• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

প্রাধান্য পাচ্ছে শেখ হাসিনার ‘গুডবুক’

যে কারণে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় বিলম্ব

প্রকাশ:  ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:০৮ | আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:১৭
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রিন্ট

চলতি বছরের ১১-১২ মে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সম্মেলনের পরপর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে নতুন কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারণ ও ঘোষণা করতে বেশ সময় লেগে যায়।

পরবর্তীতে প্রায় আড়াই মাস যাবৎ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার গভীর পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের পর গেলো ৩১শে জুলাই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কমিটিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক হন গোলাম রাব্বানী। কেন্দ্রীয় সভাপতি সাধারন সম্পাদক ঘোষণার পাশাপাশি একই দিন আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি হয়েছেন সঞ্জিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাদ্দাম হোসেন। একইসঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা ছাত্রলীগের দায়িত্বে আসেন সভাপতি মো. ইব্রাহিম ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়। আর দক্ষিণের সভাপতি হন মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হন মো. জোবায়ের আহমেদ।

তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোথাও মুখ খুলছেন না সংগঠনটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কেউই।

জানা গেছে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আংশিক কমিটি হতে পারে।

আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির শীর্ষ পদে পদপ্রত্যাশীদের বায়োডাটা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে রয়েছে। সেখান থেকেই ঘোষিত হয়েছে বর্তমান ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের নাম। প্রধানমন্ত্রীর সেই ‘গুডবুক’ থেকেই ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সংক্ষিপ্ত তালিকা আসতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা জানান, নেত্রীর গুডবুক ও সংগঠনের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছাত্রনেতারাই প্রাধান্য পাবে ছাত্রলীগের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। এক্ষেত্রে অবশ্যই সকল নেতার ছাত্রত্ব আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হবে। পাশাপাশি পূর্বের কমিটিতে পদবঞ্চিতরাও অগ্রাধিকার পাবে নতুন তালিকায়।

তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনের আগে ঘোষিত কমিটিতে এমন কাউকে স্থান দেওয়া হবে না যার জন্য সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানে থাকা ছাত্রনেতাদের হস্তক্ষেপ ও আধিপত্য বিস্তারের জন্যেই বিলম্বিত হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা। আর এই নিয়েই ছাত্রলীগের শীর্ষ দুইনেতাকে নিয়ে চলছে দফায় দফায় বৈঠক। তবে এর কোনো সমাধান এখনও আসেনি। অতিসম্প্রতি ছাত্রলীগের সাবেক একনেতার সন্তানের জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনাও অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়।

এদিকে, সম্প্রতি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, নিজেদের অনুসারীদের পদে আনতে এবং সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের অনুসারীদের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ দিতে কমিটি ঘোষণা বিলম্ব হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনার সময় বিভিন্ন হলের নেতারা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ছাত্রনেতা জানান, বৈঠকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রব্বানী বলেন, দুইজন (সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) ছাড়া সবাই সমান। তাই কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে চিন্তা না করে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করতে বলা হয়। তখন বৈঠকে উপস্থিত অনেকে এর প্রতিবাদ করেন।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও নির্বাচনে ছাত্রলীগের ভূমিকা কি হবে তা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এখনই কোনও মন্তব্য না করে দুইদিন সময় চেয়েছেন।

/এআই/একে

ছাত্রলীগ,ছাত্রলীগ কমিটি
apps