• বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৮ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

তারেক গ্রেপ্তার না হলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কলংকিত হবেন

প্রকাশ:  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৪:০৮ | আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৪:১৭
দেলোয়ার শাহজাদা
প্রিন্ট

তারেক রহমানকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। দুর্নীতির বরপুত্রকে নিয়ে শুধু এতটুকুই বলতে চাই, সামরিক শাসক ও সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা চক্রান্তের সাথে জড়িত, সাংবিধানিকভাবে অবৈধ রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে তিনি। দেশের ইতিহাসের সবচে বড় চোর হিসাবে স্বীকৃত এই মানুষটির জন্য এখন করুণা হয়। এমন একজন দুর্নীতিবাজকে নেতৃত্বে রাখতে বিএনপির গঠনতন্ত্রও সংশোধন করা হয়েছে। যা সত্যিই অনেক বেশি বেদনার। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে এ কথা খুব সহজেই বলতে পারি, যে দল একজন দুর্নীতিবাজকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয় সে দলের কাছ থেকে জাতি ভালো কিছু আশা করতে পারে না। এমনকি আশা করাটাও উচিত নয়। 

আসল কথায় আসছি, মানি অর্থপাচার মামলায় ৭ বছর ও সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার জিয়া আরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও তার ১০ বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। এমন একজন লোককে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে যা সত্যিই লজ্জার। এটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যাথা নেই। কারণ বিএনপিতে কে নেতা হবেন, না হবেন সেটা তাদের ব্যাপার। তবে দণ্ডিত তারেক রহমান পলাতক থেকেও তার মায়ের সাজার আগের রাতে লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনে যে ন্যাকারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তারপর আর চুপ করে বসে থাকা যায় না। 

এটা খুব সহজেই অনুমান করা যায় যে, তারেক রহমানের নির্দেশেই লন্ডনে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছিল, ভাঙচুর করেছে। তা না হলে, কোনো প্রবাসী বাংলাদেশির সাহস হবে না বিদেশে অবস্থিত একটি দূতাবাসে হামলা করতে। বুধবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ হাই কমিশন অফিসে শুধু যে ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হয়েছে এমনটা নয়, তারেকের অনুগতরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অসম্মান করে তার ছবিও ভেঙেছে। এটা আমি ছাত্রলীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসাবে নয়, দেশের একজন সাধারণ মানুষ হিসাবেও মেনে নিতে পারি না। 

বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। যারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবির ওপর হামলা চালাতে পারে তারা বাংলাদেশি হতে পারে না। এমনিতেই বিদেশের মাটিতে মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় দেশের ইমেজ সংকট তৈরি হয়। এ অবস্থায় এমন ন্যাক্কারজনক কাজ কোনোভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়। যারা বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে তারা অবশ্যই বঙ্গবন্ধুকে সম্মান করে। আর যারা এটা করে না বা করতে পারে না তারা কেন বাংলাদেশি নাগরিক হিসাবে পরিচয় দেয়? এ প্রশ্ন এখন সবার।


 
আরেকটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন, হাই কমিশনে হামলাকরীদের নেতা তারেক রহমান এখনো লন্ডনে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সেখানে নাকি তিনি হাওয়া ভবন গড়ে তুলেছেন। যে সিন্ডিকেটের কারণে বিএনপির অনেক সৎ, ত্যাগী নেতারা কিছুই করতে পারেন না। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে দেশপ্রেমিক প্রবাসীরা কিভাবে বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করবে? 

লন্ডন পুলিশের কাছে আবেদন করতে চাই, প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে গড়ে উঠা আপনাদের আইনের শাসন আমাদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশ হাই কমিশনে যারা হামলা চালিয়েছে এবং যার নির্দেশে এমন হামলা হয়েছে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করুন। 

পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই, একজন দুর্নীতিবাজ তারেক রহমানের কথায় কোনো প্রবাসী এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে বাংলাদেশের ইমেজ নষ্ট হয়। আমরা নির্দেশদাতা তারেক রহমানসহ হামলাকারী সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

লেখক: কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক