• শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮, ৩ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

আমরা কি সীমিত স্বাধীনতা আর সীমাবদ্ধ গণতন্ত্র চেয়েছিলাম?

প্রকাশ:  ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:৩১ | আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:৩৬
হাসান হামিদ
প্রিন্ট

আমরা প্রায় সময়ই অসহিষ্ণুতা, সহিংসতা আর বর্বরতার কথা আসলে মধ্যযুগকে টেনে আনি কথায় কথায়। মধ্যযুগীয় বর্বরতা বা অস্বাভাবিকতা বলে একটা বাগধারা ইতোমধ্যে আমরা দাড় করিয়ে ফেলেছি। সেই মধ্যযুগের একটি গল্প বলে আজকের লেখাটি শুরু করবো। কেননা সহিষ্ণুতা আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে মধ্যযুগের মানুষগুলো যে আসলে কোনো কোনো সময় এখনকার চেয়ে ঢের ভালো ছিল, তার একটি ঘটনা উল্লেখ করা জরুরি বলে মনে করছি। এই ঘটনাটি শ্রী চৈতন্যের বিখ্যাত জীবনালেখ্য বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের ‘চৈতন্য ভাগবত’ নামের গ্রন্থে পড়েছিলাম।

সেই সময় বাংলায় সুলতানদের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা গণহারে মুসলমান হতে থাকে। এরাই এত দিন উপেক্ষিত ছিল নিজ ধর্মের ব্রাহ্মণদের দ্বারা। তখন সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের যুগ। গুটিকয় ব্রাহ্মণ ছাড়া হিন্দু ধর্ম বিলীন হওয়ার উপক্রম। এসময় বিপন্ন হিন্দু ধর্মকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসলেন শ্রী চৈতন্যদেব। তিনি বৈষ্ণব সাধনাকে নতুনভাবে হাজির করলেন। সেটি এমনই মানবিকতায় পরিপূর্ণ ছিল যে, রীতিমতো আন্দোলনে রূপ নিল। ধর্মান্তর ঠেকিয়ে হিন্দু ধর্মের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হলে শ্রী চৈতন্য।

মানুষ দলে দলে তার ডেরায় আসতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই মুসলমানরা এটা মেনে নিতে পারেনি। এ খবর গেল সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের কানে। সুলতান তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন। চৈতন্যকে ধরে আনার জন্য সবাই এক পায়ে খাড়া, সুলতান বাধা দিয়ে বললেন, আমি নিজেই তার সঙ্গে দেখা করতে যাবো! শ্রী চৈতন্য তখন গৌড়ের নিকট গঙ্গা তীরের রামকেলী গ্রামে। শ্রী চৈতন্যের সাথে সুলতানের মতবিনিময় শেষে সুলতান কোতয়ালকে ডাকলেন। সবাই ভাবলো, এখনই গর্দান নেবার আদেশ হবে। সুলতান কোতয়ালকে আদেশ করলেন, এরপর থেকে কেউ যদি চৈতন্যের ধর্মপ্রচারে বাধা দেয় তাহলে তুমি তার গর্দান নেবে।

এ তো গেল গণতন্ত্রের বিষয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাপারে ভলতেয়ারকে স্মরণ করা যেতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমার মতামতের সঙ্গে আমি হয়তো একমত নাও হতে পারি কিন্তু তোমার মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমি আমার জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করে যাব।’ আর আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করে করে যখন ভাসিয়ে দিচ্ছি আমাদের গণতন্ত্র, ডিজিটাল আইন করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা তথা সাংবাদিকতার বারোটা বাজাচ্ছি; তখন মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা কি আমাদের স্বাধীনতাকে সীমিত আর গণতন্ত্রকে সীমাবদ্ধ করার প্রহসনে আটকে ফেলছি নিজেদের?

