• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

চৈতালি রোদে পোড়া লক্ষ্মী

প্রকাশ:  ২৯ মার্চ ২০১৮, ১৫:১৪
কবি সাকিব জামাল
প্রিন্ট

এক সময় দেহে কাঁচা হলুদের আভা ছিলো,

ছিলো ডাগর ডাগর চোখ যুগল - মাঝে সাদা বক রঙ!

পাপড়ি কমল ঠোট- ছিলো কচি কচি হাতের ঢঙ !

রাজহংসী পা দুটোয় নুপুরের ছন্দ খেলাও ছিলো-

ছিলো চার সুন্দর তরুনীর সব !

আজ কালচে মাটির রঙ জমেছে দেহে-

ধুলো-ঘাম মাখামাখি - যেন ভুতুরে ছবি!

চৈতালি রোদে পোড়া লক্ষ্মী কবি ।

সোনার দেহে সাধের যৌবনও ছিলো-

কতো পুরুষের বুকে দেখেই উঠতো কাঁপুনি !

সকাল, দুপুর, বিকেলে আড্ডা ছিলো-

সঙ্গ বেধে ছিলো উচ্ছল পাড়ার বন্ধুর বাড়ি বেড়ানি ।

উল্লাস মাখা কিশোর বেলার অস্তগামী সে তেজদ্বীপ্ত রবি !

চৈতালি রোদে পোড়া লক্ষ্মী কবি ।

কিছুদিন আগে-

শহর থেকে বেড়াতে গিয়েছিলাম গ্রামে ।

সকালে হেটেছি মেঠো পথে- শহুরে দাম্ভিকতায় !

দুপুরে অলস ঘুমে ব্যস্ত ছিলাম !

বিকেল থেকে সন্ধ্যা অবধি আড্ডায় মেতেছি -

গল্প,কবিতা কতো কি !

এরই মাঝে হঠাৎ পরিচয়-

সংগ্রামী এক কবির সাথে ।

কবির নাম দীপালি ।

ভাবলাম- ওর গল্প শুনি - সব-ই!

চৈতালি রোদে পোড়া লক্ষ্মী কবি ।

আমি চৈত্রের রোদ সইতে পারি না ।

ছায়ায় বসে কবিতার খাতায় শব্দের ঝংকার তোলা সহজ !

কিন্তু শস্য ক্ষেতে স্বপ্নময়ী কবিতার চাষ ভীষণ কঠিন !

কেবল দ্রোহের কবিই পারে-

দীপলি দ্রোহের কবি ।

চৈতালি রোদে পোড়া লক্ষ্মী কবি ।

জমি বর্গা করে-

সকালে ক্ষেতে সেওতি টানে কোমড়ে কাপড় গুজে,

তারপর, আগাছা নিড়ানি- কষ্টের নিরন্তর পালা গানে,

বিকেল অবধি পরিচর্যা সোনালী স্বপ্নের ।

বৈশাখ এলে কেবল সে হাসে !

বাকি মাস - কষ্ট আর কষ্ট ! কষ্টের মাঝেও সে স্বপ্নে ভাসে !

তিন ভাগের এক ভাগ ফসল পেলে-

ক্ষুধার যন্ত্রণা নিবারণ হয়তো হবে !

হঠাৎ, হেসে বলে, দাদা-

ক্ষুধা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোন কবি ?

চৈতালি রোদে পোড়া লক্ষ্মী কবি ।

আমি নিরুত্তর ।

জিজ্ঞেস করি-

তোমার স্বপ্ন কি, দিদি ?

হেসে বলে- "যতো বেশি মানুষে খাদ্য দিতে পারি যোগান !

ও-ই সাধনা, দাম হোক কম বা বেশি ভাবিনা !

ফসল ফলানো আমার কাজ-

চাই ক্ষুধা মুক্ত সমাজ !

ভালো লাগে নতুন ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণ ।

ও-টি ভালোবাসা, নাই অভিমান । "

শুনে মনে মনে ভাবি- দীপলি ভুতুরে নয়, স্বপ্নের পরি, মানবতার সেরা কবি!

চৈতালি রোদে পোড়া লক্ষ্মী কবি ।

apps