• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

মহাজোট-ই গুরুত্ব পাচ্ছে

প্রকাশ:  ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৫৭ | আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৭:২৬
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রিন্ট

একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসছে দ্রুত। নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচারণা জোরদার হয়েছে। ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং অন্যান্য দল তৎপর থাকলেও কোনো দলই এখনও তাদের নির্বাচনী কৌশল চুড়ান্ত করতে পারেনি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনে উদ্দেশ্যে আসন্ন নির্বাচনে এককভাবে নাকি জোটগতভাবে ভোটে নামবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি। একই অবস্থা দশম সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির। সংসদের বাইরে থাকা বড় দল বিএনপি'র কারণেই মূলত: নির্বাচন নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না কোনো দলই। তবে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষনেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে ধরে নিয়েই ১৪ দলের সঙ্গে জাতীয় পার্টিকে নিয়ে মহাজোট গঠনের মাধ্যমে ভোটের মাঠে নামার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা এখনও অস্পষ্ট। ভোটের মাঠে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীর নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচন অংশ নেওয়ার আগে বিএনপির দেওয়া শর্ত পূরণের দাবিতে অটল আছেন।বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। এ জন্য তাদের দেওয়া চারটি শর্তপূরণ করতে হবে। শর্ত চারটি হচ্ছে- এক. নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। দুই. সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠন। তিন. নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন। চার. নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। বিএনপির এসব শর্ত পুরোপুরিই প্রত্যাখান করেছে আওয়ামী লীগ। শর্তগুলো নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনায় বসতেই রাজি নয় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্পষ্টই বলে দিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কেউ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তা হলে নির্বাচনের ট্রেন থেমে থাকবে না।

ক্ষমতাসীনরা প্রত্যাখান করলেও এখনো সেই শর্ত পূরণ নিয়েই মুখর আছেন বিএনপির শীর্ষনেতারা। কিন্তু শর্তগুলো পূরণ না হলে তারা কোন পথে যাবেন, তা স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না। এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে আমরা অংশ নিতে চাই বলেই তো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করছি। সেই নির্বাচনের প্রস্তুতিও আমরা নিচ্ছি। তবে তার আগে আমরা আমদের নেত্রীর মুক্তি চাই। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়েই আমরা নির্বাচনে যেতে চাই।

বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিংবা বর্জনের ওপরই মূলত নির্ভর করছে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী কৌশল। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে মহাজোট নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি নির্বাচনে না এলে আওয়ামী লীগ ১৪ দলগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। সেক্ষেত্রে জোটের বাইরে থেকে নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি। তবে আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে গত নির্বাচনের মতো এবারো জাতীয় পার্টির আসন সমঝোতা হবে।

বিগত দুটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি আসন ভাগাভাগির ভিত্তিতে অংশ নিয়েছে। আগামী নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির ভিত্তিতে অংশ নেবে আওয়ামী লীগ। তবে আসন ভাগাভাগির প্রক্রিয়া হবে দুই ধরনের। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা অনেকটাই নিশ্চিত বিএনপি নির্বাচন অাসবে।আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, বিএনপির নেতারা মুখে মুখে নির্বাচন নিয়ে নানা কথা বললেও বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয় ভেতরে ভেতরে দলটি প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। পাশাপাশি পুরোনো দাবি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না বলছে। তবে বিএনপির এসব দাবি রাজনৈতিক বক্তব্য বলেই আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন। এ অবস্থানের মধ্য দিয়েই দলটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা জানান।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টির সঙ্গে মহাজোটগতভাবেই নির্বাচনের সিদ্ধান্তে আছি। কারণ, আমরা মনে করছি আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। বিএনপি ইতোমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়াও দলটি শুরু করেছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে মহাজোটগতভাবে আসন ভাগাভাগি করে আমরা নির্বাচন করবো। আর যদি বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাহলে জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে আমরা ১৪ দলগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবো।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টি মহাজোট করে নির্বাচনে অংশ নেয়। মহাজোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন ভাগাভাগি করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় মহাজোটগতভাবে নির্বাচন না করে জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে নির্বাচন করে। তবে ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪ দলগতভাবে অংশ নেয় এবং জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি করে। শুধু ১৪ দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নয়, জাতীয় পার্টির সঙ্গেও আসন সমঝোতা হয়। যেসব আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলো সেগুলোতে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি।

আগামী নির্বাচনেও শেষ মুহূর্তে যদি বিএনপি অংশ না নেয় তবে গত নির্বাচনের মতোই জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে এবং আওয়ামী লীগ ১৪ দলগতভাবে অংশ নেবে। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির সঙ্গে গত নির্বাচনের মতোই আসন সমঝোতা হবে বলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা জানান।

মহাজোট