• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

৪ লাশের ময়না তদন্ত, তিনজনের মাথায় গুলি

প্রকাশ:  ২১ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৪৫
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে সকালে উদ্ধারকৃত চার লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর.এম.ও) ডা: মো: আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, চার লাশের মধ্যে তিনটি লাশের মাথায় সটগান বা বন্দুক জাতীয় ভারী অস্ত্রের গুলি এবং আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা যাচ্ছে তিনজনকে মাথায় গুলি করে এবং অপর একজনকে মাথায় ভারী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শনিবার (২০ অক্টোবর) রাতের কোন একসময়ে এই চারজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়না তদন্তের আলামত অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে নিহত চারজনের মধ্যে একজনের পরিচয় মিলেছে। লাশটি জব্দকৃত মাইক্রোবাসটির চালক লুৎফর মোল্লা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রাজধানীর রামপুরা থানার বাগিচারটেক এলাকার বাসিন্দা রেশমা বেগম রবিবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে মর্গে এসে তার স্বামীর লাশ শনাক্ত করেছেন।

তিনি জানান, শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। রাত থেকে তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে শনিবার সকালে তিনি রামপুরা থানায় এ ব্যাপারে জিডি করেন। আজ সকাল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে চার যুবকের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে রেশমা বেগম নারায়ণগঞ্জ সদরের ১শ’ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে এসে লাশগুলো দেখে স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন। লুৎফর রহমানের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে রিশাদ ৮ম শ্রেণি ও মেয়ে লিজা ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ে।

লুৎফর রহমানের স্ত্রী রেশমা বেগম আরও জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি রফিক আকন্দের ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবসের চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। আড়াহাইহাজারে লাশের সাথে জব্দকৃত গাড়ির মালিক রফিক আকন্দ বলেও নিশ্চত করেছেন আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )এম এ হক।

গাড়ির মালিক রফিক আাকন্দ জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চালক লুৎফর রহমান মোল্লা একটি ট্রিপ পেয়ে রাজধানীর রামপুরা থেকে গাড়ি নিয়ে যান। কিন্তু কোথায় ট্রিপ নিয়ে যাবেন তা জানায়নি।

তিনি জানান, এক মাস আগে লুৎফর রহমান মোল্লা তার গাড়িটি চালানো শুরু করেন।

তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে জানানো হয়েছে যে গাড়িটি পুলিশ জব্দ করেছে।

উল্লেখ্য, রোববার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাচঁরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কের দু’পাশ থেকে ওই চার যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভোরে মহাসড়কের দু’পাশে দুটি করে চারটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহত নের লাশের মাথায় থেতলানো ছিল। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ এক রাউন্ডগুলি ভর্তি দইুটি পিস্তল ও একটি সিলভার রঙের মাইক্রোবাস(ঢাকা মেট্রো চ-১৩-০৫০১) জব্দ করে। লাশে রক্তগুলো জমাট বাধা ছিল। তবে কী কারণে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে ব্যস্ততম ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় শত শত মানুষ সেখানে ভীড় করে। এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

/এসএফ

নারায়ণগঞ্জ
apps