• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

আদিবাসী নেতা আলফ্রেড হত্যার ১৮ বছরেও বিচার হয়নি

প্রকাশ:  ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১০:২২
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রিন্ট

১৮ বছর আগে আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেনকে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে দিবালোকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত ওই মামলার কোন বিচার হয়নি। আন্তর্জাতিক ভাবে আলোচিত ওই মামলার ভবিষ্যত নিয়ে আদিবাসীদের রয়েছে সংশয়। অথচ আসামীরা প্রভাবশীলী হওয়ায় প্রকাশ্যে তারা ঘোরাফেরা করছে এবং সরেনের পরিবারের সদস্যদের হত্যাসহ বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে।

আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভাসহ বহু আন্দোলন সংগ্রাম করেও হত্যাকারীদের বিচার হয়নি। তাদের অভিযোগ; এখনও আসামীদের অব্যাহত হুমকি-ধামকিতে অনেক আদিবাসী পরিবার ওই আদিবাসী পল্লী ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে যে কটি পরিবার এখনও বসবাস করছে তারা ভূমিদস্যুদের ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন।

সূত্রে জানা, ২০০০ সালে নওগাঁর মহাবেপুরের ভীমপুর আদিবাসী পল্লীতে ভূমিদস্যু কর্তৃক সন্ত্রাসীদের হামলায় আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেনকে নৃসংসভাবে খুন করে ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে আদিবাসী পল্লীর ১১টি পরিবারের বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগ করে। তাদের হামলায় আদিবাসী মহিলা-শিশুসহ ৩০জন আহত হয়। ঘটনার সময় আদীবাসীদের কয়েকজন শিশুকে সন্ত্রাসীরা পুকুরে নিক্ষেপও করেছিল। এরপর তারা মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভাসহ বহু আন্দোলন সংগ্রাম করেও হত্যাকারীদের বিচার হয়নি।

তাদের অভিযোগ, এখনও আসামীদের অব্যাহত হুমকি-ধামকিতে অনেক আদিবাসী পরিবার ওই পল্লী ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে যে ক’টি পরিবার এখনও বসবাস করছে তারা ভূমিদস্যুদের ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন। তাদের দাবী; অবিলম্বে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবী জানান তারা।

আলফ্রেড সরেনের ছোট ভাই মহেশ্বর সরেন বলেন,আমাদের পরিবারকে আসামীরা এখনও হত্যার হুমকিসহ নানা রকমের ভয়ভীতি প্রদান করে আসছে। তাই এখনোও আমরা পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় জীবন-যাপন করছি। ৬৩ বিঘা জমির মধ্যে তারা ৩৩ বিঘা জমি নিয়ে নিয়েছে। বাকী ৩০ বিঘা জমিরও চেক কেটে নিয়েছে। ভাইকে হত্যার পর অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করা হয়েছে বিচারের দাবীতে কিন্তু কোন লাভ হয়নি। আমরা জানি না আমার ভাইয়ের হত্যার সুবিচার কখনো পাবো কিনা।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন মুকুল বলেন, আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেনকে হত্যার পর অগ্নিসংযোগ, নারী ও শিশুদের উপর নির্যাতন করা হয়। হত্যার পর জাতীয় আদিবাসী পরিষদের নেতৃত্বে ১৮-২০ হাজার লোকের সমন্বয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে পরবর্তীতে সফল লড়াই করা হয়েছিল। সারাদেশে আদিবাসীদের উপর নির্যাতন হচ্ছে। সরকারের নিকট অবিলম্বে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিতকরন ও পৃথক স্বাধীন ভুমি কমিশন গঠনসহ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানালেন এই নেতা।

বাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাডঃ মহসীন রেজা বলেন এ ঘটনায় আলফ্রেড সরেনের বোন ও বড় ভাই বাদি হয়ে হত্যা ও জননিরাপত্তা আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় মোট ৯১জন আসামী। আসামীরা ওই আইনের বিরুদ্ধে একাধিক রিট করেন। রিটগুলোতে জামিনপ্রাপ্ত হয়। পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই আইনটি বাতিল করে দেয়। হাইকোর্ট আসামীদের এই রিটগুলো খারিজ করে দেয়। আসামীরা খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিলেট ডিভিশানে মোকর্দ্দমা করেন। শুনানী করে পরবর্তীতে এ রকম এই রিটগুলো সরাসরি খারিজ করা যাবে না।

পুনরায় বিষয় বস্তুর উপর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে। এই রিটগুলো পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁয় জননিরাপত্তা আইনের মামলা বর্তমানে বিচার কার্যক্রম বন্ধ আছে। রিটের শুনানী না হওয়া পর্যন্ত বিচার কাজ পুনরায় শুরু করার কোন সুযোগ নাই। তাই সরকারের কাছে দাবি রিটগুলো দ্রুত শুনানী করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।

আলফ্রেড সরেনের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত এই মামলার বিচার করে আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ওএফ

হত্যাকাণ্ড,বিচার