• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার পিটিশনে সমর্থন দিন

প্রকাশ:  ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৫৫
এফ এম শাহীন
প্রিন্ট

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে দেয়ার আর্জি জানিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বরাবর অনলাইন পিটিশনে গণস্বাক্ষর গ্রহণ চলছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গৌরব ’৭১ এবং মুভমেন্ট ফর ডিপারটেশন অব কিলার নূর চৌধুরী টু বাংলাদেশ যৌথভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছে।

অনলাইনে এই পিটিশনে সমর্থন জানাতে https://www.ipetitions.com/petition/petition-for-deportation-of-killer-nur-chowdhury -লিঙ্কে ভিজিট করুন।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার প্রায় ৩৫ বছর পর ২০১০ সালে পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হয় যদিও আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিল ১২ জনের। বাকি খুনিদের একজন বিদেশে মারা গেছে আর ছয়জন খুনী এখনও পলাতক। এদের মধ্যে কানাডায় নূর চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্রে রাশেদ চৌধুরীর অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত সরকার। তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। মৃত্যুদণ্ডবিরোধী কানাডা নূর চৌধুরীকে ফেরাতে চাইছে না তার নীতির কারণে।

বাংলাদেশকে অবশ্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, তিনি নূর চৌধুরীকে ফেরানোর বিষয়ে একটি উপায় খোঁজার চেষ্টা করছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের কালরাতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ধানমণ্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্ত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান। দুটি মামলার কথা তুলে ধরছি- যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভিনিয়ায় ১৯৮৩ সালে হত্যা মামলায় জোসেফ জন কিনলার নামের এক আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়। পরে সে মৃত্যুদণ্ডের ভয়ে পালিয়ে গিয়ে কানাডায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আবেদনে কানাডা তাকে ফেরত দেয় এবং তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না এমন কোন শর্ত কানাডা সেই সময় দেয়নি। ঠিক তার পরের বছর ১৯৮৪ সালে একই অবস্থার মুখোমুখি হন চিটারড এইজ নামের যুক্তরাষ্ট্রের আরেক নাগরিক কিন্তু তাকেও ফেরত দেয় কানাডা।

বর্তমান প্রচলিত আইনে কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিকে ফেরত দেয় না কানাডা। আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষকদের মতে এমন অনেক দৃষ্টান্ত আছে যা সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে খুনী নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব।

প্রিয় প্রজন্ম, ইতিহাসের দায় মুক্তির জন্য আমরা এই পিটিশনে সাইন করে সারা বিশ্বকে জানাতে চাই খুনীরা সেদিন শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করেনি, নির্মমভাবে হত্যা করেছিল নিষ্পাপ শিশু রাসেলকে, হত্যা করেছিল গর্ভবতী মাকে, হত্যা করেছিল নারীকে। তাই বাংলাদেশের অকৃতিম বন্ধু পৃথিবীর অন্যতম মানবিক রাষ্ট্র কানাডা এই জঘন্য খুনীর নিরাপদ আবাসভূমি হতে পারে না! ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক হাজারেরও বেশি পিটিশনে সাইন করেছে। আমরা সবাই সোচ্চার হলে সেটি দ্রুত কোটিতে রূপান্তর হতে পারে। আমাদের প্রজন্ম প্রমাণ দিয়েছে ২০১৩ সালে শাহবাগ গণজাগরণ সৃষ্টি করে। আমরা সে দিন জেগে উঠেছিলাম বলেই যুদ্ধাপরাধী কুখ্যাত খুনী কসাই কাদেরের ফাঁসি নিশ্চিত হয়েছিল। ইতিহাসের কলঙ্কমোচনের জন্য আরেকবার জেগে উঠার সময় এসছে। আসুন মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে পিটিশনে ঢুকে আপনার নাম এবং মেইল এড্রেস লিখে পিটিশন সাইন করি এবং বিশ্বজনমত গঠন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের আত্মস্বীকৃত খুনী নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের দণ্ড কার্যকরে ভূমিকা রাখি।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, গৌরব ’৭১ ও সংগঠক গণজাগরণ মঞ্চ