• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

তুমিও জয়ী হবে একদিন

প্রকাশ:  ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৫৪ | আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ১১:১৯
খুজিস্তা নূর-ই–নাহারিন (মুন্নি)
প্রিন্ট

মানুষের মেধা, গুণ, সৌন্দর্য এবং আবেগ থাকা জরুরি। কিন্তু প্রতিটি মানুষের মাঝেই সমস্ত গুণাবলী থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই। যে ভালো রান্না করে কিংবা সুন্দর করে নিজেকে সাজায় সেও একজন গুণী নারী।

আমাদের নানী-দাদীরা H₂O এবং Wish এর অর্থ জানতেন না কিন্তু তাঁরা আদর জানতেন, স্নেহ আর মায়া-মমতা জানতেন, দায়িত্বশীলতা বুঝতেন। তাঁদের আত্মত্যাগের প্রোডাক্ট আজকের আমরা। তাঁদের জীবন কি পুরোপুরি ব্যর্থ ছিল বলে মনে করেন! মোটেও না বরং তাঁরা সুখী ছিলেন। মানুষ যত কম জানেন এবং বোঝেন ততো বেশি সুখী হন। কারণ তাদের চাহিদা কম থাকে।

আগেকার আমলে পুরুষরা সুখী ছিলেন কর্তৃত্ত্ববাদী ছিলেন, কারণ নারীরা নিজেদের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন না।

হয়তো ‘'মিস বাংলাদেশ’’ হওয়ার যোগ্যতা নেই, কিন্তু ব্যক্তি জীবনে অন্যকে সুখী করার ক্ষমতা যদি থাকে, তা-ই অসাধারণ গুণ বলে বিবেচিত হবে একদিন। অতএব সমালোচনায় জর্জরিত না করে ওদের জন্য শুভ কামনা, যেন একটি পরাজয় ওদের জীবনের গতিকে ব্যাহত না করে ।

অনেক নামকরা নারী মডেল ওদের গাধা বলছে, ওদের নিয়ে ট্রল করে নিজেদের মেধাবী প্রমাণের চেষ্টা করছে কিন্তু ‘মানুষকে ছোট করে যে সে নিজে বড় হয় কী করে’! ওদের অজ্ঞতার ব্যাপারে আমি দ্বিমত পোষণ করছি না কিংবা ওদের ভুলের ব্যাপারে সাফাই গাইছি না। কেবল বলতে চাইছি পুরোটা জীবন এখনও পড়ে আছে, ওদের ভবিষ্যৎ জীবনকে নরক বানিয়ে তুলো না। তোমাদের ক্ষণিকের মজা ওদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।

করণ জওহরের সঙ্গে আলিয়া ভাটের এক টকশোতে বর্তমানে ভারতের প্রেসিডেন্টের পৃথ্বীরাজ চৌহান বলেছিলেন, এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল কিন্তু তাই বলে ওর অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ অব্দি বিচারকদের সমস্ত প্রশ্নও যে গুরুত্ব বহন করেছে তা কিন্তুু নয়। বরং অনেক প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। যেমন- একজন নাসার গবেষণার কথা বলেছেন, কোথায় পেয়েছেন এমন কথা তাঁর উত্তর কিন্তু নিজেও দিতে পারবেন না।

আমাদের প্রিয় বাকের ভাই কেন হাজার টাকার মেশিনের বদলে কষ্টার্জিত অর্থ উপার্জনে সুন্দরীকে উপদেশ দিলেন তাও আমার মাথায় ঢুকল না। ওরকম একটা আলাদীনের চেরাগ পেলে দিনটিকে উপভোগ করতাম, পুরো পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াতাম, আরও কত ভালো ভালো না করা কাজ আছে, যা সময়ের অভাবে করতে পারি না এমন কাজ গুলো করতে পারতাম। বৃথাই দিনমান এতো কষ্ট, খাঁটা-খাটুনি, জীবন-যুদ্ধ, অফিসেই সারাদিন শেষ। জীবন সময়ের ঘোরটুপে বাঁধা মায়ায় জড়ানো মরীচিকা বৈ আর কিছু তো নয় !

একজন মেয়ের উত্তর আমার ভালো লেগেছে, ‘স্পেসে যেতে হলে পুতিন কিংবা ট্রাম্প নয় প্রেসিডেন্ট হামিদকেই সঙ্গে নিবে কারণ তিনি হাসাতে জানেন ’। আমাদের কৌতুক প্রিয় প্রেসিডেন্ট নাতনীর বয়সী মেয়েটির মুখ থেকে এমন কথা শুনে নিশ্চয়ই বেজায় খুশী। অনেকে বলার চেষ্টা করছে এটাও বোকামি, যারা এমনতর বলছে তাঁদের যুক্তি হচ্ছে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চেয়ে কেন আমাদের মত পিছিয়ে থাকা দেশের প্রেসিডেন্ট ! কিন্তু মেয়েটি কেবল আমাদের প্রেসিডেন্টকেই নয় দেশকেও বড় ভেবেছে যা দেশপ্রিয় প্রতিটি নাগরিকের অবশ্যই কর্তব্য । তা ছাড়া অমন একটি রুক্ষ শুষ্ক বেরসিক জায়গায় ক্ষমতাবান এবং বহুল সমালোচিত লোক নিয়ে যেয়ে হবেটা কি, প্রেসিডেন্ট হামিদের মত অনুভূতি প্রবণ, সৎ, দায়িত্বশীল, রসিক মানুষটিই শ্রেষ্ঠ !

আরেকটি মেয়ে হলিডেতে মক্কায় যেতে চায়, মুসলমান হিসেবে যেতে চাইতেই পারে, অসুবিধা কী! আমাদের দেশ পর্যটনে অতোটা আগানো নয় যে সবার সব বিষয়ে জ্ঞান থাকবে। আর মুসলমান মেয়েরা যদি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করতে পারে তবে তার ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে সমস্যা কোথায়? হেমা মালিনী, মাধুরী দীক্ষিত, ঐশ্বরিয়া রায়, শিল্পা শেঠীসহ বোম্বের অনেক নায়িকারাই ছুটিতে ধর্মীয় উপাসনালয়ে যেতে পছন্দ করে এবং হামেশাই যেয়ে থাকে। আমাদের দেশের নায়ক রাজ রাজ্জাক, শাবানা, হালের অনন্ত জলিল-বর্ষাসহ অনেক নায়ক-নায়িকাই হজ্ব পালন করেছেন। আমাদের মেয়েটির ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে হাসাহাসি করে ছোট করার চেষ্টা কেবল অসুন্দরই নয়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে মনে করি ।

সুন্দরী নারীকে মেধাবী হতেই হবে এমন কোন কথা নেই । মেয়েটি সুন্দরী এবং অন্যান্য গুণের জোরে এতদূর আসতে পেরেছে এটাই বা কম কিসে ? মেয়ে তোমাদের জন্য অফুরান শুভকামনা- জীবনে একদিন জয়ী হবে তুমিও ।

খুজিস্তা নূর-ই–নাহারিন (মুন্নি),H₂O