• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

‘মেডিকেল বোর্ডে ব্যক্তিগত চিকিৎসক না রাখা সরকারের অশুভ পরিকল্পনা’

প্রকাশ:  ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:১২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
ফাইল ছবি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, সরকার কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা না দিয়ে তিলে তিলে নিঃশেষ করতে চায়। তার চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউয়ে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ডে বিএসএমএমইউয়ের চিকিৎসকরাই রয়েছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ডে রাখা হয়নি, যা বিদ্বেষপ্রসূত মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। এটি সরকারের অশুভ পরিকল্পনারই ইঙ্গিত বহন করে।’

শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে এসব কথা বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘কারাকর্তৃপক্ষের মৌখিক বার্তা অনুযায়ী, দলের পক্ষ থেকে মেডিকেল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দেশনেত্রীর ব্যক্তিগত ৫ জন চিকিৎসকের নাম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি শুধু ক্ষুব্ধ আর উদ্বিগ্নই নয়, বরং বিএনপি মনে করে, দেশনেত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে তাকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য এটি সরকারের অশুভ পরিকল্পনারই অংশ।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘যে সকল চিকিৎসকের নাম বিএনপি সুপারিশ করেছিল তারা চিকিৎসা শাস্ত্রের স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রথিতযশা এবং চিকিৎসাঙ্গণের সিনিয়র অভিজ্ঞ চিকিৎসক, দেশজুড়ে তাদের খ্যাতিও রয়েছে। তারা বেগম জিয়ার চিকিৎসক হিসেবে তাকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন থেকে চিকিৎসা দেয়ায় তারা বেগম জিয়ার যে শারীরিক অসুস্থতা সে সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘সরকারকর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ডে অন্যতম সদস্য ডা. আবু জাফর চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি প্রার্থী, তিনি দলীয় প্রার্থী হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপর সদস্য অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন স্বাচিপ (স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ) বিএসএমএমইউয়ের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া অধ্যাপক ডা. তারেক রেজা আলী আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য। সুতরাং সরকারের গঠিত বোর্ডে মনোনীত চিকিৎসক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতার চেয়ে দলীয় আনুগত্যের ক্ষেত্রকেই অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অতএব আওয়ামী লীগের প্রতি অনুগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্তকৃত মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে যথাযথ চিকিৎসা এবং তার শারীরিক পর্যবেক্ষণ সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে না। কারণ সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ড সরকারের নির্দেশ মতোই কাজ করবে।’

রিজভী বলেন, ‘এর আগেও বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যখন পিজি হাসপাতালে ( বিএসএমএমইউ) নেয়া হয়েছিল তখন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের ডাকা হলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তাদের রাখা হয়নি। এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও তাদের দেখা করতে দেয়া হয়নি। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেডিকেল বোর্ডে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুুক্ত করার দাবি করে এবং বিশেষায়িত ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তাকে ভর্তি করার অনুরোধ জানায়। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার, কিন্তু কার্যত সেটির প্রতিফলন ঘটেনি।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে না নেয়ায় এটাই প্রমাণ হয় যে, সরকার বেগম জিয়াকে সুচিকিৎসা না দিয়ে তিলে তিলে নিঃশেষ করতে চায়। এটি সরকারের অশুভ পরিকল্পনারই ইঙ্গিত। আমি আবারও দলের পক্ষ থেকে দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই, দেশনেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় যদি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হয়, সেজন্য এর সম্পূর্ণ দায় বর্তাবে সরকারের ওপর।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেএম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

-একে

বিএনপি,খালেদা জিয়া,রুহল কবির রিজভী