• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

সিলেট ওসমানী মেডিকেলে ২কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য!

প্রকাশ:  ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৩৫ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৪৭
সিলেট প্রতিনিধি
প্রিন্ট

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের নামে প্রায় দুই কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এক বছরের জন্য জনবল নিয়োগের দায়িত্ব পাওয়া ‘কৃষ্ণা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড’ নামক প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজসে এ নিয়োগ বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। প্রতিটি পদে নিয়োগে দুই লাখ টাকা করে আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তা।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গত ১৫ মে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জনবল সরবরাহের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। গত ৩১ জুলাই ও ৮ আগস্ট দরপত্র মুল্যায়ন কমিটির সভায় ৭ শতাংশ কমিশনে ঢাকার বাসাবো পূর্ব মাদারটেকের কৃষ্ণা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের দাখিলকৃত দরপত্রটি গৃহীত হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ১৯ আগস্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দশ কর্মদিবসের মধ্যে হাসপাতালে ৪ জন বাবুর্চী, ৪ জন সিকিউরিটি গার্ড, ৪৩ জন অফিস সহায়ক এবং ৩১ জন ক্লিনারসহ মোট ৮২ জন কর্মচারী নিয়োগের জন্য নির্দেশ দেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক। এছাড়া অতিরিক্ত ২০ ভাগ অর্থাৎ আরো ১৬ জনের জীবন বৃত্তান্তসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করারও নির্দেশ দেন তিনি।

কৃষ্ণা সিকিউরিটি সার্ভিস কার্যাদেশ পাওয়ার পরই শুরু হয় নিয়োগ বাণিজ্য। প্রত্যেক পদে নিয়োগপ্রত্যাশীর কাছ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। আর এই ৮২ পদে নিয়োগে প্রায় দুই কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় অনুসন্ধানে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ লায়েক তার এলাকার কয়েকজন যুবককে চাকুরি পাইয়ে দিতে যোগাযোগ করেন কৃষ্ণা সিকিউরিটি সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষ্ণ কান্ত রায়’র সাথে। ওই সময় ফোনে কৃষ্ণ রায় তার কাছে প্রতিটি নিয়োগের জন্য আড়াই লক্ষ টাকা করে দাবি করেন। পরে কাউন্সিলরের সম্মানে তিনি বিশ হাজার টাকা করে কম রাখতে পারবেন বলে জানান।

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন ১০ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। সারা বছরে একজন কর্মচারী ১ লাখ ২০ হাজার হতে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বেতন পেলেও চাকুরি পেতে তাকে বেতনের দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা উৎকোচ দিতে হচ্ছে। ফলে চাকরীতে যুক্ত হওয়ার পর উৎকোচের এই টাকা তুলতে নিয়োগপ্রাপ্তরা দুর্নীতিতে জড়ানো ছাড়া বিকল্প থাকবে না বলে মনে করেন সচেতন মহল।

এদিকে স্থানীয়দের সুযোগ না দেওয়া এবং নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি অবগত হয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত কৃষ্ণা সিকিউরিটির সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের জন্য লিখিত নির্দেশ দেন হাসপাতালের পরিচালককে। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর নির্দেশের পরও থেমে থাকেনি নিয়োগ বাণিজ্য। গত ১ অক্টোবর এসব পদে কৃষ্ণা সিকিউরিটি কোম্পানীর মাধ্যমে কাজে যোগ দিয়েছেন ৫৪ জন কর্মচারী। বাকিরা রয়েছেন নিয়োগের অপেক্ষায়।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক নিয়োগপ্রাপ্ত এক কর্মচারী জানান- আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে তিনি ১৩ হাজার টাকা বেতনের চাকুরি পেয়েছেন। তার পছন্দ বাবুর্চির চাকুরি হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে অফিস সহায়কের পদ দেয়া হয়েছে বলে জানান ওই কর্মচারী।

নিয়োগের বিপরীতে টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন কৃষ্ণা সিকিউরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষ্ণ কান্ত রায়। প্রতিটি পদে দুই লাখ টাকা করে নেয়া হয়েছে। টাকার বিনিময়ে ইতোমধ্যে সকল পদে লোক নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ওএফ

মেডিকেল