• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

পরবাসীর স্বদেশ ভাবনা

প্রকাশ:  ১৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৪৫
ছরওয়ার হোসেন, নিউ ইয়র্ক
প্রিন্ট

“মধুর আমার মায়ের হাসি

চাঁদের মুখে ঝরে,

মা’কে মনে পড়ে, আমার

মাকে মনে পড়ে”।

দেশে থাকতে আমি প্রায়ই মনের সমস্ত মাধুরী মিশিয়ে বিখ্যাত গীতিকার প্রণব কুমারের লেখা এ গানটি গুনগুনিয়ে সুর করে গেয়ে যেতাম যখন দেশ থেকে প্রায় তেরো হাজার কিলোমিটার দুরে আমেরিকায় থাকা আমার মা বাবাকে মনে পড়তো। মাঝে মধ্যে চোখের কোনে অশ্রুফোটার উদগীরণ ছিলো তাদের প্রতি ভালোবাসা ও মমত্বের প্রতিক।

২রা অক্টোবর ২০১১। আমেরিকার উদ্দেশ্যে প্রথম দেশের বাহির হচ্ছি। রাত ৯টা ৫০ মিনিট। ঢাকাস্থ হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে যখন ইত্তেহাদ এয়ারলাইন্স এর আবু দুবাইগামী বিমান ছাড়ার শব্দ হলো মনটা তখন বিষিয়ে উঠেছিলো। পরম করুনাময়ের হাতে নিজেকে সমর্পন করে নিজের অজান্তে মুখ দিয়ে অস্ফুটে গুনগুনিয়ে বের হলো আমার প্রিয় সেই গান “ মধুর আমার মায়ের হাসি----------- মাকে মনে পড়ে”।

এবার জন্মদাতা পিতা বা জন্মদাত্রী মায়ের জন্য নয় যার আলো, বাতাস, পরিবেশ, প্রতিবেশের মধ্যে জন্ম নিয়েছি, বেড়ে উঠেছি সে আপন জন্মভূমির তরে। মনের অবস্থা আঁচ করতে পেরে যাত্রাভয়, উৎকন্ঠা ও আবেগে ছুরা-কেরাত পড়তে পড়তে ক্লান্ত, পাশে বসা কনিষ্টা বোন আমাকে জিজ্ঞেস করলো “ খুব খারাপ লাগছে বুঝি”? প্রত্ত্যুত্তরে আমি শুধু মাথা নাড়ালাম, কিছু বলতে পারিনি। পরদিনই নিউ ইয়র্কে এসে পৌছলাম।

কিন্তু মধ্যখানে ঢাকা-আবুদাবি এবং আবুদাবি-নিউ ইয়র্ক রুটে যাত্রাপথের হারিয়ে যাওয়া বিশ ঘন্টার প্রতিটি মূহুর্ত পরম প্রিয় জন্মভূমি অপরুপা সুন্দরী মমতাময়ী বাংলা মা’ তাঁর অসীম ভালোবাসায় আমাকে ব্যাকুল করে রেখেছেন। পূর্বে প্রবাসীদের মুখ থেকে এরুপ অনুভূতির গল্প শুনেছিলাম, কিন্তুু এবার নিজেই বাস্তব অভিজ্ঞতার সিঞ্চনে সিক্ত হলাম। জন্মভূমির প্রতি এ এক অকল্পনীয় আবেগ ও অবর্ণনীয় ব্যাকুলতা। যা বাংলা মায়ের প্রতিটি পরবাসী সন্তানকে সর্বদা ব্যাকুল করে রাখে।

