাহিত্যচর্চা ও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ মানুষের মধ্যে মানবিক ও সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারে। সাহিত্য মানুষের অপ্রকাশিত ও পুঞ্জীভূত ভাবনাকে বিকশিত করে। ফলে উদার ভাবনা সৃষ্টিশীল মনোভাব গড়ে ওঠে। অসত্য-সত্যের কাছে পরাজিত হয়। মানুষ স্বপ্ন দেখতে শেখে, স্বপ্ন দেখাতে শেখায় আর বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। সাহিত্যের শক্তিতেই মানুষ বিবেকতাড়িত হয়ে যৌক্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে অনুপ্রাণিত হয়। আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী সাহিত্যের স্বরূপ সন্ধান করতে গিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, যা থেকে সাহিত্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় দর্শন, প্রগতি ও মানুষের জীবনসম্পৃক্ত বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। সাহিত্যচর্চা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে চেতনা ও মূল্যবোধ তৈরি করে।

সাহিত্যের মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠে, যা শুভবোধের বিকাশ ঘটায় এবং মানুষের মধ্যে অমিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করে। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যারা লেখক, কবি, চিত্রশিল্পী, গায়ক, অভিনেতা তারাই কি শুধু তাদের কাজের মাধ্যমে সাহিত্যচর্চা করে, নাকি বিষয়টি আরও গভীর এবং বিশ্লেষণধর্মী। প্রকৃত অর্থে যিনি লেখেন, যিনি অভিনয় করেন, যিনি ছবি আঁকেন তিনিই শুধু সাহিত্যচর্চা করেন না বরং যারা লেখকদের লেখা পড়েন, যারা অভিনেতাদের নাটক দেখেন ও যারা চিত্রকরের ছবি দেখেন তারাও একইভাবে সাহিত্য ধারণ ও লালন করে এর চর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করেন। কারণ সাহিত্যের উপাদানগুলো সাহিত্যিকের হতে পারে; কিন্তু এ উপকরণগুলো যদি সাধারণ মানুষ গ্রহণ না করত, তবে সাহিত্যের বিকাশ হতো না। কাজেই যারা সাহিত্য সৃষ্টি করেন, তাদের লেখার প্রণোদনা ও উৎসাহ আসে পাঠকদের কাছ থেকে। আবার অন্যদিকে পাঠকরা সাহিত্যের ভেতরে প্রবেশ করে তাদের জ্ঞানের বিকাশ ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সমর্থ হয়। অনেক সময় আমরা কোনো একটি সাহিত্যের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে পাঠকের মনোভাব জানতে পারি। এটি যেখানে প্রচলিত সেখানে যুক্তিবাদী ও দার্শনিক চিন্তাধারার মানুষ গড়ে ওঠে। যখন সাহিত্যের নেতিবাচক কোনো একটি বিষয়কে তুলে ধরে সাহিত্য সমালোচকরা এর সীমাবদ্ধতা ও তা থেকে কীভাবে উত্তরণ ঘটানো যায়- এ বিষয়গুলো তুলে ধরে, তখন সাহিত্যের পরিবর্তন ও উৎকর্ষ সাধনার ভাবনালব্ধ পরামর্শ পাওয়া যায়। আর যে সমাজ বা রাষ্ট্রে সাহিত্য সমালোচক যত বেশি হবে, সেই রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি তত বেশি ফলপ্রসূ হবে। এখানে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, মানবিক উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। যেমন, অমর্ত্য সেনের মতে মানবিক প্রগতি ছাড়া অর্থনৈতিক প্রগতি অর্জন কঠিন। উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ দুটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, আবার কখনও তা নান্দনিকও হতে পারে। তবে উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে মানবিক প্রগতির বিষয়টি বিবেচনায় না নিলে থেমে যেতে পারে অর্থনৈতিক অগ্রগতি। এ মানবিক প্রগতি কেবল সাহিত্যের মাধ্যমেই সম্ভব। সেইসঙ্গে সাহিত্যের প্রতি সাধারণ মানুষকে অনুরাগী করে কীভাবে আরও বেশি সাহিত্য সমালোচক তৈরি করা যায়, সে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।

তবে সাহিত্য সমালোচনা যাতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমালোচনায় পরিণত না হয় সেই বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। আবার সাহিত্য সমালোচকদের সাহিত্যের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েও ভাবতে হবে। একজন লেখক কোনো একটি সমালোচনায় সাময়িকভাবে আহত হতে পারেন; কিন্তু কোনো একসময় লেখক সমালোচকের দৃষ্টিভঙ্গিকে যথার্থ বলে মেনে নেন। বুদ্ধদেব বসু সমালোচনার বিষয়টিকে পুরোহিতের পূজার মতো মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন। বুদ্ধদেব বসু বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কবিতা’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের যে সমালোচনা করেছেন, তার পরে কবিগুরু বলেছিলেন , ‘শেষ অংশে যে মন্তব্য দিয়েছে তা পড়ে খুব খুশি হয়েছি। চোখের বালি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই তার সমাপ্তিটা নিয়ে আমি মনে মনে অনুশোচনায় ভুগছি, নিন্দার দ্বারা তার প্রায়শ্চিত্ত হওয়া উচিত।’ আবার অন্যদিকে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা নিয়ে সে সময় অনেক বিরূপ সমালোচনা হয়েছে আর এর বিরুদ্ধে প্যারোডিও রচিত হয়েছে। অথচ কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এখন এ কবিতাটি পৃথিবীর সবচেয়ে বহুল পঠিত এবং বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা বলে বিবেচিত হয়েছে। এখানে সময়ের বিবর্তন কবিতাটিকে সাহিত্যের মূল্য দিয়ে মূল্যায়ন করেছে।

