• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

শুধু ব্রাজিলই নয়, সাম্বার ছন্দে ছাত্রলীগও!

প্রকাশ:  ০৭ জুলাই ২০১৮, ১৭:৪১
মোফাজ্জল করিম
প্রিন্ট

গত ২ জুলাই রাতে টিভিতে মেক্সিকোকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে দেখলাম ব্রাজিলকে। বাংলাদেশের অগণিত ব্রাজিল সমর্থকের কাছে এ জয় নিশ্চয়ই স্বস্তি বয়ে এনেছে। একটি দৈনিকের পরের দিনের প্রথম শিরোনাম : সাম্বার ছন্দে ব্রাজিল। কালের কণ্ঠ’র প্রথম পৃষ্ঠার প্রধান শিরোনাম : দুরন্ত নেইমারে দুর্বার ব্রাজিল। ওই পৃষ্ঠায়ই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার একটি ছবি ছাপা হয়েছে। ওতে এক তরুণীর ওপর কতিপয় যুবক হামলে পড়ে তার চুলের মুঠি, জামা-কাপড় ইত্যাদি ধরে টানাটানির ছবি আছে। অসহায় মৃগশিশুর মত সেই তরুণীটির ওপর হামলার এই ছবিটির ক্যাপশন বোধ হয় হতে পারত : ‘দুরন্ত হামলায় দুর্বার ছাত্রলীগ’। কারণ সব পত্র-পত্রিকায়ই রিপোর্ট এসেছে, ছাত্রলীগের হামলায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা মিটিং-মিছিল করতে পারেনি। এই সব হামলায় আক্রমণকারীরা শুধু কিল-ঘুষি নয়, লাঠি, রড, পাইপ, এমনকি হাতুড়ি পর্যন্ত ব্যবহার করেছে বলে বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। আর একটি পত্রিকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একজন শিক্ষার্থীকে লাঠিপেটার ছবি দেখে মনে হয়, যেন কোনো মানুষকে নয়, পিটিয়ে সাপ মারছে কতিপয় যুবক।

হামলাকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছে, শিক্ষাঙ্গনে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে নাকি তারা আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করেছে। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার এই পবিত্র দায়িত্বটি তাদের কে দিয়েছে? আন্দোলনকারীরা কি কোনো সহিংস আচরণ করেছিল? তারা কি বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয় এমন কোনো বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছিল? নাকি কোনো জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছিল? দেশে কি আন্দোলন-মিটিং-মিছিল নিষিদ্ধ করেছে সরকার? তা হলে? আন্দোলন করা, সমাবেশ করা—এসব তো একজন নাগরিকের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব তো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। নিশ্চয়ই তা কোনো ছাত্রসংগঠনকে দেয়নি সেই কর্তৃপক্ষ। আর যদি কোনো গোপন নির্দেশে বা মৌখিকভাবে তা কাউকে দেওয়া হয়ে থাকে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ।

পত্রিকায় দেখলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রক্টর বলেছেন, তিনি বিষয়টি সম্বন্ধে জানেন না। কেউ তাঁকে লিখিতভাবে বা মুঠোফোনে কিছু জানায়নি। তাঁর এই বক্তব্য আমাদের বিস্মিত করেছে। গত ক’দিন ধরে আন্দোলনকারীরা সমাবেশ করছে, তাতে বিক্ষুব্ধ একদল বাধা দিচ্ছে, আন্দোলনকারীদের প্রহার করে হাসপাতালে পাঠাচ্ছে, পুলিশ ধরপাকড় করছে, আর কর্তৃপক্ষ বলছে তারা জানে না, তাদের কেউ লিখিতভাবে কিছুই জানায়নি। অবাক করার মত কথাই বটে। যারা আন্দোলন করছে, প্রতিপক্ষের হাতে প্রহৃত হচ্ছে, পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করছে, তারা তো আপনাদেরই ছাত্র। আপনারা তাদের অভিভাবক। অন্য যে দল ক্ষিপ্ত হয়ে বাধা দিচ্ছে, হামলা করছে, হলে হলে গিয়ে প্রতিপক্ষকে খুঁজে বেড়াচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে, তারাও আপনাদের ছাত্র। আপনারা কি এসবের কোনো খবর রাখেন না? নাকি আপনারা মনে করেন, ছাত্ররা যা খুশি করুক, আমরা এতে জড়াতে যাব কেন? এটা তো কোনো কথা হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি যে এতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তা কি আপনারা মানেন না? উনুনের আগুন যখন খড়ের চালে উঠে যাবে, তখন সেটা নেভানো কি সহজ হবে?

