• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

জাদু জানেন শেখ হাসিনা!

প্রকাশ:  ২৭ জুন ২০১৮, ২০:৩৫
প্রভাষ আমিন
প্রিন্ট

৬৯ বছর আগে, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের কেউ এখনও বেঁচে আছেন কিনা, জানি না। থাকলেও বয়স ৯০-এর ঘরে। কিন্তু সেদিন তারা সেখানে যে স্বপ্নের বীজ বুনেছিলেন, তা আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে; তা দেখে নিশ্চয়ই তারা গর্বিত। রোজ গার্ডেনে উপস্থিত থাকতে পারেননি শেখ মুজিবুর রহমান। কারণ, তখন তিনি ছিলেন কারাগারে। ১৯৪৭ সালে মুসলিম লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু দুই বছরেই হতাশ হয়ে যায় এ অঞ্চলের মানুষ। তখন সরকারি মুসলিম লীগের পাল্টা হিসেবে গঠিত হয় জনগণের মুসলিম লীগ, মানে আওয়ামী মুসলিম লীগ। ১৯৫৫ সালে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে যাত্রা শুরু হয় অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগের। রোজ গার্ডেনে থাকতে না পারলেও নবগঠিত সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান শেখ মুজিবুর রহমান। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হলেও আওয়ামী লীগ সত্যিকারের জনগণের সংগঠন হিসেবে বিস্তার লাভ করে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই। পরে তিনি শুধু আওয়ামী লীগ নয়, পরিণত হন বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকেও। তিনি বাঙালির হৃদয়ে বুনে দেন মুক্তির বীজ। পরিণত হন বঙ্গবন্ধুতে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে সংঠনের বিস্তার, তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সেই সংগঠন চূড়ান্ত বিকাশ লাভ করেছে। বঙ্গবন্ধু এনে দিয়েছেন স্বাধীনতা, তার কন্যা এনে দিয়েছেন সমৃদ্ধি।

৭৫’র ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল আওয়ামী লীগ। ৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে আবার ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। তার পর থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টানা প্রায় ১০ বছর ক্ষমতায় আছে দলটি। টানা ক্ষমতায় থাকায় দলটি নানা সমস্যায় পড়েছে। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা কানাঘুষা। কিন্তু গত ২৩ জুন দলের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বিশেষ বর্ধিত সভায় শেখ হাসিনা বুঝিয়ে দেন নিরাপত্তার কঠোর ঘেরাটোপে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও দলের সঙ্গে, তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগটা এখনও আগের মতোই নিবিড়। সব কানাঘুষার খবরই তিনি জানেন। শেখ হাসিনা জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিদিন তিনি মোবাইলে তিন/চার শ এসএমএস পান। চেষ্টা করেন সব পড়তে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন। ব্যবস্থা যে নেন, তা কয়েকদিন আগে জানা গেছে। ঢাকার বাইরে এক গরিব ভ্যানচালকের ভ্যানটি হারিয়ে গেলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নাম্বারে এসএমএস করে তার দুর্দশার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় জেলা প্রশাসন সেই ব্যক্তিকে একটি ভ্যান উপহার দেয়। নিরাপত্তায় আপাতত বিচ্ছিন্ন মনে হলেও বঙ্গবন্ধু কন্যাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব নয়। তিনি শুধু সংগঠন নয়, সারাদেশের সব কিছুর খুঁটিনাটি জানেন।