আটারো শতক থেকে বিশ্বে অর্থনৈতিক কারনে মানুষের দেশত্যাগের শুরু হয়। অপেক্ষাকৃত উন্নত জীবন লাভের প্রত্যাশায় মানুষ এক দেশ থেকে আরেক দেশে গমন করতে শুরু করে। উপনিবেশীক যুগে শোষক বেনীয়ারা ভিবিন্ন দেশের অগনিত মানুষকে শাস্তি স্বরুপও দেশান্তরে বাধ্য করে। এছাড়াও যুদ্ধ-বিগ্রহ, দুঃশাসন, দূর্ভিক্ষ, খরা, বন্যা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রভৃতি কারনে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ আশ্রয়ের খোজেও মানুষ দেশান্তরীত হয়। এভাবেই মূলত মানুষের বিশ্বায়নের সূচনা ঘটে।

অভিবাসন এক সময় কেবলমাত্র ভাগ্যান্বেষী, দরিদ্র ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয় ছিলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীতে জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন সংক্রান্ত আইন-কানুনের বিশ্বায়ন ঘটে। এছাড়া শিল্প বিপ্লব ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অনেক দেশে কর্মক্ষম জনবলের অপর্যাপ্ততা দেখা দেয়ায় অন্য দেশ থেকে কর্মক্ষম জনবল আনয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

ফলে দেশে দেশে নির্দিষ্ট আইনের আওতায় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন দিনের সূচনা হয়। আধুনিক সভ্যতায় অভিবাসন কেবল দরিদ্র বা আশ্রয় প্রার্থীদের বিষয় নয়, ধনী-দরিদ্র সকলের জন্য সমান আঙ্গিকে বিবেচ্য। আজ গোটা বিশ্বের অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে অভিবাসন এক অপরিহার্য বাস্তবতা।

এ বাস্তবতার নিরিখে সত্তোরের দশক থেকে বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের প্রবাস গমন শুরু হয়। এর আগে যদিও ছিলো, কিন্তু তা ছিলো অতি নগন্য। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তা আরো ব্যাপকতা লাভ করে এবং বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ‘প্রবাসী’ শব্দের সাথে অতি পরিচিত। যদিও শ্রুতিকটু তথাপি বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মদ্র্রার অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ বা রেমিটেন্স।

অভিবাসীদের মধ্যে যারা শত চেষ্টা করেও জন্মভূমির অসীম মায়ার বন্ধন ছিন্ন হতে পারেনী তাদের জন্য প্রবাস জীবন অত্যন্ত কষ্টের। যন্ত্রনাদায়ক ও গ্লানীকর। চাহিদামতো কাংখিত সকল সুযোগ-সুবিধা, সুখ-আনন্দ, অর্থ, পরিবার- পরিজন, সন্তান-সন্ততি সব কিছু পর্যাপ্ত থাকার পরও মনে হয় একটা বিশেষ কিছু যেন নেই।

যা আপনাকে পরিপূর্ণ করে দিতে পারে। যা ব্যক্ত করা দূরুহ কিন্তু অনুভব করা অতি সহজ। যা বর্ণনার ভাষা নেই কিন্তু শিহরনীয় অনুভবের প্রতিটি মূহুর্তে নিজেকে স্পন্দিত মনে হয়। তা হচ্ছে দেশাত্ববোধ। আপন জন্মভূমির প্রতি হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশ থেকে উৎসারিত প্রেম। ভালোবাসা। যা প্রতিদিন আপনাকে কল্পনাপ্রবণ ও বেদনাকাঁতর করে তুলে। যা কষ্টকর ও যন্ত্রনাদায়ক।

বলতে হবে আজ অনুভবের অলিন্দে প্রতিটি মুহুর্তে হৃদয়ের গভীরে অনুভব করি প্রবাসীদের বেদনাক্ত অনুভূতি “ আমাদের ধড় থাকে বিদেশে, আর জান থাকে দেশে”এর যথার্থতার বৃহত্ত। পরবাসী জীবনের সবচেয়ে গভীর ক্রন্দন, গ্লানী ও বিরক্তিকর অনুভূতি হচ্ছে জন্মভূমির টান। যার সঙ্গে সমূহ পরবাসীর নিত্য বসবাস।