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা-সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরই নির্দেশে পুলিশ ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে থাকে। কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সময়ও কোথাও কোথাও তারা অকুস্থলে উপস্থিত ছিল। হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার জন্য তাদের কোনো প্রচেষ্টার কথা কোনো সংবাদমাধ্যমে আসেনি। অবশ্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আহত কোটা সংস্কার আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পত্রিকায় এসেছে। প্রশ্ন হলো, হামলার আগে পুলিশ হামলাকারীদের প্রতিহত করল না কেন? যারা হামলা করেছে তাদের নাম, পরিচয়, এমনকি ছবিও পত্র-পত্রিকায় এসেছে। এরা সবাই চেনা মুখ। এদের পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আটক করল না কেন? এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ সাধারণত যে জবাব দেয়, তা-ও আমরা জানি। তারা বলবে, এ ব্যাপারে থানায় মামলা হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন? আপনাদের সামনে যেখানে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সেখানে অপরাধীকে পাকড়াও করতে বাধা কোথায়? তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করুন। সে নির্দোষ হলে অবশ্যই মুক্তি পাবে। আর দোষী সাব্যস্ত হলে আইনানুযায়ী দণ্ডিত হবে। তবেই না দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। জনগণের আস্থা আসবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা প্রশাসনের ওপর। আর তা না করে কোনো দল বা গোষ্ঠীর অপকর্মে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা প্রদান করলে, কারো সাংবিধানিক অধিকার চর্চায় বাধা দিলে (যেমনটি দেখলাম সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের ক্ষেত্রে করা হয়েছে।) প্রশাসনের ভাবমূর্তি বলতে আর কিছু থাকবে না।

আর প্রশাসনের কথা যখন উঠলই, তখন একটা কথা দয়া করে কেউ একটু বুঝিয়ে বলুন তো। দেশের প্রধানমন্ত্রী—যিনি সরকারপ্রধান তথা সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্তৃপক্ষ—তিনি সংসদে একটি ঘোষণা দেওয়ার পর তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ কেন আড়াই মাসেও নেওয়া হয় না? হ্যাঁ, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কোটা সংস্কারের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোটাপদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার কথা বলছি। জানি না, কোন বুদ্ধিদাতা গণেশের সলায় আজ অব্দি ওই ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুধু আজই বোধ হয় জানলাম, বিষয়টি পর্যালোচনা করে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য ক্যাবিনেট সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে দেশ এখন মহাশূন্যে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে, পাতালে চালাচ্ছে সাবমেরিন, সে দেশে একটি কমিটি গঠন করতে আড়াই মাস লাগে—এটা শুনতেও কেমন বেখাপ্পা লাগে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা কি এতই তুচ্ছ ব্যাপার যে তা বাস্তবায়ন করতে কালক্ষেপণ করা যায়? হ্যাঁ, কোটাপদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল করতে হয়ত কিছু কিছু প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক অসুবিধা থাকতে পারে, মানলাম; কিন্তু তা নিয়ে বসে থাকলে যে জনমনে নানা প্রকার প্রশ্নের উদয় হতে পারে, যা সরকারের জন্য হতে পারে যথেষ্ট বিব্রতকর, তা বিবেচনা করবেন না? যা হোক, এখন কোনো গোঁজামিল না দিয়ে যথাসম্ভব দ্রুত একটি বাস্তবমুখী ও জনকল্যাণমূলক প্রজ্ঞাপন জারি করে ইস্যুটির সুসমাধান হওয়া উচিত।

দুই.