দেশে এখন আওয়ামী লীগের কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। মাঠে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির অবস্থা এখন বেহাল। দলের চেয়াপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দণ্ড মাথায় নিয়ে লন্ডনে পলাতক। এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নিজেই। বড় সংগঠনে অন্তর্দ্বন্দ্ব থাকেই। তবে টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকায় অন্তর্দ্বন্দ্ব এখন ছড়িয়ে পড়েছে দলের প্রতিটি স্তরে। এমন অনেক লোককে চিনি, যারা শেখ হাসিনার নির্দেশে ১০ তলা থেকে অবলীলায় লাফিয়ে পড়বে। কিন্তু তার সমস্ত চেষ্টা নিজের এলাকার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যকে হারানোর জন্য। প্রয়োজনে অন্য এলাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগের জন্য পকেটের পয়সা খরচ করে কাজ করতে তৈরি তারা। কিন্তু নিজের এলাকার এমপিকে হারানোর জন্য জানপ্রাণ দিয়ে নামবেন। তারা অপেক্ষা করছেন, আওয়ামী লীগ ২৯৯ আসন পাক, শুধু নিজের আসনটি ছাড়া। গল্পটা সেই রাজার দুধের পুকুরের মতো হয়ে যাবে না তো? ৩০০ আসনেই এমন ঘরের শত্রু বিভীষণরা সক্রিয়। শেখ হাসিনা একদম সঠিকভাবে বলেছেন, ‘তারা সরকারের সাফল্য প্রচারের চেয়ে দলীয় প্রতিপক্ষের বদনামে বেশি সময় দেন। বিএনপি নিয়েও তাদের মাথাব্যথা নেই। তারা শুধু নিজের এলাকায় কিভাবে নৌকাকে ডোবানো যায়, তা নিয়ে ব্যস্ত।’ শেখ হাসিনা নির্বাচনকে সামনে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। যাকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হবে, তার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঘরের শত্রুদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কেউ যদি আমার দলের উন্নয়নের কথা না বলে কোথায়, কার কী দোষ আছে সেগুলো খুঁজে বের করে জনগণের কাছে গিয়ে বলেন, তারা আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাবেন না।’ প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন, যদি কেউ ৫ বছর, ১০ বছর সরকারে থাকার পর দলের বিরুদ্ধে বদনাম করে, তাহলে জনগণও তাদের ভোট দেবেন না। আজকাল সব কথাই মোবাইলে রেকর্ড হয় এবং চাইলে তিনি সেগুলো শুনতেও পারেন বলে সবাইকে সতর্ক করে দেন শেখ হাসিনা। সমস্যা যে শুধু দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব, তাই নয়; দলীয় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাস্তানির অভিযোগ তো রয়েছেই, রয়েছে দুর্নীতি ও টাকার বিনিময়ে কাজ করার অভিযোগও। এসব অভিযোগ শেখ হাসিনার অজানা নয়। তিনি হুঁশিয়ার করেছেন এমপিদের, ‘আমাদের যারা সাংসদ আছেন, তাদেরও আমি বলবো, একটা কথা মনে রাখবেন। জনগণ কিন্তু খুব হিসাবী। কেউ দুর্নীতি করলে জনগণ কিন্তু সেটা ঠিকই মাথায় রাখবে। সেটা কিন্তু তারা ভুলে যায় না। কাজ করতে গিয়ে টাকা নিলে পরে ভোট চাইতে গেলে তারা বলবে, টাকা দিয়ে কাজ নিয়েছি, ভোট দেবো কেন?’

তবে আওয়ামী মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত বহিরাগত ইস্যু। আওয়ামী লীগাররা আদর করে তাদের হাইব্রিড, কাউয়া, মুরগি ইত্যাদি নামে ডাকেন। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। ৭৫’র পর ২১ বছর নানা ঝড়-ঝাপটা, দমন-পীড়ন সত্ত্বেও দলটি রাজপথে টিকে ছিল এই তৃণমূলের ভর করেই। ক্ষমতার লোভে নানা মহলের লোকজন ক্ষমতাসীন দলে ভিড়ে যায়। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নতুন নতুন স্মার্ট লোকজন এখনও আওয়ামী লীগের চারপাশে। আনস্মার্ট, খ্যাত তৃণমূলের কর্মীরা এখন পেছনের সারিতে। এক উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকে চিনি। যিনি ৭৫’র পরের দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের পাশে ছিলেন। তিনি একজন স্কুল শিক্ষকও। এখন তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। সম্প্রতি দেখা হতেই দুঃখ করে বললেন, মায়ার টানে এখনও আওয়ামী লীগের কোনও অনুষ্ঠান হলেই ছুটে যাই। কিন্তু গিয়ে ভয়ে-লজ্জায় পেছনের সারিতে চুপচাপ বসে থাকি। এমন সব লোক দেখি, যাদের সঙ্গে লড়াই করে রাজনীতি করেছি, তারাই এখন সামনের চেয়ার দখল করে রাখে। আর অপমানের ভয়ে আমরা পেছনে বসে থাকি। এই হাহাকার আওয়ামী লীগের তৃণমূলজুড়েই। নিশ্চয়ই এই হাহাকার পৌঁছেছে শেখ হাসিনার কানেও। তিনি জানেন, দল ক্ষমতায় থাকলে সুবিধাভোগী শ্রেণি অন্য দল থেকে এসে ভিড় করলেও অসময়ে তাদের পাওয়া যায় না। তিনি বলেছেন, ‘যেহেতু আমরা ক্ষমতায়, বিভিন্ন দল থেকে অনেকেই ছুটে আসবে। গ্রুপিং করার জন্য বাছবিচার ছাড়াই অনেকে যাকে পাচ্ছে, তাকে নিয়ে নিজের শক্তি দেখাতে চায়। এরা আসে মধু খেতে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তারা ভাবে এখানে এলে মামলা থেকে বাঁচতে পারবে। ক্ষমতার সঙ্গে থাকলে পয়সা বানাতে পারবে।’ তার মানে শেখ হাসিনা সমস্যার খুঁটিনাটিও জানেন। তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, তাদের তালিকা করা আছে। যারা তাদের প্রশ্রয় দিয়েছে, তাদের প্রতি আহবান জানান তাদের বের করে দেওয়ার জন্য। আওয়ামী লীগের কেউ কেউ মনে করেন, কেউ দলে যোগ দিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানানো উচিত। তাতে দল বড় হবে, শক্তিশালী হবে। এই ধারণার ফাঁক গলে এখন আওয়ামী লীগ যেন এক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জামায়াত-বিএনপি-চোর-ডাকাত-সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজ সবার জন্যই এখন আওয়ামী লীগের দরজা খোলা। পেট্রোল সন্ত্রাস মামলার আসামিরাও এখন বাঁচার জন্য আওয়ামী লীগে ভিড়ে গেছে। কিন্তু মেদবহুল মানুষকে মোটা দেখালেও তার স্বাস্থ্য কিন্তু ভালো নয়। তাই আদর্শবিহীন অনেক লোক দলে যোগ দিলেই দল শক্তিশালী হয় না। এখন তো বাংলাদেশের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ। বিরোধী দলের কাউকে খুঁজে পাওয়াই ভার। ক্ষমতায় না থাকলে তাদের ক’জনকে পাওয়া যাবে? এই সত্যটা শেখ হাসিনা বোঝেন, দলের নেতারা বোঝেন না কেন? আমি অনেকবার দেখেছি, তৃণমূলের ওপর শেখ হাসিনার অগাধ ভরসা। তিনি সবসময় তাদের মূল্যায়ন করেন, সম্মান করেন। তিনি দলের নেতাদের সাবধান করে বলেছেন, ‘দুঃসময়ে যারা মাঠে থাকে, দলের ভার বয়ে রাখে, সেই কর্মীরা যেন অবেহেলিত না হয়।’ শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পর আশা করি সেই অবহেলিত স্কুলশিক্ষক এখন সামনের কাতারেই বসার সুযোগ পাবেন, সম্মান পাবেন।