সম্প্রতি কাগজে পড়েছি, ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) বৈশ্বিক গণতন্ত্রের সূচক-২০১৭ তে বাংলাদেশের অবস্থান ৮ ধাপ পিছিয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের স্কোরও ২০১৬ সালের তুলনায় কমেছে।২০১৭ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯২তম এবং স্কোর ১০-এর মধ্যে ৫.৪৩। অথচ ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম এবং এর স্কোর ছিল ৫.৭৩।লন্ডনভিত্তিক দ্য ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগ ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি উল্লিখিত সূচকটি প্রকাশ করেছে।

আমরা জেনেছি, ইকোনমিস্টের এই গবেষণাটির ক্ষেত্রে ৫টি মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়ে থাকে। সেগুলো হল- নির্বাচনগুলো অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে কিনা, সরকারে ভারসাম্য আছে কিনা, জনগণকে রাজনীতিতে যুক্ত করা হয় কিনা, জনগণ তাদের সরকারকে সমর্তন করে কিনা এবং তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতা পায় কিনা। আর এসব মানদণ্ডে আমরা কতোটা তলানিতে নিয়ে যাচ্ছি নিজেদের তা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হতে হয় না; মধ্যম মানের বোঝদার হলেই চলে।

কিছুদিন আগেও যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, বাংলাদেশে স্বাধীন গণমাধ্যমগুলো মারাত্মক চাপে আছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। ওই প্রতিবেদনের মত প্রকাশের স্বাধীনতা অংশে বলা হয়েছে, সরকারের সমালোচনা করা স্বাধীন গণমাধ্যমগুলো চাপে আছে।

এসবের পর, ৫৭ ধারার পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে সরকার। খুব অবাক হয়েছি যখন দেখেছি, আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮’ অনেক চিন্তা-ভাবনা করেই করা হয়েছে। অনুমোদনের আগে এ আইনটি নিয়ে নিজেদেও মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে এ আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগের আইসিটি অ্যাক্টটি বিএনপির সময়ে করা ছিল। যেখানে অনেক বিষয় অস্পষ্ট ছিল। নতুন আইনে বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।’ আবার, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, ‘আমি এ আইন নিয়ে আর কী বলবো? কারণ আইনটি তো আমি করিনি। আইনটি চূড়ান্ত করেছে আইসিটি মন্ত্রণালয়।’ হাসবো না কাঁদবো?

মজার ব্যাপার হলো, বর্তমান সরকারের ১৭১তম মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’-এর ৩২ ধারায় বর্ণিত ‘গুপ্তচর’ শব্দ নিয়ে বিব্রত খোদ সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহল। অনেকেই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে না চাইলেও নিজেদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বিষয়কে ‘ডিজিটাল গুপ্তচর’ বৃত্তি নামে অভিহিত করেছেন।

অথচ ১৯৪৮ সালে গৃহীত Universal Declaration of Human Rights এর আর্টিকেল ১৯-এ রয়েছে, ‘‘Everyone has the right to freedom of opinion and expression; this right includes freedom to hold opinions without interference and to seek, receive and impart information and ideas through any media and regardless of frontiers’’. এই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকেও বাক এবং ব্যক্তির স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিতে হবে। অনুরূপভাবে, International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR) এর আর্টিকেল ১৯ নং-এও কথা বলার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

"the right to hold opinions without interference. Everyone shall have the right to freedom of expression". এ গেলো বিদেশি আইনের কথা। আমাদের সংবিধান ব্যক্তির মতপ্রকাশ এবং বাক স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতা প্রসঙ্গে লেখা আছে এভাবে, “Freedom of thought and conscience is guaranteed” (চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইলো)। সংবিধানের ৩৯(২) অনুচ্ছেদে আছে, “Subject to any reasonable restrictions imposed by law in the interests of the security of the State, friendly relations with foreign relations with foreign states, public order, desency or morality, or in relation to contempt of court, defamation or incitement to an offence- the right of every citizen to freedom of speech and expression ( b) freedom of press are guaranteed. অর্থাৎ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানী বা অপরাধ, সংগঠনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে-(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের,(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হলো।

