• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

রাবেয়া-রোকাইয়ার জোড়া মাথা অালাদার অস্ত্রোপচার নভেম্বরে

প্রকাশ:  ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৩১ | আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

পাবনা জেলার চাটমোহরের জোড়া মাথার শিশু রাবেয়া-রোকাইয়ার সুস্থতায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন চিকিৎসকরা। দ্বিতীয় দফা এনজিওগ্রামের ফলাফল ভালো হওয়ায় তাদের জোড়া মাথা আলাদা করতে আগামী নভেম্বর ও জানুয়ারিতে দু’টি বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাবেয়া-রোকাইয়ার চিকিৎসার তত্ত্ববধানে থাকা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডাঃ সামন্ত লাল সেন জানান, তারা ভাল আছে। তাদের শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক ভাবে হচ্ছে। তাদের রক্তনালী আলাদা করে পরীক্ষার পর দেখা গেছে, আলাদা আলাদাভাবে দুজনের রক্তনালী কাজ করছে।

শিশু রাবেয়া-রোকাইয়ার এনজিওগ্রামের পর তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে বড় কোনো সমস্যা না থাকায় ঈদের পর পরই তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান ডাঃ সামন্ত লাল। তিনি বলেন, রাবেয়া-রোকাইয়ার আগের অস্ত্রোপচারটা সফল হয়েছে। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাদের আবারও হাসপাতালে ডাকা হবে। আশা করি নভেম্বরেই তাদের পরবর্তী অস্ত্রোপচারটা করতে পারবো। নভেম্বরের অস্ত্রোপচারে ওপরই নির্ভর করছে ওদের সুস্থতা। এরপর জানুয়ারিতে আরো একটা বড় অস্ত্রোপচার করতে হবে।

ডাঃ সামন্ত লাল সেন বলেন, রাবেয়া-রোকাইয়াকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলার চিকিৎসাটা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল। এই জোড়া শিশুর চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে তাদের বিচ্ছিন্ন করার কাজটা অনেক জটিল। হাঙ্গেরির দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. স্টিফেন হিউডেক এবং অ্যান্ডোস সুকেসহ মোট ২২ জন চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় জড়িত আাছেন। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। তাদের মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল আলাদা করতে হবে নভেম্বরে অস্ত্রোপচারটা। এতে সফল না হলে কোনোদিনই তাদের দু’জনকে আলাদা করা যাবে না। রক্ত চলাচল আলাদা করতে পারলে জানুয়ারিতে মাথা আলাদা করার অস্ত্রোপচারটা সম্ভব হবে। সবকিছু ঠিকঠাক মতো করে যেতে পারলে তাদের সুস্থতার চিকিৎসায় বছরখানেক সময় লাগবে।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার অমৃতকুণ্ডু গ্রামের শিক্ষক দম্পতির সন্তান রাবেয়া-রোকাইয়া। বাবা মো. রফিকুল ইসলাম ও মা তাসলিমা খাতুন, দু’জনেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। দ্বিতীয় দফা এনজিওগ্রামের পর রাবেয়া-রোকাইয়া এখন নিজগ্রামে অবস্থান করছে।

ফোনে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ায় গত ২৭ আগস্ট বাড়িতে এসেছি। সেন স্যার বলেছেন, আমার মেয়েদের পরবর্তী অস্ত্রোপচার নভেম্বরে হতে পারে। ডেট হলে তিনি জানাবেন, তখন ঢাকায় যাবো।

রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, রাবেয়া-রোকাইয়া ভালো আছেন। দুজনেই সবসময় হাশিখুশি থাকে। নিয়মিত খাওয়া দাওয়া করছে, কথাবার্তাও বলছে। একসময় তো ওদের বাঁচিয়ে রাখার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখন বিশ্বাস করি, ওরা সুস্থ হয়ে উঠবে।

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর তাদের রক্তনালী পরীক্ষামূলকভাবে আলাদা করা হয়। অস্ত্রোপচার পরপরই একবার তাদের এনজিগ্রাম করা হয়েছিল। আগস্টের শেষ সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় তাদের এনজিওগ্রাম করা হয়। এতে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ায় তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এর আগে পেট, বুক বা শরীরের পেছনের অংশ জোড়া লাগানো শিশুর আলাদা করার অপারেশন হলেও মাথা জোড়া লাগানো শিশু আলাদা করার প্রচেষ্টা এবারই প্রথম।

-এনই

রাবেয়া-রোকাইয়া