ছোটকালে কোন এক কবির কবিতায় পড়েছিলাম "দূর্ভাগা বৈদেশে যায়"। হয়তো সেই দূর্ভাগ্যের কল্যানে আজ আমিও পরবাসী। পরিবারসহ থাকি আমেরিকায়। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইটালি, জার্মান, স্পেন, কিংবা ডুবাই, সৌদী আরব প্রভৃতি দেশে আমার মতো লক্ষ লক্ষ বাঙালি পরবাসীর বসবাস। অনেকের পুরো পরিবারই পরবাসী। তাঁরা দূর্ভাগা না সৌভাগ্যবান তা বলা মুশকিল। তবে এটুকু বলতে পারি, একজন প্রবাসী হিসাবে আমরা থাকি এক দেশে আর আমাদের সকল ভাবনা এবং স্বপ্ন একটি উন্নত ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের কল্পনায় আবর্তিত।

মাঝে মাঝে নিজেকে খুব স্বার্থপর মনে হয়। কেননা আমি কর্মসংস্থান, রোজগার আর সরকার প্রদত্ত যাবতীয় সুযোগ সুবিধা গ্রহন করে, বাড়ী-গাড়ীর মালিক হয়ে, পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করি একদেশে আর স্বপ্ন দেখি, কল্পনা করি ও স্মৃতিকাঁতর হই জন্মভূমি বাংলাদেশের।

ভোরের উন্মেষে যে দেশের সংবাদপত্রে আমার চোখ প্রথম নিপতিত হয় তা বাংলাদেশ। বাংলাদেশের শুভ সংবাদ আমাকে যত আনন্দিত করে, দূর্যোগের সংবাদ যত বিচলিত করে, সম্ভাবনার সংবাদ যত ব্যাকুল করে আমেরিকার বেলায় কেন তেমন হয় না? কেন হয় না ফ্রান্স, স্পেন, যুক্তরাজ্য কিংবা অন্যান্য দেশের বেলায়। কারন বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি, বাংলা মায়ের উদরে আদরে আমি বড় হয়েছি।

আমি জন্মেছি বাংলায়। বেড়ে উঠেছি বাংলায়। আমার কন্ঠে উচ্চারিত প্রথম শব্দ বাংলায়। বাংলা আমার মাতৃভাষা। আমি শ্বাসে-প্রশ্বাসে বাঙালী। চিন্তা-চেতনায় ও মননে বাঙালি। পোষাক-পরিচ্ছদে ও চলনে বাঙালী। আমি সাহস ও ত্যাগে বাঙালী। উদারতা ও দানে বাঙালী। ক্ষমা ও দৃঢ়তায় বাঙালী। কৃষ্টি ও সংস্কৃতিতে বাঙালী। বাংলা আমার মা আর আমি বাঙালী, এটাই আমার পরম গৌরব ও সৌরভ।

নিউ ইয়র্কে আসার দুদিন পর বিয়ানীবাজারের প্রাক্তন ছাত্রলীগনেতা, আমার অত্যন্ত স্নেহ ও প্রিয়ভাজন অনুজ আওলাদ হোসেন’র সাথে প্রথম স্বপ্নের ম্যানহাটন বা নিউ ইয়র্ক সিটির বিখ্যাত ওয়ার্ড ট্রেড সেন্টার ও ব্যাটারী পার্ক দেখতে যাই। দেখলাম। ঘুরলাম। হাডসন নদীর তীরে মনুষ্য নির্মিত ‘ব্যাটারী পার্ক’ যেন সৌন্দর্যের ভান্ডার।

মন চলে গেলো বাংলাদেশে। বুড়িগঙ্গার তীরে। প্রতি মূহুর্তে মনে হচ্ছিলো “যদি আমাদের দেশে এমন হতো”। নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের ধারক যা কিছু অবলোকন করেছি আওলাদের সাথে গল্প করতে করতে তার সঙ্গে বাংলাদেশকে মিলিয়ে নিচ্ছিলাম। সেও ছিলো দেশের প্রতি দুর্বল। সে দেশে রাজনীতি করে এসেছে, তারও অনেক স্বপ্ন ছিলো আমার মতো। কিন্তু কোথাও দুজনের মধ্যে একটি অমিল চলছিলো।

সে আমার কল্পনার জগৎকে মেনে নিতে পারছিলো না। সে ভাবলো, আমি প্রবাসী হিসাবে নতুন, তাই দেশের প্রতি অতিরিক্ত উম্মাদনা ও উদ্ভট কল্পনা কাজ করছে। সে আমাকে ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চ করালো, খুব যত্ন করে সবকিছু দেখানোর চেষ্টা করলো, দু’জন মিলে অনেক ছবি তুললাম তারপরও তার সঙ্গে প্রথম নিউ ইয়র্ক দর্শন যেন উপভোগ্য মনে হয়নি। কারণ, যা কিছু দেখেছি তার সাথে বাংলাদেশকে কল্পনা করেছি। যা আমাকে বিষন্ন করে তুলছিলো। হয়তো আওলাদের কল্পনাই ঠিক ।

পাঁচ দিন পর গেলাম বিখ্যাত টাইম স্কয়ার ভ্রমনে। এটা ম্যানহাটনের ‘হৃৎপিন্ড’ মিডটাউনে অবস্থিত। এবার নিজে একা। ঘুরে ঘুরে দেখলাম টাইম স্কয়ার, বিখ্যাত রকফেলার সেন্টার ও ব্রায়ান্ট পার্ক। সাথে লক্ষ লক্ষ মানুষের কোলাহল, যার বেশীর ভাগই ছিলো পর্যটক, সমগ্র বিশ্ব থেকে এসেছে। সুন্দর ট্রাফিক ব্যবস্থা। রাস্তার দু পাশের সুপ্রস¯ত ওয়াকওয়ে। হাজার হাজার পথচারী ওয়াকওয়ের উপর দিয়ে হাটছে, তিল ধারনের ঠাই নেই। পাশ দিয়ে রাস্তায় চলছে অসংখ্য গাড়ী। কোন শব্দ নেই। নেই প্রতিবাদ, উৎকন্ঠা, ভয়, মারামারি। মানুষের প্রতিবাদী মিছিল।

মনে হলো গাড়ী ও মানুষে প্রচন্ড ব্যস্ততামূখর একটি বিশাল শহর যেন মেশিনের মতো সুশৃংখল ও সুনিঁপুনভাবে চলছে। হেটে হেটে দেখলাম শহরের ড্রেনেজ সিস্টেম ও রাস্তার দু পাশে খানিক পর পর রাখা ছোট ছোট ডাষ্টবিন। যা মানুষের ডাষ্টবিন ব্যবহারকে সহজ করে দিয়েছে। ডাষ্টবিনগুলো স্থাপন করা হয়েছে মানুষের ব্যবহার উপযোগিতার চিন্তা করে প্রতিটি ব্লকের কর্নারে। সারিবদ্ধ সুউচ্চ অট্টালিকা।

যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি। কেউ ফুটপাত দখল করেনি। সবাই ছেড়ে দিয়েছে সমানভাবে। একটি উন্নত শহরে এরকম আরো অনেক কিছু অবলোকন করলাম ও করে যাচ্ছি প্রতিদিন-প্রতিনিয়ত যা শিক্ষা, দর্শন ও কল্পনার রাজ্যের রুদ্ধ দুয়ারগুলোকে উম্মুক্ত করে দিচ্ছে।