ইতিহাস আর সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিশ্লেষণে আমরা দেখেছি, জনগনের রায় যদি কোনো কারণে ভুলও হয় তারপরও সমালোচনা জারি থাকলে গণতন্ত্র হোঁচট খায় না। তার চমৎকার উদাহরণ বর্তমান ট্রাম্পের শাসনামল। সাংবাদিক মাইকেল উলফ ৩৩৬ পৃষ্ঠার ঢাউস বই লিখেছেন ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস নিয়ে। বইয়ের নাম ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি : ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউস’। নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার সাংবাদিক জন ক্যাসিডি বলেছেন, এই বইতে উলফ ট্রাম্পের যে ‘পোর্ট্রেটটি’ এঁকেছেন, তা এককথায় ‘বিধ্বংসী’। এই বইতে উঠে এসেছে ট্রাম্প সম্পর্কে নানাজনের বক্তব্য।

রাজস্ব মন্ত্রী স্টিভ মিনুশিন ও সাবেক চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রিবাসের কথায়, ট্রাম্প একটা ‘মূর্খ’ (ইডিয়ট), অর্থনৈতিক উপদেষ্টা গ্যারি কনের ভাষায়, ‘তিনি বিষ্ঠার ন্যায় বুদ্ধু’ (ডাম্ব অ্যাজ শিট) এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাকমাস্টারের কথায়, লোকটা আস্ত ‘আফিমখোর’ (ডোপ)। আর প্রেসিডেন্টের মাথা পরীক্ষা করার কথাতো বলেছেন অনেকেই। আমাদের গণতন্ত্রে সহিষ্ণুতার যে মাত্রা তাতে নিশ্চিত করেই বলা যায়, এদেশে হলে বই এবং বইয়ের লেখককে একসাথে নিষিদ্ধ করা হতো! তাছাড়া সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায়ই জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসে ওবামার নামে যত চিঠি আসে, তার অর্ধেকের বেশি চিঠিতে তাঁকে বলা হয় গর্ধভ; অন্যান্য গালাগাল তো আছেই।

চিঠি পাঠানো কেউ ওবামার শাসনামলে গুম হয়েছেন কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে কোনো খবর আমরা কিন্তু পাইনি!

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে ব্যঙ্গ করে ১৯৯৮ সালে কবিতা লিখলেন ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার ছাত্র পীযূষ পান্ডে। পীযূষের বন্ধুরা কবিতাটা ক্যাম্পাসের সর্বত্র সেঁটে দিলেন। দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী, মদনলাল খুরানার তরফে মামলা করা হল। পীযূষকে গ্রেফতার করে পেশ করা হল খোদ প্রধানমন্ত্রীর দরবারে। অটলবিহারী সন্ধ্যাটা শুধু কবিতা নিয়ে আড্ডা মেরে কাটালেন। হাসতে হাসতে ফিরে এলেন বামপন্থী পীযূষ! [আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৪ এপ্রিল ২০১২] আরেকটি ঘটনা।

হিটলার তার ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য অজ মানুষকে অত্যাচার করেছেন। নাৎসি পার্টি লোকজনের বাড়ি আক্রমণ করতো, ধরে নিয়ে যেত, মারধর করতো, প্রাণে মেরে ফেলত। নাগরিকরা হয়তো বলতো, আমি জার্মানির নাগরিক, আমি ফুয়েরারের সমালোচনা করতেই পারি। নাৎসিরা জবাব দিত, ‘তুই কি ফুয়েরারের চেয়ে দেশকে বেশী ভালোবাসিস?’ কাল বদলায়, দেশ বদলায়; ক্ষমতায় থাকার টোটকা কিন্তু একই থাকে। সময় শুধু খোলস খুলে দেয় বাইরে বের হওয়ার জন্য!

