• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

দুই মুসলিম নারী যেভাবে মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত

প্রকাশ:  ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৪৭ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:১০
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী ও মুসলিম বিরোধী মনোভাবকে ব্যঙ্গ করে দেশটির কংগ্রেসের (আইনসভা) মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দুজন মুসলিম নারী নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের একজন সোমালি বংশাদ্ভুত ইলহান ওমর, অন্যজন ফিলিস্তিন বংশোদ্ভুত রাশিদা তালিব । মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে তাদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

মার্কিন কংগ্রেসে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলহান ওমর জিতেছেন মিনেসোটা রাজ্য থেকে, আর রাশিদা তালেব জিতেছেন মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি আসন থেকে। তারাই প্রথম দুই মুসলিম নারী যারা মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য হচ্ছেন। সেই সঙ্গে ইহিতাসের পাতায় তারা নাম লিখিয়েছেন।

তালিব কংগ্রেসের ১৩ নম্বর আসন থেকে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিসেবে জয় পান। একই দলের ওমর কংগ্রেসের ৫ নম্বর আসন থেকে জিতেছেন।

ইলহান ওমর: শৈশব কেটেছে কেনিয়ার শরণার্থী শিবিরে

৩৬ বছর বয়সী ইলহান ওমর হলেন সেই অদম্য নারী, মার্কিন কংগ্রেস অধিবেশনে যাকে প্রথম হিজাব পরে অংশ নিতে দেখা যাবে। সর্বহারা একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নারী কেনিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে বড় হয়ে ওঠেন।তাদের আদিনিবাস সোমালিয়ায়। সেখানে জাতিগত দাঙ্গায় সব হারিয়ে তার পরিবার কেনিয়ায় এসে আশ্রয় নেয়। স্থানীয় একটি গির্জার স্পন্সরশীপে ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তার পরিবার মিনিয়াপোলিসে আসার সুযোগ পান। ১৪ বছর বয়সে যখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে, ইলহান ওমর সামান্যই ইংরেজি জানতেন এবং মাত্র তিন মাসের ভেতর ভাষা রপ্ত করে ফেলেন। তখন থেকেই তার দাদার অনুবাদক হিসাবে সাথে ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন সভায় যেতে শুরু করেন।

ইলহান ওমর সার্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কট্টর সমর্থক। একইসাথে ঘণ্টায় কমপক্ষে ১৫ ডলার মজুরীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গি তাকে রাজনীতিতে সাফল্য এনে দিয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালে মিনেসোটা রাজ্য সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে জেতার পর তিনি বলেছিলেন, এ বিজয় শরণার্থী শিবিরে ৮-বছর বয়সী এক শিশুর বিজয়। এই বিজয় একজন তরুণীর যাকে জোর করে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়। এই বিজয় তাদের যাদের বলা হয় যে তাদের স্বপ্ন দেখার সীমা রয়েছে।

এবার মার্কিন কংগ্রেসের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ইলহান ওমর বলেন, মিনেসোটায় আমরা অভিবাসীদের শুধু সাদরে বরণই করিনা, আমরা তাদের ওয়াশিংটনে পাঠাই। আমরা স্বপ্ন দেখতে জানি, স্বপ্নের সীমরেখায় পা রাখার গৌরবও জয় করে নিতে পারি।

তিনি আরও বলেন, আজ রাতে অনেকগুলো 'প্রথম' বিশেষণের অধিকারী হিসাবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। প্রথম অশ্বেতাঙ্গ হিসাবে আমি এই রাজ্যকে কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছি, হিজাব পরিহিত নারী হিসাবে কংগ্রেস যাচ্ছি, আমিই প্রথম শরণার্থী যে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছি, এবং প্রথম একজন মুসলিম নারী হিসাবে কংগ্রেসে যাচ্ছি।

রাশিদা তালিব: ট্রাম্পের মুসলিম-বিদ্বেষের কঠোর সমালোচক

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রাজধানী শহর ডেট্রয়েটের দরিদ্র খেটে খাওয়া এক অভিবাসী ফিলিস্তিনি পরিবারে জন্ম নেন রাশিদা তালিব। ১৪ ভাইবোনের বিশাল পরিবারে তিনিই সবার বড়। ২০০৮ সালে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে তিনি মিশিগান আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মুসলিম-বিদ্বেষের কঠোর সমালোচক হিসেবে ৪২ বছর বয়সী রাশিদা পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই পরিচিতি পেয়েছেন।

মিশিগানের কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে রাশিদা নিজেকে শ্রমিক শ্রেণীর অধিকারের প্রতিভূ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় রিপাবলিকানদের একটি নির্বাচনী সভায় ঢুকে তালেব মুখের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা শুরু করনে। তাকে তখন জোর করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

রাশিদা তালিব জানান, মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিষিদ্ধ করা সহ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কিছু রীতির বিরোধিতা করার জন্যই তিনি কংগ্রেস নির্বাচনের দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন রাশিদা তালেববলেন, ইতিহাস রচনার জন্য আমি নির্বাচন করিনি। আমি অবিচারের প্রতিবাদ জানাতে নির্বাচন করেছি। আমাদের ছেলেদের জন্য করেছি যাদের মনে তাদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তারা বুঝতে পারছে না তাদের অবস্থান কোথায়। আমি কখনই দূরে দাঁড়িয়ে দেখার মানুষ নই।

ইলহান ওমর,রাশিদা তালিব,দুই মুসলিম নারী
apps