পাশ্চাত্য সাহিত্য সমালোচক হোরেস তরুণদের লেখা প্রকাশের জন্য ব্যতিব্যস্ত না হয়ে প্রকৃত শিল্প সৃষ্টিতে আত্মনিয়োগের জন্য উপদেশ দিয়েছেন। কাব্যকে খামখেয়ালি বা পাগলামি বলে মনে করেননি হোরেস। তিনি শিল্পসৃষ্টির ক্ষেত্রে পরিমিত ও সামঞ্জস্যের ওপর গুরুত্ব দেন। হোরেস মনে করতেন সবার মধ্যে একই ধারার শিল্প বা সাহিত্যকর্মের প্রতিভা থাকবে এটি সঠিক নয়, যার যে ধাঁচের শিল্প ধারার সামর্থ্য বা সম্ভাবনা বেশি তার সেই দিকটাই বেছে নেয়া উচিত। তার তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রধান উপাদান ছিল কবি ও সাহিত্যিকরা তাদের ভাষা প্রয়োগ ও শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন ধারণা সৃষ্টি করবে, যা একে অন্য থেকে ভিন্ন হবে আর এ ভিন্নতার আস্বাদন মানুষের মধ্যে ভাবনা বৈচিত্র্য সৃষ্টি করবে। সাহিত্য সমালোচক লঙ্গিনাস সাহিত্যে সাবলিমিটি ধারণার প্রবক্তা। তিনি বিশ্বাস করতেন, যিনি মানুষ হিসেবে মহৎ ও উন্নত দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী শুধু তার পক্ষেই উচ্চস্তরের সৃজনশীল সাহিত্য রচনা সম্ভব। কারণ তার মতে উৎকৃষ্ট রচনা হল মহৎ চিত্তের প্রতিধ্বনি। সাবলাইম কথাটি দিয়ে তিনি যে মহিমান্বিত সাহিত্যকে বুঝিয়েছেন, সে সাহিত্য পাঠককে এমনভাবে অনুপ্রাণিত করবে যা একবার পড়েই পাঠকের তৃপ্তি মিটবে না, যতবারই পড়বে ততবারই তার মধ্যে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হবে। এ ধরনের বিশ্লেষণগুলো প্রমাণ করে সাহিত্য সমালোচনার কারণেই সাহিত্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। ফলে একজন পাঠক সাহিত্যের আদি রূপ থেকে বর্তমান রূপ পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা অর্জন করে। যার মাধ্যমে সে প্রাচীনতম সাহিত্য থেকে ইতিহাসের শিক্ষাগ্রহণ ভবিষ্যৎকে বাস্তববাদী জীবনধারায় সম্পৃক্ত করতে পারে। আমরা জ্ঞান, মেধা, দর্শন, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও উন্নয়নভিত্তিক সমাজের কথা বলি; কিন্তু সাহিত্যচর্চাভিত্তিক সমাজের কথা খুব একটা বলি না। কিন্তু জ্ঞানভিত্তিক সমাজের ভিত্তি গড়ে উঠতে পারে সাহিত্যচর্চাভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে। আর সাহিত্যকে পরিশীলিত সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত করে সমাজকে যেভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব, সেটি আর অন্য কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

সাহিত্যের প্রকৃত প্রকাশ ঘটে মাতৃভাষার মাধ্যমে। সাহিত্য যাতে সংস্কৃতিতে রূপ না নিতে পারে সে জন্য বাংলা ভাষার ওপর নানা সময়ে বিভিন্নভাবে আক্রমণ হয়েছে। সেই আক্রমণ বারবার প্রতিহত করা হয়েছে। এ উপমহাদেশে একমাত্র বাংলাদেশই একটি ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র। বাংলা ভাষাকে ভিত্তি করেই আমাদের স্বাধীনতা। নিত্যনতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন নিয়ে অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে মাতৃভাষা যেন হারিয়ে না যায়, সেই বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যুগের পরিবর্তন হচ্ছে, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হচ্ছে। সভ্যতা অগ্রসরমান। কিন্তু সভ্যতার চাপে মাতৃভাষা হারিয়ে যাক সেটা কখনও আমরা চাই না। সভ্যতা বিকশিত হয়েছে মানুষের সৃজনী শক্তিতে। আর এ সৃজনশীলতার বাহন হচ্ছে ভাষা। আর তাই সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশে সাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম। আমাদের বাংলা সাহিত্যের ভিত্তিও অনেক সুদৃঢ়। আর সে কারণেই বাংলা ভাষা আজ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদার আসনে আসীন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যচর্চা করতে গিয়ে বেশি অগ্রসর হতে পারেননি।

পৃথিবীর ইতিহাসে ইতালির পেত্রার্ক প্রথম সনেটের আবিষ্কারক। পরবর্তী সময়ে শেক্সপিয়র, মিল্টন, বায়রনসহ অনেক কবি সনেট পদ্ধতি অনুসরণ করে সাহিত্যচর্চা করেছেন। বাংলা সাহিত্যে সনেটের জন্মদাতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মধুসূদন মনে করেছিলেন ইংরেজিতে সাহিত্য রচনা করে শেক্সপিয়র, মিল্টন হবেন। কিন্তু বিদেশি ভাষা তাকে মূল্যায়িত না করলেও তিনি বাংলা ভাষার দ্বারা মূল্যায়িত হয়েছেন। এর মাধ্যমে সাহিত্য আমাদের শিখিয়েছে নিজের ভাষার মধ্যেই নিজের শক্ত শেকড় ও বাস্তবতা থাকে; কিন্তু পরের ভাষায় স্বপ্ন ও মোহ থাকলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে অগ্রসর হওয়া যায় না। বাংলা সাহিত্য সম্মেলনে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি তার বিদগ্ধ মতামত তুলে ধরে বলেন, কবি-সাহিত্যিকরাই নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করবেন। এখন পরিবেশদূষণের চেয়েও বড় দূষণ মানুষের মনন ও চিন্তায়। ধর্মের অপব্যবহারে পৃথিবীতে হিংস্রতা ছড়ায় মানুষ। এ কারণে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দূষণ মনুষ্যসৃষ্টি। হিংস্রতার সেই দূষণ থেকে কেউ মুক্ত করতে পারবে না- এমনকি জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানও। এটি পারবেন শুধু কবি-সাহিত্যিকরা। তারাই সৃষ্টি করবেন নতুন পৃথিবী। তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করা দিগি¦জয়ীরা ইতিহাস সৃষ্টি করেন না, তারা শুধু ইতিহাসে আশ্রয় পান। ইতিহাস রচনা করেন লেখকরা। একটি ভালো কবিতা বা গল্প পড়ার মুগ্ধতা সারা জীবনে ভোলা যায় না। তাই যে কবিতা বা গান ভালো লাগে তা বারবার পড়তে বা শুনতে ভালো লাগে।

সম্মেলনে বাংলা ভাষার গৌরবের কথা উল্লেখ করে প্রণব মুখার্জি বলেন, আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেয়েছে বাংলা ভাষা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯১৩ সালে নোবেলপ্রাপ্তি বাংলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। এরপর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষায় প্রতিষ্ঠা পায় ভাষার অধিকার। ভাষা আন্দোলনের সেসব শহীদের কাছে আমরা চিরঋণী। আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসকে তারা রক্ষা করেছেন। তারাই এ দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে রক্ষা করেছেন। তারা আগ্রাসনকারীদের হাতে ইতিহাসকে লুট হয়ে যেতে দেননি। বাংলা সাহিত্য শুধু তার কল্পনা, চিন্তা-প্রতিভার প্রতিফলন নয়, তার মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানবতার প্রতিফলন ঘটে। সভ্যতার ইতিহাসের দিক নির্ণয় করেছেন সেসব মানুষ, প্রফেট, ক্রাইস্ট, বোদ্ধা। এ ইতিহাস কখনোই মুসোলিনি, হিটলার বা স্ট্যালিনের মতো মানুষরা সৃষ্টি করেননি। ইতিহাস সৃষ্টি করেন শিল্পী, সাহিত্যিক ও কবিরা।

মারণাস্ত্রের চেয়ে কলম যে অনেক শক্তিশালী তা সাহিত্যের বহুমাত্রিক রূপের মাধ্যমেই তা প্রকাশিত হয় ও লক্ষ্যের পথে সাফল্য অর্জন করে। তাই সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির চিত্রকর্মের চিন্তা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ট্রাইবোলজি নামে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন, বেগম রোকেয়ার নারীমুক্তি আন্দোলনের সুলতানার স্বপ্ন, উঁচুমানের ফরাসি সাহিত্যের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের প্রভাব ও তা থেকে উত্তরণ, নূর হোসেনের গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক রক্তে রঞ্জিত সাহিত্য ধারণ আর বঙ্গবন্ধুর সাহিত্যে উজ্জীবিত স্বাধীনতার আন্দোলন ও মহাকাব্যিক উচ্চারণ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম- সবকিছুর মধ্যেই মহাসত্যের স্বরূপটি সাহিত্যের মাধ্যমে সভ্যতাকে অগ্রসর হতে সহায়তা করে। আর এটিই সাহিত্যের শক্তি, যার ইতিহাস মানুষ নিজ হাতে গড়ে।


লেখক: শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ।

apps