• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

আইয়ুব বাচ্চুর শুরুর গল্প

প্রকাশ:  ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। শ্রোতা-ভক্তদের কাছে তিনি এবি (AB) নামেও পরিচিত ছিলেন।

১৯৭৮ সালে গানের জগতে প্রবেশ করেন আইয়ুব বাচ্চু। শুরুটা হয়েছিল ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে। তার প্রথম গান ছিল ‘হারানো বিকেলের গল্প’। এই গানটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। এরপর যোগ দেন সোলসে। সোলসের সঙ্গে তিনি ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম একক অ্যালবাম রক্ত গোলাপ। তবে ১৯৮৮ সালে ময়না অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ১৯৯১ সালে বাচ্চু এলআরবি ব্যান্ড গঠন করেন।

এলআরবি থেকে তার প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙ্গা শহরে’, ‘হকার’ গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরে ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম ‘সুখ’ ও ‘তবুও’ বের হয়। সুখ অ্যালবামের ‘সুখ’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘রূপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’ উল্লেখযোগ্য গান।

আইয়ুব বাচ্চু নিজে গানও লিখতেন। তার লেখা তুমুল জনপ্রিয় একটি গান ‘চলো বদলে যাই’। এই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি নিজেই। ১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম কষ্ট। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অবিহিত কডরা হয় এটিকে। এই অ্যালবামের প্রায় সবগুলো গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ও ‘আমিও মানুষ’। একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ঘুমন্ত শহরে প্রকাশিত হয়।

সিনেমাতেও নিয়িমিত গান গাইতেন তিনি। বাংলা সিনেমায় জনপ্রিয়তা পাওয়া তার অন্যতম একটি গান ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’। একইসঙ্গে সিনেমায় গাওয়া প্রথম গান এটিই। ২০০৯ সালে তার একক অ্যালবাম বলিনি কখনো প্রকাশ হয়। ২০১১ সালে এলআরবি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম যুদ্ধ। এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। ছয় বছর পর তার পরবর্তী একক অ্যালবাম জীবনের গল্প (২০১৫) বাজারে আসে। এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। গানের কথা লিখেছেন সাজ্জাদ হোসাইন এবং সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন আইয়ুব বাচ্চু নিজে।

আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া জনপ্রিয় কিছু গান- ‘রূপালি গিটার’, ‘রাত জাগা পাখি হয়ে’, ‘মাধবী’, ‘ফেরারি মন’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘বার মাস’, ‘হাসতে দেখ’, ‘উড়াল দেব আকাশে’। ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি,’ ‘সেই তুমি কেন অচেনা হলে’, ‘একদিন ঘুম ভাঙ্গা শহরে’, ‘মেয়ে ও মেয়ে’, ‘কবিতা সুখ ওড়াও’, ‘এক আকাশ তারা’ গানগুলো ঘুরেছে মানুষের মুখে মুখে।

২০১২ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েন আইয়ুব বাচ্চু। ওই বছরের ২৭ নভেম্বর ফুসফুসে পানি জমার কারণে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি সুস্থ হন।

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের চট্টগ্রাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, প্লেব্যাক শিল্পী ছিলেন।

/রবিউল

আইয়ুব বাচ্চু,সোলস,এলআরবি
apps