• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

পারলেন না অমিতাভ-আমির, থাগস অব হিন্দুস্থানের ভরাডুবি

প্রকাশ:  ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:৩১ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:০৯
বিনোদন ডেস্ক
প্রিন্ট

বাজেট বড়, তিনজন অন্যতম অভিনেতা অভিনেত্রী। দারুণ সব অ্যাকশন-সবই ছিল তবু হিন্দুস্থানে থাগসরা নতুন কোনও উদাহরণ তৈরি করতে পারলেন না। ১৯ শতকের প্রথম দিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার এবং বিদেশি শক্তির দাসত্বের প্রত্যাখ্যান করতে সংগঠিত হওয়া হাজারো মানুষের গল্পই উপজীব্য।

অতিরিক্ত গম্ভীর চরিত্রে অমিতাভ ও একেবারে লঘু মজার চরিত্রে আমির খান। ভারতের নাবিকদের লড়াই ও আবেগ আর বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদের উন্মেষের মশলা সবই ছিল। কিন্তু পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ আচার্যের চিত্রনাট্য রাঁধা হল না ঠিকমতো। প্রত্যাশা ছিল অনেক তবু চলচ্চিত্রের বড় বাজেট থেকেও ভরাডুবিই হল থাগস অব হিন্দুস্থানের।

খোদাবক্সের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন। একজন নাবিক, একজন দেশপ্রেমিক! যিনি ক্লাইভ (লয়েড ওয়েন) (ইনিই রবার্ট ক্লাইভ কিনা তা নিয়ে কিঞ্চিৎ দ্বন্দ্ব আছে) নামক এক অত্যাচারী ব্রিটিশ অফিসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য তার লোকদের প্রশিক্ষণ দেন। কোঁকড়া চুল, চোখে কাজল, কানে দুল আর নাকে নাকছাবি পরা আমির ফিরঙ্গি মাল্লার ভূমিকায় তেমন ছাপ রাখতে অপারগ। বারবার চরিত্র বদলায় তার। বিশ্বাস আর বিশ্বাঘাতকতার মাঝে ঝুলন্ত এক চরিত্র।

দুই মূল অভিনেতার ভূমিকার চড়া মানের অসামঞ্জস্যে তরী ডুবেছে থাগস অব হিন্দুস্থানের। অমিতাভ বচ্চন অত্যধিক ভারী চরিত্র আবার আমির একেবারেই অপ্রয়োজনীয় মজার চরিত্রে, সব মিলে লঘু হয়েছে সিনেমার ভাষা ও প্রকাশ।

ধর্ম ও সংস্কৃতির ধারণা অনুসারে থাগস অব হিন্দুস্থান অদ্ভুত এক মিশ্রিত সংস্কৃতিই তুলে ধরেছে। যদিও প্রধান চরিত্রগুলো বেশিরভাগই মুসলিম, তবু তারা যে অনুষ্ঠানগুলো পালন করেছেন তা হিন্দু অভ্যাসকেই প্রতিফলিত করে। একি ইতিবাচক সংহতির বার্তা নাকি নিছক অবহেলায় এড়িয়ে যাওয়া ভুল?

চলচ্চিত্রের শেষ পর্বে দশেরার দিনে একটি দুর্গে রাবণ পোড়ানোর দৃশ্য রয়েছে। অশুভের উপর শুভ শক্তির বিজয়ের এই উদাহরণকে আরও ভাবনার বিষয় করে তুলেছে দুই নায়িকার মধ্যে একজনের এই অশুভ শক্তির হাতে মৃত্যুর ঘটনা।

অস্বীকার করে উপায় নেই যে দৃশ্যগুলো দুর্দান্তভাবে শ্যুট করা। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় ভিএফএক্স দিয়ে সিনেমাটোগ্রাফার মানুশ নন্দনের কাজের গুরুত্ব হারিয়েও গিয়েছে মাঝে মাঝে।

আর বাকি গড়পড়তা অ্যাকশন সিনেমার মতোই অবশ্যম্ভাবী রূপে মেয়েদের ভূমিকা নেই এখানেও তেমন। যদিও ফতিমা সানা শেখ কিছুটা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছেন। তার বাবা মির্জা সিকন্দার বেগ (রণিত রায়) ক্লাইভের হাতে নিহত হন। ফতিমা ঠাই নেন খুদবক্ষের অধীনে। রয়েছে ফতিমার বেশ কিছু ভালো তীরন্দাজির দৃশ্য।

অন্যদিকে ক্যাটরিনা কাইফ নৃত্যশিল্পী সুরাইয়ার ভূমিকায় অভিনয় করেন। গান এবং নাচ ছাড়া আর কোনও ভূমিকাই নেই তার।

চিত্তাকর্ষকভাবে উপস্থাপিত হয়েও বিষয়ের গাম্ভীর্য আর গল্পের কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারল না ‘থাগস অব হিন্দুস্থান’। থাগস অব হিন্দুস্থানের বৃহত্তর অংশের শ্রোতাদের বিনোদন করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোথাও গিয়ে পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ানের সঙ্গে তুলনা এড়াতে পারল না আমির অমিতাভের থাগস।

/অ-ভি

থাগস অব হিন্দুস্থান,ছবি,বলিউড,অভিনেতা,আমির খান,অমিতাভ বচ্চন
apps