একসময়; বলা যায়, বিশ দশকের পূর্বে মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি ছিল আন্দোলন বা অধিকার হিসেবে 'স্বীকৃতি আদায়ের' বিষয়। কারণ কাঠামোগতভাবে রাষ্ট্র ছিল স্বৈরতান্ত্রিক এবং জনসম্মুখে নিজের মতামত প্রকাশ করাটাই তখন মুখ্য ছিল। ইংরেজ কবি মিল্টন সপ্তদশ শতকে ব্রিটিশ রাজার সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত হন বিবেকের স্বাধীনতা, চিন্তার স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠায়। অ্যারিওপ্যাজিটিকায় তার উচ্চারণ ছিল এই রকম; দাও আমায়, জ্ঞানের স্বাধীনতা দাও, কথা কইবার স্বাধীনতা দাও, মুক্তভাবে বিতর্ক করার স্বাধীনতা দাও।

সবার ওপরে আমাকে দাও মুক্তি। লক্ষণীয় যে, শর্তহীন বাকস্বাধীনতার অধিকার আজও আমরা অর্জন করতে পারিনি। উল্লেখ্য, মিল্টন স্বাধীনতা চেয়েছিল চার্চ ও রাষ্ট্র থেকে কারণ ক্ষমতার বিলিবণ্টন তখন এ দুটি প্রতিষ্ঠান করত। আঠারো শতকের শেষ পর্যায়ে ভাব বা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় সংবাদপত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে সময় সংবাদপত্র একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় বা মতাদর্শগত বিতর্কের জন্য।

গণমাধ্যম তাত্তি্বক জুর্গেন হেবারমাস মুক্ত আলোচনা বিষয়ে প্রথমে উদাহরণ দিয়েছে আঠারো শতকের public sphere-এ আলোচনাকে যেটা ছিল চার্চ ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। হেবারমাসের প্রতীতি, আঠার শতকে সংবাদপত্র ও সাময়িকী 'জনপরিসর'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছিল। পরবর্তীতে হেবারমাস সংক্ষুব্ধ হন যে, সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলো বিজ্ঞাপন ও পণ্য বাণিজ্যের কবলে পড়ে যায়; যার পরিণতিতে সৃষ্টি হয় গণভোক্তা ও গণবণ্টন ব্যবস্থা, যার ফলে স্বার্থের বিষয়গুলো আলোচনার শিরোনাম হতে ব্যর্থ হয়। পত্রিকার উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় কাটতির দিকে।ফলে গণমাধ্যম ক্রমশ ঝুঁকে পড়ে ব্যবসায়ী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপর (তথ্যের অধিকার, ২০০৭)।

মনে আছে আব্রাহাম লিঙ্কনের বহুল ব্যবহৃত সেই বক্তব্য? তিনি বলে গেছেন, ‘If you want to test a man's character, give him power . এই পরীক্ষায় কত রাম যে রাবণ হয়ে উঠলো তার কোনো ইয়ত্তা নেই! বেশি দূরে নয়, আমাদের পাশে নাফ নদীর ওপারেই বর্তমানে এমন একটি উদাহরণ আছে। যে মানুষটি জীবনভর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, সেই মানুষটিই ক্ষমতা হাতে নিয়ে হয়ে গেলেন অগণতান্ত্রিক।

আমরা ছোটবেলা থেকে পড়েছি ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ অং সান সুচি (যদিও অভিধাটি বর্তমানে আমাদের দেশে রপ্তানি হয়েছে)। আসলে আমরা সাধারণ জনগণ চাই সহজ সরল জীবন। আমরা চাই বুক ভরে শ্বাস নিতে। আমরা প্রশ্ন ফাঁসের রাজত্ব চাই না, আমরা গণতন্ত্র তলানিতে যাক সেটা চাই না, আমরা ভোট দিতে চাই। আমরা আমাদের অধিকার চাই। আমরা সন অসঙ্গতির কথা খোলামেলা বলে দিতে চাই। স্বাধীন সাংবাদিকতা না থাকলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে না। সংবিধান লঙ্ঘন তাতে কি একটুও হয় না?

লেখক- তরুণ কবি ও গবেষক, ঢাকা।