তবে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর বিশেষ বর্ধিত সভায় শেখ হাসিনার বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নির্বাচন। পরপর দুটি নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ সরকার চালাচ্ছে। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকায় উন্নয়নেও দারুণ ধারাবাহিকতা ছিল। গত ১০ বছরের উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য রেকর্ড তো বটেই, সারাবিশ্বই বাংলাদেশের এই অস্বাভাবিক অগ্রগতিতে বিস্মিত। কিন্তু শুধু উন্নয়ন করলেই মানুষ ভোট দেয় না, এটা অনেকবার প্রমাণিত হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে। তাদের হৃদয় জয় করতে হবে আগে। শেখ হাসিনা খুব পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন, ‘আমরা যে উন্নয়ন করেছি, তাতে মানুষ নৌকায় ভোট দেবে না, এটা হতে পারে না। যদি ভোট না দেয় তবে আপনারাই দায়ী থাকবেন। কারণ আপনারা সঠিকভাবে মানুষের কাছে যেতে পারেননি। তাদের কাছে সরকারের উন্নয়নের কথা বলতে পারেননি। তাদের বোঝাতে পারেননি। আমরা যে কাজ করেছি তা অন্য দল করেননি। তাহলে কেন তারা ভোট পাবেন?’ শেখ হাসিনার এই প্রশ্নের উত্তর যদি দলের মন্ত্রী-এমপি-নেতারা খুঁজে পান, তাহলেই নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব।

আওয়ামী লীগের আরেকটা সমস্যা আছে। সবাই শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে থাকেন, তার ওপর নির্ভর করে থাকেন। সবার ধারণা তাদের নিজেদের কিছু করতে হবে না। শেখ হাসিনা যাদু জানেন। সেই জাদু দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় এনে দেবেন। আর তারা আরামে ক্ষমতা ব্যবহার করবেন। এটা ঠিক, শেখ হাসিনা সত্যি জাদু জানেন। টানা ৩৭ বছর নেতৃত্ব দিয়ে ধ্বংসপ্রায় একটি দলকে পরিণত করেছেন, দেশের সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক দলে। শুধু দল নয়, দেশকেও নিয়ে গেছেন মর্যাদার অন্যরকম আসনে। কিন্তু শেখ হাসিনা যতই যাদু জানুন, ক্ষমতায় আসতে হলে, জনগণের ভোট লাগবে। সেটা নেতাকর্মীরা না বুঝলেও শেখ হাসিনা ঠিকই বোঝেন। তাই তিনি নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনের চ্যালেঞ্জটা বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘নির্বাচনে জনগণ ভোট দেবে। ভোট চুরি, ভোট ডাকাতি করে কেউ জিততে পারবেন না। আওয়ামী লীগ এ বদনাম নেবে না।’ আগের দিনও অন্য এক অনুষ্ঠানে তিনি সুষ্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ মাগুরা, ঢাকা-১০ বা ১৫ ফেব্রুয়ারি মার্কা নির্বাচন করবে না। বিএনপি অংশ না নেওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রার্থীবিহীন, ভোটারবিহীন নির্বাচন আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের সঙ্গে বেমানান। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে দলের মধ্যেই অস্বস্তি আছে। তাই আগামী নির্বাচন নিয়ে অংশগ্রহণমূলক করার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে সবার। শেখ হাসিনাও একাধিকবার এ কথা বলেছেন। তার মানে শেখ হাসিনার আশায় বসে থেকে লাভ নেই। সবাইকে জনগণের দোরগোড়ায় যেতে হবে, নিজ নিজ যোগ্যতায় জিতে আসতে হবে।

দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবির্ষিকীতে গণভবনে সারাদেশ থেকে আসা ৬ হাজারের বেশি তৃণমূলের নেতাকর্মীর কাছে শেখ হাসিনা তার বার্তাটা পৌঁছে দিয়েছেন। সেই নেতাকর্মীরা যদি শেখ হাসিনার বার্তাটি ঠিকমত অনুধাবন করতে পারেন, সেই বার্তা সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারেন, সে অনুযায়ী কাজ করতে পারেন; তাহলেই আগামী নির্বাচনে তারা ভালো কিছু আশা করতে পারেন। নইলে শেখ হাসিনা উন্নয়ন করবেন, আর জনগণ এসে ভোট দিয়ে যাবেন– এই আশায় বসে থাকেলে জনগণ জবাব দিয়ে দিতে পারে, ঘটতে পারে বিপর্যয়।

লেখক: সাংবাদিক সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

শেখ হাসিনা