• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

কেন রাষ্ট্রদ্রোহী, জানতে চান ডা. জাফরুল্লাহ

প্রকাশ:  ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

সেনাপ্রধানের বিষয়ে বলতে গিয়ে শব্দ চয়নে ভুল হয়েছিল জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘এর জন্য তো আমি ক্ষমাও চেয়েছি। কেউ য‌দি সমালচনা করে সে কি রাষ্ট্রদ্রোহী? আমি একটা কথা বলেছিলাম কথাতে শব্দের ভুল ছিল। তাই বলে কি আমি রাষ্ট্রদ্রোহিতা করেছি?’

বুধবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। ‘মুভমেন্ট ফর জাস্টিস’ নামের একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়।

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের মেরামত প্রয়োজন। আজকে দেখেন আমি একটা কথা বলেছি, কথাটাতে একটা ভুল ছিল। শব্দের ভুল ছিল, শব্দ বিভ্রাট হয়েছে, শব্দ চয়নে ভুল হয়েছে। তাহলে আমি কি রাষ্ট্রদ্রোহিতা করেছি?’

তিনি বলেন, ‘আমি যদি কারও সমালোচনা করি..., আমি ভুলটা স্বীকারও করেছি। আমি পরবর্তীতে স্বীকারও করেছি। তার মানে কী? রাষ্ট্র আজকে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে গেছে।’

বিএনপিপন্থী এই বুদ্ধিজীবী বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে হলো কথা বলার সুযোগ থাকা, সমালোচনা করা, এমনকি ভুল সমালোচনা করলেও তাকে করতে দি‌তে হবে। ভুল হলে সংশোধন করবে। যেমন আমি করেছি। এটাকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।’

শেখ হাসিনা অনেক ভালো কাজ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হাসিনা দেশের যথেষ্ট উন্নয়ন করেছে। পদ্মা সেতু করছে।’

তবে এই সেতু করতে আট হাজার কো‌টি টাকা লাগার কথা ছিল দাবি করে ঐক্যফ্রন্ট নেতা প্রশ্ন তোলেন কেন সেখানে ৩৮ হাজার কো‌টি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

এই বাড়তি টাকা শেখ হাসিনা নয়, তার চারপাশের চাটুকারদের হাতে গেলে চলেও দাবি করেন জাফরুল্লাহ।

আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা হারলে তাকে জেলে যেতে হবে না উল্লেখ করে বলেন, ‘তার যথাযথ বিচার হবে। তিনি জামিন পাবেন। খালেদা জিয়ার উপরে যে অন্যায় অত্যাচার হচ্ছে তার উপরে হবে না। একই জিনিস যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে দেশে শান্তি আসবে কোথা থে‌কে?’

জাফরুল্লাহ বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার সমালোচনা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন বলেন, ‘আমার বন্ধু জাফরুল্লাহ সাহেব একটা ভুল করেছে, ক্ষমাও চেয়েছে। ...এর পরে যা হলো, আমি নিশ্চই বিশ্বাস করি না এটা আর্মি চিফের চিন্তাভাবনা।’

তিনি বলেন, ‘এটা একটা স্বাধীন দেশ। ঠিক আছে একটা ভুলভ্রান্তি তো হতেই পারে। সেই জন্য দেশদ্রোহী মামলা দিতে হবে, এটা কী কথা?’

মইনুল হোসেন বলেন, ‘কষ্ট লাগে, আজকে মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে গেল? কি কথা একটু সমালোচনা করছে। এটা যেহেতু আমাদেরই সামরিক বাহিনী, একটু আধটু ভুলভ্রান্তি হতে পারে।’

সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক সানাউল হক নীরু এর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মইনুল হোসেন, আ ব ম মোস্তফা আমিন, ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল প্রমুখ।

/এসএম

ডা. জাফরুল্লাহ
apps