আরেকটি কথা। সব কিছুতে রাজনীতি টেনে এনে জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর চেষ্টা করাও ঠিক নয়। এটা করা সম্ভব কেবলমাত্র সেসব সমাজে, যেখানে মানুষ রাজনৈতিকভাবে তেমন একটা সচেতন নয়। সেসব সমাজে কুইনাইনকেও রসগোল্লা বলে খাইয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশের একটি অতিসমৃদ্ধ রাজনৈতিক ঐতিহ্য আছে। এ দেশের স্বাধীনতা পদ্মা নদী দিয়ে ভেসে আসা কোনো শাপলা ফুল নয়, কিংবা সোনার থালায় রুপালি আখরে লেখা কোনো দানপত্রও নয়। এ দেশের মানুষ যুগে যুগে লড়াই করেছে নিজের অধিকারের জন্য, অকাতরে জীবন দিয়েছে স্বাধীনতার জন্য। কাজেই সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি সংস্কারের জন্য যারা আন্দোলন করছে, তারা অমুক দলের চর, তমুক দলের দালাল ইত্যাদি বলে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা জায়েয করা বা তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় (যা হাল আমলের সিআরপিসির ৫৪ ধারা হওয়ার সম্ভাবনা আছে) তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে বিন্দুতে সিন্ধু দেখার প্রবণতা পাবলিক কিছুতেই সমর্থন করবে না। কোটাপদ্ধতি বাতিল নয়, সংস্কারের জন্য তরুণসমাজ আন্দোলন করছে—এটা সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে। বুঝতে পেরেছে বলেই দেশের আপামর মানুষ—শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই এই আন্দোলন সমর্থন করে। এই সমর্থন নীরব সমর্থন। এটা কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয় বলেই সাধারণ মানুষ শাহবাগে আর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ছাত্রদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে না। কিন্তু আলাপ-আলোচনা ও সহমর্মিতার পথে না গিয়ে দমন-পীড়নের পথ বেছে নিলে, কোনো ছাত্রসংগঠনকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মাঠে নামালে, এর পরিণতি খারাপ হতে বাধ্য।

তিন.

কোনো যুক্তিসংগত, ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়াতে লজ্জার কিছু নেই। মেনে নিলে হেরে গেলাম—এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। আর কোনো দাবি থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা বাস্তবকে অস্বীকার করার মত। মরুভূমিতে ঝড় উঠলে উট নাকি বালুকারাশির আড়ালে মুখ লুকিয়ে ভাবে, সে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। ঝড় এসে বালুর স্তূপ ও উট সবাইকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। সেই জন্য ঝড়ের আভাস পেলেই বালুর স্তূপের আড়ালে মুখ না লুকিয়ে দ্রুত কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। এ প্রসঙ্গে শুধু কোটাপদ্ধতি সংস্কারের জন্য আন্দোলনকারী নয়, প্রেস ক্লাবের সামনে শত শত অনশনরত শিক্ষক-শিক্ষিকার দাবির কথাও উল্লেখ করতে হয়। সরকারি কর্মচারী, শ্রমিক, সাংবাদিক—সবাই নিজেদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য দাবি তুলতে পারেন। এঁদের মধ্যে যাঁদের তদবিরের জোর আছে, সরকার-বেসরকারের সঙ্গে উঠাবসা আছে, তাঁরা মিটিং-মিছিল-অনশন না করেই নিজ নিজ দাবিদাওয়া আদায় করে নেন। দরিদ্র স্কুল শিক্ষকদের খুঁটির জোর, তদবিরের জোর তেমন নেই। তা ছাড়া কর্তৃপক্ষ হয়ত ভাবে, এরা স্কুলে গেলেই কী আর না গেলেই কী, গ্রামের বাচ্চারা পড়ালেখা না করতে পারলে এমন না যে চালের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে যাবে কিংবা দেশের কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবে বিদ্যুতের অভাবে, অথবা কর্তাব্যক্তিদের সত্তর হাজার টাকা দামের মোবাইল ফোন ফেরত দিতে হবে শিক্ষকদের বেতনের টাকা জোগাতে। অতএব, অনায়াসে নাকে তেল, কানে তুলা দিয়ে দিনের পর দিন ঘুমিয়ে কাটানো যায়। আর এদের আন্দোলন? মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত। ওই অনশন ধর্মঘট করে করে নিজে শুঁটকি মাছ হওয়া পর্যন্তই। এরপর একদিন ব্যর্থ দেবদাস হয়ে ঘরের মানুষ ঘরে ফিরে যাবে। বৌ-বাচ্চা ফেলে কত দিন আর প্রেস ক্লাবের সামনের ইটের রাস্তায় শুয়ে শুয়ে সারা দিন গাছগাছড়ার ফাঁক দিয়ে এক চিলতে নীল আকাশ ও সদা ব্যস্ত কাকপক্ষীর ওড়াউড়ি দেখা যায়।