তাই আজ শিক্ষা ও দর্শনে আমি শুধু বাঙালী হতে চাই না। আমি হতে চাই বিশ্ব নাগরিক। আমি বিশ্বের সাথে যাচাই করি আমার জন্মভূমি বাংলাকে। আমি পরবাসি কিন্তু এদেশের যা কিছু ভালো, সুন্দর ও মহৎ, যা আমার স্বপ্নকে দোলা দেয় তা গ্রহন করতে চাই।

যখন দেখি পশ্চিমা দেশসমূহের উন্নতির মূলে তাদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রধান নিয়ামক, সে সাথে উচ্চ শিক্ষার ব্যাপকীকরন, বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যাপক প্রসার, সর্বব্যাপী আধুনিক শিক্ষা, চিন্তা ও দর্শনকে রাষ্টিয়ভাবে বাস্তবায়ন, ধর্মনিরপেক্ষ ও গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রিয় কাঠামো প্রতিষ্টা, অবাধ বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রদান, আইনের শাসন প্রতিষ্টা এবং যে কোন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নে দুরদৃষ্টিসম্পন্ন, যুগপোযোগী সুষ্টু পরিকল্পনার সমন্নয় সাধন তাদেরকে উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে পৌছিয়ে দিচ্ছে; তখন বাংলা মায়ের সন্তান হিসাবে আমি সর্বদা এই ভেবে স্বপ্নচারী হই যে, শিক্ষা দর্শন ও পরিকল্পনায় যে উত্তম দিকগুলো গ্রহনের ফলে পশ্চিমারা আজ জীবনমান ও আর্থ-সামাজিক অবস্থায় এবং শিক্ষা, দর্শন, চিন্তা, বুদ্ধি, সেবা ও জাগরনে উন্নত তাই ঘটুক বাংলাদেশে।

বাংলা মায়ের কল্যানকামী সন্তান হিসাবে এটাই দুনিয়া জুড়ে বিরাজমান প্রবাসী বাঙালী মাত্রেই লালিত স্বপ্ন। দেশেরও প্রতিটি মানুষ এই আশায় প্রতিদিন নতুন স্বপ্ন দেখে। এ স্বপ্নকে বুকে নিয়েই নব প্রভাতের প্রত্যাশার আলোয় স্নাত হয়।

দেশে বিদেশে কোটি কোটি বাঙালির স্বপ্নের সেই সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সেদিনই প্রতিষ্টিত হবে, যেদিন দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্টার পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেনী পেশার মানুষের জন্য সকল পর্যায়ে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোয় দীপ্যমান শিক্ষার সুযোগ অবারিত হবে, দেশের সর্বস্থরের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় উন্মাদনাসুলভ মনোভাব ও বৈষম্যের যবনিকাপাত ঘঠবে, মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে, রাষ্ট্র দল-মত নির্বিশেষে মানুষের যোগ্যতা, শিক্ষা, দর্শন ও উদ্ভাবনের প্রতি যথাযত সম্মানবোধের জাগৃতি ঘটবে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্টিত হবে এবং সকল প্রকার দূর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের জাগরন ঘটবে তখন লাখো শহীদের রক্তস্নাত বাংলায় দেশে-বিদেশে বিরাজমান গণমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।

প্রতিদিন, প্রতিমূহুর্তে স্বদেশ ও প্রবাসে দেশপ্রেমিক বাঙালীমাত্রেই এ প্রত্যাশায় উপভোগ করে ভোরের সূর্যোদয়।

বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমাদের প্রিয় জন্মভূমিই হোক বাসস্থানের শেষ ঠিকানা। মনুষ্য জীবনের কাংখিত সকল সুযোগ সুবিধায় পূর্ণ সুখি- সমৃদ্ধ বাংলাদেশই কেবল তার সন্তানদের প্রবাসের গ্লানিকর জীবনের যবনিকাপাত ঘটাতে পারে। আর তাই ঘটুক । পরবাসী মনের গভীর প্রত্যাশার আলোয় স্নাত হোক আগামীর বাংলাদেশ। জয় বাংলা।

apps