খারাপ লাগে, যখন দেখি পুরো বিষয়টির মানবিক দিকটা কেউ দেখে না। সামান্য ক’টি টাকার জন্য দরিদ্র শিক্ষকেরা দিনের পর দিন শহরের পাষাণের বুকে মাথা খুঁড়ে মরছেন, আর আমরা চার লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার কোটি টাকার বাজেট বানিয়ে বাংলাদেশকে খাইয়ে-পরিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আত্মপ্রসাদ লাভ করছি। কার জন্য, কাদের জন্য এই বাজেট, যদি মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষককে একটু ভদ্রভাবে বাঁচার জন্য মৃত্যুর পথ বেছে নিতে হয়?

চার.

শুরু করেছিলাম পত্র-পত্রিকায় পড়া ছাত্রলীগের তাণ্ডব দিয়ে। শেষ করি আবার সেই প্রসঙ্গে ফিরে গিয়ে। একটি আবেদন করব ছাত্রদের কাছে এবং তাদের গুরুমহাশয়দের কাছে। আপনারা একটিবার ভেবে দেখুন, যাদের লাঠিপেটা করছেন, হলছাড়া-শিক্ষাঙ্গনছাড়া করছেন, তারা কারা? তারা কি আপনার ভাই, আপনার বোন, আপনার সন্তান নয়? আপনি যেমন এ দেশের একজন নাগরিক, আপনি যেমন সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, সব সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে চান, এরাও কি তা করতে পারে না? আপনারা ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় আছেন, হয়ত ভাবছেন, যে কোনো অন্যায়ই করুন না কেন, আপনাদের কেশাগ্রও কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। কিন্তু ক্ষমতা কি কোথাও চিরস্থায়ী হতে পেরেছে? আর ক্ষমতা আছে বলেই কি একটি তরুণীকে প্রকাশ্য রাজপথে লাঞ্ছিত করবেন? পিটিয়ে সাপ মারার মত একজন সতীর্থকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠাবেন? আপনাদের বিবেকের কাছে এই আবেদনটি রাখলাম, একটু ভেবে দেখবেন, প্লিজ!

আর ‘কর্তৃপক্ষকে’ বলি, ছাত্রলীগ সাম্বা ছন্দে ফেরায় আপনারা যে ভাবছেন সামনের নির্বাচনে তারা নেইমার, উইলিয়ান হয়ে দারুণ ‘খেইল’ দেখাবে তা তো নাও হতে পারে। লাই পেতে পেতে আগেই যদি তারা ফ্রাংকেনস্টাইন হয়ে যায় তাহলে?

লেখক : সাবেক সচিব, কবি

[email protected]

সূত্র: কালের কণ্ঠ

ছাত